বিজয়ের মাসে অবমূল্যায়ন ও হেনস্তা শিকার মুক্তিযোদ্ধারা – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ১৪ ডিসেম্বর, ২০২৪

আরও খবর

বিজয়ের মাসে অবমূল্যায়ন ও হেনস্তা শিকার মুক্তিযোদ্ধারা

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১৪ ডিসেম্বর, ২০২৪ |
১২ নভেম্বর শহিদ নূর হোসেন দিবস এবং ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান ও তাঁদের প্রতি অবহেলার একটি নতুন দৃষ্টান্ত দেখা যাচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও স্বাধীনতার মূলমন্ত্রকে ভুলিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা এবং বিজয়ের মাসে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি অবিচারের ঘটনা সমাজে এক ধরণের অস্থিরতা সৃষ্টি করছে। গণপিটুনির শিকার বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমান: গত ১২ নভেম্বর, বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার পর গণপিটুনির শিকার হন বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমান। তাকে পরে সিরাজগঞ্জের একটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। এই ঘটনাটি দেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবোধের অবমূল্যায়নের চিত্র ফুটিয়ে তোলে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা

যদি অমনোযোগিতার শিকার হয়, তাহলে দেশের স্বাধীনতার ইতিহাসও খণ্ডিত হতে পারে। এটি নিঃসন্দেহে একটি দুঃখজনক ঘটনা, যেখানে একটি নিরীহ মুক্তিযোদ্ধাকে শিকার হতে হয়। বিএনপি নেতা শাওন মোল্লার আক্রমণ: এছাড়া, গত ৮ সেপ্টেম্বর বরগুনা জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মাহবুবুল আলমের ছেলে শাওন মোল্লা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য আবদুর রশিদ মিয়াকে গালিগালাজ ও হেনস্তা করেন। এই ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে অনেকেই এটি ‘নিন্দনীয়' বলে মন্তব্য করেন। কিন্তু এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোনও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এটি গণতান্ত্রিক পরিবেশে যে রাজনৈতিক সহিষ্ণুতার অভাব রয়েছে, তার একটি ইঙ্গিত। মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান এবং বর্তমান পরিস্থিতি: বীর মুক্তিযোদ্ধারা আজও তাঁদের

সম্মান ও অধিকার পাচ্ছেন না। একাত্তর মুক্তিযুদ্ধের জন্য যারা জীবন দিয়েছেন, তাদের যথাযথ সম্মান পাওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান সরকারের সময়ে মুক্তিযোদ্ধাদের অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয় হয়ে উঠেছে। বীর মুক্তিযোদ্ধা সাইদ আহমেদ রাজা জানান, শাহরিয়ার কবীরের মতো জাতীয় পদকপ্রাপ্ত ব্যক্তিরও সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা হচ্ছে না, এমনকি তার জন্য আদালতের নির্দেশনা থেকেও কোনও সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সরকারের পদক্ষেপ: গণতান্ত্রিক পদক্ষেপ হিসেবে বর্তমান সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য নানা ধরনের পরিকল্পনা নিয়েছে। তবে এটি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় একাধিক সমস্যা দেখা যাচ্ছে। বিজয়ের মাসে সরকার বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় বিজয় মেলা আয়োজন করছে, যেখানে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এই মেলাগুলোর মাধ্যমে জনগণকে স্বাধীনতা

সংগ্রামের ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনার সাথে পরিচিত করা সম্ভব হবে। মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা এবং সরকারের পরিকল্পনা: এবার বিজয় দিবসে সারা দেশে বিজয় মেলার আয়োজন করা হয়েছে, যা মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান জানানো এবং জাতীয় ইতিহাসের সঙ্গে জনগণকে আরও নিবিড়ভাবে সংযুক্ত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। তবে, সরকারের উচিত মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য একটি বিশেষ কমিশন গঠন করা, যাতে তাদের সঠিক তালিকা এবং অবদানের স্বীকৃতি দেওয়া যায়। এর মাধ্যমে বীর মুক্তিযোদ্ধারা যেন সম্মানিত হন এবং তাঁদের ত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে মুক্তিযোদ্ধাদের অবমূল্যায়ন ও তাঁদের প্রতি সরকারী অবহেলা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও জাতীয় ঐতিহ্যের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বিজয়ের মাসে তাদের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন এবং মুক্তিযুদ্ধের

প্রকৃত চেতনা বজায় রাখার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে আরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন। মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান এবং তাঁদের অবদান সঠিকভাবে মূল্যায়ন করতে না পারলে, জাতি কখনও তার সত্যিকার স্বাধীনতার মর্ম বুঝতে পারবে না।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
নববর্ষ কবে থেকে শুরু ও বাংলা মাসের নামকরণ কীভাবে হলো দেশে হাম ও উপসর্গ নিয়ে আরও ৯ শিশুর মৃত্যু জেট ফুয়েল নিয়ে চট্টগ্রামে ভিড়ল জাহাজ, আসছে আরও দুই ডিজেলের চালান নববর্ষে মুমিনের আনন্দ, প্রত্যয় ও পরিকল্পনা বৈশাখের শোভাযাত্রা ৫ বিভাগে বৃষ্টি নিয়ে আবহাওয়া অফিসের নতুন বার্তা ১৫ মিনিট বন্ধ থাকার পর ফের চালু মেট্রো রেল যুক্তরাষ্ট্রকে হরমুজ অবরোধ তুলে নিতে চাপ দিচ্ছে সৌদি দক্ষিণ লেবাননে বহু ইসরায়েলি সেনা হতাহত পত্রিকাটি ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ ও ‘ভুয়া খবর’ পরিবেশনকারী: ট্রাম্প ‘ খেলা’ কমিয়ে দিলো দুই দেশের বৈরি সম্পর্ক কুষ্টিয়ায় ‘পীর’ শামীম হত্যার ঘটনায় মামলা পাঁচ ঘণ্টা লাইন, চার লিটার তেল, আর একটি তথাকথিত “নির্বাচিত” সরকার! সাবেক আইনমন্ত্রী ও প্রবীণ আইনজীবী শফিক আহমেদের মৃত্যুতে গভীর শোক ও শ্রদ্ধা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের প্রতিবাদে ভেনিসে সমাবেশ অনুষ্ঠিত অপশাসন, ভয় আর মামলার বোঝা—এভাবেই কি ঝরে যাবে একের পর এক প্রাণ? ইউনুস–তারেকের রাজনীতিতে কি মানুষের জীবন এতটাই তুচ্ছ হয়ে গেছে? Attack on Humanitarian Physician Professor Dr. Kamrul Islam by BNP Leader — Has the Country Become a Safe Haven for Thugs? একটি স্বেচ্ছাচারী একপাক্ষিক সংসদ কর্তৃক গণবিরোধী আইন পাশ ও দেশের নৈরাজ্যময় পরিস্থিতিতে স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বানঃ প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের প্রথম বেতার ভাষণ। ১১ এপ্রিল, ১৯৭১ ‘ড. ইউনূস ৬টি জেনারেশন ধ্বংস করে দিয়েছেন, আওয়ামী লীগের সমর্থক বাড়ছে’