ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
গরিবের ‘রিজিক থেকে উঠে গেছে’ ডিম, পাঙ্গাস-তেলাপিয়াও
আবারও জ্বালানী তেলের মূল্যবৃদ্ধিঃ ডিজেল-পেট্রোল-অকটেনের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ল
দামের আগুনে পোড়ছে দরিদ্রের থালা: ডিম-মাছ এখন নিম্নবিত্তের জন্য বিলাসিতা
১০ মাসের মধ্যে আগস্টে সর্বনিম্ন মূল্যস্ফীতি
উচ্চমূল্যে মার্কিন গম ক্রয়: সরকারের দাবি বৃহত্তর কৌশল, অথচ ভুক্তভোগী ভোক্তা এবং দেশের অর্থনীতি
নবম পে স্কেল নিয়ে বড় সুখবর, অবশেষে আজ ভেটিংয়ে উঠল
১০ ডলারের এলএনজি ৩০ ডলারে কিনছে বিএনপি সরকার
বাংলাদেশে আরেক বহুজাতিকের ব্যবসা গুটানোর উদ্যোগ: রিটেইল ব্যাংকিং বিক্রি করছে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড
বাংলাদেশে খুচরা ব্যাংকিং ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছে ব্রিটিশ বহুজাতিক ব্যাংক স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড। ব্যাংকটি তার বাংলাদেশে থাকা রিটেইল ব্যাংকিং পোর্টফোলিও প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের মাধ্যমে বিক্রি করার উদ্যোগ নিয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় দেশের কয়েকটি ব্যাংক ইতোমধ্যে আগ্রহ দেখিয়েছে।
তবে এই সিদ্ধান্তের অর্থ স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশ থেকে পুরোপুরি ব্যবসা গুটিয়ে নিচ্ছে—এমন নয়। ব্যাংকটি বাংলাদেশে করপোরেট ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাংকিং কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে। বিশ্বব্যাপী উচ্চ-মুনাফার করপোরেট, প্রাতিষ্ঠানিক ও সম্পদ ব্যবস্থাপনা (wealth management) ব্যবসায় বেশি গুরুত্ব দেওয়ার কৌশলের অংশ হিসেবেই বাংলাদেশে রিটেইল ব্যাংকিং থেকে সরে আসার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকাররা জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংককে পরিকল্পনা জানিয়েছে
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড সম্প্রতি বাংলাদেশ
ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে বৈঠক করে তাদের পরিকল্পনার কথা মৌখিকভাবে জানিয়েছে। পাশাপাশি সম্ভাব্য ক্রেতা কয়েকটি ব্যাংকের সঙ্গেও অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগ করেছে। আগ্রহী ব্যাংকগুলোকে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হলে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। প্রস্তাবিত লেনদেনে একটি বহিরাগত পরামর্শক প্রতিষ্ঠান দিয়ে রিটেইল ব্যাংকিং পোর্টফোলিওর মূল্যায়ন করা হতে পারে। এরপর প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের মাধ্যমে ক্রেতা নির্বাচন করা হবে। প্রক্রিয়াটি সেপ্টেম্বর বা অক্টোবরের দিকে শুরু হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা। তবে এখনো চূড়ান্ত সময়সূচি বা লেনদেনের কাঠামো প্রকাশ করা হয়নি। প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকার রিটেইল আমানত স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশের আর্থিক বিবরণী অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষে ব্যাংকটির রিটেইল ও কটেজ, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (CMSME) পোর্টফোলিওর আকার ছিল
৮ হাজার ৪৭৯ কোটি টাকা। এটি ব্যাংকটির মোট ৩০ হাজার ৪২৩ কোটি টাকার পোর্টফোলিওর প্রায় ২৮ শতাংশ। এ ছাড়া ২০২৫ সালের শেষে ব্যাংকটির মোট আমানতের পরিমাণ ছিল ৪০ হাজার কোটি টাকার বেশি। এর মধ্যে প্রায় ২০ শতাংশ বা ৮ হাজার কোটি টাকা ছিল রিটেইল আমানত। ফলে এই ব্যবসা অধিগ্রহণে আগ্রহী ব্যাংকের কাছে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের গ্রাহক ও আমানতের পোর্টফোলিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। দেশীয় ব্যাংকের আগ্রহ স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের রিটেইল ব্যবসা অধিগ্রহণে কয়েকটি দেশীয় ব্যাংক আগ্রহ দেখিয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যাংকারদের বক্তব্য অনুযায়ী, ব্র্যাক ব্যাংক ও সিটি ব্যাংক সম্ভাব্য আগ্রহী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে। কয়েকটি ব্যাংক ইতোমধ্যে নিজেদের পরিচালনা পর্ষদের কাছ থেকে দরপত্রে অংশ নেওয়ার বিষয়ে মৌখিক অনুমোদনও
পেয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের রিটেইল গ্রাহকদের একটি বড় অংশ তুলনামূলকভাবে উচ্চ-মূল্যের বা ‘অ্যাফ্লুয়েন্ট’ গ্রাহক। ফলে তাদের অধিগ্রহণের মাধ্যমে নতুন ব্যাংকগুলো একদিকে নতুন গ্রাহক পেতে পারে, অন্যদিকে উল্লেখযোগ্য আমানতভিত্তিও অর্জন করতে পারে। শুধু গ্রাহক নয়, কর্মী ও শাখাও আসতে পারে প্রস্তাবিত লেনদেনটি কেবল গ্রাহক বা আমানতের পোর্টফোলিও বিক্রির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে কি না, সেটিও এখনো স্পষ্ট নয়। সংশ্লিষ্ট একজন ব্যাংকারের মতে, লেনদেনের আওতায় রিটেইল ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত গ্রাহক, কর্মী ও শাখা—সবকিছুই থাকতে পারে। বাংলাদেশে অতীতে ব্যাংক একীভূতকরণ বা অধিগ্রহণের ঘটনা ঘটলেও কোনো বিদেশি ব্যাংকের এভাবে আলাদাভাবে রিটেইল গ্রাহক পোর্টফোলিও বিক্রির ঘটনা খুব একটা দেখা যায়নি। ফলে প্রস্তাবিত লেনদেনটি দেশের ব্যাংকিং খাতে
একটি ভিন্ন ধরনের নজির তৈরি করতে পারে। HSBC-ও গুটিয়ে নিচ্ছে রিটেইল ব্যাংকিং স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের এই উদ্যোগের আগে আরেক বহুজাতিক ব্যাংক এইচএসবিসি বাংলাদেশে তাদের রিটেইল ব্যাংকিং কার্যক্রম ধীরে ধীরে বন্ধ করার ঘোষণা দেয়। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে HSBC জানায়, তারা বাংলাদেশে রিটেইল ব্যাংকিং ব্যবসা থেকে সরে গিয়ে করপোরেট ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাংকিং কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে। ফলে দেশের খুচরা ব্যাংকিং বাজারে আন্তর্জাতিক ব্যাংকগুলোর উপস্থিতি কমে যাওয়ার একটি প্রবণতা তৈরি হচ্ছে। তবে বিশ্লেষণে এটিকে শুধু বাংলাদেশের বাজার থেকে বিদেশি ব্যাংকের প্রত্যাহার হিসেবে দেখার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিশ্বব্যাপী ব্যবসায়িক কৌশল পরিবর্তনের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। বাংলাদেশ ছাড়ছে না স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের রিটেইল ব্যাংকিং ব্যবসা বিক্রির উদ্যোগকে তাই বাংলাদেশ থেকে
পুরোপুরি বিদায় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। ব্যাংকটি করপোরেট ও ইনস্টিটিউশনাল ব্যাংকিং কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে। তবে দেশের অন্যতম দীর্ঘদিনের আন্তর্জাতিক ব্যাংকের রিটেইল ব্যবসা থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের ব্যাংকিং বাজারে বহুজাতিক ব্যাংকগুলোর ভবিষ্যৎ ভূমিকা এবং দেশীয় ব্যাংকগুলোর প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে বৈঠক করে তাদের পরিকল্পনার কথা মৌখিকভাবে জানিয়েছে। পাশাপাশি সম্ভাব্য ক্রেতা কয়েকটি ব্যাংকের সঙ্গেও অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগ করেছে। আগ্রহী ব্যাংকগুলোকে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হলে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। প্রস্তাবিত লেনদেনে একটি বহিরাগত পরামর্শক প্রতিষ্ঠান দিয়ে রিটেইল ব্যাংকিং পোর্টফোলিওর মূল্যায়ন করা হতে পারে। এরপর প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের মাধ্যমে ক্রেতা নির্বাচন করা হবে। প্রক্রিয়াটি সেপ্টেম্বর বা অক্টোবরের দিকে শুরু হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা। তবে এখনো চূড়ান্ত সময়সূচি বা লেনদেনের কাঠামো প্রকাশ করা হয়নি। প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকার রিটেইল আমানত স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশের আর্থিক বিবরণী অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষে ব্যাংকটির রিটেইল ও কটেজ, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (CMSME) পোর্টফোলিওর আকার ছিল
৮ হাজার ৪৭৯ কোটি টাকা। এটি ব্যাংকটির মোট ৩০ হাজার ৪২৩ কোটি টাকার পোর্টফোলিওর প্রায় ২৮ শতাংশ। এ ছাড়া ২০২৫ সালের শেষে ব্যাংকটির মোট আমানতের পরিমাণ ছিল ৪০ হাজার কোটি টাকার বেশি। এর মধ্যে প্রায় ২০ শতাংশ বা ৮ হাজার কোটি টাকা ছিল রিটেইল আমানত। ফলে এই ব্যবসা অধিগ্রহণে আগ্রহী ব্যাংকের কাছে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের গ্রাহক ও আমানতের পোর্টফোলিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। দেশীয় ব্যাংকের আগ্রহ স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের রিটেইল ব্যবসা অধিগ্রহণে কয়েকটি দেশীয় ব্যাংক আগ্রহ দেখিয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যাংকারদের বক্তব্য অনুযায়ী, ব্র্যাক ব্যাংক ও সিটি ব্যাংক সম্ভাব্য আগ্রহী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে। কয়েকটি ব্যাংক ইতোমধ্যে নিজেদের পরিচালনা পর্ষদের কাছ থেকে দরপত্রে অংশ নেওয়ার বিষয়ে মৌখিক অনুমোদনও
পেয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের রিটেইল গ্রাহকদের একটি বড় অংশ তুলনামূলকভাবে উচ্চ-মূল্যের বা ‘অ্যাফ্লুয়েন্ট’ গ্রাহক। ফলে তাদের অধিগ্রহণের মাধ্যমে নতুন ব্যাংকগুলো একদিকে নতুন গ্রাহক পেতে পারে, অন্যদিকে উল্লেখযোগ্য আমানতভিত্তিও অর্জন করতে পারে। শুধু গ্রাহক নয়, কর্মী ও শাখাও আসতে পারে প্রস্তাবিত লেনদেনটি কেবল গ্রাহক বা আমানতের পোর্টফোলিও বিক্রির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে কি না, সেটিও এখনো স্পষ্ট নয়। সংশ্লিষ্ট একজন ব্যাংকারের মতে, লেনদেনের আওতায় রিটেইল ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত গ্রাহক, কর্মী ও শাখা—সবকিছুই থাকতে পারে। বাংলাদেশে অতীতে ব্যাংক একীভূতকরণ বা অধিগ্রহণের ঘটনা ঘটলেও কোনো বিদেশি ব্যাংকের এভাবে আলাদাভাবে রিটেইল গ্রাহক পোর্টফোলিও বিক্রির ঘটনা খুব একটা দেখা যায়নি। ফলে প্রস্তাবিত লেনদেনটি দেশের ব্যাংকিং খাতে
একটি ভিন্ন ধরনের নজির তৈরি করতে পারে। HSBC-ও গুটিয়ে নিচ্ছে রিটেইল ব্যাংকিং স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের এই উদ্যোগের আগে আরেক বহুজাতিক ব্যাংক এইচএসবিসি বাংলাদেশে তাদের রিটেইল ব্যাংকিং কার্যক্রম ধীরে ধীরে বন্ধ করার ঘোষণা দেয়। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে HSBC জানায়, তারা বাংলাদেশে রিটেইল ব্যাংকিং ব্যবসা থেকে সরে গিয়ে করপোরেট ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাংকিং কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে। ফলে দেশের খুচরা ব্যাংকিং বাজারে আন্তর্জাতিক ব্যাংকগুলোর উপস্থিতি কমে যাওয়ার একটি প্রবণতা তৈরি হচ্ছে। তবে বিশ্লেষণে এটিকে শুধু বাংলাদেশের বাজার থেকে বিদেশি ব্যাংকের প্রত্যাহার হিসেবে দেখার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিশ্বব্যাপী ব্যবসায়িক কৌশল পরিবর্তনের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। বাংলাদেশ ছাড়ছে না স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের রিটেইল ব্যাংকিং ব্যবসা বিক্রির উদ্যোগকে তাই বাংলাদেশ থেকে
পুরোপুরি বিদায় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। ব্যাংকটি করপোরেট ও ইনস্টিটিউশনাল ব্যাংকিং কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে। তবে দেশের অন্যতম দীর্ঘদিনের আন্তর্জাতিক ব্যাংকের রিটেইল ব্যবসা থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের ব্যাংকিং বাজারে বহুজাতিক ব্যাংকগুলোর ভবিষ্যৎ ভূমিকা এবং দেশীয় ব্যাংকগুলোর প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।



