ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
জামায়াতের সদস্যদের লিঙ্গভিত্তিক শিক্ষকতার নির্দেশ: মহিলা মাদ্রাসায় ধর্ষণ ঠেকানোই কি উদ্দেশ্য, নাকি নতুন কোনো কূটকৌশল?
মুফতি তাহেরী: কট খাওয়ার আগে রোমান্টিক, কট খেলে কয় বউ, আবার বট বাহিনীও আছে
জাতিসংঘের প্রতিবেদন: বাংলাদেশে স্বাস্থ্যকর খাবার কেনার সামর্থ্য নেই ৬ কোটি ৭৮ লাখ মানুষের
এনবিআরের মাঠপর্যায়ের তদারকি নিয়ে উদ্বেগ: ‘হয়রানি-দুর্নীতি বাড়ার শঙ্কা, সমাধান ডিজিটাল করব্যবস্থা’
কিয়োডো নিউজকে সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা: “দেশে ফিরলে কী হতে পারে, সেই ঝুঁকিটা আমি জানি”
‘ধরা খেয়ে দ্বিতীয় বিয়ের নাটক সাজাবেন, সেটা কেমন চরিত্র আর হেকমত?’
জামায়াত এমপি গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার
একই ঘটনায় দুই রকমের বিচার: ৪৫ বছর পর ফের আলোচনায় জিয়া হত্যামামলা, কেন বন্ধ ছিল পুলিশি তদন্ত, কী ছিল নথিতে?
একই হত্যাকাণ্ডে দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন বিচারিক পরিণতি ঘটেছিল ১৯৮১ সালে। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর সামরিক আদালতে অভিযুক্ত সেনা কর্মকর্তাদের বিচার দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন হয়ে ১৩ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়। অথচ চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানায় দায়ের হওয়া বেসামরিক হত্যা মামলাটি ২০ বছর তদন্তাধীন থেকেও অভিযোগপত্র পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেনি; শেষে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিলের মধ্য দিয়েই মামলাটির ইতি ঘটে।
৪৫ বছর পর পলাতক আসামি মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনের গ্রেপ্তারের ঘটনা এই দ্বৈত বিচারিক প্রক্রিয়াকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
দুই সমান্তরাল প্রক্রিয়া, দুই ভিন্ন পরিণতি
১৯৮১ সালের ৩০শে মে ভোরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর সেনাবাহিনী নিজস্ব কোর্ট মার্শালে বিদ্রোহে জড়িত কর্মকর্তাদের বিচার
শুরু করে, যেখানে ১৩ জন সেনা কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়। সমান্তরালভাবে চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানায় ফৌজদারি আইনে একটি হত্যা মামলা রুজু হয়, যার ছয় নম্বর আসামি ছিলেন সদ্য গ্রেপ্তার হওয়া মোজাফফর হোসেন। সামরিক বিচার যেখানে দ্রুত সম্পন্ন হয়, বেসামরিক মামলাটি সেখানে দীর্ঘসূত্রতার শিকার হয়। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ১৯৮১ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত ১৭৩ দফা সময় নিয়েও অভিযোগপত্র জমা দিতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত ২০০১ সালের ২৪শে অক্টোবর আদালতে একটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়, যার মাধ্যমে কোনো অভিযুক্তকে বিচারের মুখোমুখি না করেই মামলাটি কার্যত নিষ্পত্তি হয়ে যায়। নথিতে যা মিলছে: আইসিসি সভার সিদ্ধান্ত মামলার নথি অনুযায়ী, ২০০১ সালের ৩রা অক্টোবর চট্টগ্রামের মুখ্য মহানগর হাকিমের
কাছে পাঠানো এক চিঠিতে পুলিশ জানায়, ১৯৮১ সালের ১৬ই জুন অনুষ্ঠিত একটি আন্তঃসংস্থা সমন্বয় (আইসিসি) সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছিল—সেনাবাহিনী যদি তদন্তের দায়িত্ব গ্রহণ করে, তাহলে পুলিশের তদন্ত এগোনোর প্রয়োজন হবে না। বাস্তবে সেনাবাহিনী নিজস্ব কোর্ট মার্শালে বিচার শুরু করে দেওয়ায় বেসামরিক তদন্তকে কার্যত পাশ কাটিয়ে যাওয়া হয়। ২০ বছর পর সাক্ষী ও প্রমাণের অভাব দেখিয়ে সিআইডি চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়, যদিও প্রকৃতপক্ষে ফাইলটি ১৯৮১ সালেই কার্যকরভাবে থেমে গিয়েছিল। তবে আইসিসি সভার সিদ্ধান্তের পেছনে কারা ছিলেন, সে বিষয়ে মামলার নথিতে সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির নাম নেই। চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) মফিজুল হক ভূঁইয়া মনে করেন, মামলার নথি উদ্ধার করা গেলে অনেক
প্রশ্নের উত্তর মিলতে পারে। এজন্য সেরেস্তা, কোতোয়ালি থানা এবং চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তৎকালীন মহানগর পিপি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ফখরুদ্দিন বলেন, সিআইডি তার সঙ্গে কোনো পরামর্শ না করেই চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। পরবর্তী পিপি অ্যাডভোকেট আব্দুস সাত্তার জানান, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার আগেই নথি রেকর্ডরুমে চলে গিয়েছিল। ২০ বছরের তদন্তে একাধিক কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করলেও তাদের পরিচয় ও বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য এখনো প্রকাশ্যে নেই। আলামত ও নথির অজানা অবস্থান হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র, ফরেনসিক প্রতিবেদন কিংবা ময়নাতদন্তের নথি বর্তমানে কোথায় সংরক্ষিত আছে, সে বিষয়ে যাচাইযোগ্য তথ্য প্রকাশ্যে নেই। হামলায় ১১টি সাবমেশিনগান, তিনটি রকেট লঞ্চার ও তিনটি গ্রেনেড-ফায়ারিং রাইফেল ব্যবহৃত হয়েছিল বলে জানা যায়,
তবে সেগুলো পরবর্তীতে কী প্রক্রিয়ায় জব্দ বা সংরক্ষণ করা হয়েছিল সে সংক্রান্ত নথি প্রকাশ্যে নেই। যেহেতু মামলাটি পরবর্তীতে সামরিক কর্তৃপক্ষের আওতায় চলে যায়, তাই আলামত সেনাবাহিনীর হেফাজতে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে—তবে এ বিষয়ে কোনো সরকারি নিশ্চিত তথ্য নেই। মেজর মোজাফফর মেজর মোজাফফর কি জিয়া হত্যা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত? বিভিন্ন গণমাধ্যমে মেজর মোজাফফরের পরিচয় বলা হচ্ছে জিয়া হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। অথচ জিয়া হত্যা মামলার তার সাজা হয়নি। মামলাটি চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানায় দায়ের করেন সিএমপির তৎকালীন সহকারী পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) মোকাররম হোসেন। যার মামলা নং -২(৬)৮১, ধারা-১২০ (বি)/ ১২১ /১২২/৩০২, তারিখ : ০১-০৬-১৯৮১। মামলায় আসামি ছিলেন- ১. মেজর জেনারেল মো. আবুল মঞ্জুর, ২. কর্নেল দেলোয়ার
হোসেন, ৩. লে. কর্নেল দেলোয়ার হোসেন, ৪. মেজর মনির, ৫. মেজর দোস্ত মোহাম্মদ, ৬. মেজর মোজাফফর, ৭. মেজর রেজাউল করিম, ৮. ক্যাপ্টেন রফিক, ৯. ক্যাপ্টেন ইলিয়াস, ১০. ক্যাপ্টেন জামিল, সর্বসাং-চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট এবং আরো অনেকে। সার্কিট হাউজে রাষ্ট্রপতির অবস্থানকালে দায়িত্ব পালনে অবহেলার কারণে পরে বাদী নিজেই চাকরি হারান। চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানায় দায়ের হওয়া বেসামরিক হত্যা মামলায় ২০ বছর ধরে তদন্ত চললেও সিআইডি ১৭৩ দফা সময় নিয়েও অভিযোগপত্র দিতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত সাক্ষ্য-প্রমাণের অভাব দেখিয়ে সিআইডি চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। তৎকালীন মহানগর পিপি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ফখরুদ্দিন বলেন, সিআইডি তার সঙ্গে কোনো পরামর্শ না করেই চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। পরবর্তী পিপি অ্যাডভোকেট আব্দুস সাত্তার জানান,
তিনি দায়িত্ব নেওয়ার আগেই নথি রেকর্ডরুমে চলে যায়। নিয়ম অনুযায়ী, জিয়া হত্যা মামলার তারিখ কয়েক মাস পরপর পড়ছিল। ১৯৯৭ সালের ১২ই সেপ্টেম্বর তৎকালীন মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) এ কে এম কামাল উদ্দীন এই মামলায় একটি দীর্ঘ পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ তুলে ধরে যে আদেশটি দেন তা একটি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে সামনে নিয়ে আসে। আদালত যা বলেছিল এখানে আদালতের পর্যবেক্ষণের সারসংক্ষেপ তুলে ধরা হলো (বয়ান অবিকৃত রেখে): ‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যে স্মারকটির কথা ইতিমধ্যে আদালতকে অবহিত করা হয়েছে তা সিএমএম আদালতের নিকট ১৩-০১-১৯৯৭-এর পূর্বে পেশ করা হয় নাই। বর্ণিত আইসিসি সভা ও সিদ্ধান্তের বিষয়েও আদালতে কিছু পেশ করা হয় নাই। ঘটনার সময় এবং পরবর্তীকালে অত্র মামলা বিচারাধীন সময়ে দেশের সংবিধান ও সংবিধানের অধীনে গঠিত আদালতসমূহ প্রচলিত আইনে বিদ্যমান ছিল। অত্র হত্যাকাণ্ডটি ছিল বাংলাদেশ প্রজাতন্ত্রের একটি আইনসম্মত সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ এবং দেশের একটি অংশকে বাকি অংশ হতে সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন করার প্রয়াস। এই ঘটনায় বিপুলসংখ্যক বেসামরিক ব্যক্তি ভিক্টিম হিসেবে নিহত, আহত বা সাক্ষী হিসেবে জড়িত ছিলেন বা আছেন। বরং প্রতিভাত হয়েছে, সংশ্লিষ্টরা স্বেচ্ছাচারিতা ও আইনের শাসনের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শনের প্রয়াস পেয়েছেন। এই মামলায় রাষ্ট্রের প্রতি বিদ্রোহ করার অভিযোগ আছে এবং এই প্রক্রিয়ায় বেসামরিক প্রশাসন, বেতার এবং টেলিভিশনকে জড়িত করা হয়েছিল। সঠিক তদন্ত অনুষ্ঠানের মাধ্যমেই কেবল প্রকৃত ঘটনায় জড়িত ব্যক্তি এবং অপরাধ সংঘটনের ব্যাপকতা ও গভীরতা জানা যেতে পারত। এখানে আরো একটি বিষয় উল্লেখ করতে হয় যে, দেশের সকল আইন প্রণয়ন করা হয় একটির সাথে আরেকটি সংগতি রেখে। ফৌজদারি আইনের ৫৫৪ ধারার সাথে সংগতিপূর্ণভাবে আর্মি অ্যাক্ট প্রণয়ন করা হয়েছে। কিন্তু এক্ষেত্রে বিধিসমূহ পালনে ব্যত্যয় ঘটেছে। সর্বোপরি জেনারেল কজেজ অ্যাক্ট দেশের প্রচলিত সকল আইনের ওপর প্রাধান্য পায়। এখানে এর প্রতিও কোনোরূপ তোয়াক্কা করা হয় নাই। উপরোক্ত আলোচনা ও বিশ্লেষণ মতে প্রতিভাত হয় যে, অত্র মামলাটি প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী চলার প্রক্রিয়া এবং তদন্ত চলার গতিকে আইন বহির্ভূত হস্তক্ষেপের মাধ্যমে বিঘ্নিত করা হয়েছে এবং বন্ধ রাখা হয়েছে।’ বিশ্লেষকরা বলছেন, এই মামলার দুই আসামি মেজর দোস্ত মোহাম্মদ ও ক্যাপ্টেন ইলিয়াস সেনা আইনে হওয়া সামরিক ট্রাইবুনালের বিচারে রেহাই পেলেও অন্যদের ফাঁসি হয় সামরিক ট্রাইব্যুনালের আদেশে। মেজর জেনারেল মঞ্জুর আটক অবস্থায় চট্টগ্রাম সেনানিবাসে নিহত হন। মেজর মোজাফফরের মৃত্যুদণ্ডের রায় হয় বিদ্রোহের অপরাধের মামলায় সেনা আইনে, জিয়া হত্যা মামলায় নয়। অথচ সরকারের প্রেসনোটের আলোকে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে প্রতিনিয়ত মেজর মোজাফফরকে জিয়া হত্যায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি বলা হচ্ছে। দেশের কোনো সাংবাদিক একবারও জিজ্ঞেস করছে না, যে মামলার বিচার আদালতে শুরুই হয়নি, সেই মামলার আসামি কীভাবে মৃত্যুদণ্ড পেল? নিরাপত্তা ব্যর্থতা: অনুত্তরিত প্রশ্ন সার্কিট হাউজে রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তা এত সহজে কীভাবে ভেঙে পড়ল, ৪৫ বছর পরও তা স্পষ্ট নয়। গবেষক জিয়াউদ্দিন এম চৌধুরীর তথ্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের পর একটি বিচার বিভাগীয় ও একটি সামরিক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। সামরিক তদন্তের ভিত্তিতে বিচার হলেও বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদন কখনো প্রকাশ করা হয়নি, ফলে নিরাপত্তা ব্যর্থতার দায় কার, তা আনুষ্ঠানিকভাবে অজানাই রয়ে গেছে। হামলাকারী দল বিনা বাধায় সার্কিট হাউজে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়েছিল, যা থেকে ধারণা করা যায় প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের নিরাপত্তা বলয়ে হয় কার্যকর প্রতিরোধ ছিল না, নয়তো হামলাকারীদের মধ্যে এমন কেউ ছিলেন যিনি নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে পরিচিত ছিলেন। মোজাফফরের ভাষ্য ও ঘটনার বিবরণ সাম্প্রতিক তদন্তে উঠে এসেছে, হত্যাকাণ্ডের আগে চট্টগ্রামের কালুরঘাটে বিদ্রোহী কর্মকর্তাদের একটি গোপন বৈঠক হয়েছিল, যেখানে মোজাফফর হোসেন উপস্থিত ছিলেন। তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ওই বৈঠকে প্রায় ২০ জন কর্মকর্তার উপস্থিতির কথা বলেছেন। মোজাফফরের ভাষ্যমতে, সেনা প্রশাসনে পদোন্নতি বঞ্চিত হওয়ার ক্ষোভ থেকে তিনি জিয়াউর রহমান ও সেনা নেতৃত্বের প্রতি ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। হত্যাকাণ্ডের রাতে অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন লে. কর্নেল মতিউর রহমান (মতি)। ঘুমন্ত জিয়ার কক্ষে আঘাত হানার নির্দিষ্ট দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল ক্যাপ্টেন সাত্তার ও ফজলে হোসেনকে। হামলার পর মোজাফফর হোসেনই ইংরেজিতে সংক্ষিপ্ত বার্তা পাঠান জিওসি মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুরের কাছে—”দ্য প্রেসিডেন্ট হ্যাজ বিন কিল্ড”। এই বার্তার মাধ্যমেই মঞ্জুর হত্যাকাণ্ডের খবর জানতে পারেন এবং পরবর্তীতে বেতার ভাষণে সেনাপ্রধান এরশাদকে বরখাস্ত ও মীর শওকত আলীকে নতুন সেনাপ্রধান ঘোষণা করেন। তবে পরিকল্পনার চূড়ান্ত সময়, বৈঠকের সুনির্দিষ্ট তারিখ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে এখনো অনেক প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। তদন্তকারীরা মনে করছেন, চলমান জিজ্ঞাসাবাদে নতুন তথ্য পাওয়া যেতে পারে। বিদ্রোহ দমন ও পরিণতি হত্যাকাণ্ডের পর মেজর মঞ্জুরের নেতৃত্বে চট্টগ্রামে সাময়িকভাবে সান্ধ্য আইন জারি হয় এবং শহরের নিয়ন্ত্রণ নেয় বিদ্রোহীরা। তবে একদিনের মধ্যেই ঢাকা থেকে পাঠানো বাহিনী বিদ্রোহ দমন করে। মঞ্জুর পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন, পরে হাটহাজারী থানার কাছে তাকে ঘিরে ফেলা হয় এবং একপর্যায়ে তিনি নিহত হন। লে. কর্নেল মতিউর রহমানও ১ জুন সীমান্তের দিকে পালানোর পথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন। বাকি অভিযুক্তদের বিচার হয় কোর্ট মার্শালে, যেখানে ১৩ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে দ্রুত ফাঁসি কার্যকর করা হয়। মোজাফফর হোসেনসহ অল্প কয়েকজন সে সময় বিদেশে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। নতুন করে ওঠা প্রশ্ন মোজাফফর হোসেন গ্রেপ্তারের পর নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে, দীর্ঘদিন ধরে রেকর্ডরুমে থাকা বেসামরিক মামলার নথি উদ্ধার করে নতুন কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব কি না। ১৯৮১ সালে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের নেতা ছিলেন একরামুল করিম। বর্তমানে ৭২ বছর বয়সি এই প্রবীণ রাজনীতিক বলেন, “আমার ব্যক্তিগত বিশ্বাস, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে বিদেশি ষড়যন্ত্র ছিল। এই হত্যার বিচার শেষ করতে হবে। যারা জড়িত, সবাইকে আইনের আওতায় আনতে হবে।” চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) মফিজুল হক ভূঁইয়া বলেন, “যদি মনে করা হয় জিয়াউর রহমান হত্যা মামলায় বেসামরিক আদালতে পুনরায় বিচার প্রয়োজন, তাহলে সে বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা যেতে পারে। আমরা ইতোমধ্যে মামলার নথির খোঁজ করছি। এ বিষয়ে পুলিশ কমিশনারের সঙ্গেও কথা হবে।”
শুরু করে, যেখানে ১৩ জন সেনা কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়। সমান্তরালভাবে চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানায় ফৌজদারি আইনে একটি হত্যা মামলা রুজু হয়, যার ছয় নম্বর আসামি ছিলেন সদ্য গ্রেপ্তার হওয়া মোজাফফর হোসেন। সামরিক বিচার যেখানে দ্রুত সম্পন্ন হয়, বেসামরিক মামলাটি সেখানে দীর্ঘসূত্রতার শিকার হয়। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ১৯৮১ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত ১৭৩ দফা সময় নিয়েও অভিযোগপত্র জমা দিতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত ২০০১ সালের ২৪শে অক্টোবর আদালতে একটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়, যার মাধ্যমে কোনো অভিযুক্তকে বিচারের মুখোমুখি না করেই মামলাটি কার্যত নিষ্পত্তি হয়ে যায়। নথিতে যা মিলছে: আইসিসি সভার সিদ্ধান্ত মামলার নথি অনুযায়ী, ২০০১ সালের ৩রা অক্টোবর চট্টগ্রামের মুখ্য মহানগর হাকিমের
কাছে পাঠানো এক চিঠিতে পুলিশ জানায়, ১৯৮১ সালের ১৬ই জুন অনুষ্ঠিত একটি আন্তঃসংস্থা সমন্বয় (আইসিসি) সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছিল—সেনাবাহিনী যদি তদন্তের দায়িত্ব গ্রহণ করে, তাহলে পুলিশের তদন্ত এগোনোর প্রয়োজন হবে না। বাস্তবে সেনাবাহিনী নিজস্ব কোর্ট মার্শালে বিচার শুরু করে দেওয়ায় বেসামরিক তদন্তকে কার্যত পাশ কাটিয়ে যাওয়া হয়। ২০ বছর পর সাক্ষী ও প্রমাণের অভাব দেখিয়ে সিআইডি চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়, যদিও প্রকৃতপক্ষে ফাইলটি ১৯৮১ সালেই কার্যকরভাবে থেমে গিয়েছিল। তবে আইসিসি সভার সিদ্ধান্তের পেছনে কারা ছিলেন, সে বিষয়ে মামলার নথিতে সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির নাম নেই। চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) মফিজুল হক ভূঁইয়া মনে করেন, মামলার নথি উদ্ধার করা গেলে অনেক
প্রশ্নের উত্তর মিলতে পারে। এজন্য সেরেস্তা, কোতোয়ালি থানা এবং চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তৎকালীন মহানগর পিপি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ফখরুদ্দিন বলেন, সিআইডি তার সঙ্গে কোনো পরামর্শ না করেই চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। পরবর্তী পিপি অ্যাডভোকেট আব্দুস সাত্তার জানান, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার আগেই নথি রেকর্ডরুমে চলে গিয়েছিল। ২০ বছরের তদন্তে একাধিক কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করলেও তাদের পরিচয় ও বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য এখনো প্রকাশ্যে নেই। আলামত ও নথির অজানা অবস্থান হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র, ফরেনসিক প্রতিবেদন কিংবা ময়নাতদন্তের নথি বর্তমানে কোথায় সংরক্ষিত আছে, সে বিষয়ে যাচাইযোগ্য তথ্য প্রকাশ্যে নেই। হামলায় ১১টি সাবমেশিনগান, তিনটি রকেট লঞ্চার ও তিনটি গ্রেনেড-ফায়ারিং রাইফেল ব্যবহৃত হয়েছিল বলে জানা যায়,
তবে সেগুলো পরবর্তীতে কী প্রক্রিয়ায় জব্দ বা সংরক্ষণ করা হয়েছিল সে সংক্রান্ত নথি প্রকাশ্যে নেই। যেহেতু মামলাটি পরবর্তীতে সামরিক কর্তৃপক্ষের আওতায় চলে যায়, তাই আলামত সেনাবাহিনীর হেফাজতে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে—তবে এ বিষয়ে কোনো সরকারি নিশ্চিত তথ্য নেই। মেজর মোজাফফর মেজর মোজাফফর কি জিয়া হত্যা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত? বিভিন্ন গণমাধ্যমে মেজর মোজাফফরের পরিচয় বলা হচ্ছে জিয়া হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। অথচ জিয়া হত্যা মামলার তার সাজা হয়নি। মামলাটি চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানায় দায়ের করেন সিএমপির তৎকালীন সহকারী পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) মোকাররম হোসেন। যার মামলা নং -২(৬)৮১, ধারা-১২০ (বি)/ ১২১ /১২২/৩০২, তারিখ : ০১-০৬-১৯৮১। মামলায় আসামি ছিলেন- ১. মেজর জেনারেল মো. আবুল মঞ্জুর, ২. কর্নেল দেলোয়ার
হোসেন, ৩. লে. কর্নেল দেলোয়ার হোসেন, ৪. মেজর মনির, ৫. মেজর দোস্ত মোহাম্মদ, ৬. মেজর মোজাফফর, ৭. মেজর রেজাউল করিম, ৮. ক্যাপ্টেন রফিক, ৯. ক্যাপ্টেন ইলিয়াস, ১০. ক্যাপ্টেন জামিল, সর্বসাং-চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট এবং আরো অনেকে। সার্কিট হাউজে রাষ্ট্রপতির অবস্থানকালে দায়িত্ব পালনে অবহেলার কারণে পরে বাদী নিজেই চাকরি হারান। চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানায় দায়ের হওয়া বেসামরিক হত্যা মামলায় ২০ বছর ধরে তদন্ত চললেও সিআইডি ১৭৩ দফা সময় নিয়েও অভিযোগপত্র দিতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত সাক্ষ্য-প্রমাণের অভাব দেখিয়ে সিআইডি চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। তৎকালীন মহানগর পিপি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ফখরুদ্দিন বলেন, সিআইডি তার সঙ্গে কোনো পরামর্শ না করেই চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। পরবর্তী পিপি অ্যাডভোকেট আব্দুস সাত্তার জানান,
তিনি দায়িত্ব নেওয়ার আগেই নথি রেকর্ডরুমে চলে যায়। নিয়ম অনুযায়ী, জিয়া হত্যা মামলার তারিখ কয়েক মাস পরপর পড়ছিল। ১৯৯৭ সালের ১২ই সেপ্টেম্বর তৎকালীন মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) এ কে এম কামাল উদ্দীন এই মামলায় একটি দীর্ঘ পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ তুলে ধরে যে আদেশটি দেন তা একটি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে সামনে নিয়ে আসে। আদালত যা বলেছিল এখানে আদালতের পর্যবেক্ষণের সারসংক্ষেপ তুলে ধরা হলো (বয়ান অবিকৃত রেখে): ‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যে স্মারকটির কথা ইতিমধ্যে আদালতকে অবহিত করা হয়েছে তা সিএমএম আদালতের নিকট ১৩-০১-১৯৯৭-এর পূর্বে পেশ করা হয় নাই। বর্ণিত আইসিসি সভা ও সিদ্ধান্তের বিষয়েও আদালতে কিছু পেশ করা হয় নাই। ঘটনার সময় এবং পরবর্তীকালে অত্র মামলা বিচারাধীন সময়ে দেশের সংবিধান ও সংবিধানের অধীনে গঠিত আদালতসমূহ প্রচলিত আইনে বিদ্যমান ছিল। অত্র হত্যাকাণ্ডটি ছিল বাংলাদেশ প্রজাতন্ত্রের একটি আইনসম্মত সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ এবং দেশের একটি অংশকে বাকি অংশ হতে সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন করার প্রয়াস। এই ঘটনায় বিপুলসংখ্যক বেসামরিক ব্যক্তি ভিক্টিম হিসেবে নিহত, আহত বা সাক্ষী হিসেবে জড়িত ছিলেন বা আছেন। বরং প্রতিভাত হয়েছে, সংশ্লিষ্টরা স্বেচ্ছাচারিতা ও আইনের শাসনের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শনের প্রয়াস পেয়েছেন। এই মামলায় রাষ্ট্রের প্রতি বিদ্রোহ করার অভিযোগ আছে এবং এই প্রক্রিয়ায় বেসামরিক প্রশাসন, বেতার এবং টেলিভিশনকে জড়িত করা হয়েছিল। সঠিক তদন্ত অনুষ্ঠানের মাধ্যমেই কেবল প্রকৃত ঘটনায় জড়িত ব্যক্তি এবং অপরাধ সংঘটনের ব্যাপকতা ও গভীরতা জানা যেতে পারত। এখানে আরো একটি বিষয় উল্লেখ করতে হয় যে, দেশের সকল আইন প্রণয়ন করা হয় একটির সাথে আরেকটি সংগতি রেখে। ফৌজদারি আইনের ৫৫৪ ধারার সাথে সংগতিপূর্ণভাবে আর্মি অ্যাক্ট প্রণয়ন করা হয়েছে। কিন্তু এক্ষেত্রে বিধিসমূহ পালনে ব্যত্যয় ঘটেছে। সর্বোপরি জেনারেল কজেজ অ্যাক্ট দেশের প্রচলিত সকল আইনের ওপর প্রাধান্য পায়। এখানে এর প্রতিও কোনোরূপ তোয়াক্কা করা হয় নাই। উপরোক্ত আলোচনা ও বিশ্লেষণ মতে প্রতিভাত হয় যে, অত্র মামলাটি প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী চলার প্রক্রিয়া এবং তদন্ত চলার গতিকে আইন বহির্ভূত হস্তক্ষেপের মাধ্যমে বিঘ্নিত করা হয়েছে এবং বন্ধ রাখা হয়েছে।’ বিশ্লেষকরা বলছেন, এই মামলার দুই আসামি মেজর দোস্ত মোহাম্মদ ও ক্যাপ্টেন ইলিয়াস সেনা আইনে হওয়া সামরিক ট্রাইবুনালের বিচারে রেহাই পেলেও অন্যদের ফাঁসি হয় সামরিক ট্রাইব্যুনালের আদেশে। মেজর জেনারেল মঞ্জুর আটক অবস্থায় চট্টগ্রাম সেনানিবাসে নিহত হন। মেজর মোজাফফরের মৃত্যুদণ্ডের রায় হয় বিদ্রোহের অপরাধের মামলায় সেনা আইনে, জিয়া হত্যা মামলায় নয়। অথচ সরকারের প্রেসনোটের আলোকে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে প্রতিনিয়ত মেজর মোজাফফরকে জিয়া হত্যায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি বলা হচ্ছে। দেশের কোনো সাংবাদিক একবারও জিজ্ঞেস করছে না, যে মামলার বিচার আদালতে শুরুই হয়নি, সেই মামলার আসামি কীভাবে মৃত্যুদণ্ড পেল? নিরাপত্তা ব্যর্থতা: অনুত্তরিত প্রশ্ন সার্কিট হাউজে রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তা এত সহজে কীভাবে ভেঙে পড়ল, ৪৫ বছর পরও তা স্পষ্ট নয়। গবেষক জিয়াউদ্দিন এম চৌধুরীর তথ্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের পর একটি বিচার বিভাগীয় ও একটি সামরিক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। সামরিক তদন্তের ভিত্তিতে বিচার হলেও বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদন কখনো প্রকাশ করা হয়নি, ফলে নিরাপত্তা ব্যর্থতার দায় কার, তা আনুষ্ঠানিকভাবে অজানাই রয়ে গেছে। হামলাকারী দল বিনা বাধায় সার্কিট হাউজে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়েছিল, যা থেকে ধারণা করা যায় প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের নিরাপত্তা বলয়ে হয় কার্যকর প্রতিরোধ ছিল না, নয়তো হামলাকারীদের মধ্যে এমন কেউ ছিলেন যিনি নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে পরিচিত ছিলেন। মোজাফফরের ভাষ্য ও ঘটনার বিবরণ সাম্প্রতিক তদন্তে উঠে এসেছে, হত্যাকাণ্ডের আগে চট্টগ্রামের কালুরঘাটে বিদ্রোহী কর্মকর্তাদের একটি গোপন বৈঠক হয়েছিল, যেখানে মোজাফফর হোসেন উপস্থিত ছিলেন। তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ওই বৈঠকে প্রায় ২০ জন কর্মকর্তার উপস্থিতির কথা বলেছেন। মোজাফফরের ভাষ্যমতে, সেনা প্রশাসনে পদোন্নতি বঞ্চিত হওয়ার ক্ষোভ থেকে তিনি জিয়াউর রহমান ও সেনা নেতৃত্বের প্রতি ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। হত্যাকাণ্ডের রাতে অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন লে. কর্নেল মতিউর রহমান (মতি)। ঘুমন্ত জিয়ার কক্ষে আঘাত হানার নির্দিষ্ট দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল ক্যাপ্টেন সাত্তার ও ফজলে হোসেনকে। হামলার পর মোজাফফর হোসেনই ইংরেজিতে সংক্ষিপ্ত বার্তা পাঠান জিওসি মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুরের কাছে—”দ্য প্রেসিডেন্ট হ্যাজ বিন কিল্ড”। এই বার্তার মাধ্যমেই মঞ্জুর হত্যাকাণ্ডের খবর জানতে পারেন এবং পরবর্তীতে বেতার ভাষণে সেনাপ্রধান এরশাদকে বরখাস্ত ও মীর শওকত আলীকে নতুন সেনাপ্রধান ঘোষণা করেন। তবে পরিকল্পনার চূড়ান্ত সময়, বৈঠকের সুনির্দিষ্ট তারিখ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে এখনো অনেক প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। তদন্তকারীরা মনে করছেন, চলমান জিজ্ঞাসাবাদে নতুন তথ্য পাওয়া যেতে পারে। বিদ্রোহ দমন ও পরিণতি হত্যাকাণ্ডের পর মেজর মঞ্জুরের নেতৃত্বে চট্টগ্রামে সাময়িকভাবে সান্ধ্য আইন জারি হয় এবং শহরের নিয়ন্ত্রণ নেয় বিদ্রোহীরা। তবে একদিনের মধ্যেই ঢাকা থেকে পাঠানো বাহিনী বিদ্রোহ দমন করে। মঞ্জুর পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন, পরে হাটহাজারী থানার কাছে তাকে ঘিরে ফেলা হয় এবং একপর্যায়ে তিনি নিহত হন। লে. কর্নেল মতিউর রহমানও ১ জুন সীমান্তের দিকে পালানোর পথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন। বাকি অভিযুক্তদের বিচার হয় কোর্ট মার্শালে, যেখানে ১৩ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে দ্রুত ফাঁসি কার্যকর করা হয়। মোজাফফর হোসেনসহ অল্প কয়েকজন সে সময় বিদেশে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। নতুন করে ওঠা প্রশ্ন মোজাফফর হোসেন গ্রেপ্তারের পর নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে, দীর্ঘদিন ধরে রেকর্ডরুমে থাকা বেসামরিক মামলার নথি উদ্ধার করে নতুন কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব কি না। ১৯৮১ সালে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের নেতা ছিলেন একরামুল করিম। বর্তমানে ৭২ বছর বয়সি এই প্রবীণ রাজনীতিক বলেন, “আমার ব্যক্তিগত বিশ্বাস, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে বিদেশি ষড়যন্ত্র ছিল। এই হত্যার বিচার শেষ করতে হবে। যারা জড়িত, সবাইকে আইনের আওতায় আনতে হবে।” চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) মফিজুল হক ভূঁইয়া বলেন, “যদি মনে করা হয় জিয়াউর রহমান হত্যা মামলায় বেসামরিক আদালতে পুনরায় বিচার প্রয়োজন, তাহলে সে বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা যেতে পারে। আমরা ইতোমধ্যে মামলার নথির খোঁজ করছি। এ বিষয়ে পুলিশ কমিশনারের সঙ্গেও কথা হবে।”



