ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
শেখ হাসিনার আমলে ভারতের সঙ্গে তৈরি সেই পাইপলাইনই এখন বিএনপির ভরসা
বিএনপি সমর্থক পিতার ছেলে ‘ছাত্রলীগ নেতা’: রাজনৈতিক আদর্শ না ছাড়ায় করলেন তাজ্যপুত্র
বিএনপি-জামায়াতের সম্মতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে করা ইউনূস সরকারের চুক্তিতে দেশের ক্ষতি বছরে ১৩২৭ কোটি টাকা
অতিমাত্রায় ‘তেলবাজি’, জয়নুল আবদিন ফারুককে সতর্ক করল বিএনপি
‘ছাত্রলীগ’ সন্দেহে ঢাবি শিক্ষার্থীকে মারধর, মায়ের এজাহার
২০২১ সালে ঐতিহাসিক ৭ মার্চ পালনকারী বিএনপির কাছে এখন ‘মব’ ও ‘নিষিদ্ধ’
রাজনীতির নামে পশুত্ব! বৃদ্ধা মায়ের রক্ত ঝরিয়ে কাপুরুষতার উৎসব
বিএনপি ও জামায়াত ভেতরে ভেতরে এক, মাঠে তারা কৃত্রিম দ্বন্দ্ব দেখাচ্ছে।” শামীম হায়দার পাটোয়ারী, মহাসচিব, জাতীয় পার্টি।
আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে দেশ চালালে বা রাজনীতি করলে একসময় বিপ্লব হবে এবং পতন অনিবার্য বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব ও সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামী ভেতরে ভেতরে সম্পূর্ণ একজোট (glove in hands), কেবল বিরোধী দলের জায়গা অন্য কাউকে না দেওয়ার জন্যই তারা মাঠে কৃত্রিম দ্বন্দ্ব দেখাচ্ছে।
সম্প্রতি ‘মানচিত্র’ নামক একটি টেলিভিশনের নিয়মিত আয়োজন ‘কথোপকথন’ অনুষ্ঠানে উপস্থাপক পান্নার সঙ্গে যুক্ত হয়ে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সদ্য গঠিত সরকার ও সংসদ, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন এই বর্ষীয়ান রাজনীতিক।
ইউনূস সরকারের সমালোচনা ও নতুন সংসদকে স্বাগত
গত ১২ই
মার্চ শুরু হওয়া নতুন সংসদের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে শামীম হায়দার বলেন, বর্তমান সংসদে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি বা বামপন্থী দলগুলো নেই, তাই এটি অন্তর্ভুক্তিমূলক নয়। তারপরও তিনি এই সরকার ও সংসদকে স্বাগত জানান। বিগত ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, "ইউনূস সরকার আস্তে আস্তে দেশকে এবং দেশের রাজনীতিকে খাদের কিনারায় নিয়ে যাচ্ছিল। দেশ উগ্র ইসলামিক জঙ্গিবাদ ও গৃহযুদ্ধের দিকে ধাবিত হচ্ছিল।" তিনি ওই সরকারকে ‘এক্সপেরিমেন্টাল’ বা পরীক্ষামূলক আখ্যা দিয়ে বলেন, রাষ্ট্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় অনভিজ্ঞদের দিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হয়েছে। বিএনপি-জামায়াতের ‘গোপন আঁতাত’ দেশের বর্তমান প্রধান রাজনৈতিক শক্তিগুলোর অবস্থান নিয়ে ব্যারিস্টার শামীম বলেন, আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা এবং জাতীয়
পার্টিকে আসন না দেওয়ার মতো মৌলিক ইস্যুগুলোতে বিএনপি ও জামায়াত এক হয়ে কাজ করছে। বিরোধী দলের শূন্যস্থান যেন অন্য কোনো দল নিতে না পারে, তাই তারা অত্যন্ত সুকৌশলে বাইরে দ্বন্দ্ব দেখালেও ভেতরে এক থাকছে। জামায়াত বর্তমান সরকারের ‘গৃহপালিত বিরোধী দল’ হিসেবে আচরণ করছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার প্রক্রিয়া এবং প্রসিকিউটরদের নিয়ে ওঠা সাম্প্রতিক ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সাবেক চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামের বিষয়ে তিনি বলেন, "তিনি আগে আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে ডিফেন্স কাউন্সিল ছিলেন, এখন প্রসিকিউশন কাউন্সিল। এখানে স্পষ্টতই ‘কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট’ (স্বার্থের সংঘাত) রয়েছে।" তিনি আরও
বলেন, বিচার কার্যকর করতে বা ফাঁসি নিশ্চিত করতে বারবার আইন সংশোধন করা হয়েছে, যা আসামিপক্ষের বিপক্ষে গেছে। এই রাজনৈতিক মামলাগুলো ইভেনচুয়ালি (চূড়ান্তভাবে) আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচারের কষ্টিপাথরে টিকবে কি না, তা নিয়ে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন। ‘বাদ দেওয়ার রাজনীতি’ নিয়ে বিএনপিকে সতর্কবার্তা বিএনপিকে আওয়ামী লীগের পরিণতি থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিগত নির্বাচনে অনেক জায়গায় জামায়াতকে ঠেকাতে আওয়ামী লীগ ও সংখ্যালঘু ভোটাররা বিএনপিকে ভোট দিয়েছে। আওয়ামী লীগ নির্বাচনে থাকলে ফলাফল অন্যরকম হতে পারত। নতুন প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ব্যক্তিগত রাগ, ক্ষোভ ও প্রতিহিংসা ভুলে আওয়ামী লীগসহ সব দলকে নিয়ে দেশ গড়তে হবে। "বাদ দিয়ে রাজনীতি করলে আপনি দীর্ঘমেয়াদি দেশ চালাতে পারবেন
না, অনৈক্য হবে, কোনো না কোনো একদিন বিপ্লব হবে এবং পতনও হবে," সতর্ক করেন তিনি। জুলাই আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ এক নয় বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন আহমেদের একটি মন্তব্যের সূত্র ধরে জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের তুলনার কড়া সমালোচনা করেন এই জাতীয় পার্টি নেতা। তিনি বলেন, "জুলাইয়ের ৩৬ দিনের আন্দোলন আর ৭১-এর ৯ মাসের যুদ্ধ কখনো এক হতে পারে না।" তিনি জুলাইয়ের যোদ্ধাদের প্রতি চরম শ্রদ্ধা রেখেই বলেন, ৭১ সালে জেনোসাইড হয়েছিল, ৯৩ হাজার সৈন্য আত্মসমর্পণ করেছিল এবং একটি বিশ্বযুদ্ধের উপক্রম হয়েছিল। এই দুটোর প্যারামিটার সম্পূর্ণ ভিন্ন। সবশেষে বিএনপিকে একটি ‘অ্যান্টি-আওয়ামী ক্লাব’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, দলটির ভেতরে মুক্তিযোদ্ধা এবং স্বাধীনতাবিরোধী উভয় পক্ষের
লোকই রয়েছে। তবে বর্তমানে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের বৃহৎ দল আওয়ামী লীগ দৃশ্যমান না থাকায়, বিএনপিকেই এখন মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ধারক-বাহক হিসেবে সঠিক দায়িত্ব পালন করতে হবে বলে তিনি মনে করেন।
মার্চ শুরু হওয়া নতুন সংসদের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে শামীম হায়দার বলেন, বর্তমান সংসদে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি বা বামপন্থী দলগুলো নেই, তাই এটি অন্তর্ভুক্তিমূলক নয়। তারপরও তিনি এই সরকার ও সংসদকে স্বাগত জানান। বিগত ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, "ইউনূস সরকার আস্তে আস্তে দেশকে এবং দেশের রাজনীতিকে খাদের কিনারায় নিয়ে যাচ্ছিল। দেশ উগ্র ইসলামিক জঙ্গিবাদ ও গৃহযুদ্ধের দিকে ধাবিত হচ্ছিল।" তিনি ওই সরকারকে ‘এক্সপেরিমেন্টাল’ বা পরীক্ষামূলক আখ্যা দিয়ে বলেন, রাষ্ট্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় অনভিজ্ঞদের দিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হয়েছে। বিএনপি-জামায়াতের ‘গোপন আঁতাত’ দেশের বর্তমান প্রধান রাজনৈতিক শক্তিগুলোর অবস্থান নিয়ে ব্যারিস্টার শামীম বলেন, আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা এবং জাতীয়
পার্টিকে আসন না দেওয়ার মতো মৌলিক ইস্যুগুলোতে বিএনপি ও জামায়াত এক হয়ে কাজ করছে। বিরোধী দলের শূন্যস্থান যেন অন্য কোনো দল নিতে না পারে, তাই তারা অত্যন্ত সুকৌশলে বাইরে দ্বন্দ্ব দেখালেও ভেতরে এক থাকছে। জামায়াত বর্তমান সরকারের ‘গৃহপালিত বিরোধী দল’ হিসেবে আচরণ করছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার প্রক্রিয়া এবং প্রসিকিউটরদের নিয়ে ওঠা সাম্প্রতিক ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সাবেক চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামের বিষয়ে তিনি বলেন, "তিনি আগে আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে ডিফেন্স কাউন্সিল ছিলেন, এখন প্রসিকিউশন কাউন্সিল। এখানে স্পষ্টতই ‘কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট’ (স্বার্থের সংঘাত) রয়েছে।" তিনি আরও
বলেন, বিচার কার্যকর করতে বা ফাঁসি নিশ্চিত করতে বারবার আইন সংশোধন করা হয়েছে, যা আসামিপক্ষের বিপক্ষে গেছে। এই রাজনৈতিক মামলাগুলো ইভেনচুয়ালি (চূড়ান্তভাবে) আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচারের কষ্টিপাথরে টিকবে কি না, তা নিয়ে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন। ‘বাদ দেওয়ার রাজনীতি’ নিয়ে বিএনপিকে সতর্কবার্তা বিএনপিকে আওয়ামী লীগের পরিণতি থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিগত নির্বাচনে অনেক জায়গায় জামায়াতকে ঠেকাতে আওয়ামী লীগ ও সংখ্যালঘু ভোটাররা বিএনপিকে ভোট দিয়েছে। আওয়ামী লীগ নির্বাচনে থাকলে ফলাফল অন্যরকম হতে পারত। নতুন প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ব্যক্তিগত রাগ, ক্ষোভ ও প্রতিহিংসা ভুলে আওয়ামী লীগসহ সব দলকে নিয়ে দেশ গড়তে হবে। "বাদ দিয়ে রাজনীতি করলে আপনি দীর্ঘমেয়াদি দেশ চালাতে পারবেন
না, অনৈক্য হবে, কোনো না কোনো একদিন বিপ্লব হবে এবং পতনও হবে," সতর্ক করেন তিনি। জুলাই আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ এক নয় বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন আহমেদের একটি মন্তব্যের সূত্র ধরে জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের তুলনার কড়া সমালোচনা করেন এই জাতীয় পার্টি নেতা। তিনি বলেন, "জুলাইয়ের ৩৬ দিনের আন্দোলন আর ৭১-এর ৯ মাসের যুদ্ধ কখনো এক হতে পারে না।" তিনি জুলাইয়ের যোদ্ধাদের প্রতি চরম শ্রদ্ধা রেখেই বলেন, ৭১ সালে জেনোসাইড হয়েছিল, ৯৩ হাজার সৈন্য আত্মসমর্পণ করেছিল এবং একটি বিশ্বযুদ্ধের উপক্রম হয়েছিল। এই দুটোর প্যারামিটার সম্পূর্ণ ভিন্ন। সবশেষে বিএনপিকে একটি ‘অ্যান্টি-আওয়ামী ক্লাব’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, দলটির ভেতরে মুক্তিযোদ্ধা এবং স্বাধীনতাবিরোধী উভয় পক্ষের
লোকই রয়েছে। তবে বর্তমানে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের বৃহৎ দল আওয়ামী লীগ দৃশ্যমান না থাকায়, বিএনপিকেই এখন মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ধারক-বাহক হিসেবে সঠিক দায়িত্ব পালন করতে হবে বলে তিনি মনে করেন।



