ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
সপ্তাহের শুরুতে পুঁজিবাজারে বড় দরপতন
রংপুরে আলু চাষ করে কৃষকের মাথায় হাত, কেজিপ্রতি ৫ টাকা
রেকর্ডভাঙা ধস শেয়ারবাজারে: দুই দিনে উধাও ১৬ হাজার কোটি টাকা, কারসাজি নিয়ে সন্দেহ
ঢাকায় ভোজ্যতেলের সরবরাহে টান, বেড়েছে খোলা ও বোতলজাত তেলের দাম
এলপি গ্যাসের দাম ৪১০ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব সরকারের
ঢাকায় ভোজ্যতেলের সরবরাহে টান, বেড়েছে খোলা ও বোতলজাত তেলের দাম
লিটারে ১৭ টাকা বাড়ল জেট ফুয়েলের দাম
হঠাৎ রডের মূল্যবৃদ্ধি কার স্বার্থে? একদিনেই টনপ্রতি বাড়ল ১০ হাজার টাকা
দেশের বাজারে হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে নির্মাণশিল্পের অন্যতম প্রধান কাঁচামাল রডের দাম। এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে উদ্বেগে পড়েছেন আবাসন ও অবকাঠামো খাতের উদ্যোক্তারা। তাদের আশঙ্কা, এভাবে দাম বাড়তে থাকলে শুধু বেসরকারি নির্মাণ প্রকল্পই নয়, সরকারের অবকাঠামো উন্নয়ন কর্মকাণ্ডও বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
আবাসন খাতের ব্যবসায়ীরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে কিছু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে রডের দাম বাড়াচ্ছেন। তাদের দাবি, গত সোমবার একদিনেই টনপ্রতি প্রায় ১০ হাজার টাকা বেড়েছে রডের দাম।
তবে রি-রোলিং মিল মালিকদের দাবি ভিন্ন। তাদের মতে, বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে সিন্ডিকেট করার সুযোগ নেই। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক পণ্য পরিবহনে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
জাহাজ কোম্পানিগুলো বীমা সুবিধা না পাওয়ায় পরিবহন ব্যয়
বেড়েছে, ফলে ইস্পাত ও সিমেন্ট শিল্পের কাঁচামালের দাম ১৩০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। এর প্রভাবই স্থানীয় বাজারে পড়ছে। সরকার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় চাপ পড়েছে জ্বালানি খাতে। তবুও জনস্বার্থের কথা বিবেচনা করে সরকার দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায়নি। সেই তুলনায় রডের বাজারে হঠাৎ এমন মূল্যবৃদ্ধি স্বাভাবিক নয়। তাছাড়া বর্তমানে বাজারে যে রড মজুত আছে, তাতে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়ার কথা নয়। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। তিনি জানান, সরকার সবসময় জনস্বার্থের পক্ষে থাকবে এবং প্রয়োজনে বাজারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, কিছুদিন আগেও প্রতি টন রডের
দাম ছিল ৭৫ থেকে ৮০ হাজার টাকা। কিন্তু গতকাল সেই রড বিক্রি হয়েছে ৯০ থেকে ৯১ হাজার টাকায়। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মধ্যে সিএসআরএম রডের দাম ছিল ৮৪ হাজার টাকা, আনোয়ার ইস্পাতের ৯০ হাজার, কেএসআরএম ও আকিজের রড ৯১ হাজার এবং রহিম স্টিলের রড ৮৭ হাজার টাকা বা তারও বেশি। খাতসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে স্ক্র্যাপের দাম বাড়ার কারণে স্থানীয় ইস্পাত শিল্পের উৎপাদন ব্যয়ও বেড়েছে। একই সঙ্গে কয়লা, পেটকোক ও ক্লিংকারের দাম বৃদ্ধিতে সিমেন্ট শিল্পের ব্যয়ও বাড়ছে। অন্যদিকে কার্ব মার্কেটে ডলারের দাম বৃদ্ধির কারণে আমদানিনির্ভর শিল্পগুলো অতিরিক্ত চাপের মুখে পড়েছে। এসব কারণে নির্মাণসামগ্রীর উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, রডের মূল্যবৃদ্ধির জন্য স্থানীয় মিল মালিকদের দায়ী
করা হলেও আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাবও গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে নির্মাণসামগ্রীর বাজারে জ্বালানি, আন্তর্জাতিক পরিবহন ব্যয়, কাঁচামালের সংকট এবং স্থানীয় বাজারে মূল্য সমন্বয়সহ একাধিক চাপ কাজ করছে। এতে ভবিষ্যতে দেশের নির্মাণ ও অবকাঠামো খাতে ধীরগতি দেখা দিতে পারে। এর আগে করোনাকালে বিশ্বব্যাপী স্ক্র্যাপের সংকটের সময় দেশে প্রিমিয়াম গ্রেডের রডের দাম টনপ্রতি সর্বোচ্চ ১ লাখ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। পরে বৈশ্বিক মন্দা ও স্থানীয় বাজারে চাহিদা কমে যাওয়ায় গত বছর তা ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকায় নেমে আসে। আবাসন খাতের সংগঠন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)-এর সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট লিয়াকত আলী ভূঁইয়া বলেন, আবাসন খাত ইতোমধ্যে নানা সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এর
মধ্যে হঠাৎ করে রডের দাম বেড়ে যাওয়ার যৌক্তিক কারণ তিনি খুঁজে পাচ্ছেন না। তার মতে, ইরান যুদ্ধের প্রভাব রড উৎপাদনে এত দ্রুত পড়ার কথা নয়।বাংলাদেশ ভ্রমণ তিনি আরও বলেন, বাজারে কোনো সিন্ডিকেট সক্রিয় কি না তা তদন্ত করা প্রয়োজন। বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারকে কঠোর মনিটরিং জোরদারের আহ্বান জানান তিনি। প্রয়োজনে রিহ্যাব, এফবিসিসিআই ও রড ব্যবসায়ী সমিতিকে সঙ্গে নিয়ে যৌথভাবে বাজার পর্যবেক্ষণ করা যেতে পারে বলেও মত দেন। লিয়াকত আলী ভূঁইয়া জানান, দেশের অর্থনীতিতে আবাসন খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই খাতে সরাসরি প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক কাজ করেন এবং সংশ্লিষ্ট খাত মিলিয়ে এক কোটিরও বেশি মানুষের কর্মসংস্থান রয়েছে। রডের দাম হঠাৎ বাড়লে শ্রমিক থেকে
শুরু করে উদ্যোক্তা—সবাই ক্ষতির মুখে পড়বেন। তিনি বলেন, আবাসন খাতের বর্তমান সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণ সহায়তা চাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, অর্থনীতির গতি সচল রাখতে সরকার এ খাতের দিকে বিশেষ নজর দেবে। এদিকে রহিম ইস্পাত লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. সাইফুর রহমান খোকন বলেন, দেশের ইস্পাত শিল্প দীর্ঘদিন ধরেই মন্দার মধ্যে রয়েছে। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ব্যবসায়ীরা বাজার ঘুরে দাঁড়ানোর আশা করেছিলেন। ডিসেম্বরের শেষ দিকে রডের দাম কিছুটা বাড়তেও শুরু করে। তবে সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক পণ্য পরিবহনে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বীমা কোম্পানিগুলো জাহাজের বীমা করতে রাজি না হওয়ায় পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। ফলে পণ্যের
দামও বাড়ছে। তার মতে, বিষয়টি একপক্ষকে দায়ী করার চেয়ে সরকারের নজরদারির মাধ্যমে সঠিক তথ্য তুলে ধরা জরুরি।
বেড়েছে, ফলে ইস্পাত ও সিমেন্ট শিল্পের কাঁচামালের দাম ১৩০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। এর প্রভাবই স্থানীয় বাজারে পড়ছে। সরকার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় চাপ পড়েছে জ্বালানি খাতে। তবুও জনস্বার্থের কথা বিবেচনা করে সরকার দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায়নি। সেই তুলনায় রডের বাজারে হঠাৎ এমন মূল্যবৃদ্ধি স্বাভাবিক নয়। তাছাড়া বর্তমানে বাজারে যে রড মজুত আছে, তাতে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়ার কথা নয়। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। তিনি জানান, সরকার সবসময় জনস্বার্থের পক্ষে থাকবে এবং প্রয়োজনে বাজারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, কিছুদিন আগেও প্রতি টন রডের
দাম ছিল ৭৫ থেকে ৮০ হাজার টাকা। কিন্তু গতকাল সেই রড বিক্রি হয়েছে ৯০ থেকে ৯১ হাজার টাকায়। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মধ্যে সিএসআরএম রডের দাম ছিল ৮৪ হাজার টাকা, আনোয়ার ইস্পাতের ৯০ হাজার, কেএসআরএম ও আকিজের রড ৯১ হাজার এবং রহিম স্টিলের রড ৮৭ হাজার টাকা বা তারও বেশি। খাতসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে স্ক্র্যাপের দাম বাড়ার কারণে স্থানীয় ইস্পাত শিল্পের উৎপাদন ব্যয়ও বেড়েছে। একই সঙ্গে কয়লা, পেটকোক ও ক্লিংকারের দাম বৃদ্ধিতে সিমেন্ট শিল্পের ব্যয়ও বাড়ছে। অন্যদিকে কার্ব মার্কেটে ডলারের দাম বৃদ্ধির কারণে আমদানিনির্ভর শিল্পগুলো অতিরিক্ত চাপের মুখে পড়েছে। এসব কারণে নির্মাণসামগ্রীর উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, রডের মূল্যবৃদ্ধির জন্য স্থানীয় মিল মালিকদের দায়ী
করা হলেও আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাবও গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে নির্মাণসামগ্রীর বাজারে জ্বালানি, আন্তর্জাতিক পরিবহন ব্যয়, কাঁচামালের সংকট এবং স্থানীয় বাজারে মূল্য সমন্বয়সহ একাধিক চাপ কাজ করছে। এতে ভবিষ্যতে দেশের নির্মাণ ও অবকাঠামো খাতে ধীরগতি দেখা দিতে পারে। এর আগে করোনাকালে বিশ্বব্যাপী স্ক্র্যাপের সংকটের সময় দেশে প্রিমিয়াম গ্রেডের রডের দাম টনপ্রতি সর্বোচ্চ ১ লাখ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। পরে বৈশ্বিক মন্দা ও স্থানীয় বাজারে চাহিদা কমে যাওয়ায় গত বছর তা ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকায় নেমে আসে। আবাসন খাতের সংগঠন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)-এর সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট লিয়াকত আলী ভূঁইয়া বলেন, আবাসন খাত ইতোমধ্যে নানা সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এর
মধ্যে হঠাৎ করে রডের দাম বেড়ে যাওয়ার যৌক্তিক কারণ তিনি খুঁজে পাচ্ছেন না। তার মতে, ইরান যুদ্ধের প্রভাব রড উৎপাদনে এত দ্রুত পড়ার কথা নয়।বাংলাদেশ ভ্রমণ তিনি আরও বলেন, বাজারে কোনো সিন্ডিকেট সক্রিয় কি না তা তদন্ত করা প্রয়োজন। বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারকে কঠোর মনিটরিং জোরদারের আহ্বান জানান তিনি। প্রয়োজনে রিহ্যাব, এফবিসিসিআই ও রড ব্যবসায়ী সমিতিকে সঙ্গে নিয়ে যৌথভাবে বাজার পর্যবেক্ষণ করা যেতে পারে বলেও মত দেন। লিয়াকত আলী ভূঁইয়া জানান, দেশের অর্থনীতিতে আবাসন খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই খাতে সরাসরি প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক কাজ করেন এবং সংশ্লিষ্ট খাত মিলিয়ে এক কোটিরও বেশি মানুষের কর্মসংস্থান রয়েছে। রডের দাম হঠাৎ বাড়লে শ্রমিক থেকে
শুরু করে উদ্যোক্তা—সবাই ক্ষতির মুখে পড়বেন। তিনি বলেন, আবাসন খাতের বর্তমান সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণ সহায়তা চাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, অর্থনীতির গতি সচল রাখতে সরকার এ খাতের দিকে বিশেষ নজর দেবে। এদিকে রহিম ইস্পাত লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. সাইফুর রহমান খোকন বলেন, দেশের ইস্পাত শিল্প দীর্ঘদিন ধরেই মন্দার মধ্যে রয়েছে। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ব্যবসায়ীরা বাজার ঘুরে দাঁড়ানোর আশা করেছিলেন। ডিসেম্বরের শেষ দিকে রডের দাম কিছুটা বাড়তেও শুরু করে। তবে সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক পণ্য পরিবহনে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বীমা কোম্পানিগুলো জাহাজের বীমা করতে রাজি না হওয়ায় পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। ফলে পণ্যের
দামও বাড়ছে। তার মতে, বিষয়টি একপক্ষকে দায়ী করার চেয়ে সরকারের নজরদারির মাধ্যমে সঠিক তথ্য তুলে ধরা জরুরি।



