ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
আলু ফলায় কৃষক, দাম পায় ফড়িয়া, ক্ষমতা ভোগ করে বিএনপি
বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ে বড় পতন: ফেব্রুয়ারিতে ২১ শতাংশ কমে ৩৫০ কোটি ডলারের নিচে
আন্তর্জাতিক বাজারে কত দামে স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে আজ
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম আবারও বাড়ল
ব্যাংক খাত ধ্বংস-ঘোষণা না দিয়ে টাকা ছাপানো: পদ হারালেন বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর
ফের বাড়ল স্বর্ণের দাম
বহুমুখী সংকটের মুখে বাংলাদেশের পোশাক খাত: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট
তৈরি পোশাক খাতের অস্থিরতা চরমে: কমেছে রপ্তানি, ঈদে বেতন–বোনাস নিয়ে শঙ্কা
রপ্তানি কমছে, অর্ডার ঝুলে আছে, শ্রমিকদের মধ্যে উৎকণ্ঠা দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান উৎস তৈরি পোশাক খাত নতুন করে গভীর অনিশ্চয়তায় পড়েছে। বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি, প্রধান বাজারে ক্রয়াদেশ কমে যাওয়া এবং ডলার–সঙ্কটের চাপে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি মন্থর হয়ে পড়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে কারখানার নগদ প্রবাহে। আসন্ন ঈদ সামনে রেখে বেতন–ভাতা ও বোনাস পরিশোধ নিয়ে বাড়ছে শঙ্কা।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)–র সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে তৈরি পোশাক রপ্তানি প্রবৃদ্ধি এক অঙ্কে নেমে এসেছে। প্রধান বাজার যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নেও প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশার তুলনায় অনেক নিচে।
শিল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন অর্ডার কমেছে ১৫ থেকে ২০
শতাংশ পর্যন্ত। অনেক ক্রেতা আগের চেয়ে কম দামে অর্ডার দিচ্ছেন, আবার শিপমেন্ট বিলম্বিত হচ্ছে। বিশ্লেষকদের ভাষায়, সংকট নতুন নয়, কিন্তু এবার চাপ বেশি। কাঠামোগত সংস্কার, বাজার বৈচিত্র্য ও স্বচ্ছ আর্থিক ব্যবস্থাপনা ছাড়া এই খাতকে টেকসই পথে ফেরানো কঠিন হবে। পোশাক প্রস্তুতকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ-এর এক জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “অর্ডার কমে গেছে, দাম কমেছে, কিন্তু উৎপাদন ব্যয় কমেনি। ব্যাংক ঋণের সুদ ৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ১২–১৩ শতাংশে গেছে। এই অবস্থায় নগদ সংকট তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়।” নিট পোশাক খাতের সংগঠন বিজিএমইএ জানিয়েছে, বেশ কিছু মাঝারি ও ছোট কারখানা এখন ব্যাংকঋণের ওপর নির্ভর করে বেতন দিচ্ছে। একজন পরিচালক বলেন, “ঈদের আগে
পরিস্থিতি সামাল দিতে অনেকেই স্বল্পমেয়াদি ঋণ নিচ্ছেন। কিন্তু এটা টেকসই সমাধান নয়।” ঝুঁকিতে শতাধিক কারখানা শিল্প পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুর, আশুলিয়া, সাভার ও নারায়ণগঞ্জ শিল্পাঞ্চলে দুই শতাধিক কারখানাকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে—যেখানে নিয়মিত উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে বা বেতন–বোনাস নিয়ে অনিশ্চয়তা আছে। ইতিমধ্যে কয়েকটি কারখানায় বেতন বিলম্বের ঘটনাও ঘটেছে। শ্রমিক নেতারা বলছেন, সংকটের বোঝা বারবার শ্রমিকদের কাঁধেই চাপানো হচ্ছে। এক শ্রমিক নেতা বলেন, “রপ্তানি কমলে বা অর্ডার কমলে শ্রমিকের দোষ কী? তারা মাস শেষে বেতন চাইবে, এটাই স্বাভাবিক। ঈদের আগে বোনাস না পেলে পরিবার নিয়ে তারা কীভাবে চলবে?” সরকারের উদ্যোগ, প্রশ্ন বাস্তবায়ন নিয়ে ঈদকে সামনে রেখে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বেতন ও
উৎসব বোনাস পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংক রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য বিশেষ ঋণসুবিধা চালু রেখেছে, যাতে কারখানাগুলো শ্রমিকদের বেতন দিতে পারে।বিনিয়োগ সুযোগ তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, ঋণ দিয়ে বেতন পরিশোধ সাময়িক সমাধান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অর্থনীতি অধ্যাপক বলেন, “গত এক দশক ধরে এই খাত মূলত কম দামে বড় অর্ডারের ওপর নির্ভরশীল। বাজার বহুমুখীকরণে গতি ছিল না। এখন বৈশ্বিক চাহিদা কমে গেলে কাঠামোগত দুর্বলতা সামনে চলে এসেছে। শুধু প্রণোদনা বা ঋণ দিয়ে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।” যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপে চলমান অস্থিরতার কারণে জাহাজ চলাচলে ব্যয় বেড়েছে, বীমা খরচও বাড়ছে। ফলে সরবরাহ শৃঙ্খলে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। রপ্তানিকারকেরা বলছেন, সময়মতো পণ্য পৌঁছাতে না পারলে
অর্থপ্রাপ্তি বিলম্বিত হয়, এতে নগদ প্রবাহে আরও চাপ পড়ে। একজন বড় রপ্তানিকারক বলেন, “আগে ৩০ দিনে পেমেন্ট পেতাম, এখন ৪৫–৬০ দিন লেগে যাচ্ছে। এতে কার্যত কর্মচারীদের বেতন জোগাড় করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।” শ্রমিকদের বাস্তবতা দেশে তৈরি পোশাক খাতে প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক কাজ করেন। তাদের অধিকাংশের মাসিক আয় ১০–১৫ হাজার টাকার মধ্যে। মাসের বেতনেই সংসার চলে। ঈদের বোনাস তাদের জন্য ঋণ শোধ ও অতিরিক্ত খরচ সামাল দেওয়ার একমাত্র ভরসা।অর্থনৈতিক নীতি গাজীপুরের এক নারী শ্রমিক বলেন, “বেতন দেরি হলে বাড়িভাড়া দিতে পারি না। দোকানে বাকিও বেড়ে যায়। ঈদে বাচ্চাদের নতুন জামা না দিতে পারলে খুব কষ্ট লাগে।” সামনে কঠিন সময়? খাতসংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, নতুন অর্ডার দ্রুত না বাড়লে
এবং আন্তর্জাতিক বাজারে স্থিতিশীলতা না ফিরলে সংকট আরও গভীর হতে পারে। বেতন–বোনাস নিয়ে অস্থিরতা দেখা দিলে শিল্পাঞ্চলে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও রয়েছে। তৈরি পোশাক খাত দেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮০ শতাংশ যোগান দেয়। অথচ সেই খাতেই যদি শ্রমিকেরা ঈদের আগে নিজেদের প্রাপ্য বেতন–বোনাস নিয়ে অনিশ্চয়তায় থাকেন, তবে তা শুধু অর্থনৈতিক নয়—সামাজিক অস্থিরতারও ইঙ্গিত বহন করে।
শতাংশ পর্যন্ত। অনেক ক্রেতা আগের চেয়ে কম দামে অর্ডার দিচ্ছেন, আবার শিপমেন্ট বিলম্বিত হচ্ছে। বিশ্লেষকদের ভাষায়, সংকট নতুন নয়, কিন্তু এবার চাপ বেশি। কাঠামোগত সংস্কার, বাজার বৈচিত্র্য ও স্বচ্ছ আর্থিক ব্যবস্থাপনা ছাড়া এই খাতকে টেকসই পথে ফেরানো কঠিন হবে। পোশাক প্রস্তুতকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ-এর এক জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “অর্ডার কমে গেছে, দাম কমেছে, কিন্তু উৎপাদন ব্যয় কমেনি। ব্যাংক ঋণের সুদ ৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ১২–১৩ শতাংশে গেছে। এই অবস্থায় নগদ সংকট তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়।” নিট পোশাক খাতের সংগঠন বিজিএমইএ জানিয়েছে, বেশ কিছু মাঝারি ও ছোট কারখানা এখন ব্যাংকঋণের ওপর নির্ভর করে বেতন দিচ্ছে। একজন পরিচালক বলেন, “ঈদের আগে
পরিস্থিতি সামাল দিতে অনেকেই স্বল্পমেয়াদি ঋণ নিচ্ছেন। কিন্তু এটা টেকসই সমাধান নয়।” ঝুঁকিতে শতাধিক কারখানা শিল্প পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুর, আশুলিয়া, সাভার ও নারায়ণগঞ্জ শিল্পাঞ্চলে দুই শতাধিক কারখানাকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে—যেখানে নিয়মিত উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে বা বেতন–বোনাস নিয়ে অনিশ্চয়তা আছে। ইতিমধ্যে কয়েকটি কারখানায় বেতন বিলম্বের ঘটনাও ঘটেছে। শ্রমিক নেতারা বলছেন, সংকটের বোঝা বারবার শ্রমিকদের কাঁধেই চাপানো হচ্ছে। এক শ্রমিক নেতা বলেন, “রপ্তানি কমলে বা অর্ডার কমলে শ্রমিকের দোষ কী? তারা মাস শেষে বেতন চাইবে, এটাই স্বাভাবিক। ঈদের আগে বোনাস না পেলে পরিবার নিয়ে তারা কীভাবে চলবে?” সরকারের উদ্যোগ, প্রশ্ন বাস্তবায়ন নিয়ে ঈদকে সামনে রেখে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বেতন ও
উৎসব বোনাস পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংক রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য বিশেষ ঋণসুবিধা চালু রেখেছে, যাতে কারখানাগুলো শ্রমিকদের বেতন দিতে পারে।বিনিয়োগ সুযোগ তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, ঋণ দিয়ে বেতন পরিশোধ সাময়িক সমাধান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অর্থনীতি অধ্যাপক বলেন, “গত এক দশক ধরে এই খাত মূলত কম দামে বড় অর্ডারের ওপর নির্ভরশীল। বাজার বহুমুখীকরণে গতি ছিল না। এখন বৈশ্বিক চাহিদা কমে গেলে কাঠামোগত দুর্বলতা সামনে চলে এসেছে। শুধু প্রণোদনা বা ঋণ দিয়ে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।” যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপে চলমান অস্থিরতার কারণে জাহাজ চলাচলে ব্যয় বেড়েছে, বীমা খরচও বাড়ছে। ফলে সরবরাহ শৃঙ্খলে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। রপ্তানিকারকেরা বলছেন, সময়মতো পণ্য পৌঁছাতে না পারলে
অর্থপ্রাপ্তি বিলম্বিত হয়, এতে নগদ প্রবাহে আরও চাপ পড়ে। একজন বড় রপ্তানিকারক বলেন, “আগে ৩০ দিনে পেমেন্ট পেতাম, এখন ৪৫–৬০ দিন লেগে যাচ্ছে। এতে কার্যত কর্মচারীদের বেতন জোগাড় করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।” শ্রমিকদের বাস্তবতা দেশে তৈরি পোশাক খাতে প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক কাজ করেন। তাদের অধিকাংশের মাসিক আয় ১০–১৫ হাজার টাকার মধ্যে। মাসের বেতনেই সংসার চলে। ঈদের বোনাস তাদের জন্য ঋণ শোধ ও অতিরিক্ত খরচ সামাল দেওয়ার একমাত্র ভরসা।অর্থনৈতিক নীতি গাজীপুরের এক নারী শ্রমিক বলেন, “বেতন দেরি হলে বাড়িভাড়া দিতে পারি না। দোকানে বাকিও বেড়ে যায়। ঈদে বাচ্চাদের নতুন জামা না দিতে পারলে খুব কষ্ট লাগে।” সামনে কঠিন সময়? খাতসংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, নতুন অর্ডার দ্রুত না বাড়লে
এবং আন্তর্জাতিক বাজারে স্থিতিশীলতা না ফিরলে সংকট আরও গভীর হতে পারে। বেতন–বোনাস নিয়ে অস্থিরতা দেখা দিলে শিল্পাঞ্চলে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও রয়েছে। তৈরি পোশাক খাত দেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮০ শতাংশ যোগান দেয়। অথচ সেই খাতেই যদি শ্রমিকেরা ঈদের আগে নিজেদের প্রাপ্য বেতন–বোনাস নিয়ে অনিশ্চয়তায় থাকেন, তবে তা শুধু অর্থনৈতিক নয়—সামাজিক অস্থিরতারও ইঙ্গিত বহন করে।



