ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
জেলায় জেলায় বাড়ছে আ.লীগের কর্মসূচি, নেতাদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা
৩৪.১% শুল্ক থেকে কি মিলবে স্বস্তি? অনিশ্চয়তায় অর্ডার সংকট ও রপ্তানি খাত
আগের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি ব্যয় মেট্রোরেলের নতুন দুই রুটে, প্রশ্নবিদ্ধ দরপত্র প্রক্রিয়া
সারা দেশে শহীদ দিবসে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে উজ্জীবিত আওয়ামী লীগ
বিএনপি ক্ষমতা নেওয়ার পর ভারতে জঙ্গি হামলার পরিকল্পনা, বাংলাদেশিসহ গ্রেপ্তার ৮
ড. খলিলুর রহমান: পর্দার আড়ালের এক ভয়ঙ্কর ‘কিংমেকার’
১৯৭১ শেষ হয়নি, ডালিম-ফারুকের রিলে রেস থামেনি, শুধু দৌড়বিদ বদলেছে
শব্দ ও বয়ানের রাজনীতি: বয়েলিং ফ্রগ সিনড্রোম
শব্দ ও বয়ানের রাজনীতির যুগে ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগান নিয়ে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর মন্তব্যকে গুরুত্ব দিয়ে অ্যাকনলেজ করলাম। আমাদের দুর্ভাগ্য, সার্টিফিকেটধারী একদল ‘দেখতে সভ্য, আদতে ইডিয়ট’রা দেশের রাজনীতিতে তাদের স্টুপিডিটি দিয়ে এই শব্দের রাজনীতিকে এরা বাকস্বাধীনতা বাকস্বাধীনতা বলে চিল্লাচিল্লি করে আমার নিউজ ফিডকে মুরগির ঘরের মতো বিষ্ঠা ছড়ানো নোংরা না করলে হয়তো এটা নিয়ে কথা বলতাম না।
শব্দের এই রাজনীতিটা আদতে হচ্ছে কোলা ব্যাঙের সেই ‘বয়েলিং ফ্রগ সিনড্রোম’। ইন্টারনেটের কল্যাণে সেট এখন সবাই জানেন, যদি কেউ না জানেন, তাহলে খুব ছোট্ট করে বলেই ফেলি। এক গামলা পানিতে যদি একটা ব্যাঙকে রাখা হয় সে মনের সুখে সাঁতার কাটতে থাকবে। তারপর গামলার নিচে
আপনি আগুন দেন। পানি একটু একটু করে গরম হতে থাকবে। ব্যাঙ সেটা টের পাবে না তেমন। সে একটু একটু করে তার দেহের তাপমাত্রা সহনীয়তাকেও একটু একটু করে অ্যাডজাস্ট করে ফেলবে। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে এই উত্তাপ এমন জায়গায় গিয়ে ঠেকবে, তখন আর ব্যাঙের কিছুই করার থাকবে না। সে পুরো সিদ্ধ হয়ে যাবে। শব্দ আর বয়ানের এই রাজনীতি আমাদের সংস্কৃতিতে অনেকদিন ধরে খাওয়ানো হচ্ছে। আপনারা যারা আমাদের বয়সী, তাঁরা জাস্ট চিন্তা করে দেখেন যে এই দেশে কীভাবে ধীরে ধীরে শাড়ির সংস্কৃতি উঠেই গেল। ব্যাঙের সেই হালকা গরম পানির মতো করেই শুরু হয়েছিল। প্রথমে একজন নারী, তারপর দুইজন নারী; এভাবে ধীরে ধীরে শাড়ি
উঠেই যাচ্ছে প্রায়। টিপের বিরুদ্ধে হালকা হালকা করে কথাবার্তা বলা শুরু হলো। আমরা এদেরকে ছাগু ডেকে দুই গাল হেসে তাদের বাকস্বাধীনতার পক্ষে কথা বলে দুটো লাইক কামিয়ে শান্ত হয়ে গেলাম। কিন্তু বাস্তবতা হলো এখন কপালে টিপ পরে বাইরে বের হতে আমাদের বাঙালি নারীরা সংকোচ বোধ করে। বিশেষ বিশেষ পরিবেশের বাইরে কপালে টিপ পরে একটা মেয়ে গাজীপুর থেকে শাহবাগে গণপরিবহনে কোনো ধরনের মন্তব্য শোনা ছাড়া চলে আসবে, এটি এখন অসম্ভব। অথচ নব্বই দশকে টিপ পরা, চোখে কাজল দেওয়া মেয়েরাই ছিল বাঙালির স্বাভাবিক পরিচয়। এইভাবে ধীরে ধীরে আমাদের সংস্কৃতি, আমাদের স্বাভাবিকতার উপর আগ্রাসন হয়েছে, আর বাকস্বাধীনতার নামে, সুশীলতার মোড়কে আমরা এসবকে মেনেই নিয়েছি। রাজনীতিতে
জিততে হলে প্রথমে সমাজের সংস্কৃতিতে দখল নিতে হবে, সোজা হিসাব। এই কাজটা দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে আমাদের চোখের সামনেই। আমার মনে আছে, যখন মামদূহরা টিএসসিতে কাওয়ালি আয়োজন করে আর ছাত্রলীগ সেটাতে বাধা দেয়, আমি এটি নিয়ে আমার মতো করে প্রতিবাদ করেছিলাম। আমি টিভির একটা টকশোতে এটি নিয়ে ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দামকেও বেশ খুঁচিয়েছিলাম। পরদিন আমার এক বন্ধু কানাডা থেকে ফোন করে বলেছিল, ‘তুই সাদ্দামদের গুন্ডা বলে টিভিতে খুব বাহবা পেতে পারিস, কিন্তু আমার মনে হয় ওরা ঠিক কাজই করেছে। যে কালচারাল আগ্রাসন শুরু হচ্ছে, এসব তথাকথিত প্রগতিশীলরা হচ্ছে এর ফ্রন্ট ফেইস। এসব ‘ফুক্কা কুল্লে নিজামীন’ হচ্ছে বাঘের আগে হেঁটে চলা ফেউ।
ফেউকে কেউ ভয় পায় না, কিন্তু গ্রামে যেদিন বাঘ পড়বে সেদিন তোদের এসব রাখাল বালকের মতো আচরণটা পুরো গ্রামকেই ভুগাবে, তোরা সুখেই থাকবি। ‘ এটি একটি যুদ্ধ। হয়তো আমি এই যুদ্ধে আপাতত পরাজিত হব, কিন্তু যুদ্ধ থেকে পিছু সরে যাব না। সেই সিপাহী বিদ্রোহের কথা মনে পড়ে। আমাদের পিতৃপুরুষ সিপাহীরা পরাজিত হয়েছিলেন। বিদ্রোহী সিপাহীদেরকে ফাঁসি দিয়ে তাঁদের লাশ মাইলের পর মাইল ঝুলিয়ে রেখেছিল ইংরেজরা। তারা পরাজিত হয়েছিলেন বটে, কিন্তু তারা ভুল ছিলেন না। সেই অজ পাড়া গাঁ থেকে আসা, কাদামাখা কৃষকের সন্তান সেই সিপাহী নিজের প্রাণ উৎসর্গ করেছিলেন বলেই একশ বছর পরে আমরা ইংরেজদের থেকে স্বাধীনতা পেয়েছিলাম। সাংস্কৃতিক আগ্রাসন আমাদের চোখে লাগে
কারণ আমাদের প্রজন্মের লিডাররা স্কুল পড়ুয়া ছিল। বর্তমান জেনজি প্রজন্মের নেতারা প্রায় সবাই মাদ্রাসা পড়ুয়া। ডাকসুতে যারা জিতেছে উনারা মাদ্রাসা পড়ুয়া, যারা ফাইট দিয়ে হেরেছেন তাঁদের ভিপিও মাদ্রাসা পড়ুয়া। তাঁদের কাছে উর্দু, ফার্সি এসব ভাষা খুবই পরিচিত কারণ তাঁদের সিলেবাসে ছিল। তাঁদের কাছে এগুলো বরং কানেক্ট করার জন্য খুবই ভালো ভাষা। এজন্যই ন্যায় না বলে ইনসাফ বলা, স্বাধীনতা না বলে আজাদী বলা, নিপীড়িত না বলে মজলুম বলাটা আজকের যুগে ফ্যাশন। কিন্তু এটিকে শুধু ভাষার বিরুদ্ধে আগ্রাসন হিসেবে দেখলে চলবে না, এটি আসলে রাজনীতির এক ধাবমান আগ্রাসন। ভাষা শুধু শুরুর ধোঁয়া মাত্র, আগুনের উত্তাপ তার পেছন পেছন আসছে। ঢাকায় প্রতিটি আসনে ফাইট হয়েছে, অর্ধেক
আসন ইতিমধ্যেই ‘ফুক্কে কুল্লে নিজামীন’দের মালিক পক্ষ দখল করে নিয়েছে। যদি দলে দলে নারী ও প্রগতিশীলরা নিজেদের পিঠ বাঁচাতে ভোট দিতে না আসতেন, তাহলে পুরো ঢাকাই ইনকিলাব জিন্দাবাদ এবারই হয়ে যেত। কিন্তু এই বালির বাঁধ দিয়ে হয়তো ইনকিলাব ঠেকিয়ে রাখা যাবে না। তারই পরিকল্পনার অংশ হচ্ছে এই ভাষা ও সংস্কৃতির বিরুদ্ধে আগ্রাসন। আমরা, বলদরা এসব টের পাই না। আমরা বাকস্বাধীনতার পক্ষে গলার রগ ফুলিয়ে লাইক কামাই। আমরা বট বাহিনীর গালি কামাইতে চাই না। ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এই সময়ে এসে বুঝে হোক কি না বুঝে হোক একটা ভালো প্রশ্ন তুলেছেন। আপনারা উনাকে গালমন্দ করে বেশ লাইক হাতিয়ে নিন। কিন্তু আমি এই রাতজাগা সেহরির সময়ে টুকুর প্রশ্নে এনডোর্স করব। আমিও বলব আমার নিজের ভাষায় এত এত সুন্দর শব্দ থাকতে কেন আমার দ্রোহ, আমার ক্ষোভকে ধারণ করার জন্য এখন ফুক্কে কুল্লে নিজামীনকে আনতে হচ্ছে? আমরা লাইক কামাতে আসি নাই। আমরা গালি ও ঘৃণায় বেঁচে থাকব। আমরা সিপাহী বিদ্রোহের সেই অজাপাড়া গাঁয়ের কিশোর সৈনিকের উত্তর প্রজন্ম। আমরা আন্টাঘর ময়দানে ফাঁসিতে ঝুলে থাকব, আমাদের লাশ কাকেরা শকুনেরা ঠুকরে ঠুকরে খাবে; কবর আমাদের ভাগ্যে নেই। কিন্তু একশ বছর পার হওয়ার পর সেই আন্টাঘর ময়দানের নাম বাহাদুর শাহ পার্ক হবে। আমাদেরকে ঝুলিয়ে দেওয়া গাছটার নিচ দিয়ে দুটো কিশোর কিশোরী বাংলা ভাষায় গল্প করতে করতে চলে যাবে, আমাদের আত্মা সেটুকু দেখেই শান্ত হবে। যদি উগ্র ডানপন্থি আর সহস্র বছরের বাঙালিয়ানার মধ্যে আমাদের প্রজন্মের মুষ্টিমেয় কিছু লোককে লক্ষণ রেখা হিসেবে দাঁড়াতে হয়; সকল অপমান, সকল অনাদর, অবহেলা ও নির্যাতনকে শিকার করে আন্টাঘর ময়দানে আমরা দাঁড়িয়েই থাকব। আমাদের মূল্যায়ন হবে ১শ বছর পরে, সে বিশ্বাস আমাদের আছে। ভাষার আগ্রাসনের ফেউ দিয়ে রাজনীতির আগ্রাসনের যে পশু আমার জনপদে হানা দেবে, আমি পারি কি না পারি, আমি তার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েই থাকব। ভাষা ও সংস্কৃতির বিরুদ্ধে যে কোন আগ্রাসনকে রুখে দাঁড়ান। সে যদি আপনার প্রিয়তম বন্ধুর প্রগতিশীলতার ছদ্মবেশেও আসে, সেই হন্তারকের আস্তিনের নিচের ছুরি সম্পর্কে সতর্ক থাকুন। বাঙালির একশ বছরের পরের প্রজন্মের কাছে এ আমার আপনার সম্মিলিত দায়।
আপনি আগুন দেন। পানি একটু একটু করে গরম হতে থাকবে। ব্যাঙ সেটা টের পাবে না তেমন। সে একটু একটু করে তার দেহের তাপমাত্রা সহনীয়তাকেও একটু একটু করে অ্যাডজাস্ট করে ফেলবে। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে এই উত্তাপ এমন জায়গায় গিয়ে ঠেকবে, তখন আর ব্যাঙের কিছুই করার থাকবে না। সে পুরো সিদ্ধ হয়ে যাবে। শব্দ আর বয়ানের এই রাজনীতি আমাদের সংস্কৃতিতে অনেকদিন ধরে খাওয়ানো হচ্ছে। আপনারা যারা আমাদের বয়সী, তাঁরা জাস্ট চিন্তা করে দেখেন যে এই দেশে কীভাবে ধীরে ধীরে শাড়ির সংস্কৃতি উঠেই গেল। ব্যাঙের সেই হালকা গরম পানির মতো করেই শুরু হয়েছিল। প্রথমে একজন নারী, তারপর দুইজন নারী; এভাবে ধীরে ধীরে শাড়ি
উঠেই যাচ্ছে প্রায়। টিপের বিরুদ্ধে হালকা হালকা করে কথাবার্তা বলা শুরু হলো। আমরা এদেরকে ছাগু ডেকে দুই গাল হেসে তাদের বাকস্বাধীনতার পক্ষে কথা বলে দুটো লাইক কামিয়ে শান্ত হয়ে গেলাম। কিন্তু বাস্তবতা হলো এখন কপালে টিপ পরে বাইরে বের হতে আমাদের বাঙালি নারীরা সংকোচ বোধ করে। বিশেষ বিশেষ পরিবেশের বাইরে কপালে টিপ পরে একটা মেয়ে গাজীপুর থেকে শাহবাগে গণপরিবহনে কোনো ধরনের মন্তব্য শোনা ছাড়া চলে আসবে, এটি এখন অসম্ভব। অথচ নব্বই দশকে টিপ পরা, চোখে কাজল দেওয়া মেয়েরাই ছিল বাঙালির স্বাভাবিক পরিচয়। এইভাবে ধীরে ধীরে আমাদের সংস্কৃতি, আমাদের স্বাভাবিকতার উপর আগ্রাসন হয়েছে, আর বাকস্বাধীনতার নামে, সুশীলতার মোড়কে আমরা এসবকে মেনেই নিয়েছি। রাজনীতিতে
জিততে হলে প্রথমে সমাজের সংস্কৃতিতে দখল নিতে হবে, সোজা হিসাব। এই কাজটা দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে আমাদের চোখের সামনেই। আমার মনে আছে, যখন মামদূহরা টিএসসিতে কাওয়ালি আয়োজন করে আর ছাত্রলীগ সেটাতে বাধা দেয়, আমি এটি নিয়ে আমার মতো করে প্রতিবাদ করেছিলাম। আমি টিভির একটা টকশোতে এটি নিয়ে ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দামকেও বেশ খুঁচিয়েছিলাম। পরদিন আমার এক বন্ধু কানাডা থেকে ফোন করে বলেছিল, ‘তুই সাদ্দামদের গুন্ডা বলে টিভিতে খুব বাহবা পেতে পারিস, কিন্তু আমার মনে হয় ওরা ঠিক কাজই করেছে। যে কালচারাল আগ্রাসন শুরু হচ্ছে, এসব তথাকথিত প্রগতিশীলরা হচ্ছে এর ফ্রন্ট ফেইস। এসব ‘ফুক্কা কুল্লে নিজামীন’ হচ্ছে বাঘের আগে হেঁটে চলা ফেউ।
ফেউকে কেউ ভয় পায় না, কিন্তু গ্রামে যেদিন বাঘ পড়বে সেদিন তোদের এসব রাখাল বালকের মতো আচরণটা পুরো গ্রামকেই ভুগাবে, তোরা সুখেই থাকবি। ‘ এটি একটি যুদ্ধ। হয়তো আমি এই যুদ্ধে আপাতত পরাজিত হব, কিন্তু যুদ্ধ থেকে পিছু সরে যাব না। সেই সিপাহী বিদ্রোহের কথা মনে পড়ে। আমাদের পিতৃপুরুষ সিপাহীরা পরাজিত হয়েছিলেন। বিদ্রোহী সিপাহীদেরকে ফাঁসি দিয়ে তাঁদের লাশ মাইলের পর মাইল ঝুলিয়ে রেখেছিল ইংরেজরা। তারা পরাজিত হয়েছিলেন বটে, কিন্তু তারা ভুল ছিলেন না। সেই অজ পাড়া গাঁ থেকে আসা, কাদামাখা কৃষকের সন্তান সেই সিপাহী নিজের প্রাণ উৎসর্গ করেছিলেন বলেই একশ বছর পরে আমরা ইংরেজদের থেকে স্বাধীনতা পেয়েছিলাম। সাংস্কৃতিক আগ্রাসন আমাদের চোখে লাগে
কারণ আমাদের প্রজন্মের লিডাররা স্কুল পড়ুয়া ছিল। বর্তমান জেনজি প্রজন্মের নেতারা প্রায় সবাই মাদ্রাসা পড়ুয়া। ডাকসুতে যারা জিতেছে উনারা মাদ্রাসা পড়ুয়া, যারা ফাইট দিয়ে হেরেছেন তাঁদের ভিপিও মাদ্রাসা পড়ুয়া। তাঁদের কাছে উর্দু, ফার্সি এসব ভাষা খুবই পরিচিত কারণ তাঁদের সিলেবাসে ছিল। তাঁদের কাছে এগুলো বরং কানেক্ট করার জন্য খুবই ভালো ভাষা। এজন্যই ন্যায় না বলে ইনসাফ বলা, স্বাধীনতা না বলে আজাদী বলা, নিপীড়িত না বলে মজলুম বলাটা আজকের যুগে ফ্যাশন। কিন্তু এটিকে শুধু ভাষার বিরুদ্ধে আগ্রাসন হিসেবে দেখলে চলবে না, এটি আসলে রাজনীতির এক ধাবমান আগ্রাসন। ভাষা শুধু শুরুর ধোঁয়া মাত্র, আগুনের উত্তাপ তার পেছন পেছন আসছে। ঢাকায় প্রতিটি আসনে ফাইট হয়েছে, অর্ধেক
আসন ইতিমধ্যেই ‘ফুক্কে কুল্লে নিজামীন’দের মালিক পক্ষ দখল করে নিয়েছে। যদি দলে দলে নারী ও প্রগতিশীলরা নিজেদের পিঠ বাঁচাতে ভোট দিতে না আসতেন, তাহলে পুরো ঢাকাই ইনকিলাব জিন্দাবাদ এবারই হয়ে যেত। কিন্তু এই বালির বাঁধ দিয়ে হয়তো ইনকিলাব ঠেকিয়ে রাখা যাবে না। তারই পরিকল্পনার অংশ হচ্ছে এই ভাষা ও সংস্কৃতির বিরুদ্ধে আগ্রাসন। আমরা, বলদরা এসব টের পাই না। আমরা বাকস্বাধীনতার পক্ষে গলার রগ ফুলিয়ে লাইক কামাই। আমরা বট বাহিনীর গালি কামাইতে চাই না। ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এই সময়ে এসে বুঝে হোক কি না বুঝে হোক একটা ভালো প্রশ্ন তুলেছেন। আপনারা উনাকে গালমন্দ করে বেশ লাইক হাতিয়ে নিন। কিন্তু আমি এই রাতজাগা সেহরির সময়ে টুকুর প্রশ্নে এনডোর্স করব। আমিও বলব আমার নিজের ভাষায় এত এত সুন্দর শব্দ থাকতে কেন আমার দ্রোহ, আমার ক্ষোভকে ধারণ করার জন্য এখন ফুক্কে কুল্লে নিজামীনকে আনতে হচ্ছে? আমরা লাইক কামাতে আসি নাই। আমরা গালি ও ঘৃণায় বেঁচে থাকব। আমরা সিপাহী বিদ্রোহের সেই অজাপাড়া গাঁয়ের কিশোর সৈনিকের উত্তর প্রজন্ম। আমরা আন্টাঘর ময়দানে ফাঁসিতে ঝুলে থাকব, আমাদের লাশ কাকেরা শকুনেরা ঠুকরে ঠুকরে খাবে; কবর আমাদের ভাগ্যে নেই। কিন্তু একশ বছর পার হওয়ার পর সেই আন্টাঘর ময়দানের নাম বাহাদুর শাহ পার্ক হবে। আমাদেরকে ঝুলিয়ে দেওয়া গাছটার নিচ দিয়ে দুটো কিশোর কিশোরী বাংলা ভাষায় গল্প করতে করতে চলে যাবে, আমাদের আত্মা সেটুকু দেখেই শান্ত হবে। যদি উগ্র ডানপন্থি আর সহস্র বছরের বাঙালিয়ানার মধ্যে আমাদের প্রজন্মের মুষ্টিমেয় কিছু লোককে লক্ষণ রেখা হিসেবে দাঁড়াতে হয়; সকল অপমান, সকল অনাদর, অবহেলা ও নির্যাতনকে শিকার করে আন্টাঘর ময়দানে আমরা দাঁড়িয়েই থাকব। আমাদের মূল্যায়ন হবে ১শ বছর পরে, সে বিশ্বাস আমাদের আছে। ভাষার আগ্রাসনের ফেউ দিয়ে রাজনীতির আগ্রাসনের যে পশু আমার জনপদে হানা দেবে, আমি পারি কি না পারি, আমি তার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েই থাকব। ভাষা ও সংস্কৃতির বিরুদ্ধে যে কোন আগ্রাসনকে রুখে দাঁড়ান। সে যদি আপনার প্রিয়তম বন্ধুর প্রগতিশীলতার ছদ্মবেশেও আসে, সেই হন্তারকের আস্তিনের নিচের ছুরি সম্পর্কে সতর্ক থাকুন। বাঙালির একশ বছরের পরের প্রজন্মের কাছে এ আমার আপনার সম্মিলিত দায়।



