ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
সরকারের অবসান ঘটলেও কমেনি প্রভাব; ‘বিদেশি স্বার্থ রক্ষায়’ বহাল থাকছে বিতর্কিত সব চুক্তি: সাবেক এনএসআই কর্মকর্তার দাবি
“আমি শেখ মুজিবের মেয়ে, দেশের স্বার্থ কখনো বেচি নাই। ক্ষমতার লোভ আমি করি না।” — শেখ হাসিনা
নতুন সরকার গঠন ‘প্রহসন ও সমঝোতার’ ফল, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি সাদ্দামের
সাবেক সরকারের দুই প্রেস সচিবের নতুন চাকরি: এমজিএইচ গ্রুপের কর্ণধারের দুর্নীতি মামলা প্রত্যাহার নিয়ে প্রশ্ন
সাবেক প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং
জুলাই স্মৃতি জাদুঘর: দরপত্র ছাড়াই ১১১ কোটির কাজ, ফারুকীর বিরুদ্ধে সিন্ডিকেট গঠনের অভিযোগ
ঢাকা-ওয়াশিংটন গোপন চুক্তির ফাঁস
সড়কে চাঁদাবাজির ‘বৈধতা’ দিলেন হত্যা মামলার আসামি মন্ত্রী রবিউল
দেড় বছর আগে যিনি ছিলেন হত্যা মামলার পলাতক আসামি এবং ভূমিদস্যুতার দায়ে নিজ দল থেকেই বহিষ্কৃত, সেই শেখ রবিউল আলম (রবি) এখন সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী। ক্ষমতার পালাবদলে শুধু মন্ত্রীই হননি, এবার তিনি সড়ক ও পরিবহন খাতের দীর্ঘদিনের বিষফোড়া ‘চাঁদাবাজি’কে পরোক্ষভাবে বৈধতা দিলেন।
আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম পরিবহন খাতের চাঁদাবাজিকে ‘সাংগঠনিক পরিচালনা ব্যয়’ ও ‘কল্যাণ তহবিল’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তাঁর এই বক্তব্যকে ‘চোরের মায়ের বড় গলা’ এবং পরিবহন খাতে নৈরাজ্য জিইয়ে রাখার প্রকাশ্য ঘোষণা হিসেবে দেখছেন বিশিষ্টজনেরা।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, একজন আবাসন ব্যবসায়ী ও হত্যা মামলার আসামি যখন নীতি নির্ধারণী চেয়ারে বসেন, তখন অপরাধই ‘নিয়ম’ হয়ে দাঁড়ায়।
‘সম্মতির
ভিত্তিতে’ চাঁদাবাজি জায়েজ? সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী রবিউল বলেন, ‘মালিক ও শ্রমিক সমিতিগুলো নিজেদের কল্যাণে সম্মতির ভিত্তিতে কিছু টাকা তোলে। এটা তাদের সাংগঠনিক পরিচালনার ব্যয়। এটাকে চাঁদাবাজি বলা যাবে না। তবে কেউ যদি জোর করে টাকা নেয়, কেবল সেটাই চাঁদাবাজি।’ মন্ত্রীর এই বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের এক নেতা বলেন, ‘সড়কে কোনো বাস বা ট্রাক চালক স্বেচ্ছায় টাকা দেয় না। লাঠির ভয় দেখিয়ে টাকা তোলা হয়। মন্ত্রী আজ সেই লাঠিয়াল বাহিনীকে ইনডেমনিটি (দায়মুক্তি) দিলেন। তাঁর নিজের অতীত ইতিহাসই বলে দেয়, তিনি কেন পেশিশক্তির পক্ষে কথা বলছেন।’ খুন ও প্রতারণার দাগ মোছেনি মন্ত্রীর বর্তমান বক্তব্যের নেপথ্যে তাঁর অতীত
কর্মকাণ্ডের যোগসূত্র স্পষ্ট। ২০২৪ সালের ১০ অক্টোবর রাজধানীর হাতিরঝিলে দীপ্ত টিভির সম্প্রচার কর্মকর্তা তানজিল জাহান ইসলাম তামিম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ৩ নম্বর আসামি ছিলেন শেখ রবিউল আলম। পুলিশের তদন্ত ও নিহতের পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, রবিউল আলমের মালিকানাধীন আবাসন প্রতিষ্ঠান ‘প্লেজেন্ট প্রোপার্টিজ’ তামিমের পৈতৃক জমি নিয়ে প্রতারণা করেছিল। ফ্ল্যাট বুঝিয়ে না দিয়ে উল্টো রবিউল আলমের নির্দেশে কোম্পানির লোক ও ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা তামিমের ওপর হামলা চালায়, যার ফলে তাঁর মৃত্যু হয়। ওই ঘটনার পর বিএনপির পক্ষ থেকে তাঁকে শোকজ করা হয় এবং দলের প্রাথমিক সদস্যপদ স্থগিত করা হয়। এ ছাড়া গ্রাহকের টাকা আত্মসাৎ, এক ফ্ল্যাট একাধিক ব্যক্তির কাছে বিক্রি এবং নিউমার্কেট এলাকায় রাজনৈতিক সহিংসতার ডজনখানেক
মামলা রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। জনমনে প্রশ্ন—যে ব্যক্তির বিরুদ্ধে হত্যা ও প্রতারণার মতো গুরুতর ফৌজদারি অপরাধের বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার কথা, তিনি কীভাবে রাষ্ট্রের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের (সড়ক, রেল ও নৌ) দায়িত্ব পান? এবং কীভাবে তিনি প্রকাশ্যে চাঁদাবাজির পক্ষে সাফাই গান? দুর্বৃত্তায়নের প্রাতিষ্ঠানিক রূপ সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই মন্ত্রণালয়ের ঠিকাদারি ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় রবিউল আলমের পুরনো ‘সিন্ডিকেট’ সক্রিয় হয়ে উঠেছে। আবাসন ব্যবসায় থাকাকালে তিনি যেভাবে জবরদখল ও পেশিশক্তি ব্যবহার করতেন, পরিবহন খাতেও সেই একই ধারা প্রবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে তাঁর আজকের বক্তব্যে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) সাবেক এক ট্রাস্টি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘যাঁর
হাত রক্তে রঞ্জিত এবং যিনি সাধারণ মানুষের সম্পদ আত্মসাতের দায়ে অভিযুক্ত, তাঁর মুখে জনকল্যাণের কথা মানায় না। তিনি চাঁদাবাজিকে সাংগঠনিক ব্যয়ের নাম দিয়ে মূলত নিজের অনুসারীদের পকেট ভারি করার সুযোগ করে দিচ্ছেন।’ মন্ত্রীর আজকের বক্তব্যের পর সাধারণ পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তাঁরা আশঙ্কা করছেন, মন্ত্রীর এই ‘সবুজ সংকেত’ পেয়ে সড়ক-মহাসড়কে চাঁদাবাজরা এখন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে, যার চূড়ান্ত মাশুল গুনতে হবে সাধারণ যাত্রীদের।
ভিত্তিতে’ চাঁদাবাজি জায়েজ? সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী রবিউল বলেন, ‘মালিক ও শ্রমিক সমিতিগুলো নিজেদের কল্যাণে সম্মতির ভিত্তিতে কিছু টাকা তোলে। এটা তাদের সাংগঠনিক পরিচালনার ব্যয়। এটাকে চাঁদাবাজি বলা যাবে না। তবে কেউ যদি জোর করে টাকা নেয়, কেবল সেটাই চাঁদাবাজি।’ মন্ত্রীর এই বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের এক নেতা বলেন, ‘সড়কে কোনো বাস বা ট্রাক চালক স্বেচ্ছায় টাকা দেয় না। লাঠির ভয় দেখিয়ে টাকা তোলা হয়। মন্ত্রী আজ সেই লাঠিয়াল বাহিনীকে ইনডেমনিটি (দায়মুক্তি) দিলেন। তাঁর নিজের অতীত ইতিহাসই বলে দেয়, তিনি কেন পেশিশক্তির পক্ষে কথা বলছেন।’ খুন ও প্রতারণার দাগ মোছেনি মন্ত্রীর বর্তমান বক্তব্যের নেপথ্যে তাঁর অতীত
কর্মকাণ্ডের যোগসূত্র স্পষ্ট। ২০২৪ সালের ১০ অক্টোবর রাজধানীর হাতিরঝিলে দীপ্ত টিভির সম্প্রচার কর্মকর্তা তানজিল জাহান ইসলাম তামিম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ৩ নম্বর আসামি ছিলেন শেখ রবিউল আলম। পুলিশের তদন্ত ও নিহতের পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, রবিউল আলমের মালিকানাধীন আবাসন প্রতিষ্ঠান ‘প্লেজেন্ট প্রোপার্টিজ’ তামিমের পৈতৃক জমি নিয়ে প্রতারণা করেছিল। ফ্ল্যাট বুঝিয়ে না দিয়ে উল্টো রবিউল আলমের নির্দেশে কোম্পানির লোক ও ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা তামিমের ওপর হামলা চালায়, যার ফলে তাঁর মৃত্যু হয়। ওই ঘটনার পর বিএনপির পক্ষ থেকে তাঁকে শোকজ করা হয় এবং দলের প্রাথমিক সদস্যপদ স্থগিত করা হয়। এ ছাড়া গ্রাহকের টাকা আত্মসাৎ, এক ফ্ল্যাট একাধিক ব্যক্তির কাছে বিক্রি এবং নিউমার্কেট এলাকায় রাজনৈতিক সহিংসতার ডজনখানেক
মামলা রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। জনমনে প্রশ্ন—যে ব্যক্তির বিরুদ্ধে হত্যা ও প্রতারণার মতো গুরুতর ফৌজদারি অপরাধের বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার কথা, তিনি কীভাবে রাষ্ট্রের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের (সড়ক, রেল ও নৌ) দায়িত্ব পান? এবং কীভাবে তিনি প্রকাশ্যে চাঁদাবাজির পক্ষে সাফাই গান? দুর্বৃত্তায়নের প্রাতিষ্ঠানিক রূপ সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই মন্ত্রণালয়ের ঠিকাদারি ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় রবিউল আলমের পুরনো ‘সিন্ডিকেট’ সক্রিয় হয়ে উঠেছে। আবাসন ব্যবসায় থাকাকালে তিনি যেভাবে জবরদখল ও পেশিশক্তি ব্যবহার করতেন, পরিবহন খাতেও সেই একই ধারা প্রবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে তাঁর আজকের বক্তব্যে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) সাবেক এক ট্রাস্টি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘যাঁর
হাত রক্তে রঞ্জিত এবং যিনি সাধারণ মানুষের সম্পদ আত্মসাতের দায়ে অভিযুক্ত, তাঁর মুখে জনকল্যাণের কথা মানায় না। তিনি চাঁদাবাজিকে সাংগঠনিক ব্যয়ের নাম দিয়ে মূলত নিজের অনুসারীদের পকেট ভারি করার সুযোগ করে দিচ্ছেন।’ মন্ত্রীর আজকের বক্তব্যের পর সাধারণ পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তাঁরা আশঙ্কা করছেন, মন্ত্রীর এই ‘সবুজ সংকেত’ পেয়ে সড়ক-মহাসড়কে চাঁদাবাজরা এখন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে, যার চূড়ান্ত মাশুল গুনতে হবে সাধারণ যাত্রীদের।



