ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
ইউনূস সাহেব ঈদ করবেন কোথায়!
হাতিরঝিল এক্সপ্রেসওয়ের রড চুরির একচ্ছত্র আধিপত্য ‘মাওরা সায়মন’ সিন্ডিকেটের: নেপথ্যে ভেজাল তাহের ও কাইলা হৃদয়
মিয়ানমার সীমান্তে গুলিবিদ্ধ শিশু হুজাইফা আর নেই
৮০ বছরের ক্যান্সার আক্রান্ত বৃদ্ধকে জেলে পচিয়ে মারাই যদি শাসনের নমুনা হয়
দেশ আজ ক্লান্ত, দেশ আজ ক্যান্সারে আক্রান্ত, দেশ আজ দখলদার ইউনুসের অবৈধ শাসনে দিশেহারা।
রাজধানীতে একই বাসা থেকে সন্তানসহ ৪ জনের মরদেহ উদ্ধার
দেশে ভূমিকম্প অনুভূত
জেলখানার মাইকে ভেসে এল বাবা হওয়ার সংবাদ: সাবেক ছাত্রলীগ নেতার কারাজীবনের নির্মম আখ্যান
রাজনীতির পালাবদলে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু থেকে ছিটকে পড়া তৃণমূল নেতাকর্মীদের জীবনে নেমে আসা মানবিক বিপর্যয়ের এক করুণ চিত্র ফুটে উঠেছে ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি ইফতেখার চৌধুরী রনির লেখনীতে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি নিজের জেলজীবনের যে লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছেন, তা কেবল রাজনৈতিক প্রতিহিংসার গল্প নয়, বরং এক বাবার হাহাকার ও চরম মানসিক যন্ত্রণার দলিল।
বাগেরহাট ছাত্রলীগের নেতা সাদ্দামের কোনো এক মর্মান্তিক পরিণতির প্রেক্ষাপটে (যাকে কেন্দ্র করে রনি এই স্ট্যাটাসটি দিয়েছেন) ইফতেখার চৌধুরী রনি তুলে ধরেছেন তার নিজের ওপর বয়ে যাওয়া ঝড়ের কথা।
ঘটনাটি রমজান মাসের। ঘরে সন্তান সম্ভবা স্ত্রী, সামনেই বিয়ের পর প্রথম ঈদ। ঠিক সেই সময়েই ২৩ রমজানে গ্রেপ্তার হন
রনি। স্ত্রীকে ৬-৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় রেখে শুরু হয় তার কারাজীবন। সাধারণ কয়েদিদের মতো ওয়ার্ডে স্থান হয়নি তার; ‘আন্তর্জাতিক ও রাজনৈতিক’ তকমা লাগিয়ে তাকে পাঠানো হয় কেরানীগঞ্জ কারাগারের নির্জন সেলে। রনি তার বর্ণনায় বলেন, "আমাদের বাসা বাড়ির বাথরুম যতটুকু, ঠিক ততটুকু একটা রুম। ওখানেই বাথরুম, গোসল এবং থাকা-খাওয়া। ওই সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে মানুষ নির্ঘাত হার্ট অ্যাটাক করবে।" সময়ের হিসাবহীন সেই অন্ধ প্রকোষ্ঠে কোরআন তেলাওয়াতই ছিল তার একমাত্র সঙ্গী। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মামলায় হাজিরা দিতে নিয়ে যাওয়ার সময় রনির অভিজ্ঞতার বর্ণনা যেকোনো সুস্থ মানুষকে শিউরে তুলবে। তিনি লেখেন, "কামারের দোকানে যেভাবে লোহা ফিট করা হয়, ওইভাবে হাতে-পায়ে ডান্ডাবেড়ি লাগানো হলো। হাতুড়ি দিয়ে
পিটিয়ে যখন রিং ফিক্সড করা হচ্ছিল, সেই কম্পন সহ্য করা দায়।" প্রতিবেদনের সবচেয়ে হৃদয়বিদারক অংশটি হলো রনির বাবা হওয়ার মুহূর্তটি। জামিন পেয়ে সন্তানের কানে আজান দেবেন—এমন স্বপ্ন যখন বারবার নতুন মামলায় ভেঙে যাচ্ছিল, তখন জেলখানার মাইকেই তিনি প্রথম জানতে পারেন তার বাবা হওয়ার খবর। রনি আক্ষেপ করে বলেন, "জীবনে প্রথম বাবা হওয়ার খবর এইভাবে শুনতে হবে, যা কখনো কল্পনাতেও আসেনি। আসামিটা তখন জিন্দা লাশ হয়ে পড়ে থাকে।" নিজের মানবিক বিপর্যয়ের পাশাপাশি ইফতেখার রনি দলের অভ্যন্তরীণ বৈষম্যের দিকেও আঙুল তুলেছেন। তার অভিযোগ, দলের সুসময়ে যারা শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন, তারা আজ নিরাপদ। অথচ তার মতো স্থানীয় ও আওয়ামী পরিবারের সন্তানরা
জেলের ঘানি টানছেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা এবং বারবার নতুন মামলা দেওয়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি প্রশ্ন রাখেন, "আমি কি জেলার বড় নেতাদের চেয়েও বড় ফ্যাক্ট? দলের কিছু ‘বিষফোঁড়া’ দ্বারা আমাদের মতো নিবেদিত প্রাণরাই লাঞ্ছিত।" ইফতেখার চৌধুরী রনির এই জবানবন্দি বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ক্ষমতার রদবদলের পর তৃণমূল নেতাকর্মীদের অস্তিত্ব সংকটের বাস্তব চিত্র। গর্ভাবস্থায় স্ত্রীর পাশে থাকতে না পারা, নবজাতককে কোলে নিতে না পারার যন্ত্রণা এবং জেলের অমানবিক পরিবেশ—সব মিলিয়ে এটি মানবাধিকার ও মানসিক স্বাস্থ্যের চরম লঙ্ঘনের ইঙ্গিত দেয়। জামিনে মুক্ত হয়েও তিনি এখনো পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার যে কথা জানিয়েছেন, তা প্রমাণ করে আইনি লড়াইয়ের বাইরেও সামাজিকভাবে তারা কতটা বিপর্যস্ত। তার এই লেখাটি
কেবল একটি রাজনৈতিক দলের কর্মীর জবানবন্দি নয়, বরং ক্ষমতার অপব্যবহার, বিচারহীনতার সংস্কৃতি এবং কারাগারের অমানবিক পরিবেশের বিরুদ্ধে এক নিরব প্রতিবাদ।
রনি। স্ত্রীকে ৬-৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় রেখে শুরু হয় তার কারাজীবন। সাধারণ কয়েদিদের মতো ওয়ার্ডে স্থান হয়নি তার; ‘আন্তর্জাতিক ও রাজনৈতিক’ তকমা লাগিয়ে তাকে পাঠানো হয় কেরানীগঞ্জ কারাগারের নির্জন সেলে। রনি তার বর্ণনায় বলেন, "আমাদের বাসা বাড়ির বাথরুম যতটুকু, ঠিক ততটুকু একটা রুম। ওখানেই বাথরুম, গোসল এবং থাকা-খাওয়া। ওই সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে মানুষ নির্ঘাত হার্ট অ্যাটাক করবে।" সময়ের হিসাবহীন সেই অন্ধ প্রকোষ্ঠে কোরআন তেলাওয়াতই ছিল তার একমাত্র সঙ্গী। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মামলায় হাজিরা দিতে নিয়ে যাওয়ার সময় রনির অভিজ্ঞতার বর্ণনা যেকোনো সুস্থ মানুষকে শিউরে তুলবে। তিনি লেখেন, "কামারের দোকানে যেভাবে লোহা ফিট করা হয়, ওইভাবে হাতে-পায়ে ডান্ডাবেড়ি লাগানো হলো। হাতুড়ি দিয়ে
পিটিয়ে যখন রিং ফিক্সড করা হচ্ছিল, সেই কম্পন সহ্য করা দায়।" প্রতিবেদনের সবচেয়ে হৃদয়বিদারক অংশটি হলো রনির বাবা হওয়ার মুহূর্তটি। জামিন পেয়ে সন্তানের কানে আজান দেবেন—এমন স্বপ্ন যখন বারবার নতুন মামলায় ভেঙে যাচ্ছিল, তখন জেলখানার মাইকেই তিনি প্রথম জানতে পারেন তার বাবা হওয়ার খবর। রনি আক্ষেপ করে বলেন, "জীবনে প্রথম বাবা হওয়ার খবর এইভাবে শুনতে হবে, যা কখনো কল্পনাতেও আসেনি। আসামিটা তখন জিন্দা লাশ হয়ে পড়ে থাকে।" নিজের মানবিক বিপর্যয়ের পাশাপাশি ইফতেখার রনি দলের অভ্যন্তরীণ বৈষম্যের দিকেও আঙুল তুলেছেন। তার অভিযোগ, দলের সুসময়ে যারা শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন, তারা আজ নিরাপদ। অথচ তার মতো স্থানীয় ও আওয়ামী পরিবারের সন্তানরা
জেলের ঘানি টানছেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা এবং বারবার নতুন মামলা দেওয়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি প্রশ্ন রাখেন, "আমি কি জেলার বড় নেতাদের চেয়েও বড় ফ্যাক্ট? দলের কিছু ‘বিষফোঁড়া’ দ্বারা আমাদের মতো নিবেদিত প্রাণরাই লাঞ্ছিত।" ইফতেখার চৌধুরী রনির এই জবানবন্দি বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ক্ষমতার রদবদলের পর তৃণমূল নেতাকর্মীদের অস্তিত্ব সংকটের বাস্তব চিত্র। গর্ভাবস্থায় স্ত্রীর পাশে থাকতে না পারা, নবজাতককে কোলে নিতে না পারার যন্ত্রণা এবং জেলের অমানবিক পরিবেশ—সব মিলিয়ে এটি মানবাধিকার ও মানসিক স্বাস্থ্যের চরম লঙ্ঘনের ইঙ্গিত দেয়। জামিনে মুক্ত হয়েও তিনি এখনো পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার যে কথা জানিয়েছেন, তা প্রমাণ করে আইনি লড়াইয়ের বাইরেও সামাজিকভাবে তারা কতটা বিপর্যস্ত। তার এই লেখাটি
কেবল একটি রাজনৈতিক দলের কর্মীর জবানবন্দি নয়, বরং ক্ষমতার অপব্যবহার, বিচারহীনতার সংস্কৃতি এবং কারাগারের অমানবিক পরিবেশের বিরুদ্ধে এক নিরব প্রতিবাদ।



