আইনের শাসনের নির্লজ্জ চিত্র: ভুয়া মামলা ও আতঙ্কে বন্দী বাংলাদেশ – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
     ৪:২১ অপরাহ্ণ

আইনের শাসনের নির্লজ্জ চিত্র: ভুয়া মামলা ও আতঙ্কে বন্দী বাংলাদেশ

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ | ৪:২১ 9 ভিউ
এই অবৈধ ইউনুস সরকারের শাসনামলে দেশের প্রতিটি মানুষ আজ শুধু নিরাপত্তাহীনতায়ই ভুগছে না—আরেকটি ভয়াবহ দুর্ভোগ প্রতিনিয়ত তাদের তাড়া করে বেড়াচ্ছে। তা হলো ভুয়া মামলার আতঙ্ক। বিএনপি-জামাত নেতাকর্মীরা দেশজুড়ে ব্যাপক চাঁদাবাজির পাশাপাশি টাকা কামানোর মূল হাতিয়ার বানিয়েছে মামলা বাণিজ্যকে। দেশে আইনের শাসনের কী আকারে বিপর্যয় ঘটেছে, তা গত ১৭ মাসের পত্রিকা ঘাঁটলেই বুঝতে পারবেন। এসব ভুয়া মামলায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনগুলোর প্রায় এক লক্ষ নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এসব মামলা থেকে কোনো পেশার মানুষই বাদ যাচ্ছে না। সাধারণ নাগরিক থেকে শুরু করে রাজনৈতিক কর্মী—সবাই আজ এই ভয়ংকর ফাঁদে বন্দি। এসব মামলায় আসামি বানিয়ে ৫-১০ কোটি টাকা পর্যন্ত চাঁদা

আদায় করা হয়েছে। আওয়ামী লীগকে অন্যায়ভাবে নিষিদ্ধ করে দলীয় নেতা-কর্মীদের ওপর চালানো হচ্ছে অত্যাচারের খড়গ। দেশের প্রতিটি নেতা-কর্মীর নামে কমপক্ষে ১টি মামলা থেকে শুরু করে ১৫-২০টি পর্যন্ত মামলা করা হয়েছে। যারা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নয়, কিংবা বহু আগেই রাজনীতি ছেড়ে দিয়েছেন, তাদেরও বিভিন্ন মামলায় আসামি ও গ্রেফতার করা হচ্ছে। এতে বোঝা যায়, এই মামলা শুধু রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অস্ত্রই নয় বরং একটি পরিকল্পিত নিপীড়নের কাঠামোতে পরিণত হয়েছে। এই মামলা আতঙ্ক ও গ্রেফতারের চাপে দেশের প্রতিটি আওয়ামী লীগ কর্মী আজ ঘরছাড়া। পরিবার, ঘরবাড়ি, স্বাভাবিক জীবন—সবকিছু যেন অনিশ্চয়তার মধ্যে হারিয়ে যাচ্ছে। অন্যায়ভাবে কারাগারে বন্দী রাখার কারণে বেশিরভাগ নেতা-কর্মীই বাবা-মা অথবা

স্ত্রী-সন্তানের কবরে মাটি দেওয়ার সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন। সম্প্রতি বিনা অপরাধে বাগেরহাটের ছাত্রলীগ নেতা জুয়েল হাসান সাদ্দাম কারাগারে থাকায় সেই অবর্ণনীয় কষ্ট সহ্য করতে না পেরে তার স্ত্রী নিজ হাতে ৯ মাসের সন্তানকে হত্যার পর আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। কিন্তু এই অবৈধ ইউনূস সরকার তাকে প্যারোলে মুক্তি না দেওয়ায় মৃত স্ত্রী ও সন্তানকে জেলগেটে এনে মাত্র ৫ মিনিটের জন্য দেখার সুযোগ করে দেয়। অথচ সাদ্দামকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের যেই মামলায় প্রথম গ্রেপ্তার দেখানো হয় সেই মামলার এজাহারে তার নামও ছিল না। ভেবে দেখেছেন, কী এক আতঙ্কিত আইনের দুঃশাসনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে আমাদের প্রিয় স্বদেশ? ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় বাংলাদেশ

সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিলে আদালত চত্বরে তাঁর অনুসারী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও আইনজীবীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের এক পর্যায়ে আদালত প্রাঙ্গণের বাইরে সাইফুল ইসলাম আলিফ নামে এক আইনজীবী মারা যান। এই ঘটনায় চিন্ময় ও অন্যদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছে। চিন্ময় তো ইতিমধ্যেই বন্দী, তবুও কেন তাকে নতুন এইসব মামলায় আসামি করা হলো? দেশজুড়ে নিম্ন আদালত থেকে জামিন দেওয়া প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের এখন জামিন নিতে হচ্ছে উচ্চ আদালত থেকে। সেই জামিন পেতে বিএনপি-জামাতপন্থী আইনজীবীরা আবার ২–৫ লাখ টাকা পর্যন্ত আদায় করছে। অন্যদিকে, আওয়ামী লীগের

কোনো নেতা-কর্মী কোনো অপরাধ ছাড়াই দীর্ঘদিন জেল খেটে জামিনে বের হলেও জেলগেটের বাইরে তাকে ডিবি পুলিশ দিয়ে পুনরায় গ্রেফতার করে নতুন আরও ২–৩টি মামলায় আসামি করা হয়। এটাই দেশের বর্তমান আইনের শাসনের নির্লজ্জ চিত্র। গত দেড় বছরে দেশের বেসরকারি খাতের অন্যতম আতঙ্কের নাম ‘মামলা বাণিজ্য’। ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের জন্য মিথ্যা মামলা দায়ের করা হচ্ছে। মামলা দায়েরের পর মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করা হয়, না দিলে করা হচ্ছে মব সন্ত্রাস। এসবে অতিষ্ঠ হয়ে অনেক দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারী তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য গুটিয়ে নিচ্ছেন এবং নতুন বিনিয়োগকারীরা ব্যবসা করার আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। একদিকে, গত ১৭ মাসে দেশের বেসরকারি খাত প্রায় অচলপ্রায় হয়ে পড়েছে;

তার ওপর, এসব মিথ্যা মামলায় দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার করে খুবই সূক্ষ পরিকল্পনায় দেশের অর্থনৈতিক খাতকে পঙ্গু করা হচ্ছে। আইনের শাসনের নামে এই ভয়াবহ মামলা বাণিজ্য শুধু দেশের রাজনীতিকেই নয়, দেশের অর্থনীতি, বিনিয়োগ এবং ভবিষ্যৎকেও ধ্বংস করে দিচ্ছে। রাষ্ট্র যদি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়, তবে উন্নয়ন নয়—শুধু পতনই অনিবার্য।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
আইনের শাসনের নির্লজ্জ চিত্র: ভুয়া মামলা ও আতঙ্কে বন্দী বাংলাদেশ বাংলাদেশের ১২ ফেব্রুয়ারির প্রহসনের নির্বাচন ও গণভোট বর্জনের আহবান জানিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশীরা ইউনূস সাহেব ঈদ করবেন কোথায়! Plebiscite or Refounding? The Constitutional Limits of the Referendum in Bangladesh Former Bangladeshi Minister Ramesh Chandra Sen Dies in Custody হাতিরঝিল এক্সপ্রেসওয়ের রড চুরির একচ্ছত্র আধিপত্য ‘মাওরা সায়মন’ সিন্ডিকেটের: নেপথ্যে ভেজাল তাহের ও কাইলা হৃদয় নির্বাচনকে ‘সাজানো নাটক’ আখ্যা দিয়ে ভোট বর্জনের ডাক দিলেন সজীব ওয়াজেদ জয় রমেশ চন্দ্র সেনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে: শেখ হাসিনা কারাগারে দেড় বছরে ঝরল ১১২ প্রাণ রমজানে ডায়াবেটিস রোগীদের ওষুধের মাত্রা ও সময়সূচি পরিবর্তন পাক ভারত ম্যাচ আয়োজনে মরিয়া আইসিসি, নিলো নতুন পদক্ষেপ নতুন সংকটের মুখে আইসিসি হজের ভিসা দেওয়া শুরু আজ দেশের বাজারে স্বর্ণের বড় দরপতন, এখন ভরি কত? এবার রোজা হবে সর্বোচ্চ সাড়ে ১৩ ঘণ্টা ইরানের কাছে পাঁচ অসম্ভব দাবি যুক্তরাষ্ট্রের মান্নার নিজস্ব একটা ভাষা ছিল: সোহেল রানা উগ্রপন্থীদের অবাধ সুযোগ ও সংখ্যালঘুদের ঝুঁকি: বাংলাদেশে ইইউ রাষ্ট্রদূতকে ঘিরে প্রশ্ন কারাগারে সাবেক মন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেনের মৃত্যু: প্রশ্নবিদ্ধ ‘মানবিক’ বিচারব্যবস্থা পানিসম্পদমন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেনসহ ২০২৪ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত ১১২ জনের মৃত্যু