ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
রক্তের দাগ মুছবে কে?
সরকারি সিদ্ধান্তে নিজের মতামতের গুরুত্ব নেই মনে করে ৭৩% মানুষ
উত্তর-পশ্চিমের আট জেলায় শৈত্যপ্রবাহ দুর্ভোগে মানুষ
ইতিহাসের ধ্রুবতারা ও ১০ জানুয়ারির তাৎপর্য: ভিন্ন প্রেক্ষাপটে এক ফিরে দেখা
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কর্মসূচি
১০ জেলায় শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকার আভাস
২০২৫ সাল বাংলাদেশে সাংবাদিকদের জন্য একটি বিপজ্জনক বছর
ব্যালট বাক্স নয়, লাশের হিসাবই যখন বাস্তবতা
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিকে এগোচ্ছে। কিন্তু পরিবেশ স্থিতিশীল নয়। পরিবেশ ভয়ের মধ্যে ডুবে আছে। সহিংসতা আর বিচ্ছিন্ন বা অস্বাভাবিক ঘটনা নয়। এটি এখন নিয়মিত ঘটনা। দেশজুড়ে খুন, গণপিটুনি, সশস্ত্র হামলা এবং টার্গেট কিলিংয়ের খবর নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে। স্বল্প সময়ের অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে হাজার হাজার হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে। নদী, ড্রেন, রাস্তা এবং খোলা মাঠ থেকে নিয়মিত লাশ উদ্ধার করা হচ্ছে। এটি কোনো নির্বাচনের স্বাভাবিক প্রেক্ষাপট নয়। এটি সেই বাস্তবতা, যার মধ্যে মানুষকে ভোট দিতে বলা হচ্ছে।
দৃশ্যমান অপরাধের নিচে আরও গভীর একটি সংকট আছে। মানুষ রাষ্ট্রের ওপর আস্থা হারাচ্ছে। গুমের অভিযোগ এখনো আছে। নির্যাতনের অভিযোগও রয়ে গেছে। পুলিশ এবং কারাগার হেফাজতে
মৃত্যুর ঘটনা নিয়মিত দেখা যাচ্ছে। এসব ঘটনার পর প্রায়ই নীরবতা থাকে। অস্পষ্ট বা দ্ব্যর্থক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়। পরিবারগুলো কোনো জবাব পায় না। জবাবদিহি খুব কম। বার্তাটি স্পষ্ট। ন্যায়বিচার অনিশ্চিত। কথা বলা বিপদের কারণ হতে পারে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রায়ই ঘটনার পরে আসে। তারা তদন্তের ঘোষণা দেয়। কিন্তু এসব তদন্ত খুব কম ক্ষেত্রেই শেষ হয়। অনেক সময় বাহিনীকে অক্ষম মনে হয়। কখনো মনে হয় তারা পক্ষপাতদুষ্ট বা উদাসীন। ফল একই থাকে। দায়হীনতা বাড়ে। ভয় মানুষের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে। তবুও মুহাম্মদ ইউনূস পরিচালিত অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচন নিয়ে কথা বলে। তারা মনে করে তারিখ, প্রক্রিয়া এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থাই যথেষ্ট। কিন্তু গণতন্ত্র কেবল ব্যালট বাক্স দিয়ে
শুরু হয় না। গণতন্ত্র শুরু হয় মানুষের জীবন সুরক্ষা দিয়ে। গণতন্ত্র শুরু হয় আইনের শাসন দিয়ে। যে সরকার মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে না, সে সরকার অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি করতে পারে না। যখন মানুষের দৈনন্দিন জীবনে ভয় ছড়িয়ে পড়ে, তখন নির্বাচন আর পছন্দের প্রকাশ থাকে না। নির্বাচন তখন ধৈর্যের পরীক্ষা হয়ে যায়। বর্তমান সহিংসতা এবং হত্যার ধরণ দেখলে এগুলোকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলা যায় না। নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে হত্যা বাড়ছে। কিছু হত্যা প্রকাশ্যে রাজনৈতিক। কিছু হত্যা “অপরাধমূলক” বলে উল্লেখ করা হয়। কিন্তু জবাবদিহি কমছে। প্রায় ১৪ মাসে ৪,০০০–এর বেশি হত্যা মামলা হয়েছে। এমন সংখ্যা একটি জাতীয় সংকট ঘোষণা করার
জন্য যথেষ্ট। কিন্তু এই সংখ্যা এখন স্বাভাবিক শিরোনামে পরিণত হয়েছে। একই সাথে বাড়ছে গণপিটুনি এবং হেফাজতে মৃত্যু। এসব মৃত্যুর ব্যাখ্যা প্রায়ই অস্পষ্ট। অনেক ক্ষেত্রে কথা বদলে যায়। এতে মানুষের ধারণা আরও দৃঢ় হয় যে সহিংসতার কোনো ফল হয় না। এই পরিস্থিতিতে শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ড একটি বড় সংকেত। তিনি ছিলেন এক আন্দোলনকর্মী, ছিলেন সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী। নির্বাচন তারিখ ঘোষণার পরপরই মুখোশধারী হামলাকারীরা তাকে গুলি করে হত্যা করে। তিনি কখনো প্রচারে যেতে পারেননি। প্রতিযোগিতা শুরুর আগেই তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এই হত্যা অন্যদের জন্য স্পষ্ট সতর্কবার্তা হয়ে ওঠে। এর পরে আরও ঘটনা ঘটে। এনসিপি নেতাদের সন্দেহজনক মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। এসব ঘটনার
তদন্তে স্পষ্টতা নেই। কোনো বিশ্বাসযোগ্য জবাবদিহি নেই। ঘটনাগুলো অল্প সময়ের জন্য আলোচনায় আসে। পরে সেগুলো আবার নিঃশব্দ হয়ে যায়। অনিরসিত মৃত্যুর তালিকা বড় হতে থাকে। ভয় বাড়ে। রাজনৈতিক ক্ষেত্র ছোট হয়ে যায়। দেশি ও আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে এসব ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড নির্বাচনের আগে মানুষের মনে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। এই ভয় অতিরঞ্জিত নয়। এটি বাস্তব এবং যৌক্তিক। স্বাধীন প্রার্থী ও নতুন নেতারা এখন বোঝে যে দৃশ্যমান হওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। নীরব থাকা নিরাপদ হতে পারে। উদ্দেশ্য যতই ভিন্ন হোক, ফলাফল একটাই। যখন প্রার্থীরা নিহত হয় এবং রাজনৈতিক মানুষ ন্যায়বিচার পায় না, তখন প্রতিযোগিতা আর ধারণার ওপর দাঁড়ায় না। প্রতিযোগিতা তখন টিকে থাকার
ওপর দাঁড়ায়। এমন পরিবেশে নির্বাচন শুরু হওয়ার আগেই সীমাবদ্ধ হয়ে যায়। যখন সহিংসতা ঠিক করে কে প্রার্থী হবে, তখন নির্বাচন আর প্রতিযোগিতামূলক থাকে না। নির্বাচন তখন চাপ সৃষ্টি করা একটি প্রক্রিয়ায় পরিণত হয়। ভয় এখন জনজীবনের নিয়ামক হয়ে উঠেছে। সাধারণ মানুষ রাজনৈতিক আলোচনা এড়িয়ে চলে। তারা উদাসীন বলে নয়। তারা নিজেদের সুরক্ষার জন্য নীরব থাকে। সহিংসতা সবসময় ঘটতে হয় না। কেবল বিশ্বাসযোগ্য হুমকি থাকলেই তা কার্যকর হয়। সংবাদমাধ্যমও নিরাপদ নয়। সাংবাদিকরা হামলার শিকার হয়েছেন। অনেক সংবাদকক্ষে ভাঙচুর হয়েছে। কোথাও আগুন দেওয়া হয়েছে। রিপোর্টাররা হুমকি পেয়েছেন। কেউ কেউ পালিয়ে গেছেন। এই হামলাগুলো কাকতালীয় নয়। এগুলো নজরদারি দুর্বল করে। জনপরিসর ছোট করে। নির্বাচনের জন্য
প্রয়োজনীয় তথ্যের পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যারা নিহত, গুম বা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তাদের পরিবার প্রায়ই নীরব থাকে। কারণ তারা জানে ন্যায়বিচার চাইতে গেলে প্রতিশোধ আসতে পারে। হেফাজতে মৃত্যু এবং গুম দেখায় যে রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানও কখনো কখনো ভয়রের উৎস হতে পারে। এভাবেই পছন্দ হারিয়ে যায়। কোনো আনুষ্ঠানিক নিষেধাজ্ঞা ছাড়াই মানুষ চুপ হয়ে যায়। যখন ভয় ঠিক করে কে কথা বলবে, কে সংবাদ করবে, কে অংশ নেবে, তখন সম্মতি অর্থহীন হয়ে পড়ে। অংশগ্রহণ তখন স্বাধীন ইচ্ছা নয়, বরং চাপে বাধ্য হওয়া আচরণে পরিণত হয়। প্রতিবার সহিংসতা ঘটলে সরকারের প্রতিক্রিয়া একরকম হয়। নিন্দা জানানো হয়। তদন্তের ঘোষণা দেওয়া হয়। আশ্বাস দেওয়া হয়। তারপর সব চাপা পড়ে যায়। সহিংসতা বন্ধ হয় না। মামলা এগোয় না। জবাবদিহি আসে না। সময়ের সাথে সাথে এটি অক্ষমতার মতো দেখায় না। এটি গ্রহণযোগ্যতার মতো দেখায়। ইউনূস সরকার নিজেকে নিরপেক্ষ প্রশাসক হিসেবে উপস্থাপন করে। কিন্তু নিয়ন্ত্রণ ছাড়া নিরপেক্ষতা কার্যকর নয়। একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান দায়িত্ব হলো আইনশৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার করা। এই দায়িত্ব পূরণ হয়নি। নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল। তদন্ত খুব কম ক্ষেত্রেই ন্যায়বিচার দেয়। সহিংসতা রাজনৈতিক বাস্তবতাকে নিয়ন্ত্রণ করে। রাষ্ট্রের ভূমিকা অনেক সময় কেবল বিবৃতি দেওয়াতে সীমাবদ্ধ থাকে। গণতন্ত্রের ভাষা বাস্তব অবস্থার বিকল্প হতে পারে না। শুধু প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচন অবাধ হয় না। শুধু প্রক্রিয়া দিয়ে নির্বাচন সুষ্ঠু হয় না। নির্বাচন বৈধতা পায় নিরাপত্তা থেকে। নির্বাচন বৈধতা পায় জবাবদিহি থেকে। নির্বাচন বৈধতা পায় বিশ্বাস থেকে। কিন্তু এসব মৌলিক শর্ত এখন পর্যাপ্ত নয়। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডও স্পষ্ট। নিরাপত্তা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং আইনের সমান সুরক্ষা নির্বাচন-পূর্ব শর্ত। এগুলো কোনো পরবর্তী লক্ষ্য নয়। এগুলো ছাড়া নির্বাচন আয়োজন আশাবাদ নয়। এটি গণতান্ত্রিক বৈধতার প্রতি অবহেলা। বর্তমান পরিবেশে অনুষ্ঠিত নির্বাচন সংকট সমাধান করবে না। বরং সংকটকে স্থায়ী করবে। এটি এমন একটি ব্যবস্থাকে গণতান্ত্রিক আচ্ছাদন দেবে, যে ব্যবস্থা তার সবচেয়ে মৌলিক দায়িত্বে ব্যর্থ হয়েছে। সেই দায়িত্ব হলো মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনের শাসন রক্ষা করা।
মৃত্যুর ঘটনা নিয়মিত দেখা যাচ্ছে। এসব ঘটনার পর প্রায়ই নীরবতা থাকে। অস্পষ্ট বা দ্ব্যর্থক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়। পরিবারগুলো কোনো জবাব পায় না। জবাবদিহি খুব কম। বার্তাটি স্পষ্ট। ন্যায়বিচার অনিশ্চিত। কথা বলা বিপদের কারণ হতে পারে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রায়ই ঘটনার পরে আসে। তারা তদন্তের ঘোষণা দেয়। কিন্তু এসব তদন্ত খুব কম ক্ষেত্রেই শেষ হয়। অনেক সময় বাহিনীকে অক্ষম মনে হয়। কখনো মনে হয় তারা পক্ষপাতদুষ্ট বা উদাসীন। ফল একই থাকে। দায়হীনতা বাড়ে। ভয় মানুষের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে। তবুও মুহাম্মদ ইউনূস পরিচালিত অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচন নিয়ে কথা বলে। তারা মনে করে তারিখ, প্রক্রিয়া এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থাই যথেষ্ট। কিন্তু গণতন্ত্র কেবল ব্যালট বাক্স দিয়ে
শুরু হয় না। গণতন্ত্র শুরু হয় মানুষের জীবন সুরক্ষা দিয়ে। গণতন্ত্র শুরু হয় আইনের শাসন দিয়ে। যে সরকার মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে না, সে সরকার অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি করতে পারে না। যখন মানুষের দৈনন্দিন জীবনে ভয় ছড়িয়ে পড়ে, তখন নির্বাচন আর পছন্দের প্রকাশ থাকে না। নির্বাচন তখন ধৈর্যের পরীক্ষা হয়ে যায়। বর্তমান সহিংসতা এবং হত্যার ধরণ দেখলে এগুলোকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলা যায় না। নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে হত্যা বাড়ছে। কিছু হত্যা প্রকাশ্যে রাজনৈতিক। কিছু হত্যা “অপরাধমূলক” বলে উল্লেখ করা হয়। কিন্তু জবাবদিহি কমছে। প্রায় ১৪ মাসে ৪,০০০–এর বেশি হত্যা মামলা হয়েছে। এমন সংখ্যা একটি জাতীয় সংকট ঘোষণা করার
জন্য যথেষ্ট। কিন্তু এই সংখ্যা এখন স্বাভাবিক শিরোনামে পরিণত হয়েছে। একই সাথে বাড়ছে গণপিটুনি এবং হেফাজতে মৃত্যু। এসব মৃত্যুর ব্যাখ্যা প্রায়ই অস্পষ্ট। অনেক ক্ষেত্রে কথা বদলে যায়। এতে মানুষের ধারণা আরও দৃঢ় হয় যে সহিংসতার কোনো ফল হয় না। এই পরিস্থিতিতে শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ড একটি বড় সংকেত। তিনি ছিলেন এক আন্দোলনকর্মী, ছিলেন সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী। নির্বাচন তারিখ ঘোষণার পরপরই মুখোশধারী হামলাকারীরা তাকে গুলি করে হত্যা করে। তিনি কখনো প্রচারে যেতে পারেননি। প্রতিযোগিতা শুরুর আগেই তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এই হত্যা অন্যদের জন্য স্পষ্ট সতর্কবার্তা হয়ে ওঠে। এর পরে আরও ঘটনা ঘটে। এনসিপি নেতাদের সন্দেহজনক মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। এসব ঘটনার
তদন্তে স্পষ্টতা নেই। কোনো বিশ্বাসযোগ্য জবাবদিহি নেই। ঘটনাগুলো অল্প সময়ের জন্য আলোচনায় আসে। পরে সেগুলো আবার নিঃশব্দ হয়ে যায়। অনিরসিত মৃত্যুর তালিকা বড় হতে থাকে। ভয় বাড়ে। রাজনৈতিক ক্ষেত্র ছোট হয়ে যায়। দেশি ও আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে এসব ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড নির্বাচনের আগে মানুষের মনে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। এই ভয় অতিরঞ্জিত নয়। এটি বাস্তব এবং যৌক্তিক। স্বাধীন প্রার্থী ও নতুন নেতারা এখন বোঝে যে দৃশ্যমান হওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। নীরব থাকা নিরাপদ হতে পারে। উদ্দেশ্য যতই ভিন্ন হোক, ফলাফল একটাই। যখন প্রার্থীরা নিহত হয় এবং রাজনৈতিক মানুষ ন্যায়বিচার পায় না, তখন প্রতিযোগিতা আর ধারণার ওপর দাঁড়ায় না। প্রতিযোগিতা তখন টিকে থাকার
ওপর দাঁড়ায়। এমন পরিবেশে নির্বাচন শুরু হওয়ার আগেই সীমাবদ্ধ হয়ে যায়। যখন সহিংসতা ঠিক করে কে প্রার্থী হবে, তখন নির্বাচন আর প্রতিযোগিতামূলক থাকে না। নির্বাচন তখন চাপ সৃষ্টি করা একটি প্রক্রিয়ায় পরিণত হয়। ভয় এখন জনজীবনের নিয়ামক হয়ে উঠেছে। সাধারণ মানুষ রাজনৈতিক আলোচনা এড়িয়ে চলে। তারা উদাসীন বলে নয়। তারা নিজেদের সুরক্ষার জন্য নীরব থাকে। সহিংসতা সবসময় ঘটতে হয় না। কেবল বিশ্বাসযোগ্য হুমকি থাকলেই তা কার্যকর হয়। সংবাদমাধ্যমও নিরাপদ নয়। সাংবাদিকরা হামলার শিকার হয়েছেন। অনেক সংবাদকক্ষে ভাঙচুর হয়েছে। কোথাও আগুন দেওয়া হয়েছে। রিপোর্টাররা হুমকি পেয়েছেন। কেউ কেউ পালিয়ে গেছেন। এই হামলাগুলো কাকতালীয় নয়। এগুলো নজরদারি দুর্বল করে। জনপরিসর ছোট করে। নির্বাচনের জন্য
প্রয়োজনীয় তথ্যের পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যারা নিহত, গুম বা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তাদের পরিবার প্রায়ই নীরব থাকে। কারণ তারা জানে ন্যায়বিচার চাইতে গেলে প্রতিশোধ আসতে পারে। হেফাজতে মৃত্যু এবং গুম দেখায় যে রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানও কখনো কখনো ভয়রের উৎস হতে পারে। এভাবেই পছন্দ হারিয়ে যায়। কোনো আনুষ্ঠানিক নিষেধাজ্ঞা ছাড়াই মানুষ চুপ হয়ে যায়। যখন ভয় ঠিক করে কে কথা বলবে, কে সংবাদ করবে, কে অংশ নেবে, তখন সম্মতি অর্থহীন হয়ে পড়ে। অংশগ্রহণ তখন স্বাধীন ইচ্ছা নয়, বরং চাপে বাধ্য হওয়া আচরণে পরিণত হয়। প্রতিবার সহিংসতা ঘটলে সরকারের প্রতিক্রিয়া একরকম হয়। নিন্দা জানানো হয়। তদন্তের ঘোষণা দেওয়া হয়। আশ্বাস দেওয়া হয়। তারপর সব চাপা পড়ে যায়। সহিংসতা বন্ধ হয় না। মামলা এগোয় না। জবাবদিহি আসে না। সময়ের সাথে সাথে এটি অক্ষমতার মতো দেখায় না। এটি গ্রহণযোগ্যতার মতো দেখায়। ইউনূস সরকার নিজেকে নিরপেক্ষ প্রশাসক হিসেবে উপস্থাপন করে। কিন্তু নিয়ন্ত্রণ ছাড়া নিরপেক্ষতা কার্যকর নয়। একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান দায়িত্ব হলো আইনশৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার করা। এই দায়িত্ব পূরণ হয়নি। নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল। তদন্ত খুব কম ক্ষেত্রেই ন্যায়বিচার দেয়। সহিংসতা রাজনৈতিক বাস্তবতাকে নিয়ন্ত্রণ করে। রাষ্ট্রের ভূমিকা অনেক সময় কেবল বিবৃতি দেওয়াতে সীমাবদ্ধ থাকে। গণতন্ত্রের ভাষা বাস্তব অবস্থার বিকল্প হতে পারে না। শুধু প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচন অবাধ হয় না। শুধু প্রক্রিয়া দিয়ে নির্বাচন সুষ্ঠু হয় না। নির্বাচন বৈধতা পায় নিরাপত্তা থেকে। নির্বাচন বৈধতা পায় জবাবদিহি থেকে। নির্বাচন বৈধতা পায় বিশ্বাস থেকে। কিন্তু এসব মৌলিক শর্ত এখন পর্যাপ্ত নয়। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডও স্পষ্ট। নিরাপত্তা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং আইনের সমান সুরক্ষা নির্বাচন-পূর্ব শর্ত। এগুলো কোনো পরবর্তী লক্ষ্য নয়। এগুলো ছাড়া নির্বাচন আয়োজন আশাবাদ নয়। এটি গণতান্ত্রিক বৈধতার প্রতি অবহেলা। বর্তমান পরিবেশে অনুষ্ঠিত নির্বাচন সংকট সমাধান করবে না। বরং সংকটকে স্থায়ী করবে। এটি এমন একটি ব্যবস্থাকে গণতান্ত্রিক আচ্ছাদন দেবে, যে ব্যবস্থা তার সবচেয়ে মৌলিক দায়িত্বে ব্যর্থ হয়েছে। সেই দায়িত্ব হলো মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনের শাসন রক্ষা করা।



