শিক্ষার ছদ্মবেশে প্রভাব বিস্তারের নতুন অধ্যায়, ঢাকায় পাকিস্তানের আগ্রাসী একাডেমিক তৎপরতা – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬
     ৬:৪৫ অপরাহ্ণ

শিক্ষার ছদ্মবেশে প্রভাব বিস্তারের নতুন অধ্যায়, ঢাকায় পাকিস্তানের আগ্রাসী একাডেমিক তৎপরতা

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬ | ৬:৪৫ 9 ভিউ
ঢাকায় আবার সক্রিয় পাকিস্তান। তবে এবার সামরিক বা কূটনৈতিক মঞ্চে নয়, সামনে রাখা হয়েছে শিক্ষা ও উচ্চশিক্ষা সহযোগিতার ব্যানার। পাকিস্তানের উচ্চশিক্ষা কমিশন এবং দেশটির একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের ধারাবাহিক সফর, বৃত্তি কর্মসূচি এবং শিক্ষা মেলার আয়োজন মিলিয়ে বাংলাদেশের শিক্ষাক্ষেত্রে একটি সুপরিকল্পিত প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা স্পষ্ট হয়ে উঠছে। ১১ থেকে ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত ঢাকায় অবস্থান করছে পাকিস্তানের দুইটি আলাদা প্রতিনিধিদল। এসব দলে রয়েছেন পাকিস্তানের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উচ্চশিক্ষা কমিশনের শীর্ষ কর্মকর্তা এবং সাবেক সামরিক কর্মকর্তা। সফরের আনুষ্ঠানিক উপলক্ষ এশীয় আঞ্চলিক উচ্চশিক্ষা সম্মেলন হলেও এর রাজনৈতিক ও কৌশলগত তাৎপর্য নিয়ে প্রশ্ন উঠছে সংশ্লিষ্ট মহলে। ইসলামাবাদভিত্তিক ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব মডার্ন ল্যাঙ্গুয়েজেসের রেক্টর মেজর জেনারেল

(অব.) শহীদ কায়ানির নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল ১১ জানুয়ারি ঢাকায় পৌঁছায়। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন মারদান উইমেন্স ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক রাজিয়া সুলতানা এবং আতীক শহীদ কায়ুম। একই সময়ে ঢাকায় আসেন পাকিস্তানের উচ্চশিক্ষা কমিশনের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক জিয়া-উল-হক, যিনি ছয় সদস্যের আরেকটি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এই দলে রয়েছেন সিন্ধু, বেলুচিস্তান ও অন্যান্য প্রদেশের গুরুত্বপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা। এই প্রতিনিধিদলগুলো ১২ থেকে ১৫ জানুয়ারি ঢাকার একটি পাঁচতারকা হোটেলে অনুষ্ঠিত এশীয় আঞ্চলিক উচ্চশিক্ষা সম্মেলনে অংশ নিচ্ছে। সম্মেলনের আলোচ্য বিষয় আঞ্চলিক সহযোগিতা ও শিক্ষা কূটনীতি হলেও বাস্তবে এটি পাকিস্তানের জন্য দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন একাডেমিক প্রভাব বলয় তৈরির সুযোগ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এই সফর কোনো বিচ্ছিন্ন

ঘটনা নয়। এর পেছনে রয়েছে ধারাবাহিক প্রস্তুতি। ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে ঢাকায় আয়োজিত হয় বৃহত্তম পাকিস্তান শিক্ষা এক্সপো, যেখানে পাকিস্তানের ১৫টিরও বেশি শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয় অংশ নেয়। এই মেলার মাধ্যমেই ঘোষণা আসে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ৫০০টি পূর্ণ অর্থায়িত বৃত্তির কর্মসূচি। প্রাথমিকভাবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে এই কর্মসূচি সাজানো হয়। পাকিস্তান হাইকমিশন ও পাকিস্তানের উচ্চশিক্ষা কমিশনের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত ওই শিক্ষা মেলায় সরাসরি অংশ নেন পাকিস্তানের শীর্ষ শিক্ষা কর্মকর্তারা। উদ্দেশ্য ছিল স্পষ্ট। দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য চালু থাকা ভারতের বৃত্তি কর্মসূচির সমান্তরালে একটি বিকল্প তৈরি করা এবং প্রভাবের ভারসাম্য বদলে দেওয়া। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ওই বৃত্তির প্রথম দফায় নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের একজন ছিলেন রংপুর

বিভাগের উলিপুরের একজন হিন্দু স্নাতক শিক্ষার্থী। প্রতীকী দিক থেকেও এই নির্বাচন পাকিস্তানের কৌশলগত বার্তা বহন করে, এমনটাই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। এই পুরো উদ্যোগকে একটি বড় কাঠামোর মধ্যে ফেলা হচ্ছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে পাকিস্তান–বাংলাদেশ নলেজ করিডোর। এর আওতায় বৃত্তি, যৌথ গবেষণা, শিক্ষক বিনিময় এবং এমনকি বাংলাদেশি সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য প্রশিক্ষণ কর্মসূচির পরিকল্পনাও রয়েছে। প্রশিক্ষণের ক্ষেত্র হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে জননীতি, সরকারি ব্যবস্থাপনা এবং প্রকল্প ব্যবস্থাপনার মতো সংবেদনশীল বিষয়। সমালোচকদের মতে, শিক্ষা সহযোগিতার নামে এ ধরনের উদ্যোগ আসলে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বিস্তারের একটি পরিচিত কৌশল। ভাষা, পাঠ্যক্রম, গবেষণা অগ্রাধিকার এবং একাডেমিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে একটি দেশের চিন্তাগত কাঠামোতে প্রভাব ফেলার সুযোগ তৈরি হয়। বাংলাদেশের মতো

দেশে, যেখানে শিক্ষা ও নীতিনির্ধারণ ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত, সেখানে এই উদ্যোগগুলোকে হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। ২০২৪ সালের আগস্টের পর বাংলাদেশের সামরিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের এই তৎপরতা আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। শিক্ষা এখন কেবল জ্ঞান বিনিময়ের ক্ষেত্র নয়, বরং নীরব কূটনীতি ও প্রভাব বিস্তারের কার্যকর হাতিয়ার। প্রশ্ন উঠছে, বাংলাদেশের নীতিনির্ধারক ও শিক্ষাবিদরা কি এই তৎপরতার অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্য যথাযথভাবে মূল্যায়ন করছেন। নাকি উচ্চশিক্ষার সুযোগের মোড়কে একটি দীর্ঘমেয়াদি ভূরাজনৈতিক প্রভাব বলয় গড়ে ওঠার ঝুঁকি উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে। জাতীয় স্বার্থের দৃষ্টিকোণ থেকে এই বিষয়গুলো এখনই খোলাখুলি আলোচনার দাবি রাখে। শিক্ষা সহযোগিতা প্রয়োজন, কিন্তু সেই সহযোগিতার শর্ত, কাঠামো এবং উদ্দেশ্য নিয়ে সচেতন না হলে এর মূল্য

দিতে হতে পারে ভবিষ্যতে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
ক্ষমতা ছাড়ার আগে ব্যাপক লুটপাট, ৬ মাসে সরকারের ঋণ ৬০ হাজার কোটি ইউনূস-আমেরিকার পরিকল্পনায় ক্ষমতার দ্বারপ্রান্তে জামায়াত যখন বাংলাদেশের আদালত নিজেই হয়ে ওঠে পুরুষতন্ত্রের নির্লজ্জ হাতিয়ার ইউনূসকে সমর্থন দেওয়া জাতিসংঘই বলছে, দেশে বাকস্বাধীনতা নেই বিএনপির সমালোচনায় ফুটে উঠছে ইউনুসের সাথে অন্তর্দ্বন্দ্বের চিত্র কীর্তনে হামলা, প্যান্ডেল ভাঙচুর—এই কি ইউনুস–জামাতের ‘নিরাপদ বাংলাদেশ’? শিক্ষা-স্বাস্থ্য-কৃষি-বিদ্যুৎ খাত ও মেগা প্রকল্পে বরাদ্দ কমিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বই উৎসব থেকে বই সংকট : ইউনুসের অযোগ্যতার মাশুল দিচ্ছে কোটি শিক্ষার্থী ভোটার দর্শক, রাজনীতি নিয়ন্ত্রিত নির্বাচন নয়, ক্ষমতা ভাগাভাগির নগ্ন নাটক চলছে শিক্ষার ছদ্মবেশে প্রভাব বিস্তারের নতুন অধ্যায়, ঢাকায় পাকিস্তানের আগ্রাসী একাডেমিক তৎপরতা বাংলাদেশের ২০২৬ নির্বাচন: আন্তর্জাতিক উদ্বেগ, গণতন্ত্রের পরীক্ষা নির্বাচনে কালো টাকার দৌরাত্ম্য ঠেকাতে মাঠে নামছে দুদক মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের জীবনে নরক সৃষ্টি করেছে: গাম্বিয়া এবারও কলকাতার বইমেলায় থাকছে না বাংলাদেশ উত্তর-পশ্চিমের আট জেলায় শৈত্যপ্রবাহ দুর্ভোগে মানুষ চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য খালাসে অচলাবস্থা বিক্ষোভ ‘নিয়ন্ত্রণের’ দাবি ইরানের, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংলাপেও রাজি রাজধানীতে আজ কোথায় কী মঙ্গলবার রাজধানীর যেসব এলাকার মার্কেট বন্ধ ১৩ জানুয়ারি : আজকের নামাজের সময়সূচি