কোলন ক্যান্সার কীভাবে বুঝবেন – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ২০ ডিসেম্বর, ২০২৫

কোলন ক্যান্সার কীভাবে বুঝবেন

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ২০ ডিসেম্বর, ২০২৫ |
কোলরেক্টাল ক্যান্সার (বৃহদন্ত্র ও মলাশয়ের ক্যান্সার) বিশ্বজুড়ে নারী ও পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই একটি প্রধান স্বাস্থ্য সমস্যা। এটি বিশ্বব্যাপী ক্যান্সারের তৃতীয় প্রধান কারণ হিসেবে পরিচিত। বাংলাদেশেও এ রোগের প্রাদুর্ভাব ক্রমশ বাড়ছে এবং এটি প্রথম দশটি ক্যান্সারের মধ্যে অন্যতম। প্রাদুর্ভাব ও পরিসংখ্যান বিশ্বে সব ধরনের ক্যান্সারের মধ্যে কোলন ও রেকটাম ক্যান্সারে আক্রান্তের হার প্রায় ১০ শতাংশ (তৃতীয় প্রধান)। বাংলাদেশে এই হার প্রায় ৬.৫ শতাংশ এবং এটি ক্যান্সারের চতুর্থ প্রধান অবস্থান দখল করে আছে। প্রতি বছর বাংলাদেশে প্রায় দুই লাখ মানুষ নতুন করে কোলন ক্যান্সারে আক্রান্ত হন এবং দুর্ভাগ্যবশত প্রায় ১০ হাজার মানুষ এই রোগে মারা যান। সাধারণত ৫০ বছর বয়স পেরিয়ে গেলে এই রোগে

আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। বর্তমানে উদ্বেগজনকভাবে অল্প বয়েসীদের মধ্যেও এই রোগের প্রকোপ বাড়ছে। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয় সম্ভব হলে সঠিক চিকিৎসায় ভালো হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে। কারণ ও ঝুঁকির বিষয় কোলরেক্টাল ক্যান্সার হওয়ার পেছনে পরিবেশগত ও জিনগত কারণের ভূমিকা রয়েছে, যা প্রায় শতকরা পাঁচ ভাগ পর্যন্ত ঝুঁকি বাড়াতে পারে। খাদ্যাভ্যাস একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অতিরিক্ত গরু বা ছাগলের মাংস খাওয়া এবং খাদ্যতালিকায় আঁশজাতীয় খাবারের অনুপস্থিতি এই ক্যান্সারের আশঙ্কা বাড়ায়। এছাড়া, ধূমপান ও মদ্যপানও ঝুঁকি বাড়ায়। স্থূলকায় ব্যক্তিরা এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার উচ্চ ঝুঁকিতে থাকেন। অন্যদিকে, নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম (বিশেষ করে পুরুষদের ক্ষেত্রে) এই রোগ হওয়ার আশঙ্কা কমাতে সাহায্য করে। মা, বাবা,

ভাই কিংবা বোনের কোলন ক্যান্সারের পারিবারিক ইতিহাস থাকলে এই ঝুঁকি দ্বিগুণ হতে পারে। এছাড়া, অন্ত্রের প্রদাহজনিত রোগে (যেমন: আলসারেটিভ কোলাইটিস) ভোগা রোগীদের এই ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। উপসর্গ বা লক্ষণ কোলন ক্যান্সার মূলত মধ্য বয়স বা তার থেকে বেশি বয়স্কদের মধ্যে দেখা গেলেও কিছু ক্ষেত্রে কম বয়সেও দেখা দিতে পারে। প্রাথমিকভাবে কোলনের অভ্যন্তরে উপবৃদ্ধি (পলিপ) হিসেবে এর সূত্রপাত হয়, যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ক্যান্সারে রূপান্তরিত হতে পারে। সাধারণ উপসর্গগুলো হলো– মলত্যাগের অভ্যাসে পরিবর্তন: আচমকা দৈনিক মলত্যাগের সংখ্যার তারতম্য ঘটা বা বারবার মল ত্যাগের প্রয়োজন অনুভূত হওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ। মলত্যাগের পরে মল রয়ে যাওয়ার অনুভূতি বা সরু ফিতের মতো মল নির্গত

হওয়াও উপসর্গ হতে পারে। রক্তপাত: মলদ্বারে রক্তপাত কোলন ক্যান্সারের অন্যতম প্রধান লক্ষণ। অর্শের ক্ষেত্রে রক্তপাত সাধারণত লাল রঙের হয়, কিন্তু কোলন ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে রক্ত কালচে রঙের হয়, যা দেহের অভ্যন্তর থেকে নির্গত রক্তের সূচক। পেটে ব্যথা ও অস্বস্তি: দীর্ঘস্থায়ী পেট ব্যথা এবং মল ত্যাগের সময় তীব্র যন্ত্রণা অনুভূত হওয়াও কোলন ক্যান্সারের মুখ্য একটি উপসর্গ। অন্যান্য লক্ষণ: কারণ ছাড়াই ওজন কমে যাওয়া, অপ্রত্যাশিত বমি বমি ভাব বা গা গুলিয়ে ওঠা এই রোগের লক্ষণ হতে পারে। অন্ত্র থেকে রক্তপাতের ফলে রক্তাল্পতা দেখা দেয়, যা ব্যাপক ক্লান্তির কারণ হয়। সাধারণ মানুষের পক্ষে এই লক্ষণগুলো বুঝে ওঠা অত্যন্ত কঠিন। কাজেই এই ধরনের যে কোনো উপসর্গ দেখা

গেলে অবিলম্বে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই বিচক্ষণতার পরিচয়। রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা রোগ নির্ণয়ের প্রধান উপাদান হলো কোলন্সকোপি ও বায়োপসি। বায়োপসির মাধ্যমে ক্যান্সার নিশ্চিত হওয়ার পর সিটি স্ক্যান, রক্তে এন্টিজেন (যেমন: সিইএ)-এর পরিমাণ ইত্যাদি বিভিন্ন পরীক্ষার মাধ্যমে ক্যান্সারের ধাপ বা স্টেজ নির্ণয় করা হয়। এই ধাপ নির্ণয় চিকিৎসার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ক্যান্সার কোলনের বাইরে ছড়িয়ে গেলে (যেমন: লসিকাগ্রন্থি, যকৃত, ফুসফুস ইত্যাদি) তাকে অগ্রসর ধাপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অন্যান্য ক্যান্সারের চেয়ে কোলন ক্যান্সারের চিকিৎসা-পরবর্তী ফলাফল তুলনামূলকভাবে অনেক ভালো। প্রাথমিক ধাপের ক্যান্সারগুলোর চিকিৎসা-পরবর্তী ফলাফল সন্তোষজনক। এমনকি অগ্রসর ধাপের ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীও সঠিক চিকিৎসা পেলে দীর্ঘদিন সন্তোষজনকভাবে বেঁচে থাকতে পারেন। রোগীর শারীরিক অবস্থা এবং ক্যান্সার কোন

পর্যায়ে আছে, তা নির্ধারণ করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া হয়। চিকিৎসার পদ্ধতিগুলো হলো–সার্জারি (অস্ত্রোপচার), কেমোথেরাপি, রেডিওথেরাপি, টার্গেটেড থেরাপি এবং ইমিউনোথেরাপি। [সহযোগী অধ্যাপক, সার্জারি, পপুলার মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা]

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্ব নির্বাচনের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রেখে, তারপরেই আমি অবসর নেব – দৃপ্ত শপথ শেখ হাসিনা’র আপিলের সুযোগ শেষ, ত্রুটিপূর্ণ বিচারিক প্রক্রিয়ায় প্রশ্ন রেখেই রায় কার্যকরের পথে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল! ২১ বছর পর ওয়ানডে-তে অস্ট্রেলিয়া বধ কক্সবাজারে মা ও স্কুল পড়ুয়া মেয়েকে ১০ জন মিলে গণধর্ষণ, আইসিইউতে কিশোরী হারাম পণ্যে আরোপিত হালাল ট্যাক্স — উচ্চাভিলাষী বাজেটে রাজস্ব আদায়ে মরিয়া সরকার ধর্ষণের শিকার নারীরা কেন নীরব থাকেন? বাংলাদেশে ছাত্র নিপীড়নঃ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন-কে হত্যা নোয়াখালীতে মিছিলকারী আওয়ামী লীগ কর্মীকে গুলি- বিএনপি-জামাইয়াতের আওয়ামীলীগ নিধনের নীলনকশা ১৯৭০ বিশ্বকাপ ফাইনালের স্মৃতিচারণ করলেন কিংবদন্তি ব্রাজিলিয়ান রিভেলিনো অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ইতিহাস গড়ার সামনে টাইগাররা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের লোভে ৭ ব্যাংকে জিম্মি শিক্ষকদের সারাজীবনের সঞ্চয় “বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন ও আশা- আকাঙ্ক্ষা যেভাবে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে” – দ্যা ডিপ্লোম্যাট টেলিটক ও নগদ ‘কিনতে’ চায় বাংলালিংকের মূল কোম্পানি ভিওন! অভিযুক্তের বাড়িতে উত্তেজিত জনতার আগুন, নিহত ৩ হাসপাতালে অসুস্থ শিশুর মাকে ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণ, অতঃপর… বাজেট: যেসব পণ্যের দাম কমতে পারে বাজেট: যেসব পণ্যের দাম বাড়তে পারে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয় বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন বাজেটে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন নিয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপ