হাসিনাকে ফেরাতে ইন্টারপোলের দ্বারস্থ ঢাকা: আন্তর্জাতিক আইন ও কূটনীতির বিচারে কতটা বাস্তবসম্মত? – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ১৯ নভেম্বর, ২০২৫

হাসিনাকে ফেরাতে ইন্টারপোলের দ্বারস্থ ঢাকা: আন্তর্জাতিক আইন ও কূটনীতির বিচারে কতটা বাস্তবসম্মত?

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১৯ নভেম্বর, ২০২৫ |
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে ভারত থেকে ফিরিয়ে আনতে ইন্টারপোলের সহায়তা চাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। তবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানাকে কেন্দ্র করে ইন্টারপোলের ‘রেড নোটিশ’ জারি এবং ভারতের কাছে প্রত্যর্পণের এই দাবি কতটা বাস্তবসম্মত, তা নিয়ে কূটনৈতিক ও আইনি মহলে জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ঢাকার এই দাবি আন্তর্জাতিক আইন, কূটনীতি এবং খোদ ইন্টারপোলের সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। অনেকেই মনে করছেন, দিল্লির কাছে ঢাকার এই দাবি আদতে একটি অবাস্তব প্রচেষ্টা। ইন্টারপোলের সংবিধান অনুযায়ী, সংস্থাটি কোনো সদস্য দেশের রাজনৈতিক, সামরিক, ধর্মীয় বা জাতিগত বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে পারে না। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বা

নিরপেক্ষ বিচার ব্যবস্থার অভাব পরিলক্ষিত হলে ইন্টারপোল সাধারণত রেড নোটিশ জারি করা থেকে বিরত থাকে। আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, যে ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল’ থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে, আন্তর্জাতিক মহলে তার গঠন ও কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষ করে কোনো অভিযুক্তের অনুপস্থিতিতে (In absentia) বিচার বা মৃত্যুদণ্ডের রায় কোনো গণতান্ত্রিক দেশে গ্রহণযোগ্য নয়। শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে তার বিরুদ্ধে বিচারিক কার্যক্রম চালানো এবং তার ভিত্তিতে তাকে দেশে ফেরত পাঠানোর দাবি পশ্চিমা গণতান্ত্রিক মানদণ্ডেও ধোপে টেকে না। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, ভারত কোনোভাবেই ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের এই দাবি মেনে নেবে না। দিল্লি বর্তমান সরকারকে একটি ‘অসাংবিধানিক’ এবং ‘সহিংসভাবে ক্ষমতা দখলকারী’ সরকার হিসেবে বিবেচনা

করতে পারে। সেক্ষেত্রে শেখ হাসিনার মতো একজন হাই-প্রোফাইল রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে এমন একটি সরকারের হাতে তুলে দেওয়া ভারতের জন্য কূটনৈতিক ও কৌশলগতভাবে অসম্ভব। সমালোচকদের মতে, দেশের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি থেকে জনগণের দৃষ্টি সরাতেই এই ‘এক্সট্রাডিশন’ ইস্যু সামনে আনা হয়েছে। এটিকে একটি ‘রাজনৈতিক নাটক’ হিসেবে উল্লেখ করে তারা বলছেন, দেশের ভেতরে ব্যর্থতা ঢাকতে ‘বিদেশি ষড়যন্ত্র’ বা ‘পলাতক সরকার’ তত্ত্ব ব্যবহার করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, বর্তমান বাংলাদেশে বিচারব্যবস্থাকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের লাখো নেতাকর্মী বর্তমানে সেই বিচারিক হয়রানির শিকার। সবচেয়ে বড় যে প্রশ্নটি সামনে আসছে তা হলো খোদ অন্তর্বর্তী সরকারের বৈধতা। সংবিধান

অনুযায়ী অনির্বাচিত সরকারের দীর্ঘমেয়াদি শাসন এবং নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত গ্রহণের এখতিয়ার নিয়ে আন্তর্জাতিক আদালতেও প্রশ্ন উঠতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, ইন্টারপোলের মাধ্যমে হাসিনাকে ফেরানোর চেষ্টা আইনি প্রক্রিয়ার চেয়ে বরং রাজনৈতিক প্রচারণাই বেশি। বাস্তবতা হলো—ইন্টারপোল নয়, বরং বর্তমান সরকারের নিজস্ব বৈধতাই এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে প্রশ্নের মুখে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
আদ-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল শপিংমল-দোকানপাট খোলা রাখার নতুন সময় নির্ধারণ জীবনযাত্রার ব্যয়ে লাগাম টানার চেষ্টা দেশে বিনিয়োগ কমলেও জিডিপি বেড়েছে লাইফস্টাইল টিপস: এই তীব্র গরমে নিজেকে সুরক্ষিত রাখবেন যেভাবে মুক্তিযুদ্ধ-বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বই থাকায় ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির ৩ শতাধিক বই জব্দ করল জেলা প্রশাসন মাস্টারমাইন্ড মাহফুজ: ‘জীবন বাঁচাতে চুপ ছিলাম অন্তরীণ সরকারের সময়, তবু এনসিপি-জাশির আক্রমণ থামছে না’ থানায় পিঠ বাঁচলেও ডিসি অফিসে ধোলাই খেলেন পুলিশ হত্যাকারী সমন্বয়ক মাহাদী বাজেটে কমছে ও বাড়ছে যেসব পণ্যের দাম দেশরত্ন শেখ হাসিনার কারামুক্তি দিবস আজ নতুন জামা থেকে রং ওঠলে কী করবেন বিশ্বের সঙ্গে একইদিনে বাংলাদেশের প্রেক্ষাগৃহে ‘ডিসক্লোজার ডে’ করছাড় পাচ্ছে আইটি ফ্রিল্যান্সিং, কনটেন্ট ক্রিয়েশন ও স্টার্টআপ গৃহকর্মী থেকে প্রতিমন্ত্রী হয়ে কলিতা মাঝি পেলেন গৃহায়ণ মন্ত্রণালয় তদন্তের আগেই দুই কৃষি কর্মকর্তাকে বদলি, ডিএই’র ডিজি লাঞ্ছিত পাঁচ আর্থিক প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক, ঝুঁকিতে হাজারো আমানতকারীর অর্থ ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহারের পর শেয়ারে বড় পতন জনগণের ওপর বাড়তি ঋণ ও করভার চাপিয়ে বড় হচ্ছে বাজেটের আকার ১৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি: চাপে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবার, মিলছে না আয়-ব্যয়ের খেরোখাতা ২০২৬-২৭ বাজেট: বাড়তে পারে যেসব পণ্যের দাম