ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৫% হারে বৈদেশিক ঋণ: সরকারের নতুন ‘অর্থনৈতিক ঝুঁকি’ নিয়ে উদ্বেগ – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ২৬ September, ২০২৫

আরও খবর

৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবিতে উত্তাল শিল্পাঞ্চল, মিরপুরে সড়ক অবরোধ

বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণ পিছিয়ে দিল জাতিসংঘ, নতুন সময়সীমা ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর

বিশ্বব্যাংক: বছর শেষে জ্বালানির দাম ৩২%, খাদ্যপণ্যে ১০% আর পণ্যমূল্য গড়ে ২৩% বাড়বে

অর্থনীতিবিদদের মূল্যায়ন: দেশে বিনিয়োগের পরিবেশ নেই, নেই বড় অঙ্কের এলসি খোলার গ্রাহকও

বাংলাদেশ জাপানের অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করে বিকল্প অর্থায়নে সহযোগিতা বাড়াতে চায়

দেশের অর্থনীতি ইতিমধ্যে লাইনচ্যুত, সরকারের ঋণ বেড়ে চলেছে, শঙ্কিত অর্থনীতিবিদরা

রাষ্ট্রপতি ফখরুলের ভাইয়ের প্রতিষ্ঠানের ২২ কোটি টাকা মওকুফ খেলাপি ঋণের ভারে ধুঁকতে থাকা জনতা ব্যাংকের

ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৫% হারে বৈদেশিক ঋণ: সরকারের নতুন ‘অর্থনৈতিক ঝুঁকি’ নিয়ে উদ্বেগ

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ২৬ September, ২০২৫ |
বাংলাদেশ সরকার এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) থেকে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্পে মোট ৭৫৩ মিলিয়ন ডলারের ঋণ নেওয়ার অনুমোদন পেয়েছে, যা ইতিহাসের সর্বোচ্চ সুদের হার—প্রায় ৫%—এ হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে। এই ঋণগুলোর শর্তাবলী এতটাই কঠিন যে অর্থনীতিবিদরা এটিকে ‘অর্থনৈতিক ঝুঁকির নতুন মাত্রা’ বলে অভিহিত করছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের বৈদেশিক ঋণ নীতির সমালোচনার প্রেক্ষাপটে ইউনূস সরকারের এমন সিদ্ধান্ত দেশের অর্থনীতির ওপর দীর্ঘমেয়াদী চাপ বাড়াবে বলে জনমনে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) স্ট্যান্ডিং কমিটির সাম্প্রতিক বৈঠকে এই ঋণগুলোর অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে ‘নেটওয়ার্ক নর্থওয়েস্ট ডিস্ট্রিবিউশন মডার্নাইজেশন প্রজেক্ট’-এ ৯১ মিলিয়ন ডলার, ‘চট্টগ্রাম-দোহাজারী মিটার গেজ রেলপথকে ডুয়েল গেজ রেলপথে রূপান্তর প্রকল্প’-এ ৫০৮ মিলিয়ন ডলার

এবং ‘খুলনা ওয়াটার সাপ্লাই প্রজেক্ট (ফেজ-২)’-এ ১৫৪ মিলিয়ন ডলার। এই প্রকল্পগুলো বিদ্যুৎ বিতরণ নেটওয়ার্কের আধুনিকীকরণ, রেল যোগাযোগের উন্নয়ন এবং খুলনায় নির্ভরযোগ্য পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে। ঋণের মেয়াদ ২৫ বছর এবং গ্রেস পিরিয়ড ৫ বছর নির্ধারিত হয়েছে। সুদের হার নির্ধারিত হয়েছে সিকিউরড ওভারনাইট ফাইন্যান্সিং রেট (এসওএফআর) + লেন্ডিং স্প্রেড + ম্যাচুরিটি প্রিমিয়াম হিসেবে। সেপ্টেম্বরের ১৬ তারিখে এসওএফআর হার ৪.৩৯% ছিল, যা যোগ করলে স্প্রেড (০.৫০%) এবং প্রিমিয়াম (০.১০%) সহ সামগ্রিক সুদের হার প্রায় ৫% হয়ে যায়। এছাড়া ০.১৫% কমিটমেন্ট ফি আলাদাভাবে দিতে হবে। এই হারে ঋণ নেওয়া বাংলাদেশের ইতিহাসে অভূতপূর্ব, যা পূর্ববর্তী সরকারগুলোর যেকোনো ঋণের চেয়ে উচ্চ। অর্থনীতিবিদ এবং বিশ্লেষকরা এই সিদ্ধান্তের

তীব্র সমালোচনা করছেন। ইনস্টিটিউট ফর ইনক্লুসিভ ফাইন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক মুস্তাফা কে মুজেরি বলেন, “এত উচ্চ সুদের হারে ঋণ নেওয়া দেশের অর্থনীতির উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে। বিগত সরকারের সময় থেকে বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ তিনগুণ বেড়েছে—২০১৪ সালে ৩০ বিলিয়ন ডলার থেকে ২০২৪ সালে ৯৭ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে—এবং এখন সুদের হারও সর্বোচ্চ। এটি শুধুমাত্র অবকাঠামো নয়, ভবিষ্যতের জেনারেশনের উপর বোঝা চাপাবে।” তিনি আরও যোগ করেন, “পূর্ববর্তী সরকারকে অর্থনীতি ধ্বংসের অভিযোগ করা হয়েছে, কিন্তু এখন এই হারে ঋণ নেওয়া দেখিয়ে দিচ্ছে যে সমস্যাটি চলমান।” বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুসারে, চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে বৈদেশিক ঋণের সর্বোচ্চ পরিশোধ ৩.২১ বিলিয়ন ডলার হয়েছে, যা

গত বছরের তুলনায় ২৫% বেশি। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ দশকের মধ্যে ১২৫% বেড়েছে, এবং সুদের পরিশোধ ৪৪% বৃদ্ধি পেয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে নতুন ঋণগুলোর সুদের চাপ দেশের বাজেটের ২.৬% পর্যন্ত দখল করে নেবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হলো, এই ঋণগুলো অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য, যা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে। কিন্তু জনমনে প্রশ্ন উঠছে—যখন অর্থনীতি ডলার সংকট এবং মুদ্রাস্ফীতির মুখে রয়েছে, তখন কি এত উচ্চ সুদে ঋণ নেওয়া ‘আরামের’ সিদ্ধান্ত? অর্থনীতিবিদরা দাবি করছেন, সরকারকে এখনই ঋণ নীতি পুনর্বিবেচনা করে কনসেশনাল (সহায়ক) ঋণের দিকে ঝুঁকতে হবে, নয়তো দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
সৌদি আরবে আগুনে নিহত নওগাঁর পাঁচজনের লাশ তিন মাস পর বাড়িতে পৌঁছেছে সরকার যদি জনগণের মত অগ্রাহ্য করে, তা চরম মূল্যে দেবে: শফিকুর রহমান টাঙ্গাইলে দুই চোখ উপড়ে আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড সভাপতিকে হত্যা, নদী থেকে মরদেহ উদ্ধার আরেকটি জুলাই প্রতারণার স্বরূপ উন্মোচিত: শরীরে ৯ গুলির দাবি করে শেখ হাসিনার নামে মামলা, তদন্তে জানা গেল ‘ঘটনাই ঘটেনি’ প্রতিশোধ নেওয়া আমাদের চরিত্র নয়’, দেশে ফেরা নিয়ে শিক্ষার্থীদের ভয় পাওয়ার কারণ নেই: শেখ হাসিনা ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবিতে উত্তাল শিল্পাঞ্চল, মিরপুরে সড়ক অবরোধ মিরপুরের স্পিন উইকেটে বাংলাদেশকে বড় ব্যবধানে হারালো ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিদ্যুৎ খাতে উন্নয়ন হয়নি—টুকুর বক্তব্যের প্রতিবাদে বিপু, মনে করিয়ে দিলেন কানসাটের ১৭ প্রাণহানির ঘটনা বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণ পিছিয়ে দিল জাতিসংঘ, নতুন সময়সীমা ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর ফিরতে আমাকে হবেই, আকাশ আমার ছাদ আর মাটি হবে ঘর’— গণমাধ্যমের মুখোমুখি শেখ হাসিনা লন্ডনে কিশোরী ধর্ষণের ঘটনায় দুই বাংলাদেশিকে খুঁজছে পুলিশ হাতিয়ায় পুলিশকে ঘিরে হত্যা মামলার আসামির পলায়ন হাতিয়ায় পুলিশকে ঘিরে হত্যা মামলার আসামির পলায়ন এম্বাপ্পের ওপর ক্ষোভের কারণ চীনারা জিজ্ঞেস করেও জানে না বিজ্ঞাপনে এআইয়ের প্রভাব, ৫০০ বিলিয়ন ডলার কমল গুগলের বাজারমূল্য তিনজনকে আহত করা চিতা বাঘের গন্তব্য অজানা মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলার মাওয়া প্রান্তের শিমুলিয়া ঘাট ও পদ্মা সেতু এলাকায় সন্ধ্যা ৬টার পর সব ধরনের নৌযানে পর্যটকদের ঘোরাফেরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে স্থানীয় প্রশাসন। গত ২৮শে অক্টোবর, বুধবার বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পদ্মা সেতুর ৩, ৪ ও ৫ নম্বর পিলার এলাকা এবং শিমুলিয়া ঘাটের সার্বিক নৌ-নিরাপত্তা পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ববি মিতু। এ সময় পর্যটক ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পদ্মা সেতু এলাকায় বিশেষ সতর্কীকরণ সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়। পরিদর্শনকালে শিমুলিয়া ঘাটের সার্বিক পরিস্থিতি, নদীপথে পর্যটকদের চলাচল, নৌযানের নিরাপত্তা এবং পদ্মাসেতুর সংশ্লিষ্ট পিলার এলাকার বর্তমান অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হয়। এ সময় নদীপথে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়াতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার, ঘাট এলাকায় শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়। বিশেষ করে পদ্মা সেতুর পিলার সংলগ্ন এলাকায় পর্যটকদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে সতর্কীকরণ সাইনবোর্ড স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। একই সঙ্গে সন্ধ্যা ৬টার পর কোনো পর্যটক যাতে নদীতে ঘোরাফেরা করতে না পারেন, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করে লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ববি মিতু তিনি জানান, মাওয়া ও শিমুলিয়া ঘাট পদ্মা নদী কেন্দ্রিক পর্যটন ও নৌ-যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। পর্যটক ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নদীপথে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন লৌহজং উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কর্মকর্তা শান্তনু ঘোষ সাগর, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) কর্মকর্তা নেয়াজ মোহাম্মদ খান, নৌ-পুলিশের ইন্সপেক্টর মো. মালেক খসরু, টুরিস্ট পুলিশের ইন্সপেক্টর মো. দেলোয়ার হোসেন, সাংবাদিক শেখ মো. সোহেল রানা ও শিমুলিয়া ট্রলার ঘাটের ইজারাদার মো. কাওছার সহ আরও অনেকে। এছাড়া উপজেলা প্রশাসন, নৌ-পুলিশ, টুরিস্ট পুলিশ ও বিআইডব্লিউটিএর অন্যান্য কর্মকর্তা ও সদস্যরা পরিদর্শন কার্যক্রমে অংশ নেন। সন্ধ্যার পর পদ্মা সেতু ও মাওয়া ঘাটে পর্যটক চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি বিশ্বব্যাংক: বছর শেষে জ্বালানির দাম ৩২%, খাদ্যপণ্যে ১০% আর পণ্যমূল্য গড়ে ২৩% বাড়বে অর্থনীতিবিদদের মূল্যায়ন: দেশে বিনিয়োগের পরিবেশ নেই, নেই বড় অঙ্কের এলসি খোলার গ্রাহকও