ইউজিসিতে সাংবাদিক প্রবেশে কড়াকড়ি! – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ১৭ March, ২০২৫

ইউজিসিতে সাংবাদিক প্রবেশে কড়াকড়ি!

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১৭ March, ২০২৫ |
হঠাৎ করেই বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ভবনে সাংবাদিকদের প্রবেশে ‘অলিখিত’ কড়াকড়ি আরোপ করেছে কমিশন কর্তৃপক্ষ। ইউজিসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সাংবাদিকরা যার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যাবেন, কমিশন ভবনে প্রবেশের আগে তার আগাম অনুমতি নিতে হবে। আবার অনুমতি মিললেও সেই কর্মকর্তার কক্ষে যাওয়া যাবে না। কর্তৃপক্ষ একটা খোলা জায়গা নির্ধারণ করে দেবেন, সেখানে বসে কথা বলতে হবে। সম্প্রতি সময়ে ইউজিসি কর্মকর্তাদের অনিয়ম বিষয়ে গণমাধ্যমে বেশকিছু প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে সাংবাদিকদের তথ্য পাওয়া নিয়ন্ত্রণ করতেই এই কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো। জানা গেছে, সাত কলেজ নিয়ে নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের নামকরণ চূড়ান্তে গতকাল রোববার ইউজিসিতে কমিশনের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু সংবাদ

সংগ্রহের জন্য ভবনে প্রবেশ করতে চাইলে কয়েকজন সাংবাদিককে বাধা দেন নিরাপত্তা প্রহরীরা। তারা জানান, রেজিস্ট্রি খাতায় নাম-পরিচয় লিখতে হবে এবং কোন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলবেন, তা জানাতে হবে। সাংবাদিকরা তখন নিরাপত্তা প্রহরীদের জানান, একজন নয়, সংবাদের প্রয়োজনে একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে তাদের সাক্ষাৎ করা দরকার। কিন্তু সেটা সম্ভব নয় জানিয়ে তারা বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তারা ইউজিসির প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা সৈয়দ আশ্রাফুজ্জামানকে ডাকেন। তিনি সাংবাদিকদের তার কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে আশ্রাফুজ্জামান জানান নতুন নিয়মের কথা। তার ভাষ্যমতে, নতুন নিয়মে একজন সাংবাদিককে প্রথমে রেজিস্ট্রি খাতায় নাম-পরিচয়, মোবাইল নম্বর, প্রবেশের সময়, কতক্ষণ থাকবেন এবং কার সঙ্গে দেখা করবেন, তা লিখতে হবে। এরপর সেই কর্মকর্তার সঙ্গে কথা

বলবেন নিরাপত্তা কর্মকর্তারা। তিনি সম্মতি দিলে ভবনে প্রবেশের অনুমতি মিলবে। তবে সংবাদকর্মী ওই কর্মকর্তার কক্ষে প্রবেশ করতে পারবেন না। তিনি কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত একটি ওপেন স্পেসে (খোলা জায়গা) বসবেন। সেখানে কর্মকর্তা এসে দেখা করবেন। অবশ্য সেই জায়গাটি সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় থাকবে কি না তা তিনি নিশ্চিত করতে পারেননি। সম্প্রতি ইউজিসি কর্তৃপক্ষ এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছেন সৈয়দ আশ্রাফুজ্জামান। তবে তার কাছে কোনো লিখিত আদেশ নেই। মৌখিকভাবে ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান ও সচিব ড. মো. ফখরুল ইসলাম এ আদেশ দিয়েছেন বলে দাবি করেছেন তিনি। ইউজিসিতে প্রবেশের সময় বাধাপ্রাপ্ত দৈনিক জনকণ্ঠের সাংবাদিক আসিফ হাসান কাজল বলেন, ইউজিসিতে শিক্ষা সাংবাদিকদের সবসময় অবাধে যাতায়াতের সুযোগ

ছিল। সম্প্রতি তারা সেখানে সাংবাদিকদের প্রবেশ অনেকটা নিয়ন্ত্রণ করেছেন। আমি নিজে বাধার মুখে পড়েছি। তাদের এ সিদ্ধান্ত উদ্ভট মনে হয়েছে। এ ধরনের নিয়ন্ত্রণ স্বাধীন সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে অন্তরায়। এ বিষয়ে জানতে আজ সোমবার সৈয়দ আশ্রাফুজ্জামানের মুঠোফোনে কল করা হলেও তিনি কোনো কিছু বলতে রাজি হননি। ঘটনাটি সত্য নয় জানিয়ে তিনি ঊর্ধ্বতনদের সঙ্গে কথা বলার অনুরোধ জানান। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইউজিসির কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, সম্প্রতি ইউজিসি কর্মকর্তাদের অনিয়ম, গণঅভ্যুত্থানে কমিশনের কিছু কর্মকর্তার ভূমিকাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গণমাধ্যমে কয়েকটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ হন কমিশনের ঊর্ধ্বতনরা। সিসিটিভি দেখে তারা নিশ্চিত হন, কোনো কোনো সাংবাদিক কর্মকর্তাদের কক্ষে কয়েক ঘণ্টা অবস্থান করছে। এটিও

তারা ভালোভাবে নেননি। যে কারণে সম্প্রতি এক সভায় সাংবাদিকদের তথ্য পাওয়া নিয়ন্ত্রণ করতে ইউজিসিতে প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপের সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন কর্তৃপক্ষ। সে অনুযায়ী অফিস আদেশ জারির বিষয়েও সিদ্ধান্ত হয়েছিল। তবে ইউজিসি সচিব ফখরুল ইসলাম এমন আদেশ দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেছেন। অবশ্য আদেশের কথা স্বীকার করেছেন ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক তানজীমউদ্দিন খান। জানতে চাইলে ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান রোববার বিকেলে বলেন, নির্দেশনাটা আমি দিয়েছি, এটা সত্য নয়। তবে ইউজিসির প্রশাসনিক সভায় সাংবাদিকসহ সব ধরনের দর্শনার্থীদের প্রবেশের ক্ষেত্রে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। হঠাৎ এমন কড়াকড়ি আরোপের কারণ জানতে চাইলে অধ্যাপক তানজীমউদ্দিন বলেন, অনেক কর্মকর্তার কক্ষে এক নয়, একাধিক ব্যক্তি এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা

গল্প করেন। এতে কাজের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। আবার কিছু কাগজও মিসিং (খোয়া গেছে)। সে কারণে এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এখনও অর্ডারটি (অফিস আদেশ) হয়নি। দু-একদিনের মধ্যে এ নিয়ে আদেশ হতে পারে। তবে বিষয়টি নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ইউজিসি সচিব ড. মো. ফখরুল ইসলাম। তিনি বলেন, এমন কোনো আদেশ জারি হয়নি। সাংবাদিকদের আমরা প্রবেশে বাধা দেব কেন? সভায় কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে তাও বেশ কয়েকদিন আগে। কিন্তু সেই সভার কিছু সূত্র ব্যবহার করে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হয়েছে। ইউজিসির কিছু অতি উৎসাহী কর্মকর্তা এটি ছড়িয়েছেন। এদিকে সাংবাদিক প্রবেশে এমন কড়াকড়ি আরোপ করায় ক্ষোভ জানিয়েছেন শিক্ষা বিটে কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন এডুকেশন

রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশের (ইরাব) সভাপতি ফারুক হোসাইন। তিনি বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারও ইউজিসিতে সাংবাদিকদের প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপের দুঃসাহস দেখায়নি। কিন্তু পটপরিবর্তনের পরে কমিশনের এ ধরনের চিন্তাভাবনা আমাদের অবাক করেছে। তিনি বলেন, আমরা শুনেছি এ ধরনের একটি সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে ইউজিসি। যদিও এখনো কোনো অফিস আদেশ জারি হয়নি। তবে, তারা যদি এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেয়, ইরাব মূলধারার সাংবাদিক সংগঠনগুলোকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনে নামবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
শ্রীলঙ্কার কোচের হুমকি, ফারহানের জার্সি নিলে এক বছরের নিষেধাজ্ঞা সচিবালয় স্থানান্তরের প্রতিবাদে ফের সড়ক অবরোধ শেকৃবি শিক্ষার্থীদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা পর্যালোচনা করবে সংসদীয় ককাস যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের কারণ ইরান যুদ্ধ: জেডি ভ্যান্স কুমিল্লা ইলিশবাহী পিকআপে ডাকাতির পর ১৯ আসামি গ্রেপ্তার সাংবাদিক রাজীব ঘোষকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া নিয়ে ডিআরইউ ও ক্র্যাবের উদ্বেগ ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ থেকে ডিজিই-পে বিচ্ছিন্ন করল বাংলাদেশ ব্যাংক তরঙ্গ নবায়ন ব্যয় যৌক্তিক করার আহ্বান মোবাইল অপারেটরদের এশিয়া ফাউন্ডেশনের প্রকল্পে ৯০ হাজার উদ্যোক্তাকে সাইবার নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ বাংলাদেশ নিয়ে বাইডেন প্রশাসনের ভূমিকা তদন্তের দাবি, ওয়াশিংটনে শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনের পর Newsmax-এ বিশেষ কলাম বৈশ্বিক উৎপাদনকেন্দ্র হতে চায় বাংলাদেশ: তিতুমীর শ্রমিক আন্দোলন দমনে কঠোর অবস্থানে সরকারঃ পুলিশ ও দলীয়কর্মী ছাড়াও ২৫ প্লাটুন যৌথ বাহিনী মোতায়েন এবার কুয়েতে বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড এইচআরডব্লিউ: শেখ হাসিনাকে সমর্থন করায় শিক্ষকদের টার্গেট করা হচ্ছে, বাকস্বাধীনতা নেই দেশে জাতীয়ভাবে উপেক্ষিত জেলহত্যা দিবস, সিলেটে নিষেধাজ্ঞা, মব-গ্রেফতার হুমকির মাথায় নিয়েই আওয়ামী লীগের জাতীয় নেতাদের স্মরণ জুলাইর ওয়াসিম হত্যা-মামলার আসামিকে এনসিপির শীর্ষ নেতৃত্ব দেওয়া কি পুরস্কার? প্রশ্ন- কারা মেরেছে তবে ওয়াসিমকে? সাফ সভাপতি আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ, তাই সাফ আয়োজনে প্রচারণা নেই বাফুফের বাপে মারছে সৈনিক, মায়ে মারছে কৃষক, পোলায় মারছে শ্রমিক’—এমন স্লোগানে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের শিল্পাঞ্চল। ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলন ঘিরে গত কয়েক দিন ধরে রাজধানীর মিরপুর, গাজীপুর, সাভার, আশুলিয়া ও নারায়ণগঞ্জে বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ, ভাঙচুর ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। গতকাল মঙ্গলবারও এসব এলাকায় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। আজ বুধবার সকালেও গাজীপুর, সাভার ও নারায়ণগঞ্জে নতুন করে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করেছেন শ্রমিকরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শিল্পাঞ্চলগুলোয় অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। শ্রমিক আন্দোলন ঘিরে সহিংসতায় প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে ঢাকার উত্তরার শিন শিন জাপান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান গাজীপুরে হামলায় গুরুতর আহত পোশাকশ্রমিক তৌফিক হোসেন। সোমবার গাজীপুরের জয়দেবপুরের বাহাদুরপুর এলাকায় নোমান টেরি টাওয়েল মিলসের সামনে সংঘর্ষের দৃশ্য মুঠোফোনে ধারণ করার সময় হামলার শিকার হন তিনি। পরে স্বজনরা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। তিনি গাজীপুরের লায়লা স্টাইল লিমিটেডের শ্রমিক ছিলেন। এ ঘটনায় তাঁর মৃত্যুর পর গাজীপুরের বাংলাবাজার এলাকার কয়েকটি কারখানায় গতকাল ছুটি ঘোষণা করা হয়। শ্রমিকদের দাবি, বর্তমান বাজারদরে প্রচলিত ন্যূনতম মজুরিতে সংসার চালানো সম্ভব হচ্ছে না। বাড়িভাড়া, খাবার, চিকিৎসা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ব্যয় মেটাতে গিয়ে প্রতিনিয়ত সংকটে পড়তে হচ্ছে তাঁদের। এ অবস্থায় মাসিক ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে হয়রানি, শ্রমিকদের ওপর হামলা এবং আন্দোলনে অংশ নেওয়ায় চাকরিচ্যুতির অভিযোগেরও প্রতিকার চাইছেন শ্রমিকরা। আজ বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানার সাইনবোর্ড, বাংলাবাজার ও মির্জাপুর এলাকায় দুই থেকে চার হাজার শ্রমিক ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অবস্থান নেন। এতে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। শ্রমিকদের সরিয়ে দিতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গেলে তাঁদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন আন্দোলনকারীরা। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে শ্রমিকদের সরিয়ে দেয়। পরে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। জয়দেবপুর, সালনা, রাজেন্দ্রপুর ও শফিপুর এলাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও বাংলাবাজার ও কাশিমপুর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সতর্ক অবস্থানে ছিল। গাজীপুরের বোর্ডবাজারের বড়বাড়ী এলাকাতেও সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকরা। তাঁদের সরিয়ে দিতে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এতে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এদিকে তৌফিক হোসেনের মৃত্যুর পর বাংলাবাজার এলাকার কয়েকটি কারখানায় বুধবারও ছুটি ঘোষণা করা হয়। তবে কতটি কারখানা বন্ধ ছিল, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। সাভারের হেমায়েতপুরেও আজ সকালে শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে। শ্রমিকদের অবরোধের কারণে আশপাশের সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। এর আগে গতকাল মঙ্গলবার হেমায়েতপুর এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকরা। দুপুর থেকে বিকাল ৫টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত চলা অবরোধে মহাসড়কের দুই পাশে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। পরে শ্রমিকরা কর্মসূচি প্রত্যাহার করলে ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায়ও আজ বুধবার নতুন করে বিক্ষোভ করেছেন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। সকাল ১০টার দিকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়কের পাশে কুতুবাইল কাঠেরপুল এলাকায় জড়ো হন কয়েকটি কারখানার শ্রমিক। তাঁরা মূল সড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে পুলিশ তাঁদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এ সময় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। শ্রমিকদের অভিযোগ, তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করছিলেন। এ সময় স্থানীয় কিছু ব্যক্তি তাঁদের ওপর হামলা চালান। অন্যদিকে পুলিশের দাবি, সড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এ ঘটনায় কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। পুলিশের ছোড়া টিয়ার গ্যাসে স্থানীয় একটি হোসিয়ারি কারখানার শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। রাজধানীর মিরপুরেও গতকাল মঙ্গলবার শ্রমিকদের বিক্ষোভ ঘিরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মিরপুর-১১ মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এ সময় ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও সড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন আন্দোলনকারীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে। সংঘর্ষে চার পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে কালশী সড়কে এক পুলিশ সদস্যকে মারধরের ঘটনাও ঘটে। এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সংঘর্ষের কারণে মেট্রোরেল চলাচলেও সাময়িক বিঘ্ন ঘটে। নিরাপত্তার কারণে মিরপুর-১০ স্টেশনে প্রায় দুই ঘণ্টা ট্রেন থামানো বন্ধ রাখা হয়। আজ বুধবার মিরপুরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় ১০ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। পুলিশের দাবি, বুধবার শ্রমিকদের সড়কে নামার সুযোগ হয়নি এবং অনেক কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম চলছে। এদিকে শ্রমিক অসন্তোষের কারণে শিল্পাঞ্চলে উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। দৈনিক বাংলার প্রকাশিত বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার ৩০৬টি পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়। এতে ৬ লাখ ৯৪ হাজার ৭৯৩ শ্রমিকের কাজ ব্যাহত হয়। এর আগে ১ নভেম্বর ৫২৯টি কারখানা বন্ধ হয়েছিল এবং কর্মস্থল ছেড়েছিলেন ৯ লাখ ৮৭ হাজার ১৯০ জন শ্রমিক। অর্থাৎ আন্দোলনের প্রভাবে একাধিক শিল্পাঞ্চলে উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আজ বুধবার সাভার-আশুলিয়া, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে মোট ২৪ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, সাভারের হেমায়েতপুর, আশুলিয়া ও বাইপাইল এলাকায় পাঁচ প্লাটুন, গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় ১৩ প্লাটুন এবং নারায়ণগঞ্জের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ছয় প্লাটুন বিজিবি দায়িত্ব পালন করছে। এর পাশাপাশি পুলিশ ও অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও শিল্পাঞ্চলে টহল দিচ্ছেন। এদিকে শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণে সরকার নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। ছয় সদস্যের এ বোর্ডের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে আজ বুধবার। বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সৈয়দ আজাদ সোবহানি। মালিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন এ বি এম সামসুদ্দিন ও আসিব আইয়ুব। শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন বাবুল আক্তার ও আনোয়ার হোসেন। শ্রমিকদের প্রত্যাশা, নতুন মজুরি বোর্ড দ্রুত কার্যকর সিদ্ধান্ত নেবে। তবে বোর্ড গঠনের পরও আন্দোলন থামেনি; বরং রাজধানী ও আশপাশের শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক অসন্তোষ অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান উৎস তৈরি পোশাক খাত। এ খাতে প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক কাজ করেন। ফলে শ্রমিক অসন্তোষ দীর্ঘায়িত হলে উৎপাদন, সরবরাহ ও রপ্তানি কার্যক্রমে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। একদিকে জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মজুরির দাবিতে শ্রমিকদের ক্ষোভ, অন্যদিকে কারখানার উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থা সচল রাখার চাপ—সব মিলিয়ে তৈরি পোশাক খাতের পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। বিএনপির সন্ত্রাসীদের নিপীড়নের ভিডিও করায় তৌফিককে হত্যা করা হয়, জানান সহকর্মীরা ডিবি হেফাজতে ইকবাল সোবহান চৌধুরীঃ ২৭ মাস সমঝোতা করেও শেষ রক্ষা হলোনা শেখ হাসিনার সাবেক তথ্য উপদেষ্টার