ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
সচিবালয় স্থানান্তরের প্রতিবাদে ফের সড়ক অবরোধ শেকৃবি শিক্ষার্থীদের
মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা পর্যালোচনা করবে সংসদীয় ককাস
বাংলাদেশ নিয়ে বাইডেন প্রশাসনের ভূমিকা তদন্তের দাবি, ওয়াশিংটনে শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনের পর Newsmax-এ বিশেষ কলাম
শ্রমিক আন্দোলন দমনে কঠোর অবস্থানে সরকারঃ পুলিশ ও দলীয়কর্মী ছাড়াও ২৫ প্লাটুন যৌথ বাহিনী মোতায়েন
বাপে মারছে সৈনিক, মায়ে মারছে কৃষক, পোলায় মারছে শ্রমিক’—এমন স্লোগানে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের শিল্পাঞ্চল। ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলন ঘিরে গত কয়েক দিন ধরে রাজধানীর মিরপুর, গাজীপুর, সাভার, আশুলিয়া ও নারায়ণগঞ্জে বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ, ভাঙচুর ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। গতকাল মঙ্গলবারও এসব এলাকায় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। আজ বুধবার সকালেও গাজীপুর, সাভার ও নারায়ণগঞ্জে নতুন করে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করেছেন শ্রমিকরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শিল্পাঞ্চলগুলোয় অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। শ্রমিক আন্দোলন ঘিরে সহিংসতায় প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে ঢাকার উত্তরার শিন শিন জাপান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান গাজীপুরে হামলায় গুরুতর আহত পোশাকশ্রমিক তৌফিক হোসেন। সোমবার গাজীপুরের জয়দেবপুরের বাহাদুরপুর এলাকায় নোমান টেরি টাওয়েল মিলসের সামনে সংঘর্ষের দৃশ্য মুঠোফোনে ধারণ করার সময় হামলার শিকার হন তিনি। পরে স্বজনরা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। তিনি গাজীপুরের লায়লা স্টাইল লিমিটেডের শ্রমিক ছিলেন। এ ঘটনায় তাঁর মৃত্যুর পর গাজীপুরের বাংলাবাজার এলাকার কয়েকটি কারখানায় গতকাল ছুটি ঘোষণা করা হয়। শ্রমিকদের দাবি, বর্তমান বাজারদরে প্রচলিত ন্যূনতম মজুরিতে সংসার চালানো সম্ভব হচ্ছে না। বাড়িভাড়া, খাবার, চিকিৎসা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ব্যয় মেটাতে গিয়ে প্রতিনিয়ত সংকটে পড়তে হচ্ছে তাঁদের। এ অবস্থায় মাসিক ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে হয়রানি, শ্রমিকদের ওপর হামলা এবং আন্দোলনে অংশ নেওয়ায় চাকরিচ্যুতির অভিযোগেরও প্রতিকার চাইছেন শ্রমিকরা। আজ বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানার সাইনবোর্ড, বাংলাবাজার ও মির্জাপুর এলাকায় দুই থেকে চার হাজার শ্রমিক ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অবস্থান নেন। এতে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। শ্রমিকদের সরিয়ে দিতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গেলে তাঁদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন আন্দোলনকারীরা। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে শ্রমিকদের সরিয়ে দেয়। পরে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। জয়দেবপুর, সালনা, রাজেন্দ্রপুর ও শফিপুর এলাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও বাংলাবাজার ও কাশিমপুর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সতর্ক অবস্থানে ছিল। গাজীপুরের বোর্ডবাজারের বড়বাড়ী এলাকাতেও সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকরা। তাঁদের সরিয়ে দিতে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এতে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এদিকে তৌফিক হোসেনের মৃত্যুর পর বাংলাবাজার এলাকার কয়েকটি কারখানায় বুধবারও ছুটি ঘোষণা করা হয়। তবে কতটি কারখানা বন্ধ ছিল, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। সাভারের হেমায়েতপুরেও আজ সকালে শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে। শ্রমিকদের অবরোধের কারণে আশপাশের সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। এর আগে গতকাল মঙ্গলবার হেমায়েতপুর এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকরা। দুপুর থেকে বিকাল ৫টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত চলা অবরোধে মহাসড়কের দুই পাশে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। পরে শ্রমিকরা কর্মসূচি প্রত্যাহার করলে ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায়ও আজ বুধবার নতুন করে বিক্ষোভ করেছেন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। সকাল ১০টার দিকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়কের পাশে কুতুবাইল কাঠেরপুল এলাকায় জড়ো হন কয়েকটি কারখানার শ্রমিক। তাঁরা মূল সড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে পুলিশ তাঁদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এ সময় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। শ্রমিকদের অভিযোগ, তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করছিলেন। এ সময় স্থানীয় কিছু ব্যক্তি তাঁদের ওপর হামলা চালান। অন্যদিকে পুলিশের দাবি, সড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এ ঘটনায় কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। পুলিশের ছোড়া টিয়ার গ্যাসে স্থানীয় একটি হোসিয়ারি কারখানার শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। রাজধানীর মিরপুরেও গতকাল মঙ্গলবার শ্রমিকদের বিক্ষোভ ঘিরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মিরপুর-১১ মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এ সময় ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও সড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন আন্দোলনকারীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে। সংঘর্ষে চার পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে কালশী সড়কে এক পুলিশ সদস্যকে মারধরের ঘটনাও ঘটে। এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সংঘর্ষের কারণে মেট্রোরেল চলাচলেও সাময়িক বিঘ্ন ঘটে। নিরাপত্তার কারণে মিরপুর-১০ স্টেশনে প্রায় দুই ঘণ্টা ট্রেন থামানো বন্ধ রাখা হয়। আজ বুধবার মিরপুরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় ১০ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। পুলিশের দাবি, বুধবার শ্রমিকদের সড়কে নামার সুযোগ হয়নি এবং অনেক কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম চলছে। এদিকে শ্রমিক অসন্তোষের কারণে শিল্পাঞ্চলে উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। দৈনিক বাংলার প্রকাশিত বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার ৩০৬টি পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়। এতে ৬ লাখ ৯৪ হাজার ৭৯৩ শ্রমিকের কাজ ব্যাহত হয়। এর আগে ১ নভেম্বর ৫২৯টি কারখানা বন্ধ হয়েছিল এবং কর্মস্থল ছেড়েছিলেন ৯ লাখ ৮৭ হাজার ১৯০ জন শ্রমিক। অর্থাৎ আন্দোলনের প্রভাবে একাধিক শিল্পাঞ্চলে উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আজ বুধবার সাভার-আশুলিয়া, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে মোট ২৪ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, সাভারের হেমায়েতপুর, আশুলিয়া ও বাইপাইল এলাকায় পাঁচ প্লাটুন, গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় ১৩ প্লাটুন এবং নারায়ণগঞ্জের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ছয় প্লাটুন বিজিবি দায়িত্ব পালন করছে। এর পাশাপাশি পুলিশ ও অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও শিল্পাঞ্চলে টহল দিচ্ছেন। এদিকে শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণে সরকার নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। ছয় সদস্যের এ বোর্ডের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে আজ বুধবার। বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সৈয়দ আজাদ সোবহানি। মালিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন এ বি এম সামসুদ্দিন ও আসিব আইয়ুব। শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন বাবুল আক্তার ও আনোয়ার হোসেন। শ্রমিকদের প্রত্যাশা, নতুন মজুরি বোর্ড দ্রুত কার্যকর সিদ্ধান্ত নেবে। তবে বোর্ড গঠনের পরও আন্দোলন থামেনি; বরং রাজধানী ও আশপাশের শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক অসন্তোষ অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান উৎস তৈরি পোশাক খাত। এ খাতে প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক কাজ করেন। ফলে শ্রমিক অসন্তোষ দীর্ঘায়িত হলে উৎপাদন, সরবরাহ ও রপ্তানি কার্যক্রমে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। একদিকে জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মজুরির দাবিতে শ্রমিকদের ক্ষোভ, অন্যদিকে কারখানার উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থা সচল রাখার চাপ—সব মিলিয়ে তৈরি পোশাক খাতের পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে।
ডিবি হেফাজতে ইকবাল সোবহান চৌধুরীঃ ২৭ মাস সমঝোতা করেও শেষ রক্ষা হলোনা শেখ হাসিনার সাবেক তথ্য উপদেষ্টার
বড়দিনে তিন কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী
ভোল পালটে মোশারফ সাভারে চাঁদাবাজির ‘ডন’
আওয়ামী লীগ সমর্থিত আন্তঃজেলা ট্রাকচালক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন। গত ১০ বছর আওয়ামী লীগের তকমা লাগিয়ে চাঁদাবাজিতে লিপ্ত ছিলেন। সরকার পতনের পর এই মোশারফ ভোল পালটে এখনও সাভারে চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রক। চাঁদা দিতে না চাওয়ায় ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজনকে গুরুতর আহত করে তিনি ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন সাভারে। ইউনিয়ন বিএনপি নেতা এক ভাইয়ের ছত্রছায়ায় তিনি নিজেকে ‘ডন’ ভাবতে শুরু করেছেন। পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
ফুটপাতের ফল বিক্রেতা জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায়, তখন স্থানীয় নেতাদের নামে চাঁদা তুলতেন মোশারফ। সেই সরকার পতনের পর ভাবছিলাম এখন থেকে আর চাঁদা দিতে হবে না। কিন্তু
শেখ হাসিনা ৫ তারিখ দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার পর ৭ তারিখই বিএনপি পরিচয়ে মোশারফ এসে আমাদের কাছে চাঁদার কথা বলে যান। আক্ষেপ করে তিনি বলেন, আমাদের আর ভাগ্যের উন্নয়ন হলো না। নিরাপত্তার কারণে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ডিশ ব্যবসায়ী বলেন, আমার কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা নিয়েছেন মোশারফ। এমনকি ডিশ ব্যবসা দখলে নেওয়ার তৎপরতাও চালাচ্ছেন এখন। আরেক ব্যবসায়ী বলেন, প্রতিদিন ফুটপাত থেকে তার বাহিনী চাঁদা তুলছে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা। পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি একেএম আওলাদ হোসেন রোববার বলেন, চাঁদাবাজরা আসলে কোনো দলের হয় না। এরা ব্যক্তিস্বার্থে দলকে ব্যবহার করে। কে এই মোশারফ খোঁজ নিয়ে দেখছি। তার বিরুদ্ধে অবশ্যই
আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিষ্কার মেসেজ-কোনো ধরনের চাঁদাবাজি বরদাশত করা হবে না। তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, সাভারের তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের হেমায়েতপুর এলাকাটি শিল্পঅধ্যুষিত হওয়ায় এখানে চাঁদাবাজির মাত্রাটা বেশি। এ সবের নেতৃত্বে রয়েছেন মোশারফ হোসেন। তার ভাই তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের বিএনপির সহসভাপতি মেহেদী হাসান। কোথাও নিজেরা সশরীরে, কোথাও আবার তাদের অন্য তিন ভাই শরিফ, রাকিব ও রাসেলকে পাঠিয়ে চালানো হচ্ছে এসব কর্মকাণ্ড। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি ও লুটতরাজে বাধা দেওয়ায় গত এক মাসে বেশ কয়েকজনকে গুরুতর আহত করা হয়েছে। এসব চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণে আছে তাদের নিজস্ব ক্যাডার বাহিনী। এরা দখল ও চাঁদাবাজির ক্ষেত্র বাড়াতে মহড়া দেয়। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরপরই বিভিন্ন স্থানে বিএনপির নেতাকর্মীদের নামে দখলের প্রতিযোগিতা
চলছে। এতদিন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা যেসব জায়গায় চাঁদাবাজি করে আসছিল, সরকার পতনের পর ভোল পালটে এরাই আবার বিএনপি সেজে সেসব জায়গায় চাঁদাবাজি করছে। এ সবের মধ্যে রয়েছে গার্মেন্টসের ঝুট ব্যবসা দখল, ডিশলাইন-ইন্টারনেট ব্যবসা দখল, ফুটপাতে চাঁদাবাজি, স্কুল, মার্কেটের দখল নেওয়া থেকে শুরু করে বাদ যায়নি বাসাবাড়ির ময়লা ফেলার নিয়ন্ত্রণও। সরেজমিন হেমায়েতপুরের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে চাঁদাবাজি সম্পর্কে ভয়াবহ তথ্য পাওয়া যায়। গাবতলী থেকে সাভার অভিমুখে হেমায়েতপুর এলাকায় এক্সিম ব্যাংক থেকে এনআরবি ব্যাংক পর্যন্ত সিংগাইর সড়কে রয়েছে কয়েকশ ভ্রাম্যমাণ দোকান। এসব দোকান থেকে প্রতিদিন ৩শ থেকে ৫শ টাকা করে চাঁদা তোলা হচ্ছে। হেমায়েতপুর বাসস্ট্যান্ডের উত্তর পাশে জয়নাবাড়ি সড়কে ও হেমায়েতপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের জমিতে
নির্মিত মার্কেটে শতাধিক দোকান রয়েছে। এসব দোকান থেকে প্রতিদিন ২শ থেকে ১ হাজার টাকা তোলা হতো। স্কুলের নাম করে এসব চাঁদা তোলা হলেও পুরোটাই যেত আওয়ামী লীগ নেতাদের পকেটে। এতদিন এসব টাকা তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফখরুল আলম সমর এবং সাভার উপজেলা চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রাজীব বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে ছিল। বিগত দিনে একই ব্যক্তি টাকা উত্তোলন করলেও এখন যাচ্ছে ভিন্ন ব্যক্তির পকেটে। এদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সব স্কুলের ম্যানেজিং কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণার পর নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে হেমায়েতপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠন করে সভাপতি বনে গেছেন মোশারফের ভাই শরিফ ইসলাম। জানতে চাইলে
সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবু বকর সরকার বলেন, নতুন পরিপত্র অনুযায়ী পদাধিকার বলে ইউএনও পরিচালনা কমিটির সভাপতি। কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি হওয়ার সুযোগ নেই। এদিকে হেমায়েতপুর এলাকার ইন্টারনেট ও ডিশলাইনের বেশিরভাগ সংযোগ এখন মোশারফ ও মেহেদীসহ তার ভাইদের দখলে। শুধু ডিশ-ইন্টারনেটই নয়, পোশাক শিল্পের অস্থিরতার মধ্যেই সম্প্রতি মোশারফের ভাই শরিফের নেতৃত্বে দলবল নিয়ে আমিনবাজার এলাকার টিমটেক্স গার্মেন্টসের ঝুট দখল করে। এছাড়াও তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের এজেআই গ্রুপ, ডেকো গ্রুপসহ আরও বেশকিছু কারখানার ঝুট দখলের পাঁয়তারা শুরু করেছে মোশারফ বাহিনীর লোকজন। তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় বন্ধ থাকা হলমার্ক গ্রুপের দায়িত্বরত লোকজনকে হলমার্ক ছাড়তে নানাভাবে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ
পাওয়া গেছে মোশারফ-মেহেদীর বিরুদ্ধে। এখানে শ্রমিক দলের একজন নেতার নাম ভাঙিয়ে চলেন মোশারফ আর তার ভাই মেহেদী। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হলমার্কের এক কর্মকর্তা বলেন, দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় বন্ধ থাকা প্রতিষ্ঠানটির লোকজনকে এলাকা ছাড়তে নানাভাবে হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও তাদের অত্যাচারে এখানে থাকাই মুশকিল হয়ে পড়েছে। ভুক্তভোগীরা জানান, মোশারফ ও মেহেদীর লোকজনের চাঁদাবাজিতে বাধা দেওয়ায় বেধড়ক মারধরের শিকার হয়েছেন আরিফ, মেহেদী, আশরাফুল ইসলামসহ আরও কয়েকজন। মোশারফ বাহিনীর মারধরের শিকার সেন্টমার্টিন পরিবহণের কাউন্টার মাস্টার আরিফ বলেন, ৫ তারিখ দুপুরে আওয়ামী লীগের পতনের পর থেকেই রাতারাতি বেপরোয়া হয়ে উঠে মোশারফ বাহিনী। তিনি বলেন, মোশারফ বাহিনীর লোকজন এক অসহায় পরিবারের মালপত্র লুট করার সময় আমি বাধা দিলে হকিস্টিক দিয়ে পিটিয়ে আমার বাঁ-হাতের তিন জায়গায় ভেঙে দিয়েছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই। স্থানীয় হেমায়েতপুরের ব্যবসায়ী ও বাসিন্দা মামলত হোসেন বলেন, প্রতিদিন ৩শ টাকা করে চাঁদা তোলা হচ্ছে কাঁচাবাজার থেকে। এলাকার ব্যবসায়ী তমিজ উদ্দিন বলেন, ভাবছিলাম সাধারণ মানুষ ভালো থাকবে। কিন্তু সেটা আর হলো না। বিএনপি এখনো ক্ষমতায় আসেনি, কিন্তু তাদের দলের লোকজন এরই মধ্যে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কার্যক্রম শুরু করেছে। বিএনপি যদি তাদের বিরুদ্ধে এখনই কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে বিএনপিরও আওয়ামী লীগের মতো একই দশা হবে। অভিযোগের বিষয়ে আন্তঃজেলা ট্রাকচালক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন ভুক্তভোগীদের বিরুদ্ধেই উলটো অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, চাঁদা দাবির অভিযোগ মিথ্যা। মারধর করে হাত ভেঙে দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, মোট সাতজনকে মারা হয়েছে। তারা মানুষের বাড়িতে লুটপাট করছিল। তাই আমার নির্দেশেই তাদের মারা হয়েছে। আমার এলাকায় কেউ চাঁদাবাজি করলে সব সময়ই তাদের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছি এবং ভবিষ্যতেও নেব। গার্মেন্টসে গিয়ে চাঁদা দাবির বিষয়ে বলেন, ‘গার্মেন্টসে কোনো চাঁদা দাবি করা হয়নি। একটা ফ্যাক্টরিতে আমার পরিচিত লোক ছিল, সেখানে গিয়ে চা খেয়ে এসেছি।’ জানা যায়, এই মোশারফ বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় স্থানীয় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাভার উপজেলা চেয়ারম্যান মনজুরুল আলম রাজীব ও তার ভাই উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফখর আলম সমরের ঘনিষ্ঠ ছিলেন।
শেখ হাসিনা ৫ তারিখ দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার পর ৭ তারিখই বিএনপি পরিচয়ে মোশারফ এসে আমাদের কাছে চাঁদার কথা বলে যান। আক্ষেপ করে তিনি বলেন, আমাদের আর ভাগ্যের উন্নয়ন হলো না। নিরাপত্তার কারণে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ডিশ ব্যবসায়ী বলেন, আমার কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা নিয়েছেন মোশারফ। এমনকি ডিশ ব্যবসা দখলে নেওয়ার তৎপরতাও চালাচ্ছেন এখন। আরেক ব্যবসায়ী বলেন, প্রতিদিন ফুটপাত থেকে তার বাহিনী চাঁদা তুলছে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা। পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি একেএম আওলাদ হোসেন রোববার বলেন, চাঁদাবাজরা আসলে কোনো দলের হয় না। এরা ব্যক্তিস্বার্থে দলকে ব্যবহার করে। কে এই মোশারফ খোঁজ নিয়ে দেখছি। তার বিরুদ্ধে অবশ্যই
আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিষ্কার মেসেজ-কোনো ধরনের চাঁদাবাজি বরদাশত করা হবে না। তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, সাভারের তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের হেমায়েতপুর এলাকাটি শিল্পঅধ্যুষিত হওয়ায় এখানে চাঁদাবাজির মাত্রাটা বেশি। এ সবের নেতৃত্বে রয়েছেন মোশারফ হোসেন। তার ভাই তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের বিএনপির সহসভাপতি মেহেদী হাসান। কোথাও নিজেরা সশরীরে, কোথাও আবার তাদের অন্য তিন ভাই শরিফ, রাকিব ও রাসেলকে পাঠিয়ে চালানো হচ্ছে এসব কর্মকাণ্ড। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি ও লুটতরাজে বাধা দেওয়ায় গত এক মাসে বেশ কয়েকজনকে গুরুতর আহত করা হয়েছে। এসব চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণে আছে তাদের নিজস্ব ক্যাডার বাহিনী। এরা দখল ও চাঁদাবাজির ক্ষেত্র বাড়াতে মহড়া দেয়। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরপরই বিভিন্ন স্থানে বিএনপির নেতাকর্মীদের নামে দখলের প্রতিযোগিতা
চলছে। এতদিন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা যেসব জায়গায় চাঁদাবাজি করে আসছিল, সরকার পতনের পর ভোল পালটে এরাই আবার বিএনপি সেজে সেসব জায়গায় চাঁদাবাজি করছে। এ সবের মধ্যে রয়েছে গার্মেন্টসের ঝুট ব্যবসা দখল, ডিশলাইন-ইন্টারনেট ব্যবসা দখল, ফুটপাতে চাঁদাবাজি, স্কুল, মার্কেটের দখল নেওয়া থেকে শুরু করে বাদ যায়নি বাসাবাড়ির ময়লা ফেলার নিয়ন্ত্রণও। সরেজমিন হেমায়েতপুরের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে চাঁদাবাজি সম্পর্কে ভয়াবহ তথ্য পাওয়া যায়। গাবতলী থেকে সাভার অভিমুখে হেমায়েতপুর এলাকায় এক্সিম ব্যাংক থেকে এনআরবি ব্যাংক পর্যন্ত সিংগাইর সড়কে রয়েছে কয়েকশ ভ্রাম্যমাণ দোকান। এসব দোকান থেকে প্রতিদিন ৩শ থেকে ৫শ টাকা করে চাঁদা তোলা হচ্ছে। হেমায়েতপুর বাসস্ট্যান্ডের উত্তর পাশে জয়নাবাড়ি সড়কে ও হেমায়েতপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের জমিতে
নির্মিত মার্কেটে শতাধিক দোকান রয়েছে। এসব দোকান থেকে প্রতিদিন ২শ থেকে ১ হাজার টাকা তোলা হতো। স্কুলের নাম করে এসব চাঁদা তোলা হলেও পুরোটাই যেত আওয়ামী লীগ নেতাদের পকেটে। এতদিন এসব টাকা তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফখরুল আলম সমর এবং সাভার উপজেলা চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রাজীব বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে ছিল। বিগত দিনে একই ব্যক্তি টাকা উত্তোলন করলেও এখন যাচ্ছে ভিন্ন ব্যক্তির পকেটে। এদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সব স্কুলের ম্যানেজিং কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণার পর নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে হেমায়েতপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠন করে সভাপতি বনে গেছেন মোশারফের ভাই শরিফ ইসলাম। জানতে চাইলে
সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবু বকর সরকার বলেন, নতুন পরিপত্র অনুযায়ী পদাধিকার বলে ইউএনও পরিচালনা কমিটির সভাপতি। কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি হওয়ার সুযোগ নেই। এদিকে হেমায়েতপুর এলাকার ইন্টারনেট ও ডিশলাইনের বেশিরভাগ সংযোগ এখন মোশারফ ও মেহেদীসহ তার ভাইদের দখলে। শুধু ডিশ-ইন্টারনেটই নয়, পোশাক শিল্পের অস্থিরতার মধ্যেই সম্প্রতি মোশারফের ভাই শরিফের নেতৃত্বে দলবল নিয়ে আমিনবাজার এলাকার টিমটেক্স গার্মেন্টসের ঝুট দখল করে। এছাড়াও তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের এজেআই গ্রুপ, ডেকো গ্রুপসহ আরও বেশকিছু কারখানার ঝুট দখলের পাঁয়তারা শুরু করেছে মোশারফ বাহিনীর লোকজন। তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় বন্ধ থাকা হলমার্ক গ্রুপের দায়িত্বরত লোকজনকে হলমার্ক ছাড়তে নানাভাবে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ
পাওয়া গেছে মোশারফ-মেহেদীর বিরুদ্ধে। এখানে শ্রমিক দলের একজন নেতার নাম ভাঙিয়ে চলেন মোশারফ আর তার ভাই মেহেদী। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হলমার্কের এক কর্মকর্তা বলেন, দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় বন্ধ থাকা প্রতিষ্ঠানটির লোকজনকে এলাকা ছাড়তে নানাভাবে হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও তাদের অত্যাচারে এখানে থাকাই মুশকিল হয়ে পড়েছে। ভুক্তভোগীরা জানান, মোশারফ ও মেহেদীর লোকজনের চাঁদাবাজিতে বাধা দেওয়ায় বেধড়ক মারধরের শিকার হয়েছেন আরিফ, মেহেদী, আশরাফুল ইসলামসহ আরও কয়েকজন। মোশারফ বাহিনীর মারধরের শিকার সেন্টমার্টিন পরিবহণের কাউন্টার মাস্টার আরিফ বলেন, ৫ তারিখ দুপুরে আওয়ামী লীগের পতনের পর থেকেই রাতারাতি বেপরোয়া হয়ে উঠে মোশারফ বাহিনী। তিনি বলেন, মোশারফ বাহিনীর লোকজন এক অসহায় পরিবারের মালপত্র লুট করার সময় আমি বাধা দিলে হকিস্টিক দিয়ে পিটিয়ে আমার বাঁ-হাতের তিন জায়গায় ভেঙে দিয়েছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই। স্থানীয় হেমায়েতপুরের ব্যবসায়ী ও বাসিন্দা মামলত হোসেন বলেন, প্রতিদিন ৩শ টাকা করে চাঁদা তোলা হচ্ছে কাঁচাবাজার থেকে। এলাকার ব্যবসায়ী তমিজ উদ্দিন বলেন, ভাবছিলাম সাধারণ মানুষ ভালো থাকবে। কিন্তু সেটা আর হলো না। বিএনপি এখনো ক্ষমতায় আসেনি, কিন্তু তাদের দলের লোকজন এরই মধ্যে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কার্যক্রম শুরু করেছে। বিএনপি যদি তাদের বিরুদ্ধে এখনই কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে বিএনপিরও আওয়ামী লীগের মতো একই দশা হবে। অভিযোগের বিষয়ে আন্তঃজেলা ট্রাকচালক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন ভুক্তভোগীদের বিরুদ্ধেই উলটো অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, চাঁদা দাবির অভিযোগ মিথ্যা। মারধর করে হাত ভেঙে দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, মোট সাতজনকে মারা হয়েছে। তারা মানুষের বাড়িতে লুটপাট করছিল। তাই আমার নির্দেশেই তাদের মারা হয়েছে। আমার এলাকায় কেউ চাঁদাবাজি করলে সব সময়ই তাদের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছি এবং ভবিষ্যতেও নেব। গার্মেন্টসে গিয়ে চাঁদা দাবির বিষয়ে বলেন, ‘গার্মেন্টসে কোনো চাঁদা দাবি করা হয়নি। একটা ফ্যাক্টরিতে আমার পরিচিত লোক ছিল, সেখানে গিয়ে চা খেয়ে এসেছি।’ জানা যায়, এই মোশারফ বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় স্থানীয় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাভার উপজেলা চেয়ারম্যান মনজুরুল আলম রাজীব ও তার ভাই উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফখর আলম সমরের ঘনিষ্ঠ ছিলেন।





