রক্তাক্ত বাংলাদেশ : যে সন্ত্রাসীদের হাত ধরে ক্ষমতায় এসেছিলেন, তাদেরই দমন করবেন কীভাবে? – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ১২ জানুয়ারি, ২০২৬
     ৯:৩১ অপরাহ্ণ

রক্তাক্ত বাংলাদেশ : যে সন্ত্রাসীদের হাত ধরে ক্ষমতায় এসেছিলেন, তাদেরই দমন করবেন কীভাবে?

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১২ জানুয়ারি, ২০২৬ | ৯:৩১ 34 ভিউ
নতুন বছরের প্রথম ছয় দিনেই আটটি খুন। পাঁচ ঘণ্টার ব্যবধানে তিন জেলায় তিনজনকে গুলি করে হত্যা। মাথায় টার্গেট করে গুলি, গলা কেটে হত্যা, পিটিয়ে হত্যা। এই হলো ২০২৫ সালের বাংলাদেশের চিত্র। যে দেশে ২০২৪ সালের জুলাইতে তথাকথিত 'গণঅভ্যুত্থান'র নামে পরিকল্পিত দাঙ্গা বাঁধিয়ে একটি নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে মুহাম্মদ ইউনূস আর তার দলবল ক্ষমতায় বসেছেন, সেই দেশেই এখন প্রতিদিন খুনের মিছিল। আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, যারা সন্ত্রাসীদের হাত ধরে, জঙ্গিদের সহায়তায়, আর সামরিক বাহিনীর পৃষ্ঠপোষকতায় ক্ষমতা দখল করেছেন, তারাই এখন 'অপারেশন ডেভিল হান্ট' চালাচ্ছেন। গত ১৩ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে ২৩ দিনে ১৫ হাজার লোক গ্রেপ্তার হয়েছে, কিন্তু খুনোখুনি থামেনি।

বরং যত দিন যাচ্ছে, পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হচ্ছে। প্রশ্ন হলো, যে সন্ত্রাসীদের কাঁধে ভর করে আপনারা ক্ষমতায় এসেছেন, তাদেরই এখন কীভাবে দমন করবেন? জুলাইতে যে অস্ত্রধারী উন্মত্ত জনতা থানা পুলিশ ফাঁড়ি জ্বালিয়ে দিয়েছিল, সরকারি ভবন ভাঙচুর করেছিল, পুলিশ হত্যা করেছিল, তাদের তো আপনারা 'বীরের খেতাব' দিয়েছিলেন। তাদের অপরাধকে 'বিপ্লব' বলে চালিয়ে দিয়েছিলেন। এখন হঠাৎ তারাই দেশের শত্রু হয়ে গেল কী করে? পুলিশের রেকর্ড বলছে, থানা আর পুলিশ ফাঁড়ি থেকে লুট হওয়া এক হাজার ৩৩৩টি অস্ত্র এখনও বেহাত। দুই লাখ ৪৩ হাজার গুলি নিখোঁজ। এর মধ্যে আছে চায়না রাইফেল, এসএমজি, এলএমজি, পিস্তল। কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া ৭১০ জন বন্দি এখনও ধরা পড়েনি, যাদের

মধ্যে আছে হত্যা মামলার আসামি, যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি, দুর্ধর্ষ অপরাধী। কারাগার থেকে লুট হওয়া সাত হাজার রাউন্ড গুলি আর ২৭টি অস্ত্রের হদিস নেই। এই সব অস্ত্র কারা নিয়ে গেছে? যারা জুলাইতে 'বিপ্লব' করেছিল তারাই তো। যাদের আপনারা মদদ দিয়েছিলেন, সমর্থন জুগিয়েছিলেন, উৎসাহিত করেছিলেন। এখন সেই অস্ত্র উদ্ধারে পুরস্কার ঘোষণা করছেন। কিন্তু কেউ এগিয়ে আসছে না। স্বাভাবিক। যারা 'বিপ্লবী' ছিল, তারা কেন অস্ত্র ফেরত দেবে? তারা তো জানে, দরকার পড়লে আবার সেই অস্ত্র ব্যবহার করতে হতে পারে। ইউনূস সরকার বারবার বলছে, তারা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে চেষ্টা করছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, যে ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে তারা ক্ষমতায় এসেছে, সেটাই অস্থিরতার উৎস। জুলাইয়ের সহিংসতায়

যারা জড়িত ছিল, তাদের কোনো বিচার হয়নি। বরং তাদের 'শহীদ' বানানো হয়েছে। যারা পুলিশ হত্যা করেছে, সরকারি সম্পত্তি ধ্বংস করেছে, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এমন একটা পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে যেখানে সহিংসতাকে বৈধতা দেওয়া হয়েছে। এখন দেখা যাচ্ছে, রাজনৈতিক হত্যা বেড়ে যাচ্ছে। চট্টগ্রামের রাউজানে যুবদল নেতাকে গুলি করে হত্যা করা হচ্ছে। যশোরে বিএনপি নেতাকে মাথায় গুলি করা হচ্ছে। পুলিশ বলছে, এগুলো রাজনৈতিক বিরোধের ফল। কিন্তু প্রকৃত সত্য হলো, জুলাইতে যে রাজনৈতিক সহিংসতার সংস্কৃতি তৈরি করা হয়েছে, তারই ফসল কাটা হচ্ছে এখন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তো প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে জুলাইতে। পুলিশের ওপর যেভাবে হামলা হয়েছিল, তাতে তাদের মনোবল ভেঙে গেছে। এখন

তারা দায়সারা ভাবে কাজ করছে। কারণ তারা জানে না, কখন আবার তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়বে উন্মত্ত জনতা। ইউনূস সরকার তো সেই জনতার প্রতিনিধিত্ব করছে। তাহলে পুলিশ কাদের বিরুদ্ধে দাঁড়াবে? পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে, জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা খোলাখুলি বলছেন, চিহ্নিত সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা এখনও ঘুরে বেড়াচ্ছে। তাদের জেলের বাইরে রেখে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন সম্ভব নয়। কিন্তু সমস্যা হলো, এই সন্ত্রাসীরা তো ইউনূস সরকারের লোক। জুলাইতে তারাই তো 'বিপ্লব' করেছিল। এখন তাদের জেলে পাঠাবেন কীভাবে? বিদেশি অর্থায়নের কথাটাও এড়িয়ে যাওয়া যায় না। জুলাইয়ের পুরো ঘটনাক্রমে বিদেশি শক্তির ভূমিকা নিয়ে অনেক প্রশ্ন আছে। একটা নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করার জন্য যে ধরনের সুসংগঠিত সহিংসতা দেখা গেছে,

তা নিতান্তই স্বতঃস্ফূর্ত ছিল না। সেখানে পরিকল্পনা ছিল, অর্থ ছিল, আন্তর্জাতিক সমর্থন ছিল। এখন সেই একই শক্তিগুলো হয়তো নতুন করে তাদের দাবাঘর সাজাচ্ছে। ইসলামিক জঙ্গি সংগঠনগুলোর ভূমিকাও উল্লেখযোগ্য। জুলাইতে যে সহিংসতা দেখা গেছে, তাতে জঙ্গিদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল বলে অনেক প্রমাণ আছে। এখন সেই জঙ্গিরা আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে। তারা জানে, ইউনূস সরকার তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে না। কারণ নিলে তো তাদের নিজেদের ক্ষমতার ভিত্তিই নড়বড়ে হয়ে যাবে। সামরিক বাহিনীর ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ। জুলাইতে যখন সহিংসতা চরমে, তখন সেনাবাহিনী কার্যত নীরব দর্শক ছিল। তারা সরকারকে রক্ষা করার কোনো উদ্যোগ নেয়নি। বরং পরোক্ষভাবে সন্ত্রাসীদের মদদ দিয়েছে বলে অভিযোগ আছে। এখন সেই সেনাবাহিনীই নাকি

আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সক্রিয়। কিন্তু তারা কতটা আন্তরিক, সেটা প্রশ্ন। মূল সমস্যা হলো, ইউনূস সরকারের কোনো নৈতিক বৈধতা নেই। তারা জনগণের ভোটে আসেনি, এসেছে সহিংসতার মাধ্যমে। তারা যে শক্তির ওপর নির্ভর করছে, সেই শক্তিই এখন দেশকে অস্থিতিশীল করছে। তারা চাইলেই সেই শক্তিকে দমন করতে পারবে না। কারণ দমন করতে গেলে তাদের নিজেদের ক্ষমতাই চলে যাবে। পরিসংখ্যান বলছে, গত বছর তিন হাজার ৫০৯ জন খুন হয়েছে। রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা ১০২ থেকে ১২৩, আহত সাত থেকে নয় হাজার। এই সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। কিন্তু ইউনূস সরকারের কোনো সমাধান নেই। তারা শুধু অভিযানের নামে কিছু লোক গ্রেপ্তার করছে, কিন্তু অপরাধ কমছে না। আসল কথা হলো, যে ভিত্তির ওপর এই সরকার দাঁড়িয়ে আছে, সেটাই অপরাধের উৎস। জুলাইতে যে অরাজকতা সৃষ্টি করা হয়েছিল, তারই ধারাবাহিকতা চলছে এখন। যারা তখন খুন করেছে, তারা এখনও খুন করছে। তফাৎ শুধু এটুকু যে, তখন তাদের 'বিপ্লবী' বলা হতো, এখন তাদের 'সন্ত্রাসী' বলা হচ্ছে। কিন্তু মানুষ তো একই। ইউনূস সরকারের কাছে প্রশ্ন, যে সন্ত্রাসীদের হাত ধরে ক্ষমতায় এসেছেন, তাদেরই এখন দমন করবেন কীভাবে? যে জঙ্গিদের সহায়তা নিয়েছিলেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর হবেন কীভাবে? যে সামরিক বাহিনীর পৃষ্ঠপোষকতায় টিকে আছেন, তাদের অবাধ্য হবেন কীভাবে? উত্তর খুব পরিষ্কার, পারবেন না। কারণ এই সব শক্তিই আপনাদের ক্ষমতার ভিত্তি। বাংলাদেশ এখন একটা দুষ্টচক্রে আটকা পড়েছে। সহিংসতা দিয়ে যারা ক্ষমতায় এসেছে, তারা সহিংসতা বন্ধ করতে পারে না। কারণ সহিংসতাই তাদের শক্তির উৎস। দেশ আরও গভীর অন্ধকারের দিকে যাচ্ছে। সাধারণ মানুষ প্রতিদিন খুন হচ্ছে, কিন্তু বিচার নেই, নিরাপত্তা নেই, ভবিষ্যৎ নেই। শুধু আছে একটা অবৈধ সরকার, যার হাতে রক্ত লেগে আছে, আর যে রক্তের দাগ মুছতে অপারগ।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
মব সন্ত্রাসের মহোৎসবে জুলাই দাঙ্গার ফসল ঘরে তুলছে বাংলাদেশ ইউনুসের অংশগ্রহনমূলক নির্বাচনের নমুনা দেখুন ফরিদপুরে হাসপাতালে বিএনপি’র সন্ত্রাসীদের হামলা বিএনপির মামলায় কারাবরণ; চিকিৎসা বিলম্বে কেটে ফেলতে হলো পেকুয়ার নাজিমুদ্দিনের পা নির্বাচনী কারসাজির নয়া কায়দা : ইউনুসের পঞ্চান্ন হাজার ভুয়া পর্যবেক্ষক বিএনপির চাঁদাবাজদের কাছে যেন আপন ভাইয়েরও নিস্তার নেই প্রবাসীদের ভোটাধিকার নাকি জামায়াতের ভোটব্যাংক সাজানোর খেলা? নির্বাচনে ৯৫ শতাংশ প্রবাসী সাড়া দেননি, কারাগারে ৯৩ শতাংশ ১৭ বছরে পেয়েছি মেট্রো ও মডেল মসজিদ, আর এখন দেখছি চোর ও অপদার্থের রাজত্ব’—দুই আমলের তফাত টেনে ভাইরাল ভিডিও বার্তা গণভোট নয়, সংবিধান ভাঙার নীলনকশা হাতিরঝিল এক্সপ্রেসওয়ের রড চুরির একচ্ছত্র আধিপত্য ‘মাওরা সায়মন’ সিন্ডিকেটের: নেপথ্যে ভেজাল তাহের ও কাইলা হৃদয় ভোটের আগে অরক্ষিত সীমান্ত: ‘জিরো টলারেন্স’-এর বুলিতে ঢাকা পড়ছে অস্ত্রের ঝনঝনানি “হ্যাঁ–না ভোটের ফল আগেই নির্ধারিত। এখন চলছে ভোটের নামে এক প্রহসন।” — জননেত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ভোট বয়কটের ডাক ৫ পেশাজীবী সংগঠনের নির্বাচনের নামে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর জীবনে ভয় ও আতঙ্ক সৃষ্টি করা কোনোভাবেই গণতান্ত্রিক চর্চা হতে পারে না যে জাতি তার মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান করতে ভুলে যায়, সেই জাতি নিজের জন্মকেই অস্বীকার করে ফাঁস হওয়া নথিতে ৬৪ ডিসির রাজনৈতিক পরিচয়: ‘নিরপেক্ষ’ প্রশাসনে দলীয়করণের ছায়া জেলখানার মাইকে ভেসে এল বাবা হওয়ার সংবাদ: সাবেক ছাত্রলীগ নেতার কারাজীবনের নির্মম আখ্যান পরিচয় ফাঁসের আতঙ্ক: পোস্টাল ব্যালটে ভোটদানে বিমুখ সরকারি চাকরিজীবী কর্মকর্তারা আসন্ন নির্বাচনকে ‘প্রহসন’ আখ্যা ভোট বর্জনের ডাক দিয়ে ৭০৭ আইনজীবীর বিবৃতি ‘প্রতিদ্বন্দ্বী দলকে আইনি কৌশলে মাঠের বাইরে রাখা গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক’: মাইকেল রুবিন