ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
ত্রুটিপূর্ণ নির্বাচন বৈধতা পেতে শর্ত, ইউনুসের দেশবিরোধী চুক্তি বাস্তবায়ন
আবার শুরু হলো বিএনপির অন্যতম রাজনৈতিক কর্মসূচি-চাঁদাবাজি!
যাদের কাছে একুশ বিপজ্জনক: যে সংগঠন বায়ান্নেও ছিল না, একাত্তরেও ছিল না
হলফনামায় ২ কোটি থাকলেও এক হাজার কোটি টাকার ‘নগদ’ কিনতে চান ব্যারিস্টার আরমান!
১৯৫২ সালের রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন শুধুমাত্র ভাষা আন্দোলন ছিল না
১৯৭১ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ মিনারে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ
কার্যালয়ে আগুন দেওয়ায় আ’লীগ নেতাকর্মীদের বিক্ষোভ মিছিল
ভাষার মাসে ভাষার মিনারে রাজাকারের জয়গান : শহীদ মিনার এখন কার?
একুশে ফেব্রুয়ারি। ভাষা শহীদদের স্মরণের দিন। এই দিনে ভাষা সৈনিক অলি আহাদের মেয়ে রুমিন ফারহানার পুষ্পস্তবক ছিঁড়ে ফেলা হলো শহীদ মিনারে। যে মানুষটার বাবা রাজপথে দাঁড়িয়ে ভাষার জন্য লড়েছিলেন, সেই মানুষটা নিজের ভাষার শহীদদের ফুল দিতে পারলেন না। কারণটা কী, সেটা নিয়ে ব্যাখ্যা কেউ দেয়নি। দেবেও না। কারণ দেওয়ার মতো কোনো ব্যাখ্যা এর নেই।
কিন্তু একই দিনে, একই মিনারে, জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান ফুল দিলেন। আর তাঁর সঙ্গে স্লোগান উঠল, "ভাষা সৈনিক গোলাম আজম, লও লও লও সালাম।" সেই গোলাম আজম, যিনি নিজেই একসময় বলে গেছেন বাংলা ভাষার আন্দোলন করা ভুল হয়েছে। এই লোককে ভাষা সৈনিক বানিয়ে শহীদ মিনারে
সালাম জানানো হচ্ছে। এর থেকে বড় পরিহাস আর কী হতে পারে? জামায়াতে ইসলামী কী, এটা নতুন করে বলার দরকার নেই। একাত্তরে এই সংগঠন কী করেছিল, সেটা ইতিহাস জানে। যুদ্ধাপরাধের বিচারে এই দলের নেতাদের ফাঁসি হয়েছে। তারপরেও এই দল বেঁচে আছে, রাজনীতি করছে, শহীদ মিনারে আসছে এবং রাজাকারদের ভাষা সৈনিক বানাচ্ছে। এটা সম্ভব হচ্ছে কারণ তাদের পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়ার মানুষের অভাব হয়নি কোনোকালে। বিএনপি সেই পৃষ্ঠপোষকতার ইতিহাস বহন করছে জন্মের পর থেকে। জিয়াউর রহমান সেনানিবাসে বসে যে দল বানিয়েছিলেন, সেই দলের রাজনৈতিক মেরুদণ্ড তৈরিই হয়েছিল জামায়াতকে রাজনৈতিক বৈধতা দেওয়ার মধ্য দিয়ে। স্বাধীনতার পরে নিষিদ্ধ হওয়া জামায়াতকে ফিরিয়ে আনার কাজটা জিয়াই করেছিলেন। এরপরের ইতিহাস তো
সবার জানা। জোট, ভোট, মন্ত্রিত্ব, আবার জোট। বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের সম্পর্ক কোনো সুবিধার রাজনীতি নয়, এটা একটা দীর্ঘ পারস্পরিক আশ্রয়ের সম্পর্ক। এখন নতুন একটা দৃশ্য যোগ হয়েছে। এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম জামায়াতের আমীরের সঙ্গে ফুল দিচ্ছেন হাসিমুখে, প্রটোকল দিচ্ছেন। যেই শহীদ মিনার থেকে তিনি একসময় এক দফার ঘোষণা দিয়েছিলেন, সেই মিনারেই তিনি রাজাকার এ. টি. এম. আজহারের সঙ্গে দাঁড়িয়েছেন। এনসিপি বলছে এটা নির্বাচনী জোট, আদর্শিক জোট নয়। কিন্তু রাজাকারের সঙ্গে পুষ্পস্তবক কি নির্বাচনী কারণে দেওয়া হয়? শহীদ মিনারে দাঁড়ানোর একটা প্রতীকী অর্থ আছে। সেই প্রতীকটার সঙ্গে আপনি কাকে নিয়ে দাঁড়াচ্ছেন, সেটাও একটা বার্তা। বিএনপি এই পুরো ঘটনায় কোথায়? তারা চুপ। কারণ এই
চুপ থাকাটাই তাদের রাজনীতি। জামায়াত যা করছে সেটা তাদের পক্ষে যাচ্ছে, তাহলে আপত্তি কীসের। বছরের পর বছর ধরে বিএনপি এই খেলাটাই খেলে আসছে। সামনে থেকে বলবে গণতন্ত্র, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, ভাষার অধিকার, আর পেছনে গিয়ে জামায়াতের সঙ্গে বসে হিসাব মেলাবে। এই দুই মুখের রাজনীতিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে সাধারণ মানুষের, যারা এখনো ভাবে কোনো একটা দল হয়তো আলাদা। আলাদা কেউ না। ক্ষমতার কাছাকাছি গেলে সবাই একই জায়গায় পৌঁছায়। অলি আহাদের মেয়ে ফুল দিতে পারেন না, আর রাজাকারের নামে সালাম ওঠে শহীদ মিনারে। এটাই এই রাজনীতির আসল চেহারা।
সালাম জানানো হচ্ছে। এর থেকে বড় পরিহাস আর কী হতে পারে? জামায়াতে ইসলামী কী, এটা নতুন করে বলার দরকার নেই। একাত্তরে এই সংগঠন কী করেছিল, সেটা ইতিহাস জানে। যুদ্ধাপরাধের বিচারে এই দলের নেতাদের ফাঁসি হয়েছে। তারপরেও এই দল বেঁচে আছে, রাজনীতি করছে, শহীদ মিনারে আসছে এবং রাজাকারদের ভাষা সৈনিক বানাচ্ছে। এটা সম্ভব হচ্ছে কারণ তাদের পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়ার মানুষের অভাব হয়নি কোনোকালে। বিএনপি সেই পৃষ্ঠপোষকতার ইতিহাস বহন করছে জন্মের পর থেকে। জিয়াউর রহমান সেনানিবাসে বসে যে দল বানিয়েছিলেন, সেই দলের রাজনৈতিক মেরুদণ্ড তৈরিই হয়েছিল জামায়াতকে রাজনৈতিক বৈধতা দেওয়ার মধ্য দিয়ে। স্বাধীনতার পরে নিষিদ্ধ হওয়া জামায়াতকে ফিরিয়ে আনার কাজটা জিয়াই করেছিলেন। এরপরের ইতিহাস তো
সবার জানা। জোট, ভোট, মন্ত্রিত্ব, আবার জোট। বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের সম্পর্ক কোনো সুবিধার রাজনীতি নয়, এটা একটা দীর্ঘ পারস্পরিক আশ্রয়ের সম্পর্ক। এখন নতুন একটা দৃশ্য যোগ হয়েছে। এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম জামায়াতের আমীরের সঙ্গে ফুল দিচ্ছেন হাসিমুখে, প্রটোকল দিচ্ছেন। যেই শহীদ মিনার থেকে তিনি একসময় এক দফার ঘোষণা দিয়েছিলেন, সেই মিনারেই তিনি রাজাকার এ. টি. এম. আজহারের সঙ্গে দাঁড়িয়েছেন। এনসিপি বলছে এটা নির্বাচনী জোট, আদর্শিক জোট নয়। কিন্তু রাজাকারের সঙ্গে পুষ্পস্তবক কি নির্বাচনী কারণে দেওয়া হয়? শহীদ মিনারে দাঁড়ানোর একটা প্রতীকী অর্থ আছে। সেই প্রতীকটার সঙ্গে আপনি কাকে নিয়ে দাঁড়াচ্ছেন, সেটাও একটা বার্তা। বিএনপি এই পুরো ঘটনায় কোথায়? তারা চুপ। কারণ এই
চুপ থাকাটাই তাদের রাজনীতি। জামায়াত যা করছে সেটা তাদের পক্ষে যাচ্ছে, তাহলে আপত্তি কীসের। বছরের পর বছর ধরে বিএনপি এই খেলাটাই খেলে আসছে। সামনে থেকে বলবে গণতন্ত্র, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, ভাষার অধিকার, আর পেছনে গিয়ে জামায়াতের সঙ্গে বসে হিসাব মেলাবে। এই দুই মুখের রাজনীতিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে সাধারণ মানুষের, যারা এখনো ভাবে কোনো একটা দল হয়তো আলাদা। আলাদা কেউ না। ক্ষমতার কাছাকাছি গেলে সবাই একই জায়গায় পৌঁছায়। অলি আহাদের মেয়ে ফুল দিতে পারেন না, আর রাজাকারের নামে সালাম ওঠে শহীদ মিনারে। এটাই এই রাজনীতির আসল চেহারা।



