ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
*ঢাকা বিমানবন্দরে চীনা ও ভারতীয় ব্যবসায়ী–পর্যটকদের ন্যক্কারজনক হয়রানি*
ভাঙ্গুড়ায় দেশী প্রজাতির মাছ সংকটে শুঁটকি চাতালে স্থবিরতা
রাজাকার পাঠ্যমঞ্চ নাটকে বাধা জামায়াত নেতার
দেশের প্রশংসনীয় অগ্রগতি রাষ্ট্র পরিচালনায় শেখ হাসিনার যোগ্য নেতৃত্বের ফল’: মাহফুজ আনাম
রাজধানীতে সিআইডির ট্রেনিং স্কুল থেকে এসআইয়ের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
মানিকগঞ্জে বাউল শিল্পীদের নির্যাতন: উগ্রবাদের উত্থানে সংকটে সংস্কৃতিচর্চা, দায় এড়াতে পারে না ইউনূস সরকার
শাটডাউনকে ঘিরে উদ্বেগ: শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় অনলাইন ক্লাসের পথে হাঁটছে স্কুলগুলো
বিএনপি সরকারের এক মাসেই আন্তর্জাতিক সংস্থার চাপ: মানবাধিকার ইস্যুতে তারেক রহমানকে কড়া বার্তা ৯ আন্তর্জাতিক সংস্থার
বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র এক মাসের মাথায় বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে যৌথ চিঠি পাঠিয়েছে বিশ্বের নয়টি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও নাগরিক স্বাধীনতা বিষয়ক সংগঠন। চিঠিতে বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের কিছু উদ্যোগকে তারা ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও নতুন সরকারের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো—মানবাধিকার লঙ্ঘনের সংস্কৃতি ভাঙা এবং বাস্তব সংস্কার নিশ্চিত করা।
উক্ত চিঠিতে স্বারাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ ও আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামনকে সিসি-তে রাখা হয়েছে।
চিঠিতে স্বাক্ষরকারী সংস্থাগুলো হলো— Amnesty International, ARTICLE 19, Committee to Protect Journalists (CPJ), CIVICUS, International Federation for Human Rights (FIDH), Fortify Rights, Human Rights Watch, Robert F. Kennedy Human Rights এবং Tech
Global Institute। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের নতুন সরকারের জন্য এটি একটি “গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা”—দেশটি অতীতের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ধারাবাহিকতা ভেঙে নতুন পথে হাঁটবে কি না, সেটিই এখন আন্তর্জাতিক মহলের নজরে। অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্যোগকে আংশিক স্বীকৃতি চিঠিতে বলা হয়েছে, ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল—যেমন গুমের ঘটনা তদন্তে কমিশন গঠন এবং অতীতের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ। তবে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো সতর্ক করে বলেছে, এসব উদ্যোগ যদি পূর্ণাঙ্গ সংস্কারে রূপ না নেয় এবং দায়ীদের বিচার নিশ্চিত না করা হয়, তাহলে পরিবর্তনের সেই সম্ভাবনা নষ্ট হয়ে যেতে পারে। গুম ও জুলাই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে জোর দাবি চিঠিতে বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের তদন্ত কমিশনের তথ্য
অনুযায়ী সাবেক সরকারের সময় কমপক্ষে ১,৫৬৯ জন গুমের শিকার হয়েছেন, যাদের মধ্যে ২৮৭ জন এখনও নিখোঁজ। এছাড়া ২০২৪ সালের গণআন্দোলনের সময় প্রায় ১,৪০০ মানুষের নিহত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, এসব ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিচার না হলে বাংলাদেশে দায়মুক্তির সংস্কৃতি আরও শক্তিশালী হবে। চিঠিতে আরও বলা হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার কার্যক্রম যেন আন্তর্জাতিক ন্যায্য বিচার মানদণ্ড মেনে চলে তা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে মৃত্যুদণ্ড ব্যবহারের বিরুদ্ধেও অবস্থান নিয়েছে সংস্থাগুলো। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এখনো ঝুঁকিতে চিঠিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের গণমাধ্যম ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এখনও নানাভাবে চাপে রয়েছে। সাংবাদিক, লেখক, শিল্পী এবং গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলো হুমকি, হামলা ও মামলার মুখে পড়ছে। সংগঠনগুলো
নতুন সরকারকে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, মতপ্রকাশসংক্রান্ত মামলাগুলো পুনর্বিবেচনা করা এবং অনলাইন নজরদারি বা সেন্সরশিপ বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। নির্বিচার গ্রেপ্তার ও আইনের অপব্যবহার চিঠিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মামলা দিয়ে নির্বিচার গ্রেপ্তার এবং দীর্ঘ বিচারপূর্ব আটক একটি বড় সমস্যা হয়ে আছে। বিশেষ ক্ষমতা আইন ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মতো কঠোর আইনের অপব্যবহার করে অনেককে আটক রাখা হয়েছে বলে সংগঠনগুলো অভিযোগ করেছে। তারা এসব মামলার পর্যালোচনার জন্য একটি স্বাধীন কমিটি গঠনের সুপারিশ করেছে। নিরাপত্তা খাত সংস্কারের চাপ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো নিরাপত্তা বাহিনীর জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, কিছু নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে অতীতে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা এবং নির্যাতনের অভিযোগ
রয়েছে। এ কারণে তারা নিরাপত্তা খাতে গভীর সংস্কার, বিতর্কিত বাহিনী বিলুপ্ত করা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকাণ্ডের ওপর স্বাধীন নজরদারি ব্যবস্থার আহ্বান জানিয়েছে। রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও উদ্বেগ চিঠিতে বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরগুলোতে অবস্থানরত প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। সংগঠনগুলো বলেছে, কক্সবাজার ও ভাসানচরের শিবিরে বসবাসকারী রোহিঙ্গারা শিক্ষা, জীবিকা ও চলাচলের সীমাবদ্ধতার মুখে রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক সহায়তাও কমে যাচ্ছে। নারীর অধিকার ও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা চিঠিতে নারী ও কন্যাশিশুর বিরুদ্ধে সহিংসতা, বাল্যবিবাহ এবং সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে নারীর সীমিত অংশগ্রহণ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। এছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রামে আদিবাসীদের মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনাও আন্তর্জাতিক মহলের নজরে রয়েছে বলে
উল্লেখ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক নজরদারিতে নতুন সরকার চিঠির শেষে মানবাধিকার সংগঠনগুলো স্পষ্ট করে বলেছে, তারা বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী হলেও মানবাধিকার পরিস্থিতির ওপর তাদের কড়া নজরদারি অব্যাহত থাকবে। বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতায় আসার মাত্র এক মাসের মাথায় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর এমন বিস্তারিত চিঠি মূলত নতুন সরকারের প্রতি একটি স্পষ্ট বার্তা—বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতি এখন আন্তর্জাতিক মহলের কঠোর পর্যবেক্ষণের আওতায় রয়েছে এবং সরকারের পদক্ষেপগুলো ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।
Global Institute। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের নতুন সরকারের জন্য এটি একটি “গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা”—দেশটি অতীতের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ধারাবাহিকতা ভেঙে নতুন পথে হাঁটবে কি না, সেটিই এখন আন্তর্জাতিক মহলের নজরে। অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্যোগকে আংশিক স্বীকৃতি চিঠিতে বলা হয়েছে, ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল—যেমন গুমের ঘটনা তদন্তে কমিশন গঠন এবং অতীতের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ। তবে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো সতর্ক করে বলেছে, এসব উদ্যোগ যদি পূর্ণাঙ্গ সংস্কারে রূপ না নেয় এবং দায়ীদের বিচার নিশ্চিত না করা হয়, তাহলে পরিবর্তনের সেই সম্ভাবনা নষ্ট হয়ে যেতে পারে। গুম ও জুলাই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে জোর দাবি চিঠিতে বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের তদন্ত কমিশনের তথ্য
অনুযায়ী সাবেক সরকারের সময় কমপক্ষে ১,৫৬৯ জন গুমের শিকার হয়েছেন, যাদের মধ্যে ২৮৭ জন এখনও নিখোঁজ। এছাড়া ২০২৪ সালের গণআন্দোলনের সময় প্রায় ১,৪০০ মানুষের নিহত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, এসব ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিচার না হলে বাংলাদেশে দায়মুক্তির সংস্কৃতি আরও শক্তিশালী হবে। চিঠিতে আরও বলা হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার কার্যক্রম যেন আন্তর্জাতিক ন্যায্য বিচার মানদণ্ড মেনে চলে তা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে মৃত্যুদণ্ড ব্যবহারের বিরুদ্ধেও অবস্থান নিয়েছে সংস্থাগুলো। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এখনো ঝুঁকিতে চিঠিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের গণমাধ্যম ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এখনও নানাভাবে চাপে রয়েছে। সাংবাদিক, লেখক, শিল্পী এবং গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলো হুমকি, হামলা ও মামলার মুখে পড়ছে। সংগঠনগুলো
নতুন সরকারকে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, মতপ্রকাশসংক্রান্ত মামলাগুলো পুনর্বিবেচনা করা এবং অনলাইন নজরদারি বা সেন্সরশিপ বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। নির্বিচার গ্রেপ্তার ও আইনের অপব্যবহার চিঠিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মামলা দিয়ে নির্বিচার গ্রেপ্তার এবং দীর্ঘ বিচারপূর্ব আটক একটি বড় সমস্যা হয়ে আছে। বিশেষ ক্ষমতা আইন ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মতো কঠোর আইনের অপব্যবহার করে অনেককে আটক রাখা হয়েছে বলে সংগঠনগুলো অভিযোগ করেছে। তারা এসব মামলার পর্যালোচনার জন্য একটি স্বাধীন কমিটি গঠনের সুপারিশ করেছে। নিরাপত্তা খাত সংস্কারের চাপ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো নিরাপত্তা বাহিনীর জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, কিছু নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে অতীতে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা এবং নির্যাতনের অভিযোগ
রয়েছে। এ কারণে তারা নিরাপত্তা খাতে গভীর সংস্কার, বিতর্কিত বাহিনী বিলুপ্ত করা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকাণ্ডের ওপর স্বাধীন নজরদারি ব্যবস্থার আহ্বান জানিয়েছে। রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও উদ্বেগ চিঠিতে বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরগুলোতে অবস্থানরত প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। সংগঠনগুলো বলেছে, কক্সবাজার ও ভাসানচরের শিবিরে বসবাসকারী রোহিঙ্গারা শিক্ষা, জীবিকা ও চলাচলের সীমাবদ্ধতার মুখে রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক সহায়তাও কমে যাচ্ছে। নারীর অধিকার ও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা চিঠিতে নারী ও কন্যাশিশুর বিরুদ্ধে সহিংসতা, বাল্যবিবাহ এবং সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে নারীর সীমিত অংশগ্রহণ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। এছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রামে আদিবাসীদের মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনাও আন্তর্জাতিক মহলের নজরে রয়েছে বলে
উল্লেখ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক নজরদারিতে নতুন সরকার চিঠির শেষে মানবাধিকার সংগঠনগুলো স্পষ্ট করে বলেছে, তারা বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী হলেও মানবাধিকার পরিস্থিতির ওপর তাদের কড়া নজরদারি অব্যাহত থাকবে। বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতায় আসার মাত্র এক মাসের মাথায় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর এমন বিস্তারিত চিঠি মূলত নতুন সরকারের প্রতি একটি স্পষ্ট বার্তা—বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতি এখন আন্তর্জাতিক মহলের কঠোর পর্যবেক্ষণের আওতায় রয়েছে এবং সরকারের পদক্ষেপগুলো ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।



