নির্বাচন আওয়ামীলীগ ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ: লন্ডন ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান চ‍্যথাম হাউসের সতর্কবার্তা – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ১৬ জানুয়ারি, ২০২৬
     ৫:২৬ অপরাহ্ণ

নির্বাচন আওয়ামীলীগ ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ: লন্ডন ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান চ‍্যথাম হাউসের সতর্কবার্তা

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১৬ জানুয়ারি, ২০২৬ | ৫:২৬ 61 ভিউ
বাংলাদেশের রাজনীতি আজ শুধু ক্ষমতার দ্বন্দ্বে সীমাবদ্ধ নেই—এটি একটি গভীর কাঠামোগত সংকটে পরিণত হয়েছে। লন্ডনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান চেথাম হাউস এই সংকটকে দেখছে গণতন্ত্রের কার্যকারিতা, রাষ্ট্রের বৈধতা এবং রাজনৈতিক অংশগ্রহণের মৌলিক প্রশ্ন হিসেবে। তাদের বিশ্লেষণে স্পষ্ট—বাংলাদেশের আগামী নির্বাচন কেবল সরকার বদলের একটি প্রক্রিয়া নয়; এটি পুরো রাজনৈতিক ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাইয়ের মুহূর্ত। চেথাম হাউসের মতে, একটি নির্বাচন তখনই অর্থবহ হয়, যখন সেটি জনগণের আস্থা ফেরাতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচন আস্থার উৎস নয়, বরং সন্দেহের জন্ম দিয়েছে। ফলাফল আগেই নির্ধারিত—এমন ধারণা সমাজে ছড়িয়ে পড়লে ভোটের প্রক্রিয়া কাগজে-কলমে বৈধ হলেও রাজনৈতিকভাবে তা অর্থহীন হয়ে যায়। এই আস্থাহীনতাই আজ দেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক সমস্যা। এই

বাস্তবতার কেন্দ্রে রয়েছে আওয়ামী লীগ। দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকার ফলে দলটি রাষ্ট্রের প্রশাসনিক কাঠামো, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতির ওপর গভীর প্রভাব বিস্তার করেছে। একদিকে তারা স্থিতিশীলতার কথা বলেছে, উন্নয়নের দাবি তুলেছে; অন্যদিকে বিরোধী কণ্ঠ সংকুচিত হয়েছে, ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হয়েছে, এবং রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা দুর্বল হয়েছে। চেথাম হাউস মনে করে, এই দ্বৈত বাস্তবতা উপেক্ষা করলে বাংলাদেশের সংকট বোঝা যাবে না। আওয়ামী লীগ শুধু একটি দল নয়; এটি একটি রাজনৈতিক কাঠামোর প্রতীক হয়ে উঠেছে। তাই দলটিকে রাজনৈতিক প্রক্রিয়া থেকে বাদ দেওয়া বা সম্পূর্ণ কোণঠাসা করা গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে না—বরং আরও দুর্বল করে। কারণ গণতন্ত্রের মূল শর্তই হলো অন্তর্ভুক্তি। বড় রাজনৈতিক শক্তিগুলোকে বাইরে রেখে কোনো

নির্বাচনই দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতা দিতে পারে না। চেথাম হাউসের বিশ্লেষণে এখানেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা রয়েছে: বাংলাদেশে এখন প্রতিযোগিতামূলক রাজনীতির বদলে চলছে প্রতিশোধের রাজনীতি। এক দল ক্ষমতায় এলে অন্য দলকে রাজনৈতিকভাবে নির্মূল করার প্রবণতা নতুন নয়। এই সংস্কৃতি গণতন্ত্রকে বিকৃত করে এবং রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয় হাতিয়ারে পরিণত করে। ফলে নির্বাচন আর পরিবর্তনের হাতিয়ার থাকে না—তা হয়ে ওঠে প্রতিহিংসার সূচনা। এই চক্র ভাঙা না গেলে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকট আরও গভীর হবে। কারণ এতে জনগণ আর রাজনীতিকে সমাধানের পথ হিসেবে দেখে না; তারা দেখে সংকটের উৎস হিসেবে। চেথাম হাউস একে বলছে “ডেমোক্র্যাটিক রিসেট”-এর অভাব—অর্থাৎ এমন একটি পুনর্গঠন, যেখানে রাজনীতি নতুন করে বিশ্বাসযোগ্য হয়ে উঠবে। তাদের মতে, শুধু নির্বাচন

নয়, দরকার রাজনৈতিক ব্যবস্থার মৌলিক সংস্কার। এই সংস্কারের তিনটি স্তম্ভ থাকা জরুরি। প্রথমত, অংশগ্রহণমূলক রাজনীতি। বড় সব রাজনৈতিক শক্তিকে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় আনার ব্যবস্থা না করলে আস্থা তৈরি হবে না। বর্জন নয়, অন্তর্ভুক্তিই গণতন্ত্রের ভিত্তি। দ্বিতীয়ত, প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা। নির্বাচন কমিশন, আদালত এবং প্রশাসন—এই প্রতিষ্ঠানগুলো যদি দলীয় প্রভাবমুক্ত না হয়, তবে কোনো নির্বাচনই বিশ্বাসযোগ্য হবে না। তৃতীয়ত, প্রতিশোধের রাজনীতি থেকে সরে আসা। ক্ষমতা পরিবর্তন যেন নতুন করে দমন-পীড়নের সূচনা না হয়, বরং ন্যায়বিচার ও সংস্কারের সূচনা হয়। এই তিনটি শর্ত পূরণ না হলে যেই দলই ক্ষমতায় আসুক, সংকট থেকে যাবে। চেথাম হাউস আরও মনে করিয়ে দেয়, বাংলাদেশের এই সংকট শুধু অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়। এটি দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতি, আঞ্চলিক

নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত। একটি অস্থির বাংলাদেশ মানে শুধু ঢাকার সমস্যা নয়—তা পুরো অঞ্চলের জন্য ঝুঁকি। তাই আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি এখন শুধু কে জিতল, সে প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নয়। প্রশ্নটি হলো—এই নির্বাচন কি সত্যিকারের রাজনৈতিক পুনর্গঠনের সূচনা করতে পারবে? বাংলাদেশের সমস্যা কোনো একক দলের নয়; এটি একটি ব্যবস্থার সমস্যা। শুধু আওয়ামী লীগ নয়, অন্যান্য দলও এই ব্যবস্থার অংশ। তাই সমাধানও হতে হবে কাঠামোগত, ব্যক্তিনির্ভর নয়। চেথাম হাউসের বার্তাটি কঠোর কিন্তু পরিষ্কার: বাংলাদেশ যদি আবারও এমন একটি নির্বাচন করে, যা আস্থার সংকট বাড়ায়, তবে দেশ কেবল সরকার বদলাবে—ভবিষ্যৎ বদলাবে না। এই মুহূর্তটি তাই সাধারণ কোনো নির্বাচন নয়। এটি একটি পরীক্ষার মুহূর্ত—বাংলাদেশ কি সত্যিকারের গণতান্ত্রিক

রাষ্ট্রে রূপান্তরিত হতে পারবে, নাকি ক্ষমতার একই চক্রে ঘুরপাক খাবে? এই প্রশ্নের উত্তরই নির্ধারণ করবে দেশের আগামী দশকের রাজনীতি।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
মব সন্ত্রাসের মহোৎসবে জুলাই দাঙ্গার ফসল ঘরে তুলছে বাংলাদেশ ইউনুসের অংশগ্রহনমূলক নির্বাচনের নমুনা দেখুন ফরিদপুরে হাসপাতালে বিএনপি’র সন্ত্রাসীদের হামলা বিএনপির মামলায় কারাবরণ; চিকিৎসা বিলম্বে কেটে ফেলতে হলো পেকুয়ার নাজিমুদ্দিনের পা নির্বাচনী কারসাজির নয়া কায়দা : ইউনুসের পঞ্চান্ন হাজার ভুয়া পর্যবেক্ষক বিএনপির চাঁদাবাজদের কাছে যেন আপন ভাইয়েরও নিস্তার নেই প্রবাসীদের ভোটাধিকার নাকি জামায়াতের ভোটব্যাংক সাজানোর খেলা? নির্বাচনে ৯৫ শতাংশ প্রবাসী সাড়া দেননি, কারাগারে ৯৩ শতাংশ ১৭ বছরে পেয়েছি মেট্রো ও মডেল মসজিদ, আর এখন দেখছি চোর ও অপদার্থের রাজত্ব’—দুই আমলের তফাত টেনে ভাইরাল ভিডিও বার্তা গণভোট নয়, সংবিধান ভাঙার নীলনকশা হাতিরঝিল এক্সপ্রেসওয়ের রড চুরির একচ্ছত্র আধিপত্য ‘মাওরা সায়মন’ সিন্ডিকেটের: নেপথ্যে ভেজাল তাহের ও কাইলা হৃদয় ভোটের আগে অরক্ষিত সীমান্ত: ‘জিরো টলারেন্স’-এর বুলিতে ঢাকা পড়ছে অস্ত্রের ঝনঝনানি “হ্যাঁ–না ভোটের ফল আগেই নির্ধারিত। এখন চলছে ভোটের নামে এক প্রহসন।” — জননেত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ভোট বয়কটের ডাক ৫ পেশাজীবী সংগঠনের নির্বাচনের নামে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর জীবনে ভয় ও আতঙ্ক সৃষ্টি করা কোনোভাবেই গণতান্ত্রিক চর্চা হতে পারে না যে জাতি তার মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান করতে ভুলে যায়, সেই জাতি নিজের জন্মকেই অস্বীকার করে ফাঁস হওয়া নথিতে ৬৪ ডিসির রাজনৈতিক পরিচয়: ‘নিরপেক্ষ’ প্রশাসনে দলীয়করণের ছায়া জেলখানার মাইকে ভেসে এল বাবা হওয়ার সংবাদ: সাবেক ছাত্রলীগ নেতার কারাজীবনের নির্মম আখ্যান পরিচয় ফাঁসের আতঙ্ক: পোস্টাল ব্যালটে ভোটদানে বিমুখ সরকারি চাকরিজীবী কর্মকর্তারা আসন্ন নির্বাচনকে ‘প্রহসন’ আখ্যা ভোট বর্জনের ডাক দিয়ে ৭০৭ আইনজীবীর বিবৃতি ‘প্রতিদ্বন্দ্বী দলকে আইনি কৌশলে মাঠের বাইরে রাখা গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক’: মাইকেল রুবিন