নির্বাচনে কালো টাকার দৌরাত্ম্য ঠেকাতে মাঠে নামছে দুদক – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬
     ৮:৩৮ পূর্বাহ্ণ

নির্বাচনে কালো টাকার দৌরাত্ম্য ঠেকাতে মাঠে নামছে দুদক

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬ | ৮:৩৮ 28 ভিউ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কালো টাকার দৌরাত্ম্য ঠেকাতে এবং প্রার্থীদের হলফনামায় নজর রাখতে এবার ‘আটঘাট বেঁধে’ মাঠে নামছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। পাশাপাশি দুর্নীতিবাজদের ভোট না দিতেও প্রচার চালাবে সংস্থাটি। এ লক্ষ্যে গত রোববার ১৫টি বিশেষ টাস্কফোর্স দল গঠন করা হয়েছে। প্রতিটি দলে দুদকের একজন উপপরিচালককে করা হয়েছে দলনেতা। ১৫ জন উপপরিচালকের নেতৃত্বে ১৫টি দলে রয়েছেন ৯০ জন সদস্য। প্রতিটি দলে দুজন সহকারী পরিচালক ও দুজন উপসহকারী পরিচালক রয়েছেন। এ ছাড়া প্রতি দলে একজন করে কনস্টেবল বা সাপোর্টিং স্টাফ রয়েছেন। নির্বাচন লক্ষ্য করে এই টাস্কফোর্স গঠন করা হলেও দুদকের অফিস আদেশে চলমান অনুসন্ধান ও তদন্ত কাজে গতিশীলতা আনয়নের কথা বলা

হয়েছে। রোববার জারি করা দুদকের এ-সংক্রান্ত অফিস আদেশে বলা হয়, ‘দুর্নীতি দমন কমিশনের ৩৫/২০২৫ নম্বর কমিশন সভার কার্যবিবরণীর আলোচ্যসূচি বিবিধ ৩(ক) ক্রমিকে বর্ণিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কমিশনের বিশেষ তদন্ত/মানি লন্ডারিং/অনুসন্ধান ও তদন্ত-১ এবং অনুসন্ধান ও তদন্ত-২ অনুবিভাগের আওতাধীন সব চলমান অনুসন্ধান কার্যক্রমের গতিশীলতা আনয়ন ও গুরুত্বপূর্ণ অনুসন্ধান দ্রুত নিষ্পত্তি করার লক্ষ্যে সব মহাপরিচালকের সঙ্গে আলোচনাক্রমে ১৫টি অনুসন্ধান টিম/টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। গঠিত ১৫টি অনুসন্ধান টিম/টাস্কফোর্স কমিশন কর্তৃক অনুমোদিত কার্যপরিধি অনুযায়ী কার্যসম্পাদন করবেন।’ জানতে চাইলে দুদকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘এই টাস্কফোর্স গঠনের ফলে দুর্নীতি দমন কমিশনের কাজের গতি বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে। পুরোনো আমলে অনুসন্ধান ও তদন্তে নতুনত্ব আসবে।’ তিনি বিষয়টি ব্যাখ্যা করে

বলেন, ‘আগে নতুন কোনো অনুসন্ধান বা মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দিলে তা ব্যক্তিকেন্দ্রিক দেওয়া হতো। দুদকের অনেক অফিসারের নামে অর্ধশত অনুসন্ধান ও তদন্ত ফাইল রয়েছে। কিন্তু এই টাস্কফোর্স গঠন করার ফলে এখন আর ব্যক্তিকে অনুসন্ধান ও তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হবে না। এখন দেওয়া হবে দলকে। ফলে কাজের গতি বাড়বে, দায়বদ্ধতা বাড়বে, হয়রানি কমবে ও সময় বাঁচবে।’ ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরেই এ টাস্কফোর্স গঠনের প্রক্রিয়া চলছিল। এই টাস্কফোর্স আসলে দুদকের সামগ্রিক অনুসন্ধান ও তদন্তে গতি আনয়নের লক্ষ্যে গঠন করা হয়েছে। নির্বাচনকালীন চলমান ইস্যু নিয়ে টাস্কফোর্সের কাজ করার সুযোগ রয়েছে। এর আগে আমরা দেখেছি—দুদক ঘটনা ঘটে যাওয়ার পরে তৎপর হতো। দুর্নীতি

হয়ে যাওয়ার পর দুর্নীতিবাজদের ধরতে কাজ করত। তবে এবার দুর্নীতিবাজরা যাতে সংসদ সদস্য না হতে পারে, সেটি নিয়ে কাজ করার সুযোগ রয়েছে দুদকের। এই টাস্কফোর্সের মাধ্যমে যারা দুর্নীতিবাজ, যাদের হলফনামায় সম্পদ বিবরণীতে মিথ্যা তথ্য প্রদান করা হয়েছে, তাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে পারলে সেটা হবে দুদকের বড় সফলতা।’ তবে নির্বাচনকালীন নির্বাচনকেন্দ্রিক কাজ করলেও টাস্কফোর্সের কাজ এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না বলেও জানান তিনি। টাস্কফোর্স গঠনের ফলে দুদকের অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি কমবে বলে মনে করেন সংস্থাটির আরেক শীর্ষ কর্মকর্তা। তিনি বলেন, একজন করে উপপরিচালকের নেতৃত্বে প্রতিটি দলে পাঁচজন অফিসার রয়েছেন। এ ছাড়া সাপোর্টিং স্টাফ হিসেবে রয়েছেন আরও একজন। ফলে দলে কোনো অসৎ

কর্মকর্তা থাকলেও অন্যদের কারণে তিনি সুবিধা করতে পারবেন না। বাকি কর্মকর্তারা সেটা মনিটরিং করতে পারবেন। এর ফলে দুর্নীতি দমন কমিশনের অভ্যন্তরীণ দুর্নীতির সুযোগ কমে যাবে, দুদকের কাজে স্বচ্ছতা আসবে। ফলে অযাচিত হয়রানিও কমবে। যেসব কর্মকর্তার নেতৃত্বে গঠন করা হয়েছে টাস্কফোর্স: বিশেষ টাস্কফোর্সের ১৫টি দলের নেতৃত্বে রয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের ১৫ জন উপপরিচালক। অনুসন্ধান ও তদন্ত শাখা-১-এর দলের নেতৃত্বে রয়েছেন উপপরিচালক মো. হাফিজুল ইসলাম ও মো. রাশেদুল ইসলাম। অনুসন্ধান ও তদন্ত শাখা-২-এর দলের নেতৃত্বে রয়েছেন উপপরিচালক মো. আতিকুর আলম। মানি লন্ডারিং শাখার দলের নেতৃত্বে রয়েছেন উপপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম, মো. মশিউর রহমান, আল-আমিন, তাহসিন মুনাবিল হক ও নেয়ামুল আহাসান গাজী। মানি লন্ডারিং

বা লিগ্যাল শাখার দলের নেতৃত্বে রয়েছেন উপপরিচালক মো. রওফুল ইসলাম। বিশেষ অনুসন্ধান ও তদন্তের জন্য গঠন করা হয়েছে আরও ছয়টি দল। এসব দলের নেতৃত্বে রয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের উপপরিচালক মো. জয়নাল আবেদীন, মো. জাহাঙ্গীর আলম, মোজাম্মেল হোসেন, এ কে এম মাহবুবুর রহমান, তানজীর হাসিব সরকার ও সিফাত উদ্দিন। নির্বাচনকালীন দুদকের কার্যক্রম নিয়ে সংস্থাটির চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আব্দুল মোমেন গণমাধ্যমে বলছেন, ‘সংসদ সদস্যদের বিরুদ্ধেই দুর্নীতির অভিযোগ বেশি আসে। তাদের কাজ হচ্ছে সংসদে; কিন্তু তারা যদি উন্নয়নের অর্থ নিয়ে টানাটানি শুরু করেন, তাহলে তো দুর্নীতির অভিযোগ তাদের বিরুদ্ধেই বেশি আসবে। আমরা আমাদের মতো কাজ করে যাচ্ছি। দুর্নীতিবাজদের মনোনয়ন ও নির্বাচনের সংস্কৃতি বন্ধ না

হলে সামগ্রিকভাবে দুর্নীতি বন্ধ করা সম্ভব নয়।’ সংসদ সদস্য প্রার্থীদের হলফনামায় নজর রাখার কথা জানিয়ে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমাদের অন্যান্য কাজ স্থগিত রেখে বা কমিয়ে হলেও আমরা নির্বাচনকেন্দ্রিক কাজ করতে চাই। তবে বাস্তবতা হলো—স্বল্প সময়ে দুদকের পক্ষে প্রতিটি হলফনামা অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে যাচাই করা কঠিন। তাই ইসির কাছে যদি কোনো ব্যক্তির সম্পদ বিবরণী ত্রুটিপূর্ণ মনে হয়, তারা সেটা আমাদের জানালে আমাদের পক্ষে যাচাই-বাছাই করা সহজ হবে। গণমাধ্যমে কোনো অসংগতি নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলে সেটা আমরা আমলে নিয়ে থাকি। এ ছাড়া সুনির্দিষ্ট কারও হলফনামার বিষয়ে আমাদের কাছে অভিযোগ এলেও সেটি আমরা খতিয়ে দেখব।’ আবদুল মোমেন বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য একটি ন্যায়নিষ্ঠ ও সুবিচারভিত্তিক রাষ্ট্র গঠন। আগামীদিনে যারা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেবেন, তাদের অবশ্যই ন্যায়নিষ্ঠ হতে হবে। আমরা চাই না, অপ্রদর্শিত সম্পদের মালিকরা আগামীদিনে রাষ্ট্রের শাসক হোক।’

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
মব সন্ত্রাসের মহোৎসবে জুলাই দাঙ্গার ফসল ঘরে তুলছে বাংলাদেশ ইউনুসের অংশগ্রহনমূলক নির্বাচনের নমুনা দেখুন ফরিদপুরে হাসপাতালে বিএনপি’র সন্ত্রাসীদের হামলা বিএনপির মামলায় কারাবরণ; চিকিৎসা বিলম্বে কেটে ফেলতে হলো পেকুয়ার নাজিমুদ্দিনের পা নির্বাচনী কারসাজির নয়া কায়দা : ইউনুসের পঞ্চান্ন হাজার ভুয়া পর্যবেক্ষক বিএনপির চাঁদাবাজদের কাছে যেন আপন ভাইয়েরও নিস্তার নেই প্রবাসীদের ভোটাধিকার নাকি জামায়াতের ভোটব্যাংক সাজানোর খেলা? নির্বাচনে ৯৫ শতাংশ প্রবাসী সাড়া দেননি, কারাগারে ৯৩ শতাংশ ১৭ বছরে পেয়েছি মেট্রো ও মডেল মসজিদ, আর এখন দেখছি চোর ও অপদার্থের রাজত্ব’—দুই আমলের তফাত টেনে ভাইরাল ভিডিও বার্তা গণভোট নয়, সংবিধান ভাঙার নীলনকশা হাতিরঝিল এক্সপ্রেসওয়ের রড চুরির একচ্ছত্র আধিপত্য ‘মাওরা সায়মন’ সিন্ডিকেটের: নেপথ্যে ভেজাল তাহের ও কাইলা হৃদয় ভোটের আগে অরক্ষিত সীমান্ত: ‘জিরো টলারেন্স’-এর বুলিতে ঢাকা পড়ছে অস্ত্রের ঝনঝনানি “হ্যাঁ–না ভোটের ফল আগেই নির্ধারিত। এখন চলছে ভোটের নামে এক প্রহসন।” — জননেত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ভোট বয়কটের ডাক ৫ পেশাজীবী সংগঠনের নির্বাচনের নামে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর জীবনে ভয় ও আতঙ্ক সৃষ্টি করা কোনোভাবেই গণতান্ত্রিক চর্চা হতে পারে না যে জাতি তার মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান করতে ভুলে যায়, সেই জাতি নিজের জন্মকেই অস্বীকার করে ফাঁস হওয়া নথিতে ৬৪ ডিসির রাজনৈতিক পরিচয়: ‘নিরপেক্ষ’ প্রশাসনে দলীয়করণের ছায়া জেলখানার মাইকে ভেসে এল বাবা হওয়ার সংবাদ: সাবেক ছাত্রলীগ নেতার কারাজীবনের নির্মম আখ্যান পরিচয় ফাঁসের আতঙ্ক: পোস্টাল ব্যালটে ভোটদানে বিমুখ সরকারি চাকরিজীবী কর্মকর্তারা আসন্ন নির্বাচনকে ‘প্রহসন’ আখ্যা ভোট বর্জনের ডাক দিয়ে ৭০৭ আইনজীবীর বিবৃতি ‘প্রতিদ্বন্দ্বী দলকে আইনি কৌশলে মাঠের বাইরে রাখা গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক’: মাইকেল রুবিন