দৃশ্যমান উন্নয়ন বনাম দুর্নীতির গল্প – ইউ এস বাংলা নিউজ




মোহাম্মদ আলী আরাফাত
আপডেটঃ ১৬ জানুয়ারি, ২০২৬
     ৫:৩০ অপরাহ্ণ

দৃশ্যমান উন্নয়ন বনাম দুর্নীতির গল্প

মোহাম্মদ আলী আরাফাত
আপডেটঃ ১৬ জানুয়ারি, ২০২৬ | ৫:৩০ 59 ভিউ
একটা খুব সাধারণ যুক্তির কথা বলি। পৃথিবীর বহু দেশে প্রাকৃতিক সম্পদ আছে, কিন্তু তারপরও তারা উন্নয়ন করতে পারেনি; দেশের জনগণের জীবনে কোনো মানোন্নয়ন হয়নি। খেয়াল করে দেখুন, পৃথিবীর সব দেশ কিন্তু একই রকম উন্নত নয়—এর কারণ কী? কারণ হলো, একটি দেশের সরকার কীভাবে সেই দেশ পরিচালনা করছে, তার ওপরই বিষয়টি নির্ভর করে। একটি দেশের সরকার তার বিভিন্ন নীতিগত সিদ্ধান্তের মাধ্যমেই সেই দেশে সম্পদ উৎপাদন করে এবং সেই সম্পদের যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করে। শেখ হাসিনা সরকার সাড়ে পনেরো বছরে বাংলাদেশের সম্পদ বৃদ্ধি করেছে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে। এটি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পরিসংখ্যান দ্বারা প্রমাণিত। এরপর সেই সম্পদ ব্যবহার করেই

দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন করা হয়েছে। মনে রাখতে হবে, এই সম্পদ কিন্তু অসীম নয়। বৃদ্ধির পরেও সম্পদের একটি সীমাবদ্ধতা থেকেই যায়। যৌক্তিক ইকুয়েশন হলো—এই সীমাবদ্ধ সম্পদের মাধ্যমেই উন্নয়ন করতে হয়, এবং দুর্নীতি হলেও তা এই সম্পদের মধ্যেই করতে হয়। সীমাবদ্ধ সম্পদের বাইরে কিছুই করা সম্ভব নয়। কাজেই, সীমাবদ্ধ সম্পদের সিংহভাগ যদি উন্নয়নের পেছনে ব্যয় হয়, তাহলে এই সীমাবদ্ধ সম্পদের বাইরে দুর্নীতি হয়েছে—এমন দাবি যৌক্তিক ও গাণিতিকভাবে করার কোনো সুযোগ নেই। একটি উদাহরণ দেই। ধরুন, কোনো একটি প্রকল্পে প্রকল্প পরিচালকের কাছে ২০০ কোটি টাকার বাজেট বরাদ্দ করা হয়েছে। তার মানে, এই সুনির্দিষ্ট প্রকল্পের মোট সম্পদের পরিমাণ ২০০ কোটি টাকা। প্রকল্প পরিচালক যদি প্রকল্পের বাস্তবায়ন

করতে চান বা দুর্নীতি করতে চান—দুই ক্ষেত্রেই তার সর্বোচ্চ সীমা হলো এই ২০০ কোটি টাকা। এখন, যদি প্রকল্প পরিচালক প্রকল্পের বাস্তবায়নের জন্য ১৯৯ কোটি টাকা ব্যয় করে থাকেন এবং প্রকল্পের বাস্তবায়ন দৃশ্যমান হয়ে থাকে, তাহলে কি বলার কোনো সুযোগ আছে যে তিনি ৩০০ কোটি টাকার দুর্নীতি করেছেন? যৌক্তিকভাবে তা বলার কোনো সুযোগ নেই। কারণ, প্রথমত—মোট বরাদ্দকৃত সম্পদের চেয়ে বেশি দুর্নীতি করা সম্ভব নয়। দ্বিতীয়ত—প্রকল্পের দৃশ্যমান বাস্তবায়ন দেখলেই বোঝা যায় যে, যখন সম্পদের সিংহভাগ প্রকল্প বাস্তবায়নেই ব্যয় হয়েছে, তখন সেখানে বিশাল অঙ্কের দুর্নীতি করা কার্যত অসম্ভব। তবে অপপ্রচারের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে অনেক মিথ্যা গল্প বাজারে ছড়ানো যেতে পারে। কিছু মানুষ তা বিশ্বাসও করতে পারে। কিন্তু যুক্তির

মাপকাঠিতে এসব গল্প টিকবে না। শেখ হাসিনা সরকারের উন্নয়নগুলো সবই দৃশ্যমান। কিন্তু তার সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগগুলোর কোনোটিই দৃশ্যমান নয়। দুর্নীতির অভিযোগগুলো গল্প আকারে প্রচার করা হয়েছে এবং কিছু মানুষকে অন্ধ বিশ্বাসের মতো করে বিশ্বাস করানো হয়েছে। একটি প্রশ্ন কেউ করে না—এত দুর্নীতি হয়ে থাকলে এই দৃশ্যমান উন্নয়নগুলো কীভাবে সম্ভব হলো? খুব সাধারণ যুক্তিবোধ অনেকের মধ্যে কাজ করে না। সম্পদের পরিমাণ তো সীমিত—এই সীমিত সম্পদ দিয়েই তো এত উন্নয়ন হয়েছে। তাহলে একই সঙ্গে এত দুর্নীতি কীভাবে সম্ভব? অনেকেই ভুলে যান যে, যে সরকারের আমলে বিশাল দুর্নীতি হয়, সেই সরকারের আমলে এত উন্নয়ন সম্ভব হয় না। শেখ হাসিনা সরকারের আমলের এই দৃশ্যমান উন্নয়নগুলোই

প্রমাণ করে যে দুর্নীতির যে অদৃশ্য গল্পগুলো বলা হয়, সেগুলো যৌক্তিকভাবেই সত্য হতে পারে না।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
“হ্যাঁ–না ভোটের ফল আগেই নির্ধারিত। এখন চলছে ভোটের নামে এক প্রহসন।” — জননেত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ভোট বয়কটের ডাক ৫ পেশাজীবী সংগঠনের নির্বাচনের নামে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর জীবনে ভয় ও আতঙ্ক সৃষ্টি করা কোনোভাবেই গণতান্ত্রিক চর্চা হতে পারে না যে জাতি তার মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান করতে ভুলে যায়, সেই জাতি নিজের জন্মকেই অস্বীকার করে ফাঁস হওয়া নথিতে ৬৪ ডিসির রাজনৈতিক পরিচয়: ‘নিরপেক্ষ’ প্রশাসনে দলীয়করণের ছায়া জেলখানার মাইকে ভেসে এল বাবা হওয়ার সংবাদ: সাবেক ছাত্রলীগ নেতার কারাজীবনের নির্মম আখ্যান পরিচয় ফাঁসের আতঙ্ক: পোস্টাল ব্যালটে ভোটদানে বিমুখ সরকারি চাকরিজীবী কর্মকর্তারা আসন্ন নির্বাচনকে ‘প্রহসন’ আখ্যা ভোট বর্জনের ডাক দিয়ে ৭০৭ আইনজীবীর বিবৃতি ‘প্রতিদ্বন্দ্বী দলকে আইনি কৌশলে মাঠের বাইরে রাখা গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক’: মাইকেল রুবিন একাত্তর থেকে আবার৭১ কেমন আছে বাংলাদেশ? নির্বাচন বৈধতা দিতে এক ব্যক্তির সাইনবোর্ডসর্বস্ব কাগুজে প্রতিষ্ঠান ‘পাশা’, একাই সাপ্লাই দিচ্ছে ১০ হাজার পর্যবেক্ষক! উপদেষ্টা আদিলুর ও শিক্ষা উপদেষ্টা আবরারের পারিবারিক বলয়ে নির্বাচন পর্যবেক্ষক তালিকা গণভোট নয়, এটা সংবিধান ধ্বংসের আয়োজন হাজার হাজার প্রোফাইল ছবিতে একটাই কথা—“নো বোট, নো ভোট।” ফাঁস হওয়া নথিতে ৬৪ ডিসির রাজনৈতিক পরিচয়: ‘নিরপেক্ষ’ প্রশাসনে দলীয়করণের ছায়া আইনের শাসনের নির্লজ্জ চিত্র: ভুয়া মামলা ও আতঙ্কে বন্দী বাংলাদেশ বাংলাদেশের ১২ ফেব্রুয়ারির প্রহসনের নির্বাচন ও গণভোট বর্জনের আহবান জানিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশীরা ইউনূস সাহেব ঈদ করবেন কোথায়! Plebiscite or Refounding? The Constitutional Limits of the Referendum in Bangladesh Former Bangladeshi Minister Ramesh Chandra Sen Dies in Custody