দল বাঁচাতে হলে দলকেই বদলাতে হবে,আদর্শে ফেরার চ্যালেঞ্জে আওয়ামী লীগ – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ১০ জানুয়ারি, ২০২৬
     ৮:৫৯ পূর্বাহ্ণ

দল বাঁচাতে হলে দলকেই বদলাতে হবে,আদর্শে ফেরার চ্যালেঞ্জে আওয়ামী লীগ

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১০ জানুয়ারি, ২০২৬ | ৮:৫৯ 60 ভিউ
স্টাফ রিপোর্টার । আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের ইতিহাসের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত একটি রাজনৈতিক দল। ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও রাষ্ট্রগঠনের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে এই দলের ভূমিকা অনস্বীকার্য। কিন্তু ইতিহাসের গৌরবই ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা নয়—বিশেষ করে যখন দলীয় কাঠামোর ভেতরে আদর্শচ্যুতি, সুবিধাবাদ, পরিবারতন্ত্র ও জনবিচ্ছিন্নতা একসঙ্গে শেকড় গাড়ে। আজকের বাস্তবতা হলো, দলের ভেতরে এমন বহু নেতা ও প্রভাবশালী ব্যক্তি আছেন যাদের শরীর যেমন চর্বিতে ভারী, তেমনি চরিত্রও ক্ষমতা, অর্থ ও সুবিধাভোগিতার ভারে নতজানু। এদের একটি বড় অংশ অসামাজিক আচরণে অভ্যস্ত, লোপাট ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত এবং রাজনীতিকে জনগণের সেবার বদলে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সম্পদ আহরণের হাতিয়ার বানিয়েছে। এই সুবিধাভোগী ও লোপাটকারী শ্রেণি যতদিন দলে প্রভাবশালী

থাকবে, ততদিন আওয়ামী লীগের আদর্শিক ভিত দুর্বলই থাকবে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরেকটি মারাত্মক ব্যাধি—পরিবারতন্ত্র। যোগ্যতা, ত্যাগ ও রাজনৈতিক দক্ষতার বদলে আত্মীয়তা, পারিবারিক পরিচয় ও গোষ্ঠীগত আনুগত্য যখন নেতৃত্ব নির্ধারণের মাপকাঠি হয়ে ওঠে, তখন দল অনিবার্যভাবে স্থবির হয়ে পড়ে। পরিবারতন্ত্র রাজনৈতিক কর্মীদের নিরুৎসাহিত করে, ত্যাগীদের কোণঠাসা করে এবং রাজনীতিকে একটি বন্ধ বৃত্তে পরিণত করে। সময়ের দাবি তাই আরও স্পষ্ট ও কঠোর। আওয়ামী লীগকে একদিকে ভুঁড়ি-মোটা, জনবিচ্ছিন্ন ও ক্ষমতালোভী নেতৃত্বকে পরিহার করতে হবে, অন্যদিকে অসামাজিক, লোপাটকারী ও সুবিধাভোগী অপশক্তিকে দল থেকে নির্মমভাবে বাদ দিতে হবে। একই সঙ্গে পরিবারতন্ত্রের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে দলের ভেতরে প্রাতিষ্ঠানিক রাজনৈতিক চর্চা গড়ে তুলতে হবে। রাজনৈতিক চর্চা মানে শুধু

সভা-সমাবেশ নয়—এর অর্থ মতভেদ সহ্য করার সংস্কৃতি, নেতৃত্বের জবাবদিহি, তৃণমূল থেকে নেতৃত্ব উঠে আসার সুযোগ এবং নিয়মিত আদর্শিক আলোচনা। যেখানে প্রশ্ন করা অপরাধ নয়, বরং রাজনৈতিক পরিপক্বতার লক্ষণ হিসেবে বিবেচিত হবে। দলের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে খাঁটি মুজিবপ্রেমী, জনগণপ্রেমী ও দেশপ্রেমী কর্মীদের ওপর। সংখ্যা খুব বড় না হলেও চলবে—পাঁচ লাখ সৎ, ত্যাগী ও মাঠের সঙ্গে যুক্ত কর্মীই একটি রাজনৈতিক দলকে নতুন করে প্রাণ দিতে পারে। যারা রাজনীতিকে পেশা নয়, দায়িত্ব হিসেবে দেখবে। যারা ক্ষমতার কাছে নয়, আদর্শের কাছে দায়বদ্ধ থাকবে। নচেৎ পরিণতি হবে অনিবার্য। জনগণ মুখ ফিরিয়ে নেবে, ত্যাগী কর্মীরা হতাশ হবে, এবং আওয়ামী লীগ ধীরে ধীরে একটি ঐতিহাসিক নামমাত্র সংগঠনে পরিণত হবে—যার

শিকড় আছে অতীতে, কিন্তু প্রাণ নেই বর্তমান ও ভবিষ্যতে। আওয়ামী লীগের সামনে এখন আর কোনো বিকল্প পথ নেই। আত্মশুদ্ধি, আদর্শে ফেরা ও রাজনৈতিক সংস্কৃতি পুনর্গঠনের পথ—অথবা পরিবারতন্ত্র, সুবিধাভোগী ও লোপাটকারীদের আশ্রয়ে থেকে ক্রমশ জনসমর্থন হারানোর পথ। ইতিহাস পরিষ্কারভাবে বলে দেয়—সময় কাউকেই ছাড় দেয় না।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
মব সন্ত্রাসের মহোৎসবে জুলাই দাঙ্গার ফসল ঘরে তুলছে বাংলাদেশ ইউনুসের অংশগ্রহনমূলক নির্বাচনের নমুনা দেখুন ফরিদপুরে হাসপাতালে বিএনপি’র সন্ত্রাসীদের হামলা বিএনপির মামলায় কারাবরণ; চিকিৎসা বিলম্বে কেটে ফেলতে হলো পেকুয়ার নাজিমুদ্দিনের পা নির্বাচনী কারসাজির নয়া কায়দা : ইউনুসের পঞ্চান্ন হাজার ভুয়া পর্যবেক্ষক বিএনপির চাঁদাবাজদের কাছে যেন আপন ভাইয়েরও নিস্তার নেই প্রবাসীদের ভোটাধিকার নাকি জামায়াতের ভোটব্যাংক সাজানোর খেলা? নির্বাচনে ৯৫ শতাংশ প্রবাসী সাড়া দেননি, কারাগারে ৯৩ শতাংশ ১৭ বছরে পেয়েছি মেট্রো ও মডেল মসজিদ, আর এখন দেখছি চোর ও অপদার্থের রাজত্ব’—দুই আমলের তফাত টেনে ভাইরাল ভিডিও বার্তা গণভোট নয়, সংবিধান ভাঙার নীলনকশা হাতিরঝিল এক্সপ্রেসওয়ের রড চুরির একচ্ছত্র আধিপত্য ‘মাওরা সায়মন’ সিন্ডিকেটের: নেপথ্যে ভেজাল তাহের ও কাইলা হৃদয় ভোটের আগে অরক্ষিত সীমান্ত: ‘জিরো টলারেন্স’-এর বুলিতে ঢাকা পড়ছে অস্ত্রের ঝনঝনানি “হ্যাঁ–না ভোটের ফল আগেই নির্ধারিত। এখন চলছে ভোটের নামে এক প্রহসন।” — জননেত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ভোট বয়কটের ডাক ৫ পেশাজীবী সংগঠনের নির্বাচনের নামে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর জীবনে ভয় ও আতঙ্ক সৃষ্টি করা কোনোভাবেই গণতান্ত্রিক চর্চা হতে পারে না যে জাতি তার মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান করতে ভুলে যায়, সেই জাতি নিজের জন্মকেই অস্বীকার করে ফাঁস হওয়া নথিতে ৬৪ ডিসির রাজনৈতিক পরিচয়: ‘নিরপেক্ষ’ প্রশাসনে দলীয়করণের ছায়া জেলখানার মাইকে ভেসে এল বাবা হওয়ার সংবাদ: সাবেক ছাত্রলীগ নেতার কারাজীবনের নির্মম আখ্যান পরিচয় ফাঁসের আতঙ্ক: পোস্টাল ব্যালটে ভোটদানে বিমুখ সরকারি চাকরিজীবী কর্মকর্তারা আসন্ন নির্বাচনকে ‘প্রহসন’ আখ্যা ভোট বর্জনের ডাক দিয়ে ৭০৭ আইনজীবীর বিবৃতি ‘প্রতিদ্বন্দ্বী দলকে আইনি কৌশলে মাঠের বাইরে রাখা গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক’: মাইকেল রুবিন