তেল নিয়ে তুঘলকি আর কত! – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫
     ১০:০৪ পূর্বাহ্ণ

তেল নিয়ে তুঘলকি আর কত!

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ | ১০:০৪ 236 ভিউ
দিন তিনেক আগের কথা। কিছু সদাই কিনতে বাসার কাছেই রাস্তার মোড়ের মুদির দোকানে যেতে হয়েছিল। বাসা থেকে বলে দেওয়া হয়েছিল, অন্যান্য সদাইয়ের সঙ্গে সয়াবিন তেলের কথাও। কিন্তু দোকানিকে সেই বস্তুটির বিষয়ে জিজ্ঞেস করতেই মিলল সাফ জবাব। কানে ঢুকল—‘সয়াবিন তেলের স’ও নাই’! দেশের বাজারে সয়াবিন তেল নিয়ে তুঘলকি কারবার বেশ কিছুদিন ধরেই চলছে। মাঝে একটা বিরতি পড়েছিল। তবে এবার একেবারে প্রচণ্ড ধারাবাহিক। দোকানে তেলের খোঁজে যাওয়ার আগে এক প্রতিবেশী জানিয়েছিলেন, তিনি নাকি পুরো এলাকা ঘুরেও সয়াবিন তেলের ১ লিটারের কোনো বোতলের দেখা পাননি। শেষে প্রায় ৫০ টাকা রিকশাভাড়া দিয়ে এলাকার বাইরের এক বাজার থেকে দুটো বোতল পেয়েছেন। তবে সেই দুটো বোতল আবার

আলাদা আলাদা দোকান থেকে কিনতে হয়েছে এবং তাতে পরিবারের একাধিক ব্যক্তিকে ঘুরতেও হয়েছে ঢের। এমন অভিজ্ঞতা শোনার পরও নিজের খোঁজ করতে যাওয়া। কারণ রান্নায় সয়াবিন তেল লাগে। এ দেশের একেবারে সাধারণ পরিবারেও পেটে খাবার দিতে হলে এই বস্তুটি কিনতে হয়। একেবারেই রোজকার দ্রব্য এই সয়াবিন তেল। কিন্তু সেটি কিনতে গিয়েই এবার একেবারে নাকানিচুবানি খেতে হচ্ছে দেশের মানুষকে। অন্যদের অভিজ্ঞতা শুনে সত্য-মিথ্যা যাচাই করতে গিয়ে এলাকার তিনটি দোকান ঘুরেও একটি সোনালি রঙের বোতলও যখন মিলল না, তখন মনে হতে থাকল–তবে কি এ দেশে সয়াবিন তেল সোনার হরিণ হয়ে যাচ্ছে? সংবাদমাধ্যমের সাম্প্রতিক খবরে আজ শুক্রবার জানা গেছে, রাজধানীর বাজারগুলোয় সয়াবিন তেলের সংকট কাটেনি। রাজধানীর

বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। বোতলজাত সয়াবিন তেলের সংকট এখনও না কাটায় ক্ষুব্ধ ক্রেতারা। ময়দা-আটাসহ পণ্য না কিনলে সয়াবিন তেল দিচ্ছে না কোম্পানির প্রতিনিধিরা, এমন অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ীরা। রাজধানীর বাইরে বরিশাল, খুলনা, সিলেট, যশোর, চাঁদপুর, হিলি প্রভৃতি এলাকাতেও একই চিত্র দেখা গেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, কৃত্রিম সংকটের কারণে চাইলেই দোকানে মিলছে না বোতলজাত সয়াবিন তেল। লিটার প্রতি ১৭৫ টাকা হলেও অনেক জায়গায় খোলা সয়াবিন তেলই বিক্রি হচ্ছে এর চেয়ে বেশি দামে। যেমন, খুলনার বাজারে খোলা সয়াবিন তেল প্রতি লিটারে বিক্রি হচ্ছে দুই শ টাকায়। আর কয়েক দোকান ঘুরলেও মিলছে না বোতালজাত তেল। আর যেসব দোকানে মিলছে সেখানেও কিনতে হচ্ছে

অন্য কোম্পানির পণ্য। দোকানিদের অভিযোগ, বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর তেলের সঙ্গে একই কোম্পানির চাল-আটা-ডাল ও মসলা না নিলে মিলছে না বোতলজাত সয়াবিন তেল। এই অবস্থা চলতে থাকলে রমজানে সংকট আরও বাড়ার শঙ্কা ব্যবসায়ীদের। এ থেকেই বোঝা যাচ্ছে যে, সয়াবিন তেল নিয়ে এ দেশের বাজারে আসলে যাচ্ছেতাই হচ্ছে। ক্রেতা ও ভোক্তাদের যেমন অনেক ক্ষেত্রে বেশি টাকা অন্যায্যভাবে খরচ করতে হচ্ছে, তেমনি খুঁজতে গিয়ে ভোগান্তিও পোহাতে হচ্ছে। সংবাদমাধ্যমের খবরেই জানা যাচ্ছে যে, অনেক জায়গায় সয়াবিন তেল কিনতে হলে বাধ্যতামূলকভাবে অন্য পণ্য কেনার শর্ত মেনে নিতে হচ্ছে। ফলে ভোক্তাদের গলায় একপ্রকারের ছুরি ঠেকিয়ে ব্ল্যাকমেইল করা হচ্ছে বললে অত্যুক্তি হয় না। অথচ এমন কোনো নিয়ম কিন্তু কোনো

বাজারব্যবস্থায় থাকতে পারে না। এর আগেও সয়াবিন তেল এমন নাকানিচুবানি এ দেশের মানুষ খেয়েছে। আগের সরকারের আমলেই একবার ঈদের সময় একেবারে ভোজবাজির মতো বাজার থেকে অদৃশ্য হয়ে গিয়েছিল সয়াবিন তেল। তখন আবার এই পণ্য ফিরে এসেছিল সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের কিছু দাবি মেনে নেওয়ার পর। অর্থাৎ, সয়াবিন তেল নিয়ে শুধু দেশের মানুষ নয়, বরং দেশের সরকারকেও নাকানিচুবানি খাওয়ানো হয়েছে আগেও। তার অর্থ হলো, এই পণ্যটি নিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীদের একটি চক্র বেশ শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। এটি আগেও যেমন সক্রিয় ছিল, সরকারের পরিবর্তনের পরও তেমনি আছে। অথচ একই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি হওয়ার পরও সরকারি নীতিনির্ধারণী প্রতিষ্ঠানগুলো যেন কিছু দেখেও দেখছে না, শুনেও শুনছে না।

সরকারেরই কর্তব্য, যে কোনো অসাধু চক্রকে পরাভূত করা এবং আইনের সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করে জনগণকে ভোগান্তি থেকে মুক্তি দেওয়া। কিন্তু কর্তৃপক্ষ জাতীয় সকল ব্যক্তিরাই কেন জানি কেবলই ‘নীতিবাক্য’ শুনিয়েই দায় সারছেন! তারা বলছেন যে, এমনটা হওয়া উচিত নয়। কিন্তু পরিস্থিতির সুনিয়ন্ত্রণ আর মিলছে না। তাহলে আর লাভটা কী! বিপদে আছে কেবল সাধারণ জনতা। তারা কেবলই এক দোকান থেকে অন্য দোকানে ঘুরছে এক বোতল সয়াবিন তেলের জন্য। জনতার সময় ও অর্থক্ষয় হচ্ছে, হচ্ছে ভোগান্তিও। সবচেয়ে দুঃখের বিষয়টি হলো, মাথা পেতে নিতে হচ্ছে এক ধরনের অপমান। যখন আপনাকে এক বোতল সয়াবিন তেল পেতে বাধ্য হয়ে অন্যান্য পণ্যও কিনতে হবে, তখন আপনি এক ধরনের

অসহায় আত্মসমর্পণের অনুভূতি পাবেন। এটি আদতে রাহাজানির মতো একটি অপরাধের সামনে দাঁড়িয়ে মাথা নিচু করে তা মেনে নেওয়ার মতো বিষয়। সাধারণ মানুষের টাকা আসলে সুপরিকল্পিতভাবে ছিনতাই করছে একটি চক্র। অথচ, তার বিচারের বদলে মিলছে না ন্যূনতম প্রতিরোধ বা প্রতিকারও। সবশেষে তাই নীতিনির্ধারকদের কাছে প্রশ্ন একটাই। দেশের বাজারে সয়াবিন তেল নিয়ে তুঘলকি চলবে আর কত দিন? সঠিক উত্তরটি পেলে সাধারণ জনতার অংশ হিসেবে অপমান ও ভোগান্তি সহ্য করার সময়সীমা সম্পর্কে অবগত থাকা যেত আর কি! মানসিক প্রস্তুতিরও তো একটা ব্যাপার আছে! লেখক: অর্ণব সান্যাল, উপবার্তা সম্পাদক, ডিজিটাল বিভাগ, ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশন

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
জুলাইয়ের দাঙ্গা থেকে জামায়াততন্ত্র: একটি ক্যুয়ের ময়নাতদন্ত যেভাবে ইউনুসের সংস্কারের ঠ্যালায় বাংলাদেশ সিঙ্গাপুর হতে গিয়ে সিসিমপুর হয়ে গেলো! ইউনূসের মেটিকুলাস ডিজাইনে এবার ঝরল জামায়াত নেতার প্রাণ ইতিহাসের অন্ধকার, ইউনুস সরকারের ধ্বংসযজ্ঞ দোজখের ভয় দেখিয়ে ভোট আদায়ের খেলা: জামায়াত-বিএনপির নির্বাচনী ধর্মব্যবসা এখন প্রকাশ্যে শেরপুরের ঘটনায় নির্বাচনী ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে: জামায়াতের আমির গতবছর সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা ৫২২টি, দাবি বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নারীমুক্তির মুখোশ পরা ইউনুসের আসল চেহারা ১৮-এর নির্বাচনে অনিয়ম আমরা চাইনি, প্রশাসনের অতিউৎসাহীরা করেছে: সজীব ওয়াজেদ জয় চট্টগ্রাম বন্দর ও সেন্ট মার্টিনের দখল নেবার পটভূমি তৈরি শুরু চট্টগ্রাম নৌঘাঁটিতে মার্কিন নিরাপত্তা উপদেষ্টার ‘রহস্যজনক’ পরিদর্শন: জাতীয় নিরাপত্তার স্পর্শকাতর তথ্য প্রকাশ নিয়ে প্রশ্ন গ্যাস সংকটে লাখো মানুষের জীবন-জীবিকা হুমকিতে : ইউনুসের অদক্ষতার মাসুল গুনছে সাধারণ মানুষ “ড. মুহাম্মদ ইউনূস জীবনে কোনদিন ট্যাক্স দিয়েছে? জিজ্ঞেস করেন! ট্যাক্স ফাঁকি দেওয়া— এটা সে খুব ভালো জানে” –জননেত্রী শেখ হাসিনা Bangladesh’s ousted leader Hasina denounces the upcoming election from her exile in India The Achievements of Fascist Yunus: Theft, Robbery, Murder “দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, গ্যাসের দাম বৃদ্ধি, নিরাপত্তা ঝুঁকিতে বাংলাদেশের মানুষ; কিন্তু বলবে কে? সত্য কথা বললে জেলে যেতে হয়” – জনতার ক্ষোভ বাংলাদেশ : বাতাসে এখন শুধু লাশের গন্ধ লুট হওয়া হাজার অস্ত্র এখন বিএনপি-জামাতের সন্ত্রাসীদের হাতে : নির্বাচনের আগে রক্তস্নাত বাংলাদেশ, নির্বিকার সুদখোর ইউনূসের মূল লক্ষ্য কি? Bangladesh: Power Bought With Blood তারেক রহমানের ‘অসম্ভব’ তত্ত্ব ভুল প্রমাণ করে শেখ হাসিনার হাত ধরেই আলোকিত বাংলাদেশ