ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
শত কোটি টাকার ইউনিফর্ম প্রকল্পে সিন্ডিকেট ও অনিয়মের অভিযোগ, পুরোনো পোশাকে ফিরছে পুলিশ!
সংস্কারের নামে ৬৫ প্রকল্পে ৮০ হাজার কোটি টাকা অস্বাভাবিক ব্যয় বাড়িয়েছে ইউনূস সরকার: বরাদ্দ লোপাটের অভিযোগ
সিপিডির সংবাদ সম্মেলন: মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি ‘চরম বৈষম্যমূলক’, বাতিলের আহ্বান; জাপানের ইপিএ চুক্তি পুনর্বিবেচনার দাবি
১০০% বিদ্যুৎ সক্ষমতার দেশে জ্বালানি সংকট ও বিপুল বকেয়া: বিদ্যুৎমন্ত্রীর ভাষ্যে ইউনূস সরকারের অব্যবস্থাপনা-ব্যর্থতা
‘পুলিশ মারা হবে, ম্যাসাকার হবে—ড. ইউনূস আগেই জানতেন’, দায় এড়াতেই দেরিতে দেশে ফেরেন তিনি: শামীম হায়দার পাটোয়ারী
আবারো কারাগারে মৃত্যুর মিছিল: বিনা বিচারে মারা গেলেন দুমকি ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শফিক
ড. ইউনূসকে ‘লোভী’ ও ‘অপদার্থ’ আখ্যা দিলেন রনি, বিদায়ের পেছনে আমেরিকার হাত থাকার দাবি
তিন গোয়েন্দার স্রষ্টা রকিব হাসানের বিদায়: কয়েক প্রজন্মের শৈশব-কৈশোরের কল্পলোকের রুপকারের প্রস্থান
বাংলাদেশের সাহিত্যজগতে একটি অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি হয়েছে। জনপ্রিয় কিশোর গোয়েন্দা সিরিজ ‘তিন গোয়েন্দা’র স্রষ্টা রকিব হাসান আর নেই।
বুধবার বিকেল ৪টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডি গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র হাসপাতালে ডায়ালাইসিস চলাকালীন হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বয়স্ক বার্ধক্যজনিত জটিলতায় কিছুদিন ধরে ভুগছিলেন তিনি, বিশেষ করে দুটি কিডনির বিকল হওয়ায় সপ্তাহে দু’দিন নিয়মিত ডায়ালাইসিস নিতেন।
মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন সেবা প্রকাশনীর উপদেষ্টা মাসুমা মায়মূর, যিনি ফেসবুকে পোস্ট করে বলেছেন, “তিন গোয়েন্দা এবং সেবা প্রকাশনীর পাঠকদের জানাই যে, রকিব হাসান আর নেই।”
রকিব হাসানের মৃত্যুতে সাহিত্যপ্রেমী, বিশেষ করে কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার লেখা ‘তিন গোয়েন্দা’ সিরিজ কেবল গোয়েন্দা কাহিনি নয়,
বরং কয়েক প্রজন্মের শৈশব-কৈশোরের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই সিরিজের মাধ্যমে হাজারো যুবক-যুবতী রহস্যের জগতে প্রবেশ করেছে, যা তাদের কল্পনাশক্তিকে উজ্জীবিত করেছে। সেবা প্রকাশনীর সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল; এখানেই ‘তিন গোয়েন্দা’র ১৬০টি বই প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া তিনি কমপক্ষে ৩০টি বই অনুবাদ করেছেন, যা বাংলা সাহিত্যে থ্রিলারের নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে। ১৯৫০ সালের ১২ ডিসেম্বর কুমিল্লায় জন্মগ্রহণ করেন রকিব হাসান। বাবার চাকরির কারণে শৈশব কেটেছে ফেনীতে, যেখান থেকে তিনি স্কুলজীবন শেষ করে ভর্তি হন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজে। এসএসসি ও এইচএসসি ফেনী থেকে এবং বিএসসি আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ থেকে সম্পন্ন করেন। পড়াশোনা শেষে বিভিন্ন চাকরিতে যোগ দিলেও বাঁধাধরা অফিসজীবন তার মনের সাথে মিলেনি। রহস্যপত্রিকার সহকারী
সম্পাদক হিসেবে কাজ করার সময় থেকেই লেখালেখির প্রতি তার আকর্ষণ জন্ম নেয়। অবশেষে সব ছেড়ে লেখকের পথ বেছে নেন তিনি। প্রথম বই প্রকাশিত হয় ১৯৭৭ সালে ছদ্মনামে, কিন্তু স্বনামধন্য হয়ে ওঠেন ‘তিন গোয়েন্দা’ সিরিজের মাধ্যমে। মূলত রবার্ট আর্থারের ‘থ্রি ইনভেস্টিগেটরস’ সিরিজ অবলম্বনে এটি শুরু হয়, কিন্তু রকিব হাসানের অসাধারণ লেখনশৈলীতে এটি পেয়েছে সম্পূর্ণ বাংলাদেশী স্বাদ। জুপিটার জো, পিট ক্রেন ও ববস আরোয়ান—কিশোর পাশা, রবিন মিলফোর্ড, মুসা আমান এই তিন তরুণ গোয়েন্দার অ্যাডভেঞ্চার কাহিনিগুলোতে রহস্য, উত্তেজনা এবং বন্ধুত্বের মিশ্রণ এমনভাবে ফুটে উঠেছে যে, এটি কিশোরদের মনে চিরকালের জন্য বাসা বেঁধেছে। তার লেখায় বাংলাদেশের স্থানীয় সংস্কৃতি, ভাষা এবং সমাজের ছোঁয়া মিশিয়ে তিনি বিশ্বের
থ্রিলারকে দেশীয় করে তুলেছেন। চারশতাধিক বইয়ের লেখক রকিব হাসান কেবল গল্পকার নন, তিনি কল্পনার সেতুবন্ধনকারী। কিংবদন্তী ‘তিন গোয়েন্দা’: শৈশবের অমর সঙ্গীরকিব হাসানের কিংবদন্তী ‘তিন গোয়েন্দা’ সিরিজ বাংলা সাহিত্যে এক বিপ্লব। ১৯৭০-এর দশক থেকে শুরু হয়ে এটি আজও কিশোরদের হাতে ধরা পড়ে। সিরিজের প্রথম বই ‘তিন গোয়েন্দা ও সোনার মূর্তি চুরি’ থেকে শুরু করে ‘তিন গোয়েন্দা ও ভূতুড়ে দ্বীপ’ পর্যন্ত—প্রতিটি গল্পে রহস্যের জাল বিস্তারিত হয়েছে এমনভাবে যে, পাঠকেরা নিজেরাই গোয়েন্দা হয়ে উঠেছে। এই সিরিজ কেবল বিনোদনই দেয়নি, বরং যুক্তিবোধ, পর্যবেক্ষণ এবং সাহসের পাঠ দিয়েছে। বাংলাদেশের গ্রামীণ থেকে শহুরে পটভূমিতে গল্পগুলো বুনে তিনি স্থানীয় পাঠকের মনে গেঁথে দিয়েছেন। সাহিত্য সমালোচকরা বলেন, “রকিব হাসানের লেখায়
থ্রিলারের সাথে বাংলা ভাষার সরলতা মিশে এক অদ্ভুত মায়া তৈরি হয়েছে, যা কয়েক প্রজন্ম ধরে অটুট রয়েছে।” তার অন্যান্য কাজ যেমন ‘রহস্যের রাজ্যে’, ‘অন্ধকারের অভিযান’ বা অনুবাদকার্যও উল্লেখযোগ্য, কিন্তু ‘তিন গোয়েন্দা’ তার নামের সাথে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িয়ে আছে। এই সিরিজের বইগুলো আজও সেবা প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হয়ে লক্ষ লক্ষ কপি বিক্রি হয়েছে, যা বাংলা থ্রিলারের এক কিংবদন্তী হিসেবে চিহ্নিত। মৃত্যুর পর রকিব হাসানের ফরজি নামাজ রাজধানীর বাইতুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে আসর করা হয়েছে। বিকেল ৪টার মধ্যেই শাহজাহানপুর কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়েছে। তার ছেলে রাহিদ হাসান বলেছেন, “বাবা লেখক হিসেবে চিরকাল বেঁচে থাকবেন তার পাঠকদের হৃদয়ে।” সাহিত্যজগতের অনেক ব্যক্তিত্ব শোক প্রকাশ করেছেন। সেবা প্রকাশনীর
প্রতিষ্ঠাতা কাজী আনোয়ার হোসেনের পরিবারও গভীর শোকে নিমজ্জিত।রকিব হাসানের চলে যাওয়া বাংলা সাহিত্যের এক যুগের অবসান ঘটিয়েছে। কিন্তু তার সৃষ্ট ‘তিন গোয়েন্দা’ কিংবদন্তী হয়ে থাকবে চিরকালের জন্য—যেখানে রহস্যের পথে হাঁটবে নতুন প্রজন্মের যুবকরা।
বরং কয়েক প্রজন্মের শৈশব-কৈশোরের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই সিরিজের মাধ্যমে হাজারো যুবক-যুবতী রহস্যের জগতে প্রবেশ করেছে, যা তাদের কল্পনাশক্তিকে উজ্জীবিত করেছে। সেবা প্রকাশনীর সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল; এখানেই ‘তিন গোয়েন্দা’র ১৬০টি বই প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া তিনি কমপক্ষে ৩০টি বই অনুবাদ করেছেন, যা বাংলা সাহিত্যে থ্রিলারের নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে। ১৯৫০ সালের ১২ ডিসেম্বর কুমিল্লায় জন্মগ্রহণ করেন রকিব হাসান। বাবার চাকরির কারণে শৈশব কেটেছে ফেনীতে, যেখান থেকে তিনি স্কুলজীবন শেষ করে ভর্তি হন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজে। এসএসসি ও এইচএসসি ফেনী থেকে এবং বিএসসি আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ থেকে সম্পন্ন করেন। পড়াশোনা শেষে বিভিন্ন চাকরিতে যোগ দিলেও বাঁধাধরা অফিসজীবন তার মনের সাথে মিলেনি। রহস্যপত্রিকার সহকারী
সম্পাদক হিসেবে কাজ করার সময় থেকেই লেখালেখির প্রতি তার আকর্ষণ জন্ম নেয়। অবশেষে সব ছেড়ে লেখকের পথ বেছে নেন তিনি। প্রথম বই প্রকাশিত হয় ১৯৭৭ সালে ছদ্মনামে, কিন্তু স্বনামধন্য হয়ে ওঠেন ‘তিন গোয়েন্দা’ সিরিজের মাধ্যমে। মূলত রবার্ট আর্থারের ‘থ্রি ইনভেস্টিগেটরস’ সিরিজ অবলম্বনে এটি শুরু হয়, কিন্তু রকিব হাসানের অসাধারণ লেখনশৈলীতে এটি পেয়েছে সম্পূর্ণ বাংলাদেশী স্বাদ। জুপিটার জো, পিট ক্রেন ও ববস আরোয়ান—কিশোর পাশা, রবিন মিলফোর্ড, মুসা আমান এই তিন তরুণ গোয়েন্দার অ্যাডভেঞ্চার কাহিনিগুলোতে রহস্য, উত্তেজনা এবং বন্ধুত্বের মিশ্রণ এমনভাবে ফুটে উঠেছে যে, এটি কিশোরদের মনে চিরকালের জন্য বাসা বেঁধেছে। তার লেখায় বাংলাদেশের স্থানীয় সংস্কৃতি, ভাষা এবং সমাজের ছোঁয়া মিশিয়ে তিনি বিশ্বের
থ্রিলারকে দেশীয় করে তুলেছেন। চারশতাধিক বইয়ের লেখক রকিব হাসান কেবল গল্পকার নন, তিনি কল্পনার সেতুবন্ধনকারী। কিংবদন্তী ‘তিন গোয়েন্দা’: শৈশবের অমর সঙ্গীরকিব হাসানের কিংবদন্তী ‘তিন গোয়েন্দা’ সিরিজ বাংলা সাহিত্যে এক বিপ্লব। ১৯৭০-এর দশক থেকে শুরু হয়ে এটি আজও কিশোরদের হাতে ধরা পড়ে। সিরিজের প্রথম বই ‘তিন গোয়েন্দা ও সোনার মূর্তি চুরি’ থেকে শুরু করে ‘তিন গোয়েন্দা ও ভূতুড়ে দ্বীপ’ পর্যন্ত—প্রতিটি গল্পে রহস্যের জাল বিস্তারিত হয়েছে এমনভাবে যে, পাঠকেরা নিজেরাই গোয়েন্দা হয়ে উঠেছে। এই সিরিজ কেবল বিনোদনই দেয়নি, বরং যুক্তিবোধ, পর্যবেক্ষণ এবং সাহসের পাঠ দিয়েছে। বাংলাদেশের গ্রামীণ থেকে শহুরে পটভূমিতে গল্পগুলো বুনে তিনি স্থানীয় পাঠকের মনে গেঁথে দিয়েছেন। সাহিত্য সমালোচকরা বলেন, “রকিব হাসানের লেখায়
থ্রিলারের সাথে বাংলা ভাষার সরলতা মিশে এক অদ্ভুত মায়া তৈরি হয়েছে, যা কয়েক প্রজন্ম ধরে অটুট রয়েছে।” তার অন্যান্য কাজ যেমন ‘রহস্যের রাজ্যে’, ‘অন্ধকারের অভিযান’ বা অনুবাদকার্যও উল্লেখযোগ্য, কিন্তু ‘তিন গোয়েন্দা’ তার নামের সাথে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িয়ে আছে। এই সিরিজের বইগুলো আজও সেবা প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হয়ে লক্ষ লক্ষ কপি বিক্রি হয়েছে, যা বাংলা থ্রিলারের এক কিংবদন্তী হিসেবে চিহ্নিত। মৃত্যুর পর রকিব হাসানের ফরজি নামাজ রাজধানীর বাইতুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে আসর করা হয়েছে। বিকেল ৪টার মধ্যেই শাহজাহানপুর কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়েছে। তার ছেলে রাহিদ হাসান বলেছেন, “বাবা লেখক হিসেবে চিরকাল বেঁচে থাকবেন তার পাঠকদের হৃদয়ে।” সাহিত্যজগতের অনেক ব্যক্তিত্ব শোক প্রকাশ করেছেন। সেবা প্রকাশনীর
প্রতিষ্ঠাতা কাজী আনোয়ার হোসেনের পরিবারও গভীর শোকে নিমজ্জিত।রকিব হাসানের চলে যাওয়া বাংলা সাহিত্যের এক যুগের অবসান ঘটিয়েছে। কিন্তু তার সৃষ্ট ‘তিন গোয়েন্দা’ কিংবদন্তী হয়ে থাকবে চিরকালের জন্য—যেখানে রহস্যের পথে হাঁটবে নতুন প্রজন্মের যুবকরা।



