ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
দখলদার ইউনুস অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করার পর থেকেই বাংলাদেশ শুধু রাজনৈতিকভাবে না ভৌগোলিকভাবেও অনিরাপদ হয়ে গেছে।
সংস্কার নয়, ক্ষমতা পাকাপোক্ত করার ফন্দি ইউনুস গংয়ের : রেহমান সোবহানের বক্তব্য স্বীকারোক্তি নাকি সমালোচনা?
“তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমাদেরই দাবি ছিলো, আমরা এনেছিলাম, সেটাকে সে (খালেদা জিয়া) নষ্ট করলো” –জননেত্রী শেখ হাসিনা
ঢাকায় ভিসা আবেদন কেন্দ্র চালু তুরস্কের, ফি কত?
সিভাসু হলের কক্ষ থেকে ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী উপমা দত্তের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস: এপস্টাইন নেটওয়ার্কের ‘গুড বুক’-এ ড. ইউনূস! নেপথ্যে জঘন্য অপরাধী চক্র
সম্প্রীতির বাংলাদেশে উগ্রবাদের আস্ফালন: সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিচারহীনতার এক চালচিত্র
ঢাকার আকাশপথে জঙ্গি ছায়া?
বাংলাদেশ কি দক্ষিণ এশিয়ার নতুন ‘সফট এন্ট্রি পয়েন্ট’—ভারত, যুক্তরাষ্ট্র ও ইইউ কেন উদ্বিগ্ন**
আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষণ
পাকিস্তান থেকে ঢাকায় সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় চালুর পরপরই জঙ্গি অনুপ্রবেশের অভিযোগ শুধু বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেই নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়া ও পশ্চিমা নিরাপত্তা মহলেও অশনিসংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। নিষিদ্ধ ঘোষিত লস্কর-ই-তৈয়বা (LeT)–র সদস্যরা ঢালাও ভিসা সুবিধার সুযোগ নিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে—এমন অভিযোগ সামনে আসার পর প্রশ্নটি আর শুধু ঢাকার নয়, বরং নয়াদিল্লি, ওয়াশিংটন ও ব্রাসেলসের টেবিলেও ঘুরছে।
৩০ জানুয়ারি করাচি থেকে ঢাকায় অবতরণ করা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের BG-342 ফ্লাইটে জঙ্গি অনুপ্রবেশের অভিযোগ—পাসপোর্টের ছবি প্রকাশ, যাত্রী তালিকা ঘিরে বিতর্ক এবং প্রশাসনিক নীরবতা—সব মিলিয়ে এটি এখন একটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে
রূপ নিয়েছে। ভারতের নিরাপত্তা দৃষ্টিকোণ: “পূর্ব সীমান্তে দ্বিতীয় ফ্রন্ট?” ভারতের কাছে বিষয়টি সবচেয়ে সংবেদনশীল। কারণ লস্কর-ই-তৈয়বা কেবল পাকিস্তানভিত্তিক কোনো গোষ্ঠী নয়—এটি ২০০৮ সালের মুম্বাই হামলার প্রধান কারিগর, যেখানে ১৬৬ জন নিহত হয়। ভারতীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে: বাংলাদেশে যদি লস্কর বা আইএসআই–ঘনিষ্ঠ নেটওয়ার্ক পুনরায় সক্রিয় হয়, তবে তা পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা, আসাম ও মিজোরাম হয়ে ভারতের ভেতরে অনুপ্রবেশের ঝুঁকি বাড়াবে, এবং কাশ্মীরের পাশাপাশি পূর্ব সীমান্তে একটি ‘নীরব দ্বিতীয় ফ্রন্ট’ তৈরি হতে পারে। ভারত অতীতে নেপাল ও শ্রীলঙ্কার বিমানবন্দর ব্যবহারের মাধ্যমে জঙ্গিদের ট্রানজিটের উদাহরণ দেখেছে। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই দিল্লির দৃষ্টিতে ঢাকার বর্তমান নীতি “হাই রিস্ক স্ট্র্যাটেজিক শিফট”। যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান: সন্ত্রাসবিরোধী নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক? যুক্তরাষ্ট্র লস্কর-ই-তৈয়বাকে বহু
বছর আগেই Foreign Terrorist Organization (FTO) হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। ওয়াশিংটনের নিরাপত্তা কাঠামোয় তিনটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ: Aviation Security – সরাসরি ফ্লাইটে যাত্রী যাচাই ও ইন্টেলিজেন্স শেয়ারিং দুর্বল হলে আন্তর্জাতিক বিমান নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ে। Counter-Terror Financing – বাংলাদেশে জঙ্গি নেটওয়ার্ক সক্রিয় হলে দক্ষিণ এশিয়ায় অর্থপাচারের নতুন রুট তৈরি হতে পারে। Indo-Pacific Strategy – বাংলাদেশ এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার; জঙ্গি সহনশীলতার অভিযোগ সেই কৌশলের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। যুক্তরাষ্ট্র অতীতে পাকিস্তানকে যেভাবে FATF গ্রে লিস্ট–এর চাপ দিয়ে কোণঠাসা করেছে, বিশ্লেষকদের মতে বাংলাদেশও একই নজরদারির আওতায় আসতে পারে—যদি এসব অভিযোগের বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত না হয়। ইউরোপীয় ইউনিয়ন: অভিবাসন ও সন্ত্রাসের দ্বৈত ভয় ইইউর উদ্বেগ আরও এক ধাপ
ভিন্ন। ব্রাসেলসের নিরাপত্তা বিশ্লেষণে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ কারণ: বাংলাদেশ ইউরোপে বৈধ ও অবৈধ অভিবাসনের বড় উৎস, অতীতে ফ্রান্স, বেলজিয়াম ও জার্মানিতে দক্ষিণ এশীয় জঙ্গি নেটওয়ার্কের উপস্থিতি ধরা পড়েছে, ফলে বাংলাদেশে জঙ্গি অনুপ্রবেশ মানে ইউরোপের জন্য লং-টার্ম স্লিপার সেল ঝুঁকি। ইইউ সাধারণত এমন পরিস্থিতিতে ভিসা রেজিম, বাণিজ্য সুবিধা (GSP) এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা পুনর্মূল্যায়ন করে—যা বাংলাদেশের অর্থনীতি ও কূটনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। রাজনৈতিক নীরবতা ও আন্তর্জাতিক বার্তা সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো—এত বড় অভিযোগের পরও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স বা সরকারের পক্ষ থেকে কোনো স্পষ্ট বক্তব্য নেই। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নীরবতা অনেক সময় অস্বীকার নয়, বরং অনিশ্চয়তার সংকেত হিসেবে ধরা হয়। বিশ্লেষকদের মতে, যদি বাংলাদেশ দ্রুত স্বচ্ছ তদন্ত না করে, তবে দেশটি ধীরে
ধীরে “Soft Entry Point for Regional Extremism” তকমা পেতে পারে। সার্বিক বার্তা এটি কোনো দলীয় বিতর্ক নয়; এটি রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক বিশ্বাসযোগ্যতার প্রশ্ন। ভারত সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন, যুক্তরাষ্ট্র সন্ত্রাসবিরোধী নীতির ধারাবাহিকতা খুঁজছে, আর ইইউ ভবিষ্যৎ ঝুঁকি হিসাব করছে। প্রশ্ন এখন স্পষ্ট: বাংলাদেশ কি সময় থাকতে কৌশল সংশোধন করবে, নাকি নীরবতার মূল্য দেবে আন্তর্জাতিক চাপ, নজরদারি ও বিচ্ছিন্নতার মাধ্যমে?
রূপ নিয়েছে। ভারতের নিরাপত্তা দৃষ্টিকোণ: “পূর্ব সীমান্তে দ্বিতীয় ফ্রন্ট?” ভারতের কাছে বিষয়টি সবচেয়ে সংবেদনশীল। কারণ লস্কর-ই-তৈয়বা কেবল পাকিস্তানভিত্তিক কোনো গোষ্ঠী নয়—এটি ২০০৮ সালের মুম্বাই হামলার প্রধান কারিগর, যেখানে ১৬৬ জন নিহত হয়। ভারতীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে: বাংলাদেশে যদি লস্কর বা আইএসআই–ঘনিষ্ঠ নেটওয়ার্ক পুনরায় সক্রিয় হয়, তবে তা পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা, আসাম ও মিজোরাম হয়ে ভারতের ভেতরে অনুপ্রবেশের ঝুঁকি বাড়াবে, এবং কাশ্মীরের পাশাপাশি পূর্ব সীমান্তে একটি ‘নীরব দ্বিতীয় ফ্রন্ট’ তৈরি হতে পারে। ভারত অতীতে নেপাল ও শ্রীলঙ্কার বিমানবন্দর ব্যবহারের মাধ্যমে জঙ্গিদের ট্রানজিটের উদাহরণ দেখেছে। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই দিল্লির দৃষ্টিতে ঢাকার বর্তমান নীতি “হাই রিস্ক স্ট্র্যাটেজিক শিফট”। যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান: সন্ত্রাসবিরোধী নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক? যুক্তরাষ্ট্র লস্কর-ই-তৈয়বাকে বহু
বছর আগেই Foreign Terrorist Organization (FTO) হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। ওয়াশিংটনের নিরাপত্তা কাঠামোয় তিনটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ: Aviation Security – সরাসরি ফ্লাইটে যাত্রী যাচাই ও ইন্টেলিজেন্স শেয়ারিং দুর্বল হলে আন্তর্জাতিক বিমান নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ে। Counter-Terror Financing – বাংলাদেশে জঙ্গি নেটওয়ার্ক সক্রিয় হলে দক্ষিণ এশিয়ায় অর্থপাচারের নতুন রুট তৈরি হতে পারে। Indo-Pacific Strategy – বাংলাদেশ এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার; জঙ্গি সহনশীলতার অভিযোগ সেই কৌশলের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। যুক্তরাষ্ট্র অতীতে পাকিস্তানকে যেভাবে FATF গ্রে লিস্ট–এর চাপ দিয়ে কোণঠাসা করেছে, বিশ্লেষকদের মতে বাংলাদেশও একই নজরদারির আওতায় আসতে পারে—যদি এসব অভিযোগের বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত না হয়। ইউরোপীয় ইউনিয়ন: অভিবাসন ও সন্ত্রাসের দ্বৈত ভয় ইইউর উদ্বেগ আরও এক ধাপ
ভিন্ন। ব্রাসেলসের নিরাপত্তা বিশ্লেষণে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ কারণ: বাংলাদেশ ইউরোপে বৈধ ও অবৈধ অভিবাসনের বড় উৎস, অতীতে ফ্রান্স, বেলজিয়াম ও জার্মানিতে দক্ষিণ এশীয় জঙ্গি নেটওয়ার্কের উপস্থিতি ধরা পড়েছে, ফলে বাংলাদেশে জঙ্গি অনুপ্রবেশ মানে ইউরোপের জন্য লং-টার্ম স্লিপার সেল ঝুঁকি। ইইউ সাধারণত এমন পরিস্থিতিতে ভিসা রেজিম, বাণিজ্য সুবিধা (GSP) এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা পুনর্মূল্যায়ন করে—যা বাংলাদেশের অর্থনীতি ও কূটনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। রাজনৈতিক নীরবতা ও আন্তর্জাতিক বার্তা সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো—এত বড় অভিযোগের পরও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স বা সরকারের পক্ষ থেকে কোনো স্পষ্ট বক্তব্য নেই। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নীরবতা অনেক সময় অস্বীকার নয়, বরং অনিশ্চয়তার সংকেত হিসেবে ধরা হয়। বিশ্লেষকদের মতে, যদি বাংলাদেশ দ্রুত স্বচ্ছ তদন্ত না করে, তবে দেশটি ধীরে
ধীরে “Soft Entry Point for Regional Extremism” তকমা পেতে পারে। সার্বিক বার্তা এটি কোনো দলীয় বিতর্ক নয়; এটি রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক বিশ্বাসযোগ্যতার প্রশ্ন। ভারত সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন, যুক্তরাষ্ট্র সন্ত্রাসবিরোধী নীতির ধারাবাহিকতা খুঁজছে, আর ইইউ ভবিষ্যৎ ঝুঁকি হিসাব করছে। প্রশ্ন এখন স্পষ্ট: বাংলাদেশ কি সময় থাকতে কৌশল সংশোধন করবে, নাকি নীরবতার মূল্য দেবে আন্তর্জাতিক চাপ, নজরদারি ও বিচ্ছিন্নতার মাধ্যমে?



