জুলাই-মামলার আসামি ইরেশ যাকের: বিদেশে পালানো এবং মামলা থেকে অব্যাহতি, নেপথ্যে প্রভাব ও অর্থের খেলা – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ২৫ অক্টোবর, ২০২৫
     ১১:২৬ অপরাহ্ণ

জুলাই-মামলার আসামি ইরেশ যাকের: বিদেশে পালানো এবং মামলা থেকে অব্যাহতি, নেপথ্যে প্রভাব ও অর্থের খেলা

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ২৫ অক্টোবর, ২০২৫ | ১১:২৬ 77 ভিউ
ইরেশ যাকেরকে জুলাই হত্যাকাণ্ডের মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য আদালতে আবেদনের প্রক্রিয়ায় সরাসরি জড়িত দুই প্রভাবশালী উপদেষ্টা—আসিফ নজরুল ও মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। মামলা হওয়ার পর কোটি কোটি টাকা ঘুষ দিয়ে উপরমহলকে ম্যানেজ করা, বাদীকে চুপ করানো ও ভুয়া স্টেটমেন্ট তৈরির মাধ্যমে ইরেশ নিজেকে নিরাপদ রাখার পথ তৈরি করেন। এ বিষয়ে ভীত বাদী বাপ্পী বলছেন, ৪০০ আসামির মধ্যে ১০ জন ঘটনায় জড়িত নাও থাকতে পারে। বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং আদালত দেখবে। হত্যা মামলা থেকে ইরেশ যাকেরকে অব্যাহতি দেওয়ার নেপথ্যের কারণ খুঁজতে গিয়ে বিডিডাইজেস্ট-এর অনুসন্ধানে এসব তথ্য উঠে আসে। অনুসন্ধানে জানা যায়, ইরেশ যাকের উপদেষ্টা আসিফ নজরুল এবং মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর মাধ্যমে ডিএমপি কমিশনারের

সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন ও প্রভাব খাটিয়ে মামলার প্রতিবেদন নিজের পক্ষে ঘুরিয়ে আনার চেষ্টা করেন। এজন্য তিনি দুই উপদেষ্টার সঙ্গে ৩০ কোটি টাকা দিয়ে সবকিছু দফারফা করেন। এরপর পুলিশি ব্যবস্থার অংশ হিসেবে বাদীকে চুপ করানো হয় এবং একটি ভুয়া স্টেটমেন্ট নেওয়া হয়, যেখানে উল্লেখ করা হয় যে “ঘটনাস্থলে ইরেশ যাকের উপস্থিত ছিলেন না।” মূলত এই স্টেটমেন্টের ভিত্তিতেই তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।আদালতের আবেদনে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেন যে, প্রাথমিক অনুসন্ধানে ইরেশ যাকের এবং ইকরাম মঈন চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলার ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তারা ওই হত্যাকাণ্ডের সময় ঘটনাস্থলে থাকার প্রমাণ পায়নি। এজন্য মামলা থেকে তাদের অব্যাহতি দেওয়া হোক। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক

পুলিশের সাবেক এক কর্মকর্তা বলছেন, প্রাথমিক অনুসন্ধানে ইরেশ যাকের এবং ইকরাম মঈন চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলার ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তারা ওই হত্যাকাণ্ডের সময় ঘটনাস্থলে থাকার প্রমাণ পায়নি। এজন্য মামলা থেকে তাদের অব্যাহতি দেওয়াড় আবেদন করা হয়েছে। অথচ শেখ হাসিনাও কোন হত্যাকাণ্ডের সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না, তাকে জুলাইয়ের সকল মামলায় এক নম্বর আসামি করা হয়েছে। যে মামলা থেকে ইরেশ যাকেরকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে, সেই মামলায় শেখ হাসিনাও আসামি। শেখ হাসিনাও ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। তাহলে তো তাকেও অব্যাহতি দেওয়া উচিত! এমনটাই মনে করেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা। আরেকটি বিষয় হচ্ছে, বিভিন্ন হত্যা মামলায় ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল, শাহরিয়ার

কবির, সাকিব আল হাসানসহ বিভিন্ন বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, শিল্পীদের যে বিনা কারণে মামলার আসামি করা হয়েছে তারা কেউই এসব হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না। শুধুমাত্র মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি হওয়ার কারণে তাদের এসব মিথ্যা মামলায় আসামি করা হয়েছে। এই ঘটনা শুধু ইরেশ যাকেরের দেশত্যাগ এবং মামলার অব্যাহতির গল্প নয়, এটি বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থায় প্রভাবশালী ব্যক্তি ও অর্থের শক্তি কিভাবে কাজ করে তার একটি বড় উদাহরণ। এর আগেও অর্থের প্রভাব খাটিয়ে মামলা হওয়ার পরপরই দেশ ছাড়েন ইরেশ। জুলাই আন্দোলনে শিল্পীদের সম্পৃক্ত করতে বিজ্ঞাপন ও ব্র্যান্ড কমিউনিকেশন গোষ্ঠী এশিয়াটিক থ্রিসিক্সটির এমডি ইরেশ যাকেরের মাধ্যমে শত কোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগ উঠেছিল। শিল্পীদের অর্থপ্রদানের ঘটনাটা ফাঁস হয়ে যাওয়ায়

বেকায়দায় পড়েন ইরেশ। এ বছরের ২৭শে এপ্রিল তার নামে জুলাইয়ের ছাত্র হত্যায় আসামী তালিকায় নাম আসে। কিন্তু গ্রেপ্তার এড়াতে অর্থের বিনিময়ে মামলার আগেই ২৪শে এপ্রিল উপদেষ্টাদের সহযোগীতায় BG-371 ফ্লাইটে দেশ ছেড়ে নেপালে পাড়ি জমান ইরেশ যাকের। একাধিক ব্যক্তি ইরেশ যাকেরকে নেপালের ফ্লাইটে দেখেন বলে প্রতিবেদককে জানান। এর আগে জুলাইয়ে সরকারবিরোধী আন্দোলন যখন তুঙ্গে তখন ১লা আগস্ট শিক্ষার্থীদের কোটা সংস্কার আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে রাজপথে নামেন “দৃশ্যমাধ্যম শিল্পীসমাজ” এর অভিনেতা ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা। আন্দোলন ঘিরে দেশে সংঘর্ষ, হত্যা, গণগ্রেপ্তার ও হয়রানি বন্ধ এবং আটককৃত শিক্ষার্থীদের মুক্তির দাবি জানিয়েছিলেন তারা। আজমেরি হক বাঁধন, আশফাক নিপুণ, মোশাররফ করিমদের সাথে সেই সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন ইরেশ যাকেরও। জানা যায়,

সেদিনের সেই সমাবেশ যারা সংগঠিত করেন, ইরেশ যাকের ছিলেন তার অন্যতম। রাজপথে শিল্পীদের নেমে আসা “সরকার পতন আন্দোলন”কে তরান্বিত করে। সেদিনের পরও সরকার পতনের পর ১০ই আগস্ট শহিদ মিনারে ‘রক্তাক্ত জুলাই’য়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বিচার দাবি করেছিল শিল্পীসমাজ। সেখানে শিল্পীদের সাথেও উপস্থিত ছিল ইরেশ যাকের। প্রতিপক্ষকে যেমন ভুয়া মামলায় দমন করা হচ্ছে, তেমনি জুলাই ষড়যন্ত্রের ব্যাপারে যারা মুখ খুলেছে তাদেরই ভুয়া মামলা আর গ্রেপ্তারের ভয় দেখিয়ে মুখ বন্ধ করা হচ্ছে। পার্থক্য শুধু এই যে, পক্ষের লোকেরা আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে ভুয়া মামলাগুলো থেকে নাম কাটাতে পারছে। এটা নির্দেশ করে যে বাংলাদেশের আইন আর আদালত মুক্ত ও স্বাধীনভাবে

চলছে না, বরং আগের যে কোন সময়ের চেয়ে বেশি আদালত ও আইনকে নিজ নিজ স্বার্থে প্রভাবিত করা হচ্ছে, প্রতিপক্ষকে দমনে ব্যবহার করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
ঝলমলে চুল পেতে জাপানিরা যেভাবে যত্ন নেন ট্রাম্পকে নোবেল পুরস্কারের মেডেল ‘উপহার’ দিলেন মাচাদো নোবেল পুরস্কার ‘হস্তান্তরযোগ্য নয়’, বলল নোবেল পিস সেন্টার আধিপত্য নিয়ে তালেবানের শীর্ষ পর্যায়ের কোন্দল প্রকাশ্যে সরকার নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে পারবে কিনা- সন্দেহ দেবপ্রিয়র পোস্টাল ভোটে অনিয়ম করলে প্রবাসীদের দেশে ফেরত আনার হুঁশিয়ারি ইসির বাংলাদেশে সহিংসতা বাড়ছে, রাজনীতিতে উপেক্ষিত নারী বাংলাদেশের প্রধান ঝুঁকি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বিশ্বের প্রধান ঝুঁকি ভূ-অর্থনৈতিক সংঘাত স্থগিত হয়ে যেতে পারে বিপিএল আত্মশুদ্ধি, মানবপ্রেম ও ঐতিহ্যের মহামিলন *নির্বাচনী চাপে দায়িত্ব পালনের ফলে চিকিৎসার সুযোগ না পেয়ে মৃত্যু: ইউএনও ফেরদৌস আরার মৃত্যু ঘিরে গুরুতর প্রশ্ন *ডলার সংকটে গ্যাস আমদানি অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে* *বাংলাদেশি নাগরিকদের ওপর মার্কিন স্যাংশন,কূটনৈতিক ব্যর্থতা, আন্তর্জাতিকভাবে কোণঠাসা* ❝পোস্টাল ব্যালট ও ট্রান্সফার করা ভোটব্যাংক হলো জামাত এনসিপি জোটের ডামি নির্বাচনের সুপরিকল্পিত কৌশল❞ পাকিস্তানের ইশারায় ক্রিকেট ধ্বংস, ইউনুস সরকারের ব্যর্থতা আর আসিফ নজরুলের নীরবতা—বাংলাদেশের ক্রিকেট আজ নেতৃত্বহীন লাশ শিবির ক্যাডারদের হাতে কারাগার, কারাগারে আটকে আওয়ামী লীগের উপর চলছে পরিকল্পিত গণহত্যা জাতিসংঘের প্রতিবেদনে স্বীকৃত সত্য : দক্ষিণ এশিয়ায় মূল্যস্ফীতির শিরোমণি বাংলাদেশ এখন রাজাকারের সাথে কে যোগ দিছে? বলেন আপনারা দেশের মানুষ” – জনতার কথা যারা মেধার কথা বলে রাজপথ জ্বালিয়েছিল, তারাই আজ কোটা খেয়ে সরকারি অফিসে— কোটা আন্দোলনের মুখোশে ক্ষমতার সিঁড়ি, সাধারণ ছাত্রদের ভাগ্যে শুধু ধোঁকা!