ছরে সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকা হারিয়ে যাচ্ছে, ইউনুসের অবৈধ সরকারের কিছু যায় আসে না – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ১২ জানুয়ারি, ২০২৬
     ৯:৩৩ অপরাহ্ণ

ছরে সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকা হারিয়ে যাচ্ছে, ইউনুসের অবৈধ সরকারের কিছু যায় আসে না

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১২ জানুয়ারি, ২০২৬ | ৯:৩৩ 25 ভিউ
বাংলাদেশে প্রতিবছর ছয় হাজার কোটি টাকার ই-বর্জ্যের বাজার থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকা হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে। শুধু অদক্ষতা আর অব্যবস্থাপনার কারণে দেশ হারাচ্ছে বিশাল অর্থনৈতিক সুযোগ, পরিবেশ হচ্ছে বিষাক্ত, আর জনস্বাস্থ্য পড়ছে মারাত্মক ঝুঁকিতে। কিন্তু ২০২৪ সালের জুলাইয়ে দাঙ্গা লাগিয়ে, ইসলামি জঙ্গিদের সহায়তায় আর বিদেশি প্রভুদের টাকায় অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করা মুহাম্মদ ইউনুস ও তার অযোগ্য তথাকথিত সরকারের কাছে এসব সমস্যা যেন কোনো বিষয়ই নয়। প্রতিবছর সাড়ে তিন কোটি মোবাইল ফোন বিক্রি হয় দেশে। দুই থেকে চার বছর পর এগুলো পরিণত হয় ই-বর্জ্যে। মানে শুধু মোবাইল থেকেই প্রতিবছর ৩০ লাখ ডিভাইস যুক্ত হচ্ছে বর্জ্যের স্তূপে। এর সাথে যোগ হচ্ছে ল্যাপটপ,

ফ্রিজ, টেলিভিশন, এসি, প্রিন্টার আর নানা ইলেকট্রনিক পণ্য। প্রতি মাসে ৫০০ কোটি টাকার ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি নষ্ট হচ্ছে। বছরে দেশে উৎপাদিত হচ্ছে ৩৬৭ মিলিয়ন কেজি ই-বর্জ্য, যা বাড়ছে বছরে ৩০ শতাংশ হারে। এই বিপুল পরিমাণ ই-বর্জ্যে রয়েছে কপার, ব্রোঞ্জ, জিংক, এমনকি সোনা, প্লাটিনাম, প্যালাডিয়ামের মতো মূল্যবান ধাতু। সঠিক প্রক্রিয়ায় এগুলো উদ্ধার করতে পারলে কমত আমদানি নির্ভরতা, বাঁচত বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা। কিন্তু সেজন্য দরকার পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা, আধুনিক রিসাইক্লিং সুবিধা আর দক্ষ তদারকি। আর সেটাই নেই এই দেশে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের গবেষণায় উঠে এসেছে ভয়াবহ তথ্য যে দেশের ৯৭ শতাংশ ই-বর্জ্যই প্রক্রিয়াজাত হয় অনানুষ্ঠানিক, অস্বাস্থ্যকর আর বিপজ্জনক পদ্ধতিতে। মাত্র তিন শতাংশ যায় আনুষ্ঠানিক

রিসাইক্লিং কেন্দ্রে। ২০২১ সালে বিপজ্জনক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিধিমালা করা হয়েছিল। কিন্তু সেটা থেকে গেছে কাগজে কলমে। এর বাস্তবায়ন হয়নি কখনোই। ফলে অনানুষ্ঠানিক ব্যবসায়ীরা ঝুঁকিপূর্ণ পদ্ধতিতে ইলেকট্রনিক যন্ত্র ভাঙছেন, শ্রমিকরা, বিশেষ করে নারী শ্রমিকরা সরাসরি সংস্পর্শে আসছেন সিসা, পারদ, ক্যাডমিয়ামের মতো মারাত্মক বিষাক্ত পদার্থের। এতে দূষিত হচ্ছে মাটি, পানি, বাতাস। জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ছে প্রতিদিন। অথচ পরিবেশ মন্ত্রণালয়, পরিবেশ অধিদপ্তর, কাস্টমস, বিটিআরসি সহ প্রধান সরকারি সংস্থাগুলো এই বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিতে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে। আরও মজার ব্যাপার হলো, সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও গত তিন বছরে প্রতিবছর সাত লাখ ডলারের প্রায় ১৫ হাজার টন করে ই-বর্জ্য রফতানি হয়ে গেছে বিদেশে। এর মধ্যে চার হাজার ৪০ টন

রফতানি করা হয়েছে আন্তর্জাতিক পিআইসি সিস্টেমের আইন সরাসরি লঙ্ঘন করে। মানে দেশের মূল্যবান সম্পদ পাচার হয়ে যাচ্ছে বিদেশি কোম্পানির পকেটে, আর দেশ পাচ্ছে শুধু বিষাক্ত পরিবেশ আর স্বাস্থ্য সংকট। বিটিআরসিতে ১৪টি প্রতিষ্ঠান নিবন্ধিত থাকলেও তার অর্ধেক চলছে পরিবেশ অধিদপ্তরে নিবন্ধন ছাড়াই। কোনো তদারকি নেই, কোনো জবাবদিহিতা নেই। সবচেয়ে হাস্যকর ব্যাপার হলো, ৮৮ শতাংশ ভোক্তা জানেন না কীভাবে সঠিকভাবে ই-বর্জ্য ফেলতে হয়। ৭২ শতাংশ মানুষ নষ্ট ডিভাইস ঘরেই রেখে দেন। এর মানে হলো সাধারণ মানুষকে সচেতন করার কোনো উদ্যোগই নেয়নি সরকার কখনো। কোনো প্রচারণা নেই, কোনো শিক্ষামূলক কার্যক্রম নেই। মানুষ জানেই না তাদের পুরনো ফোন, ল্যাপটপ বা অন্য ইলেকট্রনিক পণ্য কোথায় দিতে

হবে। আর এখন পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে যাচ্ছে। ২০২৫ থেকে ২০৬০ সালের মধ্যে শুধু সৌর প্যানেল থেকেই তৈরি হবে ৫৫ লাখ টন ই-বর্জ্য। গত তিন বছরে আমদানি করা ১৬ হাজার ৭২৪টি বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাটারি রিসাইক্লিংয়ের কোনো স্পষ্ট পরিকল্পনা বা কাঠামো নেই। আগের আওয়ামী সরকার ইভিএম মেশিন এনেছিল, সেগুলোও এখন ই-বর্জ্যের ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু এসব নিয়ে ভাবার সময় কই এই অবৈধ সরকারের? ই-বর্জ্য শিল্পের সাথে জড়িত ব্যবসায়ীরা বারবার বলছেন যে শুধু লাইসেন্স বা নিবন্ধন দিয়ে হবে না। দরকার এক্সটেন্ডেড প্রডিউসার রেসপন্সিবিলিটি বা ইপিআর বাস্তবায়ন, বাধ্যবাধকতা আর প্রণোদনা। কিন্তু সেসব কিছুই নেই। ডব্লিউইইই সোসাইটির আক্তার উল আলম বলেছেন, অনানুষ্ঠানিক রিসাইক্লিং পদ্ধতি

মাটি, পানি আর বাতাসকে মারাত্মকভাবে দূষণ করছে। সুমন আহমেদ সাবির বলেছেন, সংগ্রহের পদ্ধতি দুর্বল হওয়ায় মূল্যবান উপাদান রফতানির মাধ্যমে লাভবান হচ্ছে বিদেশি কোম্পানিগুলো, আর বাংলাদেশ পাচ্ছে ক্ষুদ্রতম অংশ। একটা এনজিও চালানো আর দেশ চালানো কখনোই এক জিনিস নয়। মুহাম্মদ ইউনুস সারাজীবন গ্রামীণ ব্যাংক আর মাইক্রোক্রেডিট নিয়ে কাজ করেছেন। সেখানে সফল হতে পারেন, তাতে আপত্তি নেই। কিন্তু একটা দেশ চালাতে যে সামগ্রিক দক্ষতা, প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা, নীতি প্রণয়ন আর বাস্তবায়নের সক্ষমতা দরকার, সেটা তার নেই। তার তথাকথিত উপদেষ্টা পরিষদের বেশিরভাগই একাডেমিক বা সুশীল সমাজের মানুষ যাদের বাস্তব প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা নেই বললেই চলে। ফলাফল দেখা যাচ্ছে প্রতিটি সেক্টরে। ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা তার একটা নমুনা মাত্র।

এই খাত থেকে বছরে পাঁচ হাজার কোটি টাকা হাতছাড়া হচ্ছে, পরিবেশ বিপর্যয়ের মুখে পড়ছে, জনস্বাস্থ্য ঝুঁকিতে আছে। অথচ এই সরকারের কোনো সুস্পষ্ট পরিকল্পনা নেই, কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেই। শুধু বক্তৃতা আর সেমিনার করেই যাচ্ছে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান সতর্ক করে বলেছেন, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার দ্রুত সমাধান না হলে এই বিষাক্ত বর্জ্য জনস্বাস্থ্য আর পরিবেশের জন্য অপ্রতিরোধ্য বিপর্যয় ডেকে আনবে। কিন্তু ইউনুসের সরকার কি শুনছে এসব কথা? তারা তো ব্যস্ত ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখতে, বিরোধী মত দমন করতে, আর তাদের বিদেশি প্রভুদের খুশি রাখতে। দেশের বারোটা বাজিয়ে দিচ্ছে এই অযোগ্য শাসকগোষ্ঠী। অবৈধভাবে ক্ষমতায় এসে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে যে সামরিক সমর্থনপুষ্ট ইসলামি জঙ্গি আর বিদেশি মদদপুষ্ট দাঙ্গাবাজ চক্রটি ক্ষমতায় বসেছে, তাদের কাছে দেশের উন্নয়ন, পরিবেশ সুরক্ষা বা জনস্বাস্থ্য কোনো অগ্রাধিকার নয়। তাদের লক্ষ্য শুধু ক্ষমতায় টিকে থাকা। আর এর মাশুল দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে, দেশের অর্থনীতিকে, পরিবেশকে। ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনার এই বিপর্যয় শুধু একটা বিচ্ছিন্ন সমস্যা নয়। এটা ইউনুসের অথর্ব সরকারের সামগ্রিক অদক্ষতা আর অযোগ্যতার প্রতিফলন। যেখানে সুযোগ ছিল বিশাল অর্থনৈতিক লাভের, পরিবেশ সুরক্ষার, কর্মসংস্থান সৃষ্টির, সেখানে শুধু ব্যর্থতা আর বিপর্যয়। এভাবে চলতে থাকলে দেশ যে কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, সেটা ভাবতেও ভয় লাগে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
মব সন্ত্রাসের মহোৎসবে জুলাই দাঙ্গার ফসল ঘরে তুলছে বাংলাদেশ ইউনুসের অংশগ্রহনমূলক নির্বাচনের নমুনা দেখুন ফরিদপুরে হাসপাতালে বিএনপি’র সন্ত্রাসীদের হামলা বিএনপির মামলায় কারাবরণ; চিকিৎসা বিলম্বে কেটে ফেলতে হলো পেকুয়ার নাজিমুদ্দিনের পা নির্বাচনী কারসাজির নয়া কায়দা : ইউনুসের পঞ্চান্ন হাজার ভুয়া পর্যবেক্ষক বিএনপির চাঁদাবাজদের কাছে যেন আপন ভাইয়েরও নিস্তার নেই প্রবাসীদের ভোটাধিকার নাকি জামায়াতের ভোটব্যাংক সাজানোর খেলা? নির্বাচনে ৯৫ শতাংশ প্রবাসী সাড়া দেননি, কারাগারে ৯৩ শতাংশ ১৭ বছরে পেয়েছি মেট্রো ও মডেল মসজিদ, আর এখন দেখছি চোর ও অপদার্থের রাজত্ব’—দুই আমলের তফাত টেনে ভাইরাল ভিডিও বার্তা গণভোট নয়, সংবিধান ভাঙার নীলনকশা হাতিরঝিল এক্সপ্রেসওয়ের রড চুরির একচ্ছত্র আধিপত্য ‘মাওরা সায়মন’ সিন্ডিকেটের: নেপথ্যে ভেজাল তাহের ও কাইলা হৃদয় ভোটের আগে অরক্ষিত সীমান্ত: ‘জিরো টলারেন্স’-এর বুলিতে ঢাকা পড়ছে অস্ত্রের ঝনঝনানি “হ্যাঁ–না ভোটের ফল আগেই নির্ধারিত। এখন চলছে ভোটের নামে এক প্রহসন।” — জননেত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ভোট বয়কটের ডাক ৫ পেশাজীবী সংগঠনের নির্বাচনের নামে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর জীবনে ভয় ও আতঙ্ক সৃষ্টি করা কোনোভাবেই গণতান্ত্রিক চর্চা হতে পারে না যে জাতি তার মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান করতে ভুলে যায়, সেই জাতি নিজের জন্মকেই অস্বীকার করে ফাঁস হওয়া নথিতে ৬৪ ডিসির রাজনৈতিক পরিচয়: ‘নিরপেক্ষ’ প্রশাসনে দলীয়করণের ছায়া জেলখানার মাইকে ভেসে এল বাবা হওয়ার সংবাদ: সাবেক ছাত্রলীগ নেতার কারাজীবনের নির্মম আখ্যান পরিচয় ফাঁসের আতঙ্ক: পোস্টাল ব্যালটে ভোটদানে বিমুখ সরকারি চাকরিজীবী কর্মকর্তারা আসন্ন নির্বাচনকে ‘প্রহসন’ আখ্যা ভোট বর্জনের ডাক দিয়ে ৭০৭ আইনজীবীর বিবৃতি ‘প্রতিদ্বন্দ্বী দলকে আইনি কৌশলে মাঠের বাইরে রাখা গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক’: মাইকেল রুবিন