গোপালগঞ্জের সন্তান- হেমায়েত বাহিনীর ক্যাপ্টেন হেমায়েত বীর বিক্রম, যাঁর নামে কলজে শুকিয়ে যেত পাকিস্তানিদের – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ১৮ মার্চ, ২০২৬

গোপালগঞ্জের সন্তান- হেমায়েত বাহিনীর ক্যাপ্টেন হেমায়েত বীর বিক্রম, যাঁর নামে কলজে শুকিয়ে যেত পাকিস্তানিদের

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১৮ মার্চ, ২০২৬ |
বীর মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন হেমায়েত উদ্দিন, বীর বিক্রম (৩রা ডিসেম্বর ১৯৪১ – ২২শে অক্টোবর ২০১৬)। ১৯৪১ সালের ৩রা ডিসেম্বর গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া উপজেলার টুপুরিয়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম শেখ আবদুল করিম মুন্সি এবং মাতার নাম সখিনা বেগম। ৮ম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত অবস্থায় ১৯৫৯ সালে তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন। তারপর চাকরিরত অবস্থায় উচ্চমাধ্যমিক পাস করে তিনি জুনিয়র অফিসার পদ লাভ করেন (ওয়ারেন্ট অফিসার)। এ সময় তিনি পাকিস্তানের এবোটাবাদস্থ আর্মি স্কুল অব মিউজিক-এ প্রশিক্ষকের দায়িত্বে ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণের পর ৯ই মার্চ ছুটি নিয়ে তিনি দেশে আসেন এবং ১৪ই মার্চ জয়দেবপুর সেনানীবাসের ২য় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগদান করেন। ২৮শে মার্চ জয়দেবপুর সেনানীবাসে

বিদ্রোহ করে হেমায়েত উদ্দিন বেশ কয়েকজন পাকসেনাকে হত্যা করেন। এরপর স্থানীয় শ্রমিক নেতা এম এ মোতালিবের সহায়তায় অস্ত্রাগার দখল করেন। অস্ত্র ও গোলাবারুদ নিয়ে কাপাসিয়ার মাত্রা হাইস্কুল মাঠে বিভিন্ন জেলার লোকজন সমন্বয়ে তিনদিনের একটি প্রশিক্ষণ ক্যাম্প করেন। প্রত্যেককে কিছু অস্ত্র দিয়ে স্ব-স্ব এলাকায় চলে যাওয়ার জন্য বলেন। এ-সময় শাহআলম, ইব্রাহিম খান প্রমুখকে নিয়ে স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী গঠন করেন। কাপাসিয়া, বরমী, কাওরাইদ রেলব্রিজ, কালিয়াকৈর প্রভৃতি এলাকায় স্বল্পকালীন ক্যাম্প স্থাপন করে পাকবাহিনীকে ব্যতিব্যস্ত করে রাখেন। সেখানে এক যুদ্ধে সেমসাইডের কারণে নিজ দলের ডিএসপি আবদুস সবুর শহিদ হন। কালিয়াকৈরে পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে একটি যুদ্ধ হয় এবং তাতে ৪ জন মুক্তিযোদ্ধা শহিদ হন। ২য় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ল্যান্স নায়েক

আলম, আইয়ুব, ওয়াজেদ ও ইব্রাহিম খানসহ বারোজনকে সঙ্গে নিয়ে ১৬ই এপ্রিল তিনি ফরিদপুর পৌঁছান। সেখানে কে এম ওবায়দুর রহমান এমএনএ, ইমাম উদ্দিন আহমেদ এমপিএ, আওয়ামী লীগ নেতা ফিরোজ মাস্টার প্রমুখের সহায়তায় তিনি ডাকবাংলোয় ক্যাম্প স্থাপন করেন। পাকসেনারা ২০শে এপ্রিল গোয়ালন্দ দখল করলে তিনি ২১শে এপ্রিল ফরিদপুর পুলিশ লাইনস দখল করে এর অস্ত্র ও গোলাবারুদ স্থানীয় ছাত্র-জনতার মধ্যে বণ্টন করে দেন। অসহযোগিতা করায় জেলা প্রশাসক আ ন ম ইউসুফ এবং পুলিশ সুপার নূরুল মোমেনকে গ্রেপ্তার করে মাদারীপুর পাঠিয়ে দেন। হেমায়েত উদ্দিন ২৮শে এপ্রিল ইব্রাহিম খান ও মোজাহিদসহ কোটালীপাড়ায় নিজ বাড়িতে পৌঁছান। এ সময় স্থানীয় রাজাকারেরা তাঁকে হুমকি দেয়; আত্মসমর্পণ না করলে তাঁর ছেলে

এবং স্ত্রীকে ধরে নিয়ে হত্যা করা হবে বলে। স্ত্রী-সন্তানের দুশ্চিন্তায় যুদ্ধের লক্ষ্য থেকে যেন বিচ্যুত না হন হেমায়েত, সেজন্য হেমায়েতের স্ত্রী আত্মহত্যা করেন। পরে হেমায়েত সেখান থেকে সরে গিয়ে স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সহায়তায় মুক্তিবাহিনীকে সংগঠিত করার কাজে দৃঢ় সংকল্প নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন। ক্যাপ্টেন হেমায়েত উদ্দিনের নামে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীতে থরহরিকম্প অবস্থা সৃষ্টি হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে। তাঁর বাহিনীর সদস্যদের আক্রমণে পর্যুদস্ত ছিল পাকিস্তানিরা। বলা হতো, ‘হেমায়েত’ নাম শুনলেই পাকিস্তানি সৈনিকদের কাপড়চোপড় নষ্ট হয়ে যাওয়ার যোগাড় হতো। পাকিস্তানিদের কাছে তিনি ছিলেন মূর্তিমান ত্রাসের নাম। ৯ই মে তিনি নিজে পাকসেনার ক্যাপ্টেন সেজে মাত্র দুজন সহকারী ইব্রাহিম খান ও সোলেমানকে সঙ্গে নিয়ে কোটালীপাড়া থানা দখল করেন। থানা

দখলের ফলে প্রচুর অস্ত্র তাঁর হস্তগত হয়। স্থানীয় আওয়ামী লীগ সভাপতি চিত্তরঞ্জন গাইন এবং আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সহায়তায় ছুটিতে আসা সেনাসদস্যদের নিয়ে কোটালীপাড়ায় ক্যাম্প স্থাপন করেন। কোটালীপাড়ার জহরেরকান্দি হাই স্কুলে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। তাঁর নেতৃত্বে হেমায়েত বাহিনীর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। নবম সেক্টরের একটি বিশাল এলাকাজুড়ে ছিল এ বাহিনীর কর্মকাণ্ড। হেমায়েত বাহিনীতে সশস্ত্র মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ছিল সর্বমোট ৫,৫৫৮ জন। এ বাহিনীর যুদ্ধক্ষেত্র বরিশালের উত্তরাঞ্চল, খুলনা-বাগেরহাট ও যশোরের কালিয়াসহ গোপালগঞ্জ এবং মাদারীপুরের পশ্চিমাংশ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। হেমায়েত বাহিনী পরিচালনার জন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ে একটি পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়েছিল। এই বাহিনী ৪২টি উপ-দলে বিভক্ত ছিল। প্রতিটি দলে কমান্ডার, সহকারী কমান্ডার

নিযুক্ত করা হয়েছিল। তবে কেন্দ্রীয়ভাবে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালিত হত। হেমায়েত বাহিনীর মধ্যে বিচার বিভাগও ছিল। নিয়ম-শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে ২ জন গ্রুপ কমান্ডার সহ মোট ৬ জন মুক্তিযোদ্ধাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। যুদ্ধকালীন সময়ে হেমায়েত উদ্দিন অনেকগুলো সম্মুখ যুদ্ধে অংশ নেন, যার মধ্যে ১৪ই জুলাই সংঘটিত রামশীলের যুদ্ধ – বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এই যুদ্ধে একটি বুলেট হেমায়েত উদ্দিনের গালের এক পাশ দিয়ে বিদ্ধ হয়ে অন্য দিক দিয়ে বেরিয়ে যায়, যার ফলে তিনি আটটি দাঁত হারান এবং প্রচুর রক্তপাত হয়। যন্ত্রণাদায়ক ক্ষত সত্ত্বেও তিনি থেমে যাননি। এমনকি পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে বিজয় নিশ্চিত করেও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তিনি ভেঙে পড়েননি, তাঁর মনোবল ছিল অটুট। তাঁর তৎপরতায় ৩রা ডিসেম্বর

কোটালীপাড়া ও টুঙ্গিপাড়া এবং ৬ই ডিসেম্বর গোপালগঞ্জ মহকুমা হানাদারমুক্ত হয়। ২রা ডিসেম্বর রাতে ২৪ জন সাব কমান্ডার নিয়ে তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন চূড়ান্ত আক্রমণের। তাঁর নেতৃত্বে ৩রা ডিসেম্বর, ১৯৭১ তারিখে হেমায়েত বাহিনী কোটালীপাড়ায় প্রায় ৫০০ পাকিস্তানি সেনাকে পরাস্ত করে গোপালগঞ্জ মহকুমা শত্রুমুক্ত করে। ২২শে অক্টোবর ২০১৬ শনিবার সকাল ৬টা ১০ মিনিটে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি ঢাকার ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। কোটালীপাড়ার টুপুরিয়া গ্রামে হেমায়েত বাহিনী স্মৃতি জাদুঘর প্রাঙ্গণে ২৪শে অক্টোবর তাঁকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয়। মহান মুক্তিযুদ্ধে সাহসিকতাপূর্ণ অবদানের জন্য ক্যাপ্টেন হেমায়েত উদ্দিনকে ‘বীর বিক্রম’ খেতাবে ভূষিত করা হয়। তাঁর নামে ঢাকার মিরপুর ১ নম্বর গোলচক্কর থেকে চিড়িয়াখানা পর্যন্ত রাস্তা এবং কোটলীপাড়ার একটি সেতুর নামকরণ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
শেখ মুজিব-বাঙালির একমাত্র মাহানায়ক গোপালগঞ্জের সন্তান- হেমায়েত বাহিনীর ক্যাপ্টেন হেমায়েত বীর বিক্রম, যাঁর নামে কলজে শুকিয়ে যেত পাকিস্তানিদের ঈদে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরানো নিয়েও ইউনুসের ছলচাতুরী ম্যানেজিং কমিটিতে দলীয় লোক নেওয়া হলে আদালতে যাওয়ার হুশিয়ারি রাশেদা কে চৌধুরীর বাংলার মাটি ও মানুষের প্রতি মমতায় গড়া এক নেতৃত্বের নাম শেখ মুজিব কাবুলে হাসপাতালে ভয়াবহ বিমান হামলা: পাকিস্তানের যুদ্ধাপরাধ ও বর্বরতা ১৯৭১ এর মতোই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের না খেলার কারণ খুঁজতে তদন্ত কমিটি হচ্ছে স্কুলে এসে শিশুরা যেন পাঠ্যপুস্তকে বৈষম্য না দেখে—এই অবদান শেখ হাসিনার একান্ত শেখ হাসিনার ডেল্টা প্লানকে তারেক রহমান চালাচ্ছেন খালকাটা কর্মসূচি হিসেবে ‘ইউনূসকে ঠিকই চিনেছিলেন শেখ হাসিনা’, কারামুক্ত হয়ে আনিস আলমগীর ইতিহাস থেকে রাষ্ট্র বিনির্মাণ: দেশবন্ধু থেকে বঙ্গবন্ধু কামরুল হাসান বেঁচে থাকলে ড. ইউনূসকে ‘বিশ্ব বাটপার’ উপাধি দিতেন: আনিস আলমগীর রাতে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ের আভাস, বিপাকে যেসব জেলা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের কাছে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব শুধু ঈদের দিন বন্ধ থাকবে মেট্রো রেল জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতা শামস সুমন আর নেই অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান মোজতবা খামেনি, অডিও ফাঁস পদত্যাগ করেছেন সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান চীনে আল্ট্রা-ট্রেইল শিয়ামেনে অংশ নিলেন ইমামুর রহমান ১০০ দেশ ভ্রমণের লক্ষ্য তরুণ তুর্কী শাকিব উদ্দিনের