ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
দাসত্বের দালালেরা ২০০১ এ যেভাবে সফল হয়েছিল, একইভাবে এবারও সফল
জুলাই শহীদ গেজেটঃ ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকারের সবচেয়ে বড় নোংরা রাজনীতি ও প্রতারণা!
বাঙালীর দ্রোহের ভাষা, প্রতিবাদী হুঙ্কার, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা আর শিষ্টাচারের কি কুৎসিত অবনতি!
মতামত || উভলিঙ্গ নির্বাচন
গণভোট: বাংলাদেশ এবং দক্ষিণ এশিয়াকে অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা
কারা ফটকের পাঁচ মিনিট……
রঙ বদলের মানুষেরা!
গণভোটের ফলাফল বনাম সাংবিধানিক সীমা
গণভোট সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু এখন মূল প্রশ্ন ফলাফল নয়—সংবিধান। রাষ্ট্রপতি প্রকাশ্যে অভিযোগ করেছেন যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ধারাবাহিকভাবে সংবিধান লঙ্ঘন করেছে, রাষ্ট্রপতিকে সাংবিধানিক প্রক্রিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন রেখে শাসন পরিচালনা করেছে এবং আইনগত ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছে। এই অভিযোগকে ভিত্তি ধরলে গণভোটের বৈধতা নিয়ে মৌলিক প্রশ্ন ওঠে: এই গণভোট কি সংবিধানের অধীন ও কর্তৃত্বে অনুষ্ঠিত হয়েছে? যদি না হয়ে থাকে, তবে এর ফলাফল জাতীয় সংসদে পাস করা সাংবিধানিক শৃঙ্খলার জন্য বিপজ্জনক নজির হয়ে দাঁড়াবে।
সংবিধানের ৭(১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ, এবং জনগণের পক্ষে সেই ক্ষমতার প্রয়োগ কেবল সংবিধানের অধীন ও কর্তৃত্বে কার্যকর হবে। অর্থাৎ জনগণের সার্বভৌমত্বও সাংবিধানিক কাঠামোর ভেতরে
সীমাবদ্ধ। ৭(২) অনুচ্ছেদে আরও বলা হয়েছে, সংবিধান সর্বোচ্চ আইন; অন্য কোনো আইন সংবিধানের সঙ্গে অসামঞ্জস্য হলে তা বাতিল। ফলে গণভোট আয়োজনের জন্য জারি করা কোনো আদেশ বা অধ্যাদেশ যদি সংবিধানের নির্ধারিত পদ্ধতি লঙ্ঘন করে, তবে তার ফলাফল আইনগতভাবে টেকসই নয়। এখানে প্রথম প্রশ্ন রাষ্ট্রপতির নামে জারি করা “জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫” নিয়ে। সংবিধানের ১৫২(১) অনুচ্ছেদে “আইন” শব্দের সংজ্ঞায় অধ্যাদেশ, আদেশ প্রভৃতির উল্লেখ আছে। কিন্তু সংজ্ঞায় অন্তর্ভুক্তি ক্ষমতার উৎস নয়। রাষ্ট্রপতির আইন প্রণয়নের ক্ষমতা নির্দিষ্টভাবে ৯৩ অনুচ্ছেদে অধ্যাদেশ প্রণয়নের মাধ্যমে সীমিত। ৯৩(১) অনুযায়ী সংসদ ভেঙে গেলে বা অধিবেশন না থাকলে রাষ্ট্রপতি আশু পরিস্থিতিতে অধ্যাদেশ জারি করতে পারেন। কিন্তু
একই অনুচ্ছেদের উপশর্তে স্পষ্ট বলা আছে—অধ্যাদেশে এমন কোনো বিধান করা যাবে না যা সংবিধানের অধীন সংসদের আইন দ্বারা করা যায় না; বিশেষ করে ৯৩(১)(খ) অনুযায়ী সংবিধানের কোনো বিধান পরিবর্তিত বা রহিত করা যাবে না। ফলে অধ্যাদেশের মাধ্যমে সংবিধান সংস্কারের পথ প্রস্তুত করা সাংবিধানিক সীমা অতিক্রমের ঝুঁকি তৈরি করে। সংবিধান সংশোধনের একমাত্র বৈধ পদ্ধতি নির্ধারিত হয়েছে ১৪২ অনুচ্ছেদে। সেখানে বলা হয়েছে, সংসদের আইন দ্বারা সংবিধানের কোনো বিধান সংযোজন, পরিবর্তন বা রহিত করা যাবে; সংশোধনী বিলের শিরোনামে সংশোধনের বিষয়টি স্পষ্ট থাকতে হবে; এবং সংসদের মোট সদস্যসংখ্যার কমপক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে গৃহীত না হলে রাষ্ট্রপতির সম্মতির জন্য পেশ করা যাবে না। অর্থাৎ সংবিধান পরিবর্তনের ক্ষমতা
সংসদে, গণভোটে নয়। গণভোটের ফল সংসদের ওপর রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে, কিন্তু ১৪২ অনুচ্ছেদের কঠোর প্রক্রিয়া এড়িয়ে সংবিধান বদলানো যায় না। সুতরাং গণভোটকে যদি সংশোধনের বিকল্প পথ হিসেবে ব্যবহার করা হয়, তা সাংবিধানিক পদ্ধতির পরিপন্থী। আরও গুরুতর প্রশ্ন উঠে আসে ৭খ অনুচ্ছেদে। এই অনুচ্ছেদে প্রস্তাবনা, প্রথম ভাগের সকল অনুচ্ছেদ, দ্বিতীয় ভাগের সকল অনুচ্ছেদ, তৃতীয় ভাগের নির্দিষ্ট অধিকারসমূহ, নবম-ক ভাগের জরুরি অবস্থাবিষয়ক বিধান এবং একাদশ ভাগের ১৫০ অনুচ্ছেদসহ সংবিধানের মৌলিক কাঠামো সংশোধনের অযোগ্য বলা হয়েছে। প্রথম ভাগে রয়েছে রাষ্ট্রের পরিচয়, জাতীয় সঙ্গীত, পতাকা, সংবিধানের প্রাধান্য, ৭ক ও ৭খ নিজেই; দ্বিতীয় ভাগে রাষ্ট্রের মূলনীতি; নবম-ক ভাগে জরুরি অবস্থার বিধান (১৪১ক, ১৪১খ, ১৪১গ);
এবং ১৫০ অনুচ্ছেদে মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক দলিলসমূহের স্বীকৃতি। এই কাঠামো সংবিধানের ভিত্তি। যদি গণভোটের প্রস্তাবসমূহ এই মৌলিক অংশগুলোকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষে প্রভাবিত করে, তবে তা ৭খ অনুচ্ছেদের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। এখানে ৭ক অনুচ্ছেদও প্রাসঙ্গিক। এতে বলা হয়েছে, অসাংবিধানিক পন্থায় সংবিধান রদ, রহিত বা স্থগিত করা বা সে উদ্দেশ্যে উদ্যোগ গ্রহণ রাষ্ট্রদ্রোহিতা। যদিও কোনো অপরাধ নির্ধারণ আদালতের বিষয়, তবুও সাংবিধানিক বিশ্লেষণে এটি সতর্কবার্তা—সংবিধানের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অতিক্রম করা কেবল রাজনৈতিক বিতর্ক নয়; আইনি দায়ের প্রশ্নও তৈরি করতে পারে। গণভোটের প্রশ্ন কাঠামো নিয়েও সমস্যা রয়েছে। একাধিক ভিন্ন প্রস্তাবকে একত্রে প্যাকেজ করে কেবল একটি “হ্যাঁ” বা “না” বিকল্প দেওয়া হলে ভোটারের অর্থবহ পছন্দ সীমিত হয়। কেউ যদি কিছু
প্রস্তাবে সম্মত কিন্তু অন্যটিতে অসম্মত হন, তার মতপ্রকাশের সুযোগ থাকে না। এতে ভোটাধিকার সংকুচিত হয় এবং ফলাফল জনগণের জটিল মতামতকে সরলীকৃত করে উপস্থাপন করে। গণতান্ত্রিক নীতির দৃষ্টিতে এটি দুর্বল প্রক্রিয়া। অষ্টম সংশোধনী মামলায় (Anwar Hossain Chowdhury v. Bangladesh, 1989) আপিল বিভাগ মৌলিক কাঠামো মতবাদ স্বীকৃতি দেয় এবং ঘোষণা করে যে সংসদের সংশোধনী ক্ষমতা সীমাহীন নয়; সংবিধানের মৌলিক কাঠামো ধ্বংস করা যাবে না। রায়ে আরও স্পষ্ট করা হয় যে সার্বভৌমত্ব জনগণের হলেও সংসদ সেই ক্ষমতার ধারক মাত্র এবং সংবিধানই সর্বোচ্চ আইন। এই বিচারধারা ৭(২) অনুচ্ছেদের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ফলে গণভোটের ফলাফলের ভিত্তিতে যদি এমন কোনো সংশোধনী আনা হয় যা মৌলিক কাঠামো ক্ষুণ্ন করে,
তা আদালতে টেকসই হবে না। গণভোট ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে—এটি বাস্তবতা। কিন্তু সংসদের সামনে এখন সাংবিধানিক দায়িত্ব। সংসদ যদি ফলাফলকে স্বয়ংক্রিয় নির্দেশ হিসেবে গ্রহণ করে এবং ৭ এর খ অনুচ্ছেদ ও ১৪২ অনুচ্ছেদের বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ না করে সংশোধনী পাস করে, তবে তা সংবিধানের সর্বোচ্চতার নীতিকে দুর্বল করবে। বরং সংসদের উচিত হবে প্রতিটি প্রস্তাব পৃথকভাবে বিবেচনা করা, মৌলিক কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য যাচাই করা এবং সাংবিধানিক সীমা মেনে চলা। রাষ্ট্রপতির অভিযোগ এই আলোচনাকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করেছে। যদি সত্যিই সাংবিধানিক প্রক্রিয়া উপেক্ষা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে থাকে, তবে গণভোট তারই ধারাবাহিকতা। গণতন্ত্রের লক্ষ্য সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রতীকী প্রদর্শন নয়; লক্ষ্য সংবিধানের অধীন জনগণের ক্ষমতার সুশৃঙ্খল প্রয়োগ। সংবিধানই রাষ্ট্রের ভিত্তি। সেই ভিত্তি দুর্বল করে কোনো গণভোটের ফলাফলকে বৈধতা দেওয়া হলে তা ভবিষ্যতে আরও গভীর সাংবিধানিক সংকট ডেকে আনতে পারে। অতএব, গণভোটের ফলাফল যাই হোক, তা সংসদে পাস করার আগে সংবিধানের ৭, ৭ক, ৭খ, ৯৩, ১৪২, ১৪১ক–গ, ১৫০ ও ১৫২(১) অনুচ্ছেদের আলোকে কঠোর পরীক্ষা নিরীক্ষা প্রয়োজন। সংবিধানের মৌলিক কাঠামো অক্ষুণ্ন রাখা এবং সংশোধনের সাংবিধানিক পদ্ধতি মানাই এখন রাষ্ট্রের প্রধান কর্তব্য। গণভোটের ফলাফল নয়—সংবিধানের বৈধতাই চূড়ান্ত। লেখকঃ ডক্টর মাহবুব আলম প্রদীপ, সিনিয়র লেকচারার ও কোর্স কো-অর্ডিনেটর, সমাজকর্ম বিভাগ, একনলেজ ইডুকেশন, অস্ট্রেলিয়া।
সীমাবদ্ধ। ৭(২) অনুচ্ছেদে আরও বলা হয়েছে, সংবিধান সর্বোচ্চ আইন; অন্য কোনো আইন সংবিধানের সঙ্গে অসামঞ্জস্য হলে তা বাতিল। ফলে গণভোট আয়োজনের জন্য জারি করা কোনো আদেশ বা অধ্যাদেশ যদি সংবিধানের নির্ধারিত পদ্ধতি লঙ্ঘন করে, তবে তার ফলাফল আইনগতভাবে টেকসই নয়। এখানে প্রথম প্রশ্ন রাষ্ট্রপতির নামে জারি করা “জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫” নিয়ে। সংবিধানের ১৫২(১) অনুচ্ছেদে “আইন” শব্দের সংজ্ঞায় অধ্যাদেশ, আদেশ প্রভৃতির উল্লেখ আছে। কিন্তু সংজ্ঞায় অন্তর্ভুক্তি ক্ষমতার উৎস নয়। রাষ্ট্রপতির আইন প্রণয়নের ক্ষমতা নির্দিষ্টভাবে ৯৩ অনুচ্ছেদে অধ্যাদেশ প্রণয়নের মাধ্যমে সীমিত। ৯৩(১) অনুযায়ী সংসদ ভেঙে গেলে বা অধিবেশন না থাকলে রাষ্ট্রপতি আশু পরিস্থিতিতে অধ্যাদেশ জারি করতে পারেন। কিন্তু
একই অনুচ্ছেদের উপশর্তে স্পষ্ট বলা আছে—অধ্যাদেশে এমন কোনো বিধান করা যাবে না যা সংবিধানের অধীন সংসদের আইন দ্বারা করা যায় না; বিশেষ করে ৯৩(১)(খ) অনুযায়ী সংবিধানের কোনো বিধান পরিবর্তিত বা রহিত করা যাবে না। ফলে অধ্যাদেশের মাধ্যমে সংবিধান সংস্কারের পথ প্রস্তুত করা সাংবিধানিক সীমা অতিক্রমের ঝুঁকি তৈরি করে। সংবিধান সংশোধনের একমাত্র বৈধ পদ্ধতি নির্ধারিত হয়েছে ১৪২ অনুচ্ছেদে। সেখানে বলা হয়েছে, সংসদের আইন দ্বারা সংবিধানের কোনো বিধান সংযোজন, পরিবর্তন বা রহিত করা যাবে; সংশোধনী বিলের শিরোনামে সংশোধনের বিষয়টি স্পষ্ট থাকতে হবে; এবং সংসদের মোট সদস্যসংখ্যার কমপক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে গৃহীত না হলে রাষ্ট্রপতির সম্মতির জন্য পেশ করা যাবে না। অর্থাৎ সংবিধান পরিবর্তনের ক্ষমতা
সংসদে, গণভোটে নয়। গণভোটের ফল সংসদের ওপর রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে, কিন্তু ১৪২ অনুচ্ছেদের কঠোর প্রক্রিয়া এড়িয়ে সংবিধান বদলানো যায় না। সুতরাং গণভোটকে যদি সংশোধনের বিকল্প পথ হিসেবে ব্যবহার করা হয়, তা সাংবিধানিক পদ্ধতির পরিপন্থী। আরও গুরুতর প্রশ্ন উঠে আসে ৭খ অনুচ্ছেদে। এই অনুচ্ছেদে প্রস্তাবনা, প্রথম ভাগের সকল অনুচ্ছেদ, দ্বিতীয় ভাগের সকল অনুচ্ছেদ, তৃতীয় ভাগের নির্দিষ্ট অধিকারসমূহ, নবম-ক ভাগের জরুরি অবস্থাবিষয়ক বিধান এবং একাদশ ভাগের ১৫০ অনুচ্ছেদসহ সংবিধানের মৌলিক কাঠামো সংশোধনের অযোগ্য বলা হয়েছে। প্রথম ভাগে রয়েছে রাষ্ট্রের পরিচয়, জাতীয় সঙ্গীত, পতাকা, সংবিধানের প্রাধান্য, ৭ক ও ৭খ নিজেই; দ্বিতীয় ভাগে রাষ্ট্রের মূলনীতি; নবম-ক ভাগে জরুরি অবস্থার বিধান (১৪১ক, ১৪১খ, ১৪১গ);
এবং ১৫০ অনুচ্ছেদে মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক দলিলসমূহের স্বীকৃতি। এই কাঠামো সংবিধানের ভিত্তি। যদি গণভোটের প্রস্তাবসমূহ এই মৌলিক অংশগুলোকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষে প্রভাবিত করে, তবে তা ৭খ অনুচ্ছেদের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। এখানে ৭ক অনুচ্ছেদও প্রাসঙ্গিক। এতে বলা হয়েছে, অসাংবিধানিক পন্থায় সংবিধান রদ, রহিত বা স্থগিত করা বা সে উদ্দেশ্যে উদ্যোগ গ্রহণ রাষ্ট্রদ্রোহিতা। যদিও কোনো অপরাধ নির্ধারণ আদালতের বিষয়, তবুও সাংবিধানিক বিশ্লেষণে এটি সতর্কবার্তা—সংবিধানের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অতিক্রম করা কেবল রাজনৈতিক বিতর্ক নয়; আইনি দায়ের প্রশ্নও তৈরি করতে পারে। গণভোটের প্রশ্ন কাঠামো নিয়েও সমস্যা রয়েছে। একাধিক ভিন্ন প্রস্তাবকে একত্রে প্যাকেজ করে কেবল একটি “হ্যাঁ” বা “না” বিকল্প দেওয়া হলে ভোটারের অর্থবহ পছন্দ সীমিত হয়। কেউ যদি কিছু
প্রস্তাবে সম্মত কিন্তু অন্যটিতে অসম্মত হন, তার মতপ্রকাশের সুযোগ থাকে না। এতে ভোটাধিকার সংকুচিত হয় এবং ফলাফল জনগণের জটিল মতামতকে সরলীকৃত করে উপস্থাপন করে। গণতান্ত্রিক নীতির দৃষ্টিতে এটি দুর্বল প্রক্রিয়া। অষ্টম সংশোধনী মামলায় (Anwar Hossain Chowdhury v. Bangladesh, 1989) আপিল বিভাগ মৌলিক কাঠামো মতবাদ স্বীকৃতি দেয় এবং ঘোষণা করে যে সংসদের সংশোধনী ক্ষমতা সীমাহীন নয়; সংবিধানের মৌলিক কাঠামো ধ্বংস করা যাবে না। রায়ে আরও স্পষ্ট করা হয় যে সার্বভৌমত্ব জনগণের হলেও সংসদ সেই ক্ষমতার ধারক মাত্র এবং সংবিধানই সর্বোচ্চ আইন। এই বিচারধারা ৭(২) অনুচ্ছেদের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ফলে গণভোটের ফলাফলের ভিত্তিতে যদি এমন কোনো সংশোধনী আনা হয় যা মৌলিক কাঠামো ক্ষুণ্ন করে,
তা আদালতে টেকসই হবে না। গণভোট ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে—এটি বাস্তবতা। কিন্তু সংসদের সামনে এখন সাংবিধানিক দায়িত্ব। সংসদ যদি ফলাফলকে স্বয়ংক্রিয় নির্দেশ হিসেবে গ্রহণ করে এবং ৭ এর খ অনুচ্ছেদ ও ১৪২ অনুচ্ছেদের বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ না করে সংশোধনী পাস করে, তবে তা সংবিধানের সর্বোচ্চতার নীতিকে দুর্বল করবে। বরং সংসদের উচিত হবে প্রতিটি প্রস্তাব পৃথকভাবে বিবেচনা করা, মৌলিক কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য যাচাই করা এবং সাংবিধানিক সীমা মেনে চলা। রাষ্ট্রপতির অভিযোগ এই আলোচনাকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করেছে। যদি সত্যিই সাংবিধানিক প্রক্রিয়া উপেক্ষা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে থাকে, তবে গণভোট তারই ধারাবাহিকতা। গণতন্ত্রের লক্ষ্য সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রতীকী প্রদর্শন নয়; লক্ষ্য সংবিধানের অধীন জনগণের ক্ষমতার সুশৃঙ্খল প্রয়োগ। সংবিধানই রাষ্ট্রের ভিত্তি। সেই ভিত্তি দুর্বল করে কোনো গণভোটের ফলাফলকে বৈধতা দেওয়া হলে তা ভবিষ্যতে আরও গভীর সাংবিধানিক সংকট ডেকে আনতে পারে। অতএব, গণভোটের ফলাফল যাই হোক, তা সংসদে পাস করার আগে সংবিধানের ৭, ৭ক, ৭খ, ৯৩, ১৪২, ১৪১ক–গ, ১৫০ ও ১৫২(১) অনুচ্ছেদের আলোকে কঠোর পরীক্ষা নিরীক্ষা প্রয়োজন। সংবিধানের মৌলিক কাঠামো অক্ষুণ্ন রাখা এবং সংশোধনের সাংবিধানিক পদ্ধতি মানাই এখন রাষ্ট্রের প্রধান কর্তব্য। গণভোটের ফলাফল নয়—সংবিধানের বৈধতাই চূড়ান্ত। লেখকঃ ডক্টর মাহবুব আলম প্রদীপ, সিনিয়র লেকচারার ও কোর্স কো-অর্ডিনেটর, সমাজকর্ম বিভাগ, একনলেজ ইডুকেশন, অস্ট্রেলিয়া।



