খলিলুর রহমানের সফরের দুই দিন পরই বড় ধাক্কা: কেন বাংলাদেশের ওপর এই নজিরবিহীন মার্কিন সিদ্ধান্ত? – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ১৬ জানুয়ারি, ২০২৬
     ৫:২৬ অপরাহ্ণ

খলিলুর রহমানের সফরের দুই দিন পরই বড় ধাক্কা: কেন বাংলাদেশের ওপর এই নজিরবিহীন মার্কিন সিদ্ধান্ত?

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১৬ জানুয়ারি, ২০২৬ | ৫:২৬ 13 ভিউ
ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন অভিবাসন নীতি ঘিরে বিশ্বজুড়ে আলোচনা চলছে। ফক্স নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করার সিদ্ধান্ত আসতে পারে, যা কার্যকর হওয়ার সম্ভাব্য তারিখ ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি। যদি এটি বাস্তবে রূপ নেয়, তবে এটি বাংলাদেশের জন্য শুধু অভিবাসন সংকট নয়—বরং একটি বড় কূটনৈতিক ধাক্কা। এই সিদ্ধান্তের সময়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমানের পাঁচ দিনের যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষ হওয়ার মাত্র দুই দিন পরই এই খবর সামনে আসে। ফলে প্রশ্ন উঠছে—এটি কি নিছক কাকতাল, নাকি এর পেছনে গভীর রাজনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক বার্তা রয়েছে? নজিরবিহীন কেন? যুক্তরাষ্ট্র অতীতেও বাংলাদেশের ওপর বিভিন্ন

ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। ২০২১ সালে র‍্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা ছিল মানবাধিকার কেন্দ্রিক। ২০২৩ সালে ঘোষিত নির্বাচনী ভিসা নীতি ছিল নির্দিষ্ট ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর ওপর চাপ সৃষ্টির একটি কৌশল। কিন্তু এবারের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ ভিন্ন। এবার কোনো ব্যক্তি, সংস্থা বা রাজনৈতিক গোষ্ঠী নয়—বরং পুরো দেশের জনগণই কার্যত এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়তে পারে। এ ধরনের সিদ্ধান্ত কূটনীতিতে পরিচিত collective pressure বা সম্মিলিত চাপ প্রয়োগ হিসেবে। এটি অত্যন্ত কঠোর ও বিরল পদ্ধতি। এটি কি কেবল অভিবাসন নীতির পরিবর্তন? ট্রাম্প প্রশাসনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে ‘Public Charge’ বা ভবিষ্যতে আমেরিকার জন্য আর্থিক বোঝা হয়ে দাঁড়াতে পারেন—এমন অভিবাসীদের ঠেকানো এবং জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে ভেটিং প্রক্রিয়া কঠোর করা। কিন্তু

বাস্তবতা হলো, বাংলাদেশি অভিবাসীরা সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে কাজ করে, কর দেয় এবং দেশে বিপুল পরিমাণ রেমিট্যান্স পাঠায়। তারা মার্কিন সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার বড় বোঝা নয়। ফলে প্রশ্ন থেকেই যায়—তাহলে কেন হঠাৎ করে তাদের ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ভাষাগুলো মূলত রাজনৈতিক। প্রশাসনিক যুক্তির আড়ালে এখানে একটি কৌশলগত বার্তা লুকানো রয়েছে। সফরের পরপরই সিদ্ধান্ত: বার্তা কী? কূটনীতিতে সফরের পর সাধারণত যৌথ বিবৃতি, সহযোগিতার আশ্বাস বা নীতিগত অগ্রগতির খবর আসে। কিন্তু এখানে ঘটেছে উল্টোটা। সফরের দুই দিনের মধ্যেই এমন কঠোর সিদ্ধান্তের খবর সামনে আসা ইঙ্গিত দেয়, ওয়াশিংটন হয়তো ঢাকা সরকারের অবস্থানে সন্তুষ্ট নয়। এটি সরাসরি বলা হয়নি, কিন্তু ইঙ্গিত স্পষ্ট—যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে কিছু বিষয়ে

আরও নমনীয় বা অনুগত দেখতে চায়। এর পেছনের বড় ভূ-রাজনীতি এই সিদ্ধান্তকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখলে ভুল হবে। এটি ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের রাজনীতির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চলে তার প্রভাব ধরে রাখতে চায়। চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান সম্পর্ক ওয়াশিংটনের জন্য উদ্বেগের বিষয়। এ ছাড়া বাংলাদেশের নির্বাচন, গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের উদ্বেগ রয়েছে। অতীতে এসব ইস্যুতে তারা কূটনৈতিক নোট, বিবৃতি ও ব্যক্তিভিত্তিক নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। কিন্তু এবার তারা সরাসরি জনগণের জীবনের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে—এমন একটি পদ্ধতি বেছে নিচ্ছে। এটি এক ধরনের Indirect Coercion—পরোক্ষ চাপ প্রয়োগের কৌশল। অর্থনৈতিক প্রভাব কতটা গভীর? এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে এর প্রভাব শুধু ভিসার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। প্রথমত, ভবিষ্যতের

রেমিট্যান্স প্রবাহ কমে যাবে। দ্বিতীয়ত, বহু শিক্ষার্থী ও দক্ষ পেশাজীবীর উচ্চশিক্ষা ও স্থায়ী কর্মসংস্থানের পথ বন্ধ হয়ে যাবে। তৃতীয়ত, দীর্ঘমেয়াদে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। অর্থাৎ এটি শুধু রাজনৈতিক নয়, অর্থনৈতিক সংকটেরও পূর্বাভাস। উপসংহার এই সিদ্ধান্ত যদি কার্যকর হয়, তবে এটি স্পষ্ট করে দেবে—যুক্তরাষ্ট্র আর নরম কূটনীতিতে নেই। তারা এখন চাপ প্রয়োগ করছে এমনভাবে, যাতে তার প্রভাব সরাসরি সাধারণ মানুষের জীবনে পড়ে। এটি কোনো প্রশাসনিক ভুল নয়, এটি একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক বার্তা। বার্তাটি সহজ: সরকারকে নয়—জনগণের ভবিষ্যতের পথ সংকুচিত করে চাপ সৃষ্টি করা। এটাই এই সিদ্ধান্তের সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
যে রাজনীতি সন্তানের হাতে কলম নয়, কফিন তুলে দিতে চায়—সেই জামাত-শিবিরের আগ্রাসন রুখুন, এই ভাঁওতাবাজ নির্বাচন বয়কট করুন। খুনি-ফ্যাসিস্ট, জঙ্গি-মদদদাতা, অবৈধ-দখলদার ইউনূস গং কর্তৃক ইউনুসের দৌলতে দেশের অর্থনীতি এখন লাশকাটা ঘরে দৃশ্যমান উন্নয়ন বনাম দুর্নীতির গল্প নির্বাচন, নিষেধাজ্ঞা ও সংখ্যালঘু নির্যাতন: পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাজ্যের এমপির গভীর উদ্বেগ খলিলুর রহমানের সফরের দুই দিন পরই বড় ধাক্কা: কেন বাংলাদেশের ওপর এই নজিরবিহীন মার্কিন সিদ্ধান্ত? নির্বাচন আওয়ামীলীগ ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ: লন্ডন ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান চ‍্যথাম হাউসের সতর্কবার্তা পে-স্কেল না দিলে নির্বাচনী দায়িত্বে না যাবার ঘোষণা দিতে পারেন সরকারি চাকরিজীবীরা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ: কূটনৈতিক প্রটোকল না কি রাজনৈতিক বার্তা? ৬৯ হাজার রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশি পাসপোর্ট: মানবিকতা, আন্তর্জাতিক আইন ও রাষ্ট্রীয় আত্মঘাত ঝলমলে চুল পেতে জাপানিরা যেভাবে যত্ন নেন ট্রাম্পকে নোবেল পুরস্কারের মেডেল ‘উপহার’ দিলেন মাচাদো নোবেল পুরস্কার ‘হস্তান্তরযোগ্য নয়’, বলল নোবেল পিস সেন্টার আধিপত্য নিয়ে তালেবানের শীর্ষ পর্যায়ের কোন্দল প্রকাশ্যে সরকার নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে পারবে কিনা- সন্দেহ দেবপ্রিয়র পোস্টাল ভোটে অনিয়ম করলে প্রবাসীদের দেশে ফেরত আনার হুঁশিয়ারি ইসির বাংলাদেশে সহিংসতা বাড়ছে, রাজনীতিতে উপেক্ষিত নারী বাংলাদেশের প্রধান ঝুঁকি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বিশ্বের প্রধান ঝুঁকি ভূ-অর্থনৈতিক সংঘাত স্থগিত হয়ে যেতে পারে বিপিএল