ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
“হ্যাঁ–না ভোটের ফল আগেই নির্ধারিত। এখন চলছে ভোটের নামে এক প্রহসন।” — জননেত্রী শেখ হাসিনা
বাংলাদেশে ভোট বয়কটের ডাক ৫ পেশাজীবী সংগঠনের
নির্বাচনের নামে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর জীবনে ভয় ও আতঙ্ক সৃষ্টি করা কোনোভাবেই গণতান্ত্রিক চর্চা হতে পারে না
যে জাতি তার মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান করতে ভুলে যায়, সেই জাতি নিজের জন্মকেই অস্বীকার করে
ফাঁস হওয়া নথিতে ৬৪ ডিসির রাজনৈতিক পরিচয়: ‘নিরপেক্ষ’ প্রশাসনে দলীয়করণের ছায়া
পরিচয় ফাঁসের আতঙ্ক: পোস্টাল ব্যালটে ভোটদানে বিমুখ সরকারি চাকরিজীবী কর্মকর্তারা
আসন্ন নির্বাচনকে ‘প্রহসন’ আখ্যা ভোট বর্জনের ডাক দিয়ে ৭০৭ আইনজীবীর বিবৃতি
খলিলুর রহমানের সফরের দুই দিন পরই বড় ধাক্কা: কেন বাংলাদেশের ওপর এই নজিরবিহীন মার্কিন সিদ্ধান্ত?
ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন অভিবাসন নীতি ঘিরে বিশ্বজুড়ে আলোচনা চলছে। ফক্স নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করার সিদ্ধান্ত আসতে পারে, যা কার্যকর হওয়ার সম্ভাব্য তারিখ ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি। যদি এটি বাস্তবে রূপ নেয়, তবে এটি বাংলাদেশের জন্য শুধু অভিবাসন সংকট নয়—বরং একটি বড় কূটনৈতিক ধাক্কা।
এই সিদ্ধান্তের সময়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমানের পাঁচ দিনের যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষ হওয়ার মাত্র দুই দিন পরই এই খবর সামনে আসে। ফলে প্রশ্ন উঠছে—এটি কি নিছক কাকতাল, নাকি এর পেছনে গভীর রাজনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক বার্তা রয়েছে?
নজিরবিহীন কেন?
যুক্তরাষ্ট্র অতীতেও বাংলাদেশের ওপর বিভিন্ন
ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। ২০২১ সালে র্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা ছিল মানবাধিকার কেন্দ্রিক। ২০২৩ সালে ঘোষিত নির্বাচনী ভিসা নীতি ছিল নির্দিষ্ট ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর ওপর চাপ সৃষ্টির একটি কৌশল। কিন্তু এবারের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ ভিন্ন। এবার কোনো ব্যক্তি, সংস্থা বা রাজনৈতিক গোষ্ঠী নয়—বরং পুরো দেশের জনগণই কার্যত এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়তে পারে। এ ধরনের সিদ্ধান্ত কূটনীতিতে পরিচিত collective pressure বা সম্মিলিত চাপ প্রয়োগ হিসেবে। এটি অত্যন্ত কঠোর ও বিরল পদ্ধতি। এটি কি কেবল অভিবাসন নীতির পরিবর্তন? ট্রাম্প প্রশাসনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে ‘Public Charge’ বা ভবিষ্যতে আমেরিকার জন্য আর্থিক বোঝা হয়ে দাঁড়াতে পারেন—এমন অভিবাসীদের ঠেকানো এবং জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে ভেটিং প্রক্রিয়া কঠোর করা। কিন্তু
বাস্তবতা হলো, বাংলাদেশি অভিবাসীরা সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে কাজ করে, কর দেয় এবং দেশে বিপুল পরিমাণ রেমিট্যান্স পাঠায়। তারা মার্কিন সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার বড় বোঝা নয়। ফলে প্রশ্ন থেকেই যায়—তাহলে কেন হঠাৎ করে তাদের ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ভাষাগুলো মূলত রাজনৈতিক। প্রশাসনিক যুক্তির আড়ালে এখানে একটি কৌশলগত বার্তা লুকানো রয়েছে। সফরের পরপরই সিদ্ধান্ত: বার্তা কী? কূটনীতিতে সফরের পর সাধারণত যৌথ বিবৃতি, সহযোগিতার আশ্বাস বা নীতিগত অগ্রগতির খবর আসে। কিন্তু এখানে ঘটেছে উল্টোটা। সফরের দুই দিনের মধ্যেই এমন কঠোর সিদ্ধান্তের খবর সামনে আসা ইঙ্গিত দেয়, ওয়াশিংটন হয়তো ঢাকা সরকারের অবস্থানে সন্তুষ্ট নয়। এটি সরাসরি বলা হয়নি, কিন্তু ইঙ্গিত স্পষ্ট—যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে কিছু বিষয়ে
আরও নমনীয় বা অনুগত দেখতে চায়। এর পেছনের বড় ভূ-রাজনীতি এই সিদ্ধান্তকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখলে ভুল হবে। এটি ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের রাজনীতির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চলে তার প্রভাব ধরে রাখতে চায়। চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান সম্পর্ক ওয়াশিংটনের জন্য উদ্বেগের বিষয়। এ ছাড়া বাংলাদেশের নির্বাচন, গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের উদ্বেগ রয়েছে। অতীতে এসব ইস্যুতে তারা কূটনৈতিক নোট, বিবৃতি ও ব্যক্তিভিত্তিক নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। কিন্তু এবার তারা সরাসরি জনগণের জীবনের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে—এমন একটি পদ্ধতি বেছে নিচ্ছে। এটি এক ধরনের Indirect Coercion—পরোক্ষ চাপ প্রয়োগের কৌশল। অর্থনৈতিক প্রভাব কতটা গভীর? এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে এর প্রভাব শুধু ভিসার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। প্রথমত, ভবিষ্যতের
রেমিট্যান্স প্রবাহ কমে যাবে। দ্বিতীয়ত, বহু শিক্ষার্থী ও দক্ষ পেশাজীবীর উচ্চশিক্ষা ও স্থায়ী কর্মসংস্থানের পথ বন্ধ হয়ে যাবে। তৃতীয়ত, দীর্ঘমেয়াদে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। অর্থাৎ এটি শুধু রাজনৈতিক নয়, অর্থনৈতিক সংকটেরও পূর্বাভাস। উপসংহার এই সিদ্ধান্ত যদি কার্যকর হয়, তবে এটি স্পষ্ট করে দেবে—যুক্তরাষ্ট্র আর নরম কূটনীতিতে নেই। তারা এখন চাপ প্রয়োগ করছে এমনভাবে, যাতে তার প্রভাব সরাসরি সাধারণ মানুষের জীবনে পড়ে। এটি কোনো প্রশাসনিক ভুল নয়, এটি একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক বার্তা। বার্তাটি সহজ: সরকারকে নয়—জনগণের ভবিষ্যতের পথ সংকুচিত করে চাপ সৃষ্টি করা। এটাই এই সিদ্ধান্তের সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক।
ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। ২০২১ সালে র্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা ছিল মানবাধিকার কেন্দ্রিক। ২০২৩ সালে ঘোষিত নির্বাচনী ভিসা নীতি ছিল নির্দিষ্ট ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর ওপর চাপ সৃষ্টির একটি কৌশল। কিন্তু এবারের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ ভিন্ন। এবার কোনো ব্যক্তি, সংস্থা বা রাজনৈতিক গোষ্ঠী নয়—বরং পুরো দেশের জনগণই কার্যত এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়তে পারে। এ ধরনের সিদ্ধান্ত কূটনীতিতে পরিচিত collective pressure বা সম্মিলিত চাপ প্রয়োগ হিসেবে। এটি অত্যন্ত কঠোর ও বিরল পদ্ধতি। এটি কি কেবল অভিবাসন নীতির পরিবর্তন? ট্রাম্প প্রশাসনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে ‘Public Charge’ বা ভবিষ্যতে আমেরিকার জন্য আর্থিক বোঝা হয়ে দাঁড়াতে পারেন—এমন অভিবাসীদের ঠেকানো এবং জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে ভেটিং প্রক্রিয়া কঠোর করা। কিন্তু
বাস্তবতা হলো, বাংলাদেশি অভিবাসীরা সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে কাজ করে, কর দেয় এবং দেশে বিপুল পরিমাণ রেমিট্যান্স পাঠায়। তারা মার্কিন সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার বড় বোঝা নয়। ফলে প্রশ্ন থেকেই যায়—তাহলে কেন হঠাৎ করে তাদের ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ভাষাগুলো মূলত রাজনৈতিক। প্রশাসনিক যুক্তির আড়ালে এখানে একটি কৌশলগত বার্তা লুকানো রয়েছে। সফরের পরপরই সিদ্ধান্ত: বার্তা কী? কূটনীতিতে সফরের পর সাধারণত যৌথ বিবৃতি, সহযোগিতার আশ্বাস বা নীতিগত অগ্রগতির খবর আসে। কিন্তু এখানে ঘটেছে উল্টোটা। সফরের দুই দিনের মধ্যেই এমন কঠোর সিদ্ধান্তের খবর সামনে আসা ইঙ্গিত দেয়, ওয়াশিংটন হয়তো ঢাকা সরকারের অবস্থানে সন্তুষ্ট নয়। এটি সরাসরি বলা হয়নি, কিন্তু ইঙ্গিত স্পষ্ট—যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে কিছু বিষয়ে
আরও নমনীয় বা অনুগত দেখতে চায়। এর পেছনের বড় ভূ-রাজনীতি এই সিদ্ধান্তকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখলে ভুল হবে। এটি ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের রাজনীতির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চলে তার প্রভাব ধরে রাখতে চায়। চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান সম্পর্ক ওয়াশিংটনের জন্য উদ্বেগের বিষয়। এ ছাড়া বাংলাদেশের নির্বাচন, গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের উদ্বেগ রয়েছে। অতীতে এসব ইস্যুতে তারা কূটনৈতিক নোট, বিবৃতি ও ব্যক্তিভিত্তিক নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। কিন্তু এবার তারা সরাসরি জনগণের জীবনের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে—এমন একটি পদ্ধতি বেছে নিচ্ছে। এটি এক ধরনের Indirect Coercion—পরোক্ষ চাপ প্রয়োগের কৌশল। অর্থনৈতিক প্রভাব কতটা গভীর? এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে এর প্রভাব শুধু ভিসার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। প্রথমত, ভবিষ্যতের
রেমিট্যান্স প্রবাহ কমে যাবে। দ্বিতীয়ত, বহু শিক্ষার্থী ও দক্ষ পেশাজীবীর উচ্চশিক্ষা ও স্থায়ী কর্মসংস্থানের পথ বন্ধ হয়ে যাবে। তৃতীয়ত, দীর্ঘমেয়াদে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। অর্থাৎ এটি শুধু রাজনৈতিক নয়, অর্থনৈতিক সংকটেরও পূর্বাভাস। উপসংহার এই সিদ্ধান্ত যদি কার্যকর হয়, তবে এটি স্পষ্ট করে দেবে—যুক্তরাষ্ট্র আর নরম কূটনীতিতে নেই। তারা এখন চাপ প্রয়োগ করছে এমনভাবে, যাতে তার প্রভাব সরাসরি সাধারণ মানুষের জীবনে পড়ে। এটি কোনো প্রশাসনিক ভুল নয়, এটি একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক বার্তা। বার্তাটি সহজ: সরকারকে নয়—জনগণের ভবিষ্যতের পথ সংকুচিত করে চাপ সৃষ্টি করা। এটাই এই সিদ্ধান্তের সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক।



