ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
১৭ মাসে মাজারে ৯৭ হামলা, ৬১% ধর্মীয় মতবিরোধে
গণপরিষদ নির্বাচন নিয়ে দেশের রাজনীতিতে উত্তেজনা বাড়ছে
দেশদ্রোহী ইউনুসের শেষ সময়ের মহাডাকাতি
ফ্যাসিস্ট ইউনূস গংদের আজ্ঞাবহ আদালতের তথাকথিত রায়ের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ
ক্যাঙ্গারু কোর্টের রায়ে আইনের অপমান: বঙ্গবন্ধু পরিবারকে টার্গেট করে দখলদার শাসনের নগ্ন রাজনৈতিক প্রতিহিংসা
সংস্কার নয়, ক্ষমতা পাকাপোক্ত করার ফন্দি ইউনুস গংয়ের : রেহমান সোবহানের বক্তব্য স্বীকারোক্তি নাকি সমালোচনা?
গনপরিষদ নাকি মাইনাস – 2 ?
ইউনূসের আয়নায় নিজের মুখ: বাংলাদেশের আসল জালিয়াত কে?
মুহাম্মদ ইউনূস বুধবার দাঁড়িয়ে বললেন, বাংলাদেশ জালিয়াতিতে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। বললেন, এদেশের মানুষের ক্রিয়েটিভিটি আছে বলেই তারা প্রযুক্তি ব্যবহার করে জালিয়াতি করবে। একটা দেশের সর্বোচ্চ পদে বসে থাকা মানুষ নিজের দেশের মানুষকে এভাবে কালিমা লেপে দিতে পারে, এটা ভাবতেও গা ঘৃণায় রি রি ওঠে।
কিন্তু ইউনূসের কাছ থেকে এ ছাড়া আর কী-ই বা আশা করা যায়? যে লোক গ্রামীণ ব্যাংকের দরিদ্র নারীদের টাকা দিয়ে নিজের মেয়ের বেনামি কোম্পানিতে বিনিয়োগ করে, যে লোক কর ফাঁকি দিয়ে আদালতে দণ্ডিত হয়, যে লোক আইনি লড়াই থেকে বাঁচতে দেশে রক্তগঙ্গা বইয়ে ক্ষমতা দখল করে, সে নিজেই তো জালিয়াতির এক বিশ্ববিদ্যালয়।
ইউনূস জানেন যে তিনি যা বলছেন তা সম্পূর্ণ
মিথ্যা। বাংলাদেশের পোশাক খাত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানিকারক, যেখানে কোটি কোটি ডলারের অর্ডার আসে কারণ বাংলাদেশি শ্রমিক আর উদ্যোক্তারা মান ধরে রাখতে পারে। এদেশের আইটি সেক্টরে কাজ করা তরুণরা বিশ্বজুড়ে সম্মানের সঙ্গে চাকরি করছে। প্রবাসী বাংলাদেশিরা বছরে ২০ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স পাঠায়, কারণ তারা কঠোর পরিশ্রম করে বিদেশে নিজেদের জায়গা করে নিয়েছে। কিন্তু এসব সত্য ইউনূসের কাছে মূল্যহীন। তার কাছে বাংলাদেশিরা মানে জালিয়াত। আসল কথাটা হলো, ইউনূস বাংলাদেশের মানুষকে নিচু করে দেখাতে চান কারণ তাতে তার নিজের অবৈধ ক্ষমতার ভিত্তি মজবুত হয়। যদি বাংলাদেশিরা অপদার্থ হয়, জালিয়াত হয়, তাহলে তাদের নির্বাচিত সরকারেরও দরকার নেই, গণতন্ত্রেরও দরকার নেই। তখন একজন মহান
ত্রাণকর্তা দরকার যিনি দেশ সামলাবেন। আর সেই ত্রাণকর্তা হলেন ইউনূস নিজে। এ এক ভয়ংকর রাজনৈতিক কৌশল, যা ফ্যাসিস্ট শাসকরা ব্যবহার করে থাকে। ইউনূস যখন বলছেন মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো বাংলাদেশিদের প্রবেশাধিকার দেয় না, তখন তিনি কি এটা মনে রাখছেন যে ওই দেশগুলোতে লাখ লাখ বাংলাদেশি শ্রমিক কাজ করছে? সৌদি আরব, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, কাতার সবখানেই বাংলাদেশিরা আছে। ভিসা পলিসি কঠোর হয়েছে সত্যি, কিন্তু সেটা সব দক্ষিণ এশিয়ার দেশের জন্যই প্রযোজ্য। পাকিস্তান, ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কা সবারই একই অবস্থা। এটাকে বাংলাদেশের বিশেষ সমস্যা বলে চালানো হলো চরম বুদ্ধিবৃত্তিক অসততা। কিন্তু ইউনূসের কাছে তথ্যের চেয়ে প্রচারণাই বেশি জরুরি। আরও মজার ব্যাপার হলো, ইউনূস নিজে কোন
দেশের নাগরিক এটা নিয়ে প্রশ্ন তোলার যথেষ্ট কারণ আছে। একজন মানুষ যিনি বছরের পর বছর ফ্রান্সে বসবাস করছেন, যার মেয়ে আমেরিকান নাগরিক, যিনি আমেরিকার স্টেট ডিপার্টমেন্ট আর পেন্টাগনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন, তিনি কতটা বাংলাদেশি? বাংলাদেশের প্রতি তার আনুগত্য আছে, নাকি তার আনুগত্য ওয়াশিংটনের দিকে? ২০২৪ সালের জুলাইয়ে যখন দেশ জুড়ে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় মরছিল, যখন সরকারি ভবন জ্বলছিল, যখন পুলিশ আর প্রশাসন ভেঙে পড়ছিল, তখন ইউনূস কোথায় ছিলেন? প্যারিসে। তিনি অলিম্পিক উপভোগ করছিলেন। আর যখন সব শেষ হলো, যখন নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করা হয়ে গেল, তখন তিনি এলেন বিজয়ীর বেশে। এ কোন দেশপ্রেম? ইউনূস যে অবৈধভাবে ক্ষমতায় এসেছেন, এটা
এখন কোনো গোপন বিষয় নয়। জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থান নামের সেই রক্তাক্ত নাটকে কারা অভিনয় করেছে তা সবাই জানে। ছাত্রদের বৈধ আন্দোলন হাইজ্যাক করা হয়েছিল। জামায়াত-শিবির, হেফাজত, বিএনপির চরমপন্থী অংশ এবং সবচেয়ে ভয়ংকর যে ব্যাপারটা, আমেরিকা আর পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থার নির্দেশনা, এসব মিলিয়ে যে ক্যু হয়েছে তার একমাত্র লক্ষ্য ছিল ইউনূসকে ক্ষমতায় বসানো। সামরিক বাহিনী যখন নিরপেক্ষতার নাটক করল, যখন তারা নির্বাচিত সরকারকে সুরক্ষা দিতে অস্বীকার করল, তখনই বোঝা গেল এটা একটা সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। এখন ইউনূস বলছেন, বাংলাদেশিরা জালিয়াত। কিন্তু জুলাইয়ের ঘটনা কি জালিয়াতি নয়? গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচিত সরকারকে সরিয়ে অনির্বাচিত একজন মানুষকে ক্ষমতায় বসানো কি জালিয়াতি নয়? সংবিধান লঙ্ঘন করে একটা
তথাকথিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার চালানো কি জালিয়াতি নয়? বাংলাদেশের সংবিধানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কোনো বিধান নেই। ১৯৯৬ সালে যে ব্যবস্থা ছিল, সেটা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছিল, যা ২০১১ সালে বাতিল হয়ে গেছে। তার মানে ইউনূস এবং তার মন্ত্রিপরিষদ সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক। তারা আইনের চোখে কেউ নন। কিন্তু তারাই চালাচ্ছেন দেশ। ইউনূসের নিজের জালিয়াতির তালিকা করলে একটা বই হয়ে যাবে। গ্রামীণ ব্যাংক থেকে শুরু করা যাক। ২০১১ সালে নরওয়ের একটি তদন্তে বেরিয়ে আসে যে ইউনূস দাতাদের টাকা অন্য প্রতিষ্ঠানে সরিয়ে নিয়েছেন বাংলাদেশ সরকারের অনুমতি ছাড়াই। নরওয়ের সাবেক উন্নয়ন মন্ত্রী এরিক সোলহেইম বলেছিলেন, ইউনূস তাদের সঙ্গে মিথ্যা বলেছেন। বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদন্তেও বেরিয়ে এসেছিল যে ইউনূস গ্রামীণ
ব্যাংকের লভ্যাংশ নিজের এবং পরিবারের নামে রেজিস্টার্ড কোম্পানিতে বিনিয়োগ করেছেন। তার সমকামী মেয়ে দীনা ইউসুফের কোম্পানি, তার নিজের অন্যান্য প্রতিষ্ঠান, সবখানে গ্রামীণ ব্যাংকের টাকা গেছে। আর গ্রামীণ ব্যাংকের টাকা কার? দরিদ্র নারীদের, যারা ঋণ নিয়েছিল। ইউনূস নিজে তো তাদের টাকা থেকে বিলিয়নিয়ার হয়েছেন, কিন্তু দেশের মানুষকে বলছেন জালিয়াত। ২০১৩ সালে বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছিল যে ইউনূসকে গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদ থেকে সরানো সঠিক ছিল কারণ তিনি বয়স সীমা অতিক্রম করেছিলেন। কিন্তু ইউনূস সেই রায়ও মানেননি। তিনি আন্তর্জাতিক চাপ প্রয়োগ করেছিলেন, আমেরিকার হিলারি ক্লিনটন থেকে শুরু করে ভাড়াখাটা বিভিন্ন নোবেল বিজয়ীদের দিয়ে বাংলাদেশ সরকারের ওপর চাপ দেওয়ানোর চেষ্টা করেছিলেন। এ কি জালিয়াতি নয়? আরও আছে। ২০২৩ সালে ইউনূস এবং তার সহকর্মীদের শ্রম আইন লঙ্ঘনের জন্য দোষী সাব্যস্ত করা হয় এবং ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তারা গ্রামীণ টেলিকম কোম্পানির কর্মচারীদের কল্যাণ তহবিল তৈরি করেননি, যা আইন অনুযায়ী বাধ্যতামূলক ছিল। এটা স্পষ্ট আইন লঙ্ঘন। কিন্তু ইউনূস বললেন এটা রাজনৈতিক হয়রানি। আদালতের রায়কে রাজনৈতিক বলা কি আইনের প্রতি অসম্মান নয়? এ কি জালিয়াতি নয়? নোবেল শান্তি পুরস্কারের টাকা নিয়েও প্রশ্ন আছে। ইউনূস ১৪ লাখ ডলার পেয়েছিলেন। এই টাকা কোথায় গেল? তিনি বলেছিলেন একটা হাসপাতাল বানাবেন। সেই হাসপাতাল কোথায়? টাকার হিসাব কোথায়? বাংলাদেশের ট্যাক্স অফিস তাকে জিজ্ঞাসা করেছিল, এই টাকার ওপর কর দিতে হবে কিনা। ইউনূস বললেন এটা ব্যক্তিগত পুরস্কার, কিন্তু নোবেল কমিটি বলেছিল এটা গ্রামীণ ব্যাংকের জন্য দেওয়া। এই গোলমেলে হিসাব কি জালিয়াতি নয়? ইউনূস এখন যে সরকার চালাচ্ছেন, সেখানে তার উপদেষ্টা পরিষদে কে কে আছে? জামায়াতের সমর্থক, হেফাজতের লোক, বিএনপির চরমপন্থী অংশ, সিভিল সোসাইটির নামে কিছু এনজিও কর্মী। একজনও বাংলাদেশের নাগরিক না। এদের মধ্যে একজনও নির্বাচিত নয়। কেউ জনগণের কাছে জবাবদিহি করে না। ইউনূস নিজে বলছেন তিনি নির্বাচনের পর ক্ষমতা হস্তান্তর করবে কিন্তু সংস্কারের পর, কিন্তু কবে শেষ হবে এই সংস্কার? কোন তারিখ? কোন নিশ্চয়তা? নির্বাচনের পরও এই অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্ষমতা দখল করে রাখা কি জালিয়াতি নয়? সবচেয়ে বড় জালিয়াতি হলো বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে। ইউনূস এবং তার দল বলছে তারা সংস্কার করবে। কিন্তু কী সংস্কার? সংবিধান সংশোধন? নির্বাচন ব্যবস্থা পরিবর্তন? প্রশাসনিক কাঠামো বদলানো? এসব করার ক্ষমতা কি একটা অনির্বাচিত সরকারের আছে? বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, এই ধরনের বড় পরিবর্তন করার জন্য জনগণের ম্যান্ডেট লাগে। নির্বাচিত সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ ভোট লাগে। কিন্তু ইউনূস এসব মানেন না। তিনি মনে করেন তার নোবেল পুরস্কারই যথেষ্ট জনগণের আস্থার প্রমাণ। এ কী ভয়ংকর প্রহসন! ইউনূস বলছেন বাংলাদেশিরা জালিয়াত, কিন্তু তার নিজের সরকারের কার্যক্রম দেখুন। গত ছয় মাসে তারা কী করেছে? বিচার বিভাগে হস্তক্ষেপ করেছে, পুলিশ আর প্রশাসনে নিজেদের লোক বসিয়েছে, বিরোধী মতকে দমন করছে, গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করছে। যেসব পত্রিকা বা টিভি চ্যানেল সমালোচনা করে, তাদের ওপর মামলা দেওয়া হচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় যারা প্রশ্ন তুলছে, তাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। এ কী ধরনের সংস্কার? এ তো একনায়কতন্ত্রের পথ। ইউনূসের সবচেয়ে বড় জালিয়াতি হলো তার দেশপ্রেমের ভণিতা। তিনি বলেন তিনি বাংলাদেশকে ভালোবাসেন, কিন্তু তার কাজকর্ম বলে উল্টো কথা। একজন দেশপ্রেমিক কি নিজের দেশকে জালিয়াতির দেশ বলে? একজন দেশপ্রেমিক কি বিদেশিদের কাছে নিজের দেশের মানুষকে অপমান করে? একজন দেশপ্রেমিক কি বিদেশি শক্তির সাহায্য নিয়ে ক্ষমতা দখল করে? ইউনূসের আসল আনুগত্য বাংলাদেশের প্রতি নয়, তার আনুগত্য তার নিজের প্রতি এবং যারা তাকে ক্ষমতায় এনেছে তাদের প্রতি। এই লোক বাংলাদেশের মানুষকে জালিয়াত বলার আগে নিজের দিকে তাকানো উচিত। আয়নায় দেখলে তিনি দেখবেন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জালিয়াতকে। একজন মানুষ যিনি দরিদ্রদের নাম করে বিলিয়ন ডলার বানিয়েছেন, যিনি নোবেল পুরস্কার নিয়ে নিজেকে অস্পৃশ্য বানিয়েছেন, যিনি আইন লঙ্ঘন করেও নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন, যিনি অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে সংবিধান পদদলিত করছেন, তিনিই জালিয়াতির সংজ্ঞা। বাংলাদেশের জনগন ইউনূসের এই অপমান মনে রাখবে। ইতিহাস তাকে ক্ষমা করবে না। যারা বিদেশি শক্তির সাহায্যে নিজ দেশের মানুষের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়, তাদের পরিণতি সবসময় একই হয়। মীরজাফর, উমিচাঁদ, এরকম অনেক নাম ইতিহাসে আছে। ইউনূসের নামও সেই তালিকায় যুক্ত হবে। আর তখন দেশের মানুষ আরো একবার জানবে, আসল জালিয়াত কে ছিল।
মিথ্যা। বাংলাদেশের পোশাক খাত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানিকারক, যেখানে কোটি কোটি ডলারের অর্ডার আসে কারণ বাংলাদেশি শ্রমিক আর উদ্যোক্তারা মান ধরে রাখতে পারে। এদেশের আইটি সেক্টরে কাজ করা তরুণরা বিশ্বজুড়ে সম্মানের সঙ্গে চাকরি করছে। প্রবাসী বাংলাদেশিরা বছরে ২০ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স পাঠায়, কারণ তারা কঠোর পরিশ্রম করে বিদেশে নিজেদের জায়গা করে নিয়েছে। কিন্তু এসব সত্য ইউনূসের কাছে মূল্যহীন। তার কাছে বাংলাদেশিরা মানে জালিয়াত। আসল কথাটা হলো, ইউনূস বাংলাদেশের মানুষকে নিচু করে দেখাতে চান কারণ তাতে তার নিজের অবৈধ ক্ষমতার ভিত্তি মজবুত হয়। যদি বাংলাদেশিরা অপদার্থ হয়, জালিয়াত হয়, তাহলে তাদের নির্বাচিত সরকারেরও দরকার নেই, গণতন্ত্রেরও দরকার নেই। তখন একজন মহান
ত্রাণকর্তা দরকার যিনি দেশ সামলাবেন। আর সেই ত্রাণকর্তা হলেন ইউনূস নিজে। এ এক ভয়ংকর রাজনৈতিক কৌশল, যা ফ্যাসিস্ট শাসকরা ব্যবহার করে থাকে। ইউনূস যখন বলছেন মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো বাংলাদেশিদের প্রবেশাধিকার দেয় না, তখন তিনি কি এটা মনে রাখছেন যে ওই দেশগুলোতে লাখ লাখ বাংলাদেশি শ্রমিক কাজ করছে? সৌদি আরব, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, কাতার সবখানেই বাংলাদেশিরা আছে। ভিসা পলিসি কঠোর হয়েছে সত্যি, কিন্তু সেটা সব দক্ষিণ এশিয়ার দেশের জন্যই প্রযোজ্য। পাকিস্তান, ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কা সবারই একই অবস্থা। এটাকে বাংলাদেশের বিশেষ সমস্যা বলে চালানো হলো চরম বুদ্ধিবৃত্তিক অসততা। কিন্তু ইউনূসের কাছে তথ্যের চেয়ে প্রচারণাই বেশি জরুরি। আরও মজার ব্যাপার হলো, ইউনূস নিজে কোন
দেশের নাগরিক এটা নিয়ে প্রশ্ন তোলার যথেষ্ট কারণ আছে। একজন মানুষ যিনি বছরের পর বছর ফ্রান্সে বসবাস করছেন, যার মেয়ে আমেরিকান নাগরিক, যিনি আমেরিকার স্টেট ডিপার্টমেন্ট আর পেন্টাগনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন, তিনি কতটা বাংলাদেশি? বাংলাদেশের প্রতি তার আনুগত্য আছে, নাকি তার আনুগত্য ওয়াশিংটনের দিকে? ২০২৪ সালের জুলাইয়ে যখন দেশ জুড়ে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় মরছিল, যখন সরকারি ভবন জ্বলছিল, যখন পুলিশ আর প্রশাসন ভেঙে পড়ছিল, তখন ইউনূস কোথায় ছিলেন? প্যারিসে। তিনি অলিম্পিক উপভোগ করছিলেন। আর যখন সব শেষ হলো, যখন নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করা হয়ে গেল, তখন তিনি এলেন বিজয়ীর বেশে। এ কোন দেশপ্রেম? ইউনূস যে অবৈধভাবে ক্ষমতায় এসেছেন, এটা
এখন কোনো গোপন বিষয় নয়। জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থান নামের সেই রক্তাক্ত নাটকে কারা অভিনয় করেছে তা সবাই জানে। ছাত্রদের বৈধ আন্দোলন হাইজ্যাক করা হয়েছিল। জামায়াত-শিবির, হেফাজত, বিএনপির চরমপন্থী অংশ এবং সবচেয়ে ভয়ংকর যে ব্যাপারটা, আমেরিকা আর পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থার নির্দেশনা, এসব মিলিয়ে যে ক্যু হয়েছে তার একমাত্র লক্ষ্য ছিল ইউনূসকে ক্ষমতায় বসানো। সামরিক বাহিনী যখন নিরপেক্ষতার নাটক করল, যখন তারা নির্বাচিত সরকারকে সুরক্ষা দিতে অস্বীকার করল, তখনই বোঝা গেল এটা একটা সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। এখন ইউনূস বলছেন, বাংলাদেশিরা জালিয়াত। কিন্তু জুলাইয়ের ঘটনা কি জালিয়াতি নয়? গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচিত সরকারকে সরিয়ে অনির্বাচিত একজন মানুষকে ক্ষমতায় বসানো কি জালিয়াতি নয়? সংবিধান লঙ্ঘন করে একটা
তথাকথিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার চালানো কি জালিয়াতি নয়? বাংলাদেশের সংবিধানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কোনো বিধান নেই। ১৯৯৬ সালে যে ব্যবস্থা ছিল, সেটা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছিল, যা ২০১১ সালে বাতিল হয়ে গেছে। তার মানে ইউনূস এবং তার মন্ত্রিপরিষদ সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক। তারা আইনের চোখে কেউ নন। কিন্তু তারাই চালাচ্ছেন দেশ। ইউনূসের নিজের জালিয়াতির তালিকা করলে একটা বই হয়ে যাবে। গ্রামীণ ব্যাংক থেকে শুরু করা যাক। ২০১১ সালে নরওয়ের একটি তদন্তে বেরিয়ে আসে যে ইউনূস দাতাদের টাকা অন্য প্রতিষ্ঠানে সরিয়ে নিয়েছেন বাংলাদেশ সরকারের অনুমতি ছাড়াই। নরওয়ের সাবেক উন্নয়ন মন্ত্রী এরিক সোলহেইম বলেছিলেন, ইউনূস তাদের সঙ্গে মিথ্যা বলেছেন। বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদন্তেও বেরিয়ে এসেছিল যে ইউনূস গ্রামীণ
ব্যাংকের লভ্যাংশ নিজের এবং পরিবারের নামে রেজিস্টার্ড কোম্পানিতে বিনিয়োগ করেছেন। তার সমকামী মেয়ে দীনা ইউসুফের কোম্পানি, তার নিজের অন্যান্য প্রতিষ্ঠান, সবখানে গ্রামীণ ব্যাংকের টাকা গেছে। আর গ্রামীণ ব্যাংকের টাকা কার? দরিদ্র নারীদের, যারা ঋণ নিয়েছিল। ইউনূস নিজে তো তাদের টাকা থেকে বিলিয়নিয়ার হয়েছেন, কিন্তু দেশের মানুষকে বলছেন জালিয়াত। ২০১৩ সালে বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছিল যে ইউনূসকে গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদ থেকে সরানো সঠিক ছিল কারণ তিনি বয়স সীমা অতিক্রম করেছিলেন। কিন্তু ইউনূস সেই রায়ও মানেননি। তিনি আন্তর্জাতিক চাপ প্রয়োগ করেছিলেন, আমেরিকার হিলারি ক্লিনটন থেকে শুরু করে ভাড়াখাটা বিভিন্ন নোবেল বিজয়ীদের দিয়ে বাংলাদেশ সরকারের ওপর চাপ দেওয়ানোর চেষ্টা করেছিলেন। এ কি জালিয়াতি নয়? আরও আছে। ২০২৩ সালে ইউনূস এবং তার সহকর্মীদের শ্রম আইন লঙ্ঘনের জন্য দোষী সাব্যস্ত করা হয় এবং ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তারা গ্রামীণ টেলিকম কোম্পানির কর্মচারীদের কল্যাণ তহবিল তৈরি করেননি, যা আইন অনুযায়ী বাধ্যতামূলক ছিল। এটা স্পষ্ট আইন লঙ্ঘন। কিন্তু ইউনূস বললেন এটা রাজনৈতিক হয়রানি। আদালতের রায়কে রাজনৈতিক বলা কি আইনের প্রতি অসম্মান নয়? এ কি জালিয়াতি নয়? নোবেল শান্তি পুরস্কারের টাকা নিয়েও প্রশ্ন আছে। ইউনূস ১৪ লাখ ডলার পেয়েছিলেন। এই টাকা কোথায় গেল? তিনি বলেছিলেন একটা হাসপাতাল বানাবেন। সেই হাসপাতাল কোথায়? টাকার হিসাব কোথায়? বাংলাদেশের ট্যাক্স অফিস তাকে জিজ্ঞাসা করেছিল, এই টাকার ওপর কর দিতে হবে কিনা। ইউনূস বললেন এটা ব্যক্তিগত পুরস্কার, কিন্তু নোবেল কমিটি বলেছিল এটা গ্রামীণ ব্যাংকের জন্য দেওয়া। এই গোলমেলে হিসাব কি জালিয়াতি নয়? ইউনূস এখন যে সরকার চালাচ্ছেন, সেখানে তার উপদেষ্টা পরিষদে কে কে আছে? জামায়াতের সমর্থক, হেফাজতের লোক, বিএনপির চরমপন্থী অংশ, সিভিল সোসাইটির নামে কিছু এনজিও কর্মী। একজনও বাংলাদেশের নাগরিক না। এদের মধ্যে একজনও নির্বাচিত নয়। কেউ জনগণের কাছে জবাবদিহি করে না। ইউনূস নিজে বলছেন তিনি নির্বাচনের পর ক্ষমতা হস্তান্তর করবে কিন্তু সংস্কারের পর, কিন্তু কবে শেষ হবে এই সংস্কার? কোন তারিখ? কোন নিশ্চয়তা? নির্বাচনের পরও এই অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্ষমতা দখল করে রাখা কি জালিয়াতি নয়? সবচেয়ে বড় জালিয়াতি হলো বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে। ইউনূস এবং তার দল বলছে তারা সংস্কার করবে। কিন্তু কী সংস্কার? সংবিধান সংশোধন? নির্বাচন ব্যবস্থা পরিবর্তন? প্রশাসনিক কাঠামো বদলানো? এসব করার ক্ষমতা কি একটা অনির্বাচিত সরকারের আছে? বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, এই ধরনের বড় পরিবর্তন করার জন্য জনগণের ম্যান্ডেট লাগে। নির্বাচিত সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ ভোট লাগে। কিন্তু ইউনূস এসব মানেন না। তিনি মনে করেন তার নোবেল পুরস্কারই যথেষ্ট জনগণের আস্থার প্রমাণ। এ কী ভয়ংকর প্রহসন! ইউনূস বলছেন বাংলাদেশিরা জালিয়াত, কিন্তু তার নিজের সরকারের কার্যক্রম দেখুন। গত ছয় মাসে তারা কী করেছে? বিচার বিভাগে হস্তক্ষেপ করেছে, পুলিশ আর প্রশাসনে নিজেদের লোক বসিয়েছে, বিরোধী মতকে দমন করছে, গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করছে। যেসব পত্রিকা বা টিভি চ্যানেল সমালোচনা করে, তাদের ওপর মামলা দেওয়া হচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় যারা প্রশ্ন তুলছে, তাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। এ কী ধরনের সংস্কার? এ তো একনায়কতন্ত্রের পথ। ইউনূসের সবচেয়ে বড় জালিয়াতি হলো তার দেশপ্রেমের ভণিতা। তিনি বলেন তিনি বাংলাদেশকে ভালোবাসেন, কিন্তু তার কাজকর্ম বলে উল্টো কথা। একজন দেশপ্রেমিক কি নিজের দেশকে জালিয়াতির দেশ বলে? একজন দেশপ্রেমিক কি বিদেশিদের কাছে নিজের দেশের মানুষকে অপমান করে? একজন দেশপ্রেমিক কি বিদেশি শক্তির সাহায্য নিয়ে ক্ষমতা দখল করে? ইউনূসের আসল আনুগত্য বাংলাদেশের প্রতি নয়, তার আনুগত্য তার নিজের প্রতি এবং যারা তাকে ক্ষমতায় এনেছে তাদের প্রতি। এই লোক বাংলাদেশের মানুষকে জালিয়াত বলার আগে নিজের দিকে তাকানো উচিত। আয়নায় দেখলে তিনি দেখবেন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জালিয়াতকে। একজন মানুষ যিনি দরিদ্রদের নাম করে বিলিয়ন ডলার বানিয়েছেন, যিনি নোবেল পুরস্কার নিয়ে নিজেকে অস্পৃশ্য বানিয়েছেন, যিনি আইন লঙ্ঘন করেও নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন, যিনি অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে সংবিধান পদদলিত করছেন, তিনিই জালিয়াতির সংজ্ঞা। বাংলাদেশের জনগন ইউনূসের এই অপমান মনে রাখবে। ইতিহাস তাকে ক্ষমা করবে না। যারা বিদেশি শক্তির সাহায্যে নিজ দেশের মানুষের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়, তাদের পরিণতি সবসময় একই হয়। মীরজাফর, উমিচাঁদ, এরকম অনেক নাম ইতিহাসে আছে। ইউনূসের নামও সেই তালিকায় যুক্ত হবে। আর তখন দেশের মানুষ আরো একবার জানবে, আসল জালিয়াত কে ছিল।



