অস্ত্র আছে, যুদ্ধ নেই—কর্মহীন বাহিনী, সীমাহীন ক্ষমতা বাংলাদেশের সেনা-রাজনীতির বাস্তবতা – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ১২ জানুয়ারি, ২০২৬
     ৭:৪০ পূর্বাহ্ণ

অস্ত্র আছে, যুদ্ধ নেই—কর্মহীন বাহিনী, সীমাহীন ক্ষমতা বাংলাদেশের সেনা-রাজনীতির বাস্তবতা

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১২ জানুয়ারি, ২০২৬ | ৭:৪০ 9 ভিউ
বাংলাদেশে গণতন্ত্র ধ্বংসের ইতিহাস খুঁজতে গেলে বারবার একটি ঠিকানায় ফিরে আসতে হয় সেনা সদর দপ্তর। এই দেশে জনগণের ভোট কখনোই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জায়গা পায়নি পেয়েছে বন্দুকের নীরব সম্মতি বা অসন্তোষ। স্বাধীনতার পর থেকে কখনো প্রকাশ্যে, কখনো ছায়াশাসক হিসেবে সেনাবাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্ব রাষ্ট্রক্ষমতার ভাগ্য নির্ধারণ করে এসেছে। “জাতীয় স্বার্থ” নামের অস্পষ্ট অজুহাত ব্যবহার করে বারবার জনগণের রায়কে অকার্যকর করা হয়েছে। ফলে গণতন্ত্র এখানে একটি স্থায়ী ব্যবস্থা নয়, বরং সেনাপতিদের ইচ্ছানির্ভর একটি সাময়িক বন্দোবস্তে পরিণত হয়েছে। ভৌগোলিক বাস্তবতা বাংলাদেশের সামরিক যুক্তিকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করে। চারদিক থেকে ভারত দ্বারা বেষ্টিত এই দেশে স্থলযুদ্ধের কল্পনা বাস্তবসম্মত নয়। ভারত চাইলে আক্রমণ করবে, না চাইলে করবে ন

সেখানে বাংলাদেশের বিশাল স্থলবাহিনীর অস্তিত্ব কোনো কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারবে, এমন বিশ্বাস আত্মপ্রবঞ্চনা ছাড়া কিছু নয়। আর মিয়ানমার সীমান্তে বছরের পর বছর বিজিবিই কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালন করে আসছে। তাহলে প্রশ্ন অনিবার্য—এই বিশাল স্থলবাহিনী আসলে কাদের জন্য প্রস্তুত? বহির্শত্রুর জন্য, নাকি দেশের ভেতরে শক্তি প্রদর্শনের জন্য? আজ বাংলাদেশের সেনাবাহিনী একটি যুদ্ধরত বাহিনী নয়, বরং একটি কর্মহীন অথচ ক্ষমতাশালী শ্রেণিতে রূপ নিয়েছে। যাদের যুদ্ধ করতে হয় না, সীমান্তে জীবন দিতে হয় না, অথচ রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় বাজেট ভোগ করে তারাই নিজেদের অপরিহার্য প্রমাণ করতে ব্যস্ত। জনগণের ট্যাক্সের টাকায় গড়ে ওঠা এই সুবিধাভোগী অফিসার শ্রেণি ব্যারাকে বসে রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে, আর রাজনৈতিক

সংকট দেখা দিলেই গণতান্ত্রিক পরিসরে হস্তক্ষেপ করে নিজেদের উপস্থিতি জানান দেয়। বাংলাদেশের রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে ভয়ংকর লক্ষণ হলো প্রতিটি সংকটে একটি প্রশ্ন ঘুরে ফিরে আসে “সেনাবাহিনী কী ভাবছে?” এই প্রশ্নই প্রমাণ করে রাষ্ট্রটি কতটা গণতান্ত্রিকভাবে অসুস্থ। একটি সভ্য গণতন্ত্রে সেনাপতির চিন্তা রাষ্ট্রনীতির কেন্দ্র হতে পারে না। অথচ বাংলাদেশে সংসদের চেয়ে সেনাপতির প্রভাব বেশি, নির্বাচিত সরকারের চেয়ে ব্যারাকের নীরবতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এটি কোনোভাবেই স্বাভাবিক রাষ্ট্রব্যবস্থা নয়। এই পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনী বিলুপ্তির দাবি উঠছে এ দাবি হয়তো চরম, কিন্তু এর পেছনের ক্ষোভ অযৌক্তিক নয়। জনগণ সেনাবাহিনীর ওপর আস্থা হারাচ্ছে, কারণ তারা আর রক্ষক হিসেবে বিশ্বাসযোগ্য নয়। মানুষ স্পষ্টভাবে দেখছে যেখানে সেনাবাহিনী শক্তিশালী, সেখানে

গণতন্ত্র দুর্বল। আর যেখানে সেনাপতিরা নীরব, সেখানে ভোট কথা বলে। এই দ্বন্দ্বই আজ বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সংকটের মূল। তবে সমাধান সেনাবাহিনী ধ্বংস করা নয়, সমাধান হলো ক্ষমতার নির্মম পুনর্বিন্যাস। সেনাবাহিনী থাকবে কিন্তু রাজনৈতিকভাবে অক্ষম হয়ে। সেনাপতি থাকবে কিন্তু জনগণের কর্মচারী হয়ে, রাষ্ট্রের অভিভাবক হয়ে নয়। প্রতিরক্ষা বাজেট থাকবে কিন্তু সংসদের কঠোর নজরদারিতে। অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে সেনা মোতায়েনের পথ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিতে হবে সাংবিধানিকভাবে। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ বন্দুকের নলে নয়, ব্যালট বাক্সে নির্ধারিত হওয়া উচিত। যারা আজও মনে করে সেনাবাহিনী ছাড়া রাষ্ট্র টিকবে না, তারা আসলে জনগণকে বিশ্বাস করে না। আর যারা জনগণকে বিশ্বাস করে না, তারা কখনো গণতন্ত্রের পক্ষে থাকতে পারে না। এই দেশ সেনাপতিদের

নয় এই দেশ জনগণের। এই সত্য মেনে নেওয়াই হবে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের প্রথম বাস্তব বিজয়।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
অস্ত্র আছে, যুদ্ধ নেই—কর্মহীন বাহিনী, সীমাহীন ক্ষমতা বাংলাদেশের সেনা-রাজনীতির বাস্তবতা মুনাফার নামে মহাধোঁকা: ঋণের গর্তে বিমান ও বন্দর গ্যাসের দাম বাড়িয়ে ৫০ হাজার কোটি টাকা লোপাট ফার্স্ট হয়েও নিয়োগ পেলেন না শিবাশ্রী, তৃতীয় হয়েও শিক্ষক হলেন ভিসির মেয়ে! জামায়াত নেতার ‘সুপারিশে’ গ্রেপ্তার আ.লীগ নেতার স্ত্রী! থানায় কথা বলতে গিয়েই হাতে হাতকড়া ‘স্বৈরাচার’ তকমা মানতে নারাজ; শেখ হাসিনার পক্ষে আবেগঘন বক্তব্য এক ব্যক্তির শাহরিয়ার কবিরের প্রতি ‘অমানবিক আচরণ’ ও বিচারহীনতা: অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য ‘কলঙ্কজনক অধ্যায়’ আওয়ামী লীগ আমলেই ভালো ছিলাম”: চাল ও গ্যাসের আকাশচুম্বী দামে সাধারণ মানুষের আক্ষেপ ১৬ বছরের উন্নয়ন আগামী ৫০ বছরেও কেউ করতে পারবে না বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস। ‘আওয়ামী লীগের আমলেই ভালো ছিলাম, এখন কথা বললেই দোসর’—বিক্ষুব্ধ জনতার আক্ষেপ সেনা ষড়যন্ত্র দেশের গণতন্ত্রকে বিপন্ন করেছে, স্বাধীনতার চেতনা রক্ষার সময় এসেছে ফসলি জমি কেটে খাল খনন পরিবারসহ ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পালানোর গুঞ্জন, বিক্ষোভে নতুন মাত্রা বিক্ষোভে উত্তাল ইরান, ইসরায়েলে হাই অ্যালার্ট জারি খামেনির দেশত্যাগের গুঞ্জন, যা জানাল ইরানি দূতাবাস টেকনাফে শিশু গুলিবিদ্ধ, সশস্ত্র গ্রুপের ৫০ সদস্য আটক এখন তোমার সব হয়েছে, পর হয়েছি আমি : রুমিন ফারহানা গৃহযুদ্ধে জর্জরিত মিয়ানমারে দ্বিতীয় পর্বের ভোট চলছে যেভাবেই হোক, গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্র দখল করবেই : ট্রাম্প