ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
স্কুলে এসে শিশুরা যেন পাঠ্যপুস্তকে বৈষম্য না দেখে—এই অবদান শেখ হাসিনার একান্ত
২৬ মার্চ-বাংলাদেশের জন্মদিন
শেখ মুজিব-বাঙালির একমাত্র মাহানায়ক
আওয়ামী লীগ সরকারের পতন: ভুল কূটনীতি ও অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতার ব্যবচ্ছেদ
শেখ হাসিনার ‘চক্ষু রাঙানি উপেক্ষা’ বনাম বর্তমানের ‘অনুমতি ভিক্ষা’: কোন পথে বাংলাদেশ?
এন্টিবায়োটিক ঔষধকে বাঁচান
দ্যা প্রজেক্ট ওসমান হাদি (হাদিমাদি) ও এর ভবিষ্যত
অটিজম, স্নায়ুবৈচিত্র্যতা আন্দোলন এবং অন্তর্ভুক্তির হিসেব-নিকেশ
সম্প্রতি অটিজম নিয়ে চিন্তা বা আলোচনার জায়গায় এসেছে এক বড় পরিবর্তন। চিকিৎসার ভাষায় ডিসঅর্ডার হিসেবে দেখার প্রবণতার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে অটিজম বিষয়ক অ্যাক্টিভিস্টরা। ২০০৮ সালের ২ এপ্রিল থেকে জাতিসংঘ World Autism Awareness Day পালন করে আসছে।
দিবসটি পালনের উদ্দেশ্য- এর মাধ্যমে মানুষকে অটিজম নিয়ে সচেতন করা এবং পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রে অটিজম বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন মানুষের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানো। আমরা আজকাল অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠণের যে বুলি আউড়ে চলেছি তাতে অটিজম বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন মানুষ এবং তাদের পরিবার ঠিক কোথায় অবস্থান করে?
ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ এর এক রিপোর্টে বলা হচ্ছে, আমাদের দেশের প্রতি ৬৫জন বাচ্চার মধ্যে একজন বাচ্চা অটিজম বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন। কিন্তু তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে
এ সংখ্যা আরও বেশি হবার আশঙ্কা রয়েই যায়। কারণ অটিজম বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আমাদের ধারণা নেই বললেই চলে। আজও এ নিয়ে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে সমন্বিতভাবে অটিজম নিয়ে সচেতনতা বা রেগুলার স্ক্রিনিং শুরু হয়নি। চিকিৎসা বিজ্ঞান অটিজমকে ডিসঅর্ডার বা ডিজ্যাবিলিটি হিসেবে চিহ্নিত করে। অটিজম বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন মানুষ সামাজিক যোগাযোগ থেকে শুরু করে, ভাষা বিকাশ এমনকি নানা ধরনের আচরণগত বৈশিষ্ট্যর জায়গা থেকে চ্যালেন্জড থাকে। কিন্তু সকলেরই একই রকম বৈশিষ্ট্য থাকে না। এরা প্রত্যেকেই ভিন্ন ভিন্নভাবে চ্যালেন্জড আবার গিফটেডও হতে পারে। এই জায়গা থেকে ১৯৯০ এর দশক থেকে শুরু হয় নিউরোডাইভারসিটি মুভমেন্ট বা স্নায়ুবৈচিত্র্যতা আন্দোলন। জুডি সিঙ্গার সবার প্রথম ওই শব্দবন্ধটি ব্যবহার করেন। পরে একরকম বৌদ্ধিক এবং
রাজনৈতিক আন্দোলন, আলোচনা ক্রমশ বিকাশমান হয়ে ওঠে। এই আন্দোলন অটিজমকে কোনো ডিসঅর্ডার বা প্রতিবন্ধকতা হিসেবে দেখতে নারাজ। তাদের মতে, অটিজম, অ্যাটেনশন ডেফিশিয়েনসি, সেরিব্রাল পালসি এগুলোর মধ্য দিয়ে প্রকৃতি তার বৈচিত্র্যতা নিয়ে হাজির হয়। এবং প্রকৃতিতে বৈচিত্র্যতা না থাকাটা প্রায় অসম্ভব। নিউরোটিপিক্যালিটি বা প্রতিবন্ধকতা এসব বাস্তবতা সামাজিকভাবে নির্মিত হয় অর্থাৎ সামগ্রিকভাবে দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের মাধ্যমে এই বাস্তবতা থেকে বের হওয়া সম্ভব। যেমন, হুইল চেয়ার ব্যবহারকারী কোনো ব্যক্তির অফিসে যদি র্যাম থাকে, উপযোগী টয়লেট থাকে তাহলে সেই অফিসে তার জন্য দৃশ্যমান কোনো প্রতিবন্ধকতা নেই। সেরকম আমরা যদি অটিস্টিক বাচ্চাদের স্টেমিংগুলোকে (সেন্সরি প্রসেসিংয়ের জন্য শারীরিক বা মৌখিক আচরণ, সাধারণত পৌনপুনিক আচরণ) সামাজিকভাবে গ্রহণ
করতে শিখে যাই, তাহলে অটিজম বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন ব্যক্তি এবং তাদের অভিভাবকদের জন্য দৈনন্দিনের সামাজিক কাজকর্ম অনেক সহজ হয়ে যায়। আর এটাই সামাজিক বা রাষ্ট্রীয় অন্তর্ভুক্তির জন্য সব থেকে জরুরি। অটিজম বৈশিষ্ট্য সম্পদ বাচ্চা ও তার পরিবার যখন কোনো সামাজিক জায়গায় যায়, তখন তারা খুবই সচেষ্ট থেকে বাচ্চার স্টেমিংকে রিডিরেক্ট করার চেষ্ঠায় অবিরত থাকে। অথচ অটিজম বৈশিষ্ট্যর বাচ্চার জন্য ভিন্ন পরিবেশে স্টেমিং নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। কিন্তু লোকে কি ভাববে কিংবা কখন কি বলে বসে সেই ভয়ে অভিভাবকরা তটস্থ থাকেন যেন তাদের বাচ্চাকে কম অটিস্টিক দেখায়। তাই বলাই যায়, স্নায়ুবৈচিত্র্যতা আন্দোলন সমাজকে প্রতিবন্ধকতার ধারণা বিশেষত অটিজম স্পেকট্রাম নিয়ে দারুণ এক নাড়া
দিয়েছে। অটিস্টিক বাচ্চাদের জন্য অনেক ধরনের স্ট্রাগল আছে,সেগুলো প্রতিনিয়ত করতে হয় অভিভাবকদের। সমাজের বেশিরভাগ জায়গাতেই অটিজমবান্ধব পরিবেশ নেই বলে এই ধরনের বাচ্চাদের নিয়ে বাবা মায়েরা সাধারণত একপ্রকার বন্দি জীবনই বেছে নিতে বাধ্য হন। এমন বাচ্চা কে সামলাবে ভেবে মায়ের আর চাকুরিতে ফেরা হয় না। দেশে মহামারী এলেও অনেক অটিস্টিক ব্যাক্তিকে ভ্যাকসিন দেয়া যায় নি। অটিজম বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন অনেক ব্যক্তি অপেক্ষা করতে পারে না বলে, শারীরিক অসুখ বিসুখ হলে ডাক্তার দেখাতে যেতে পারেন না। কারণ ডাক্তার দেখানোর জন্য যে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় তার জন্য প্রয়োজনীয় সিটিং হ্যাবিট অনেকেরই থাকে না। তাই এ ধরনের স্পেকট্রামে থাকা মানুষদের জন্য অ্যাপোয়েনমেন্টে উল্লেখিত
সময়েই যদি ডাক্তার পরামর্শ দিয়ে থাকেন, তাহলে তারা স্বাস্থ্যসেবার মত গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক অধিকার থেকো বঞ্চিত হবেন না। এডিএইচডি বৈশিষ্ট্যর বাচ্চা এবং তাদের অভিভাবকদের কাছে স্কুল একটা দুঃস্বপ্নের অধ্যায় হিসেবে থেকে যায়। আরও ভয়ংকর হলো, সচেতনতার অভাবের কারণে বেশিরভাগ এডিএইচডি এবং বিশেষত এডিডি বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন এসেসমেন্ট করানো হয় না। ফলে থেরাপির মাধ্যমে ভালো ফলাফলের সুযোগ থাকলেও তারা দুর্বিষহ একটা জীবনের ভেতর দিয়ে যান। আশপাশের মানুষ এমনকি বাবা-মা পর্যন্ত দুষ্টু বেয়াদব বাচ্চা মনে করে। ফলে যেই বাচ্চার বাবা-মায়ের আরও বেশি ভালবাসা বা যত্ন প্রয়োজন, দরকার ভিন্ন ধরনের প্যারেন্টিং, সেখানে এই বাচ্চারা পরিবারের খারাপ বাচ্চার তকমা নিয়ে বড় হতে থাকে। আমাদের সমাজে অটিজমকে এক রকমের
অভিশাপ কিংবা অতি প্রাকৃত শক্তির প্রভাব হিসেবে দেখারও প্রবণতা রয়েছে। কাজেই এই বিষয়টিকে কেবল স্বাস্থ্যগত ত্রুটির জায়গা থেকে না দেখে সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা বাড়িয়ে সচেতনতার মধ্য দিয়ে কুসংস্কার দূর করা প্রয়োজন। এই বিষয়গুলো নিয়ে সমন্বিত প্রয়াসের পাশাপাশি গণমাধ্যমকে সম্পৃক্ত করতে হবে। তাহলে সমাজে অটিজম বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন ব্যক্তি এবং তাদের পরিবার নিরবতার দেয়াল ভেঙে তাদের কন্ঠ তুলে ধরতে পারবেন। খুব দেরিতে হলেও বাংলাদেশে অটিজম নিয়ে কথা হচ্ছে। তবে অটিজম যেভাবে ছড়িয়ে পড়েছে তার তুলনায় এই বাস্তবতা নগণ্য। অটিজম নিয়ে আমরা যত কম জানব বা দেরিতে জানব আমরা তত বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হব। মনে রাখতে হবে, অটিজম যেহেতু জন্মগত বৈশিষ্ট্য তাই এর কোনো চিকিৎসা নেই। যত দ্রুত অটিজম ধরা পড়বে ততই মঙ্গল। কারণ অটিজম বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন বাচ্চার খাওয়াদাওযা ও প্যারেন্টিং খুবই আলাদা। তবে ভাল দিক হলো, বাংলাদেশে অটিজম বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন শিশুদের জন্য গড়ে উঠছে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন স্কুল ও থেরাপি সেন্টার । বাংলাদেশের বিশেষায়িত এসব শিক্ষক এবং থেরাপিস্টরা আন্তরিকতার সঙ্গে সেবা দিয়ে আসছে। তবে বেশিরভাগ সেন্টারগুলো গড়ে উঠেছে ঢাকা আর কিছু বড় শহরে। আরেকটা বড় সমস্যা হলো- এর আর্থিক দিকটি। বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুর পরিবার সাধারণত একজনের আয়ে চলে, বেশিরভাগ মাকেই তার ক্যারিয়ার বা চাকরি ছেড়ে দিতে হয়। ফলে অনেক পরিবারের শিশুই প্রয়োজনীয় থেরাপি বা বিশেষায়িত স্কুলগুলোতে যেতে পারে না। তাই বিশেষ শিশুদের জন্য সুলভ বিশেষায়িত ডে-কেয়ার সুবিধা প্রয়োজন। এছাড়া সরকারকে একটা বয়সের পর অটিজম বৈশিষ্ট্যর মানুষদের পেশা এবং পুনর্বাসন নিয়ে আন্তরিক হতে হবে। কারণ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই স্পেকট্রামে থাকা শিশুরা পরিপূর্ণ স্বাধীনভাবে জীবন পার করে দেওয়ার দক্ষতা অর্জন করতে পারে না। তাই পৃথিবীতে সম্ভবত অটিজম বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন প্রায় সব শিশুদের বাবা মায়েরাই তাদের সন্তানদের থেকে একদিন বেশি বেঁচে থাকতে চান। অথচ সারাদুনিয়ার বাবা-মা সাধারণত নিজের হায়াতের বিনিময়ে সন্তানের দীর্ঘায়ু কামনা করেন । কারণ তারা জানে, মৃত্যুর পর তাদের সন্তানদের দেখে রাখার কেউ নেই। লেখকদ্বয় স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষক।
এ সংখ্যা আরও বেশি হবার আশঙ্কা রয়েই যায়। কারণ অটিজম বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আমাদের ধারণা নেই বললেই চলে। আজও এ নিয়ে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে সমন্বিতভাবে অটিজম নিয়ে সচেতনতা বা রেগুলার স্ক্রিনিং শুরু হয়নি। চিকিৎসা বিজ্ঞান অটিজমকে ডিসঅর্ডার বা ডিজ্যাবিলিটি হিসেবে চিহ্নিত করে। অটিজম বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন মানুষ সামাজিক যোগাযোগ থেকে শুরু করে, ভাষা বিকাশ এমনকি নানা ধরনের আচরণগত বৈশিষ্ট্যর জায়গা থেকে চ্যালেন্জড থাকে। কিন্তু সকলেরই একই রকম বৈশিষ্ট্য থাকে না। এরা প্রত্যেকেই ভিন্ন ভিন্নভাবে চ্যালেন্জড আবার গিফটেডও হতে পারে। এই জায়গা থেকে ১৯৯০ এর দশক থেকে শুরু হয় নিউরোডাইভারসিটি মুভমেন্ট বা স্নায়ুবৈচিত্র্যতা আন্দোলন। জুডি সিঙ্গার সবার প্রথম ওই শব্দবন্ধটি ব্যবহার করেন। পরে একরকম বৌদ্ধিক এবং
রাজনৈতিক আন্দোলন, আলোচনা ক্রমশ বিকাশমান হয়ে ওঠে। এই আন্দোলন অটিজমকে কোনো ডিসঅর্ডার বা প্রতিবন্ধকতা হিসেবে দেখতে নারাজ। তাদের মতে, অটিজম, অ্যাটেনশন ডেফিশিয়েনসি, সেরিব্রাল পালসি এগুলোর মধ্য দিয়ে প্রকৃতি তার বৈচিত্র্যতা নিয়ে হাজির হয়। এবং প্রকৃতিতে বৈচিত্র্যতা না থাকাটা প্রায় অসম্ভব। নিউরোটিপিক্যালিটি বা প্রতিবন্ধকতা এসব বাস্তবতা সামাজিকভাবে নির্মিত হয় অর্থাৎ সামগ্রিকভাবে দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের মাধ্যমে এই বাস্তবতা থেকে বের হওয়া সম্ভব। যেমন, হুইল চেয়ার ব্যবহারকারী কোনো ব্যক্তির অফিসে যদি র্যাম থাকে, উপযোগী টয়লেট থাকে তাহলে সেই অফিসে তার জন্য দৃশ্যমান কোনো প্রতিবন্ধকতা নেই। সেরকম আমরা যদি অটিস্টিক বাচ্চাদের স্টেমিংগুলোকে (সেন্সরি প্রসেসিংয়ের জন্য শারীরিক বা মৌখিক আচরণ, সাধারণত পৌনপুনিক আচরণ) সামাজিকভাবে গ্রহণ
করতে শিখে যাই, তাহলে অটিজম বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন ব্যক্তি এবং তাদের অভিভাবকদের জন্য দৈনন্দিনের সামাজিক কাজকর্ম অনেক সহজ হয়ে যায়। আর এটাই সামাজিক বা রাষ্ট্রীয় অন্তর্ভুক্তির জন্য সব থেকে জরুরি। অটিজম বৈশিষ্ট্য সম্পদ বাচ্চা ও তার পরিবার যখন কোনো সামাজিক জায়গায় যায়, তখন তারা খুবই সচেষ্ট থেকে বাচ্চার স্টেমিংকে রিডিরেক্ট করার চেষ্ঠায় অবিরত থাকে। অথচ অটিজম বৈশিষ্ট্যর বাচ্চার জন্য ভিন্ন পরিবেশে স্টেমিং নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। কিন্তু লোকে কি ভাববে কিংবা কখন কি বলে বসে সেই ভয়ে অভিভাবকরা তটস্থ থাকেন যেন তাদের বাচ্চাকে কম অটিস্টিক দেখায়। তাই বলাই যায়, স্নায়ুবৈচিত্র্যতা আন্দোলন সমাজকে প্রতিবন্ধকতার ধারণা বিশেষত অটিজম স্পেকট্রাম নিয়ে দারুণ এক নাড়া
দিয়েছে। অটিস্টিক বাচ্চাদের জন্য অনেক ধরনের স্ট্রাগল আছে,সেগুলো প্রতিনিয়ত করতে হয় অভিভাবকদের। সমাজের বেশিরভাগ জায়গাতেই অটিজমবান্ধব পরিবেশ নেই বলে এই ধরনের বাচ্চাদের নিয়ে বাবা মায়েরা সাধারণত একপ্রকার বন্দি জীবনই বেছে নিতে বাধ্য হন। এমন বাচ্চা কে সামলাবে ভেবে মায়ের আর চাকুরিতে ফেরা হয় না। দেশে মহামারী এলেও অনেক অটিস্টিক ব্যাক্তিকে ভ্যাকসিন দেয়া যায় নি। অটিজম বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন অনেক ব্যক্তি অপেক্ষা করতে পারে না বলে, শারীরিক অসুখ বিসুখ হলে ডাক্তার দেখাতে যেতে পারেন না। কারণ ডাক্তার দেখানোর জন্য যে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় তার জন্য প্রয়োজনীয় সিটিং হ্যাবিট অনেকেরই থাকে না। তাই এ ধরনের স্পেকট্রামে থাকা মানুষদের জন্য অ্যাপোয়েনমেন্টে উল্লেখিত
সময়েই যদি ডাক্তার পরামর্শ দিয়ে থাকেন, তাহলে তারা স্বাস্থ্যসেবার মত গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক অধিকার থেকো বঞ্চিত হবেন না। এডিএইচডি বৈশিষ্ট্যর বাচ্চা এবং তাদের অভিভাবকদের কাছে স্কুল একটা দুঃস্বপ্নের অধ্যায় হিসেবে থেকে যায়। আরও ভয়ংকর হলো, সচেতনতার অভাবের কারণে বেশিরভাগ এডিএইচডি এবং বিশেষত এডিডি বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন এসেসমেন্ট করানো হয় না। ফলে থেরাপির মাধ্যমে ভালো ফলাফলের সুযোগ থাকলেও তারা দুর্বিষহ একটা জীবনের ভেতর দিয়ে যান। আশপাশের মানুষ এমনকি বাবা-মা পর্যন্ত দুষ্টু বেয়াদব বাচ্চা মনে করে। ফলে যেই বাচ্চার বাবা-মায়ের আরও বেশি ভালবাসা বা যত্ন প্রয়োজন, দরকার ভিন্ন ধরনের প্যারেন্টিং, সেখানে এই বাচ্চারা পরিবারের খারাপ বাচ্চার তকমা নিয়ে বড় হতে থাকে। আমাদের সমাজে অটিজমকে এক রকমের
অভিশাপ কিংবা অতি প্রাকৃত শক্তির প্রভাব হিসেবে দেখারও প্রবণতা রয়েছে। কাজেই এই বিষয়টিকে কেবল স্বাস্থ্যগত ত্রুটির জায়গা থেকে না দেখে সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা বাড়িয়ে সচেতনতার মধ্য দিয়ে কুসংস্কার দূর করা প্রয়োজন। এই বিষয়গুলো নিয়ে সমন্বিত প্রয়াসের পাশাপাশি গণমাধ্যমকে সম্পৃক্ত করতে হবে। তাহলে সমাজে অটিজম বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন ব্যক্তি এবং তাদের পরিবার নিরবতার দেয়াল ভেঙে তাদের কন্ঠ তুলে ধরতে পারবেন। খুব দেরিতে হলেও বাংলাদেশে অটিজম নিয়ে কথা হচ্ছে। তবে অটিজম যেভাবে ছড়িয়ে পড়েছে তার তুলনায় এই বাস্তবতা নগণ্য। অটিজম নিয়ে আমরা যত কম জানব বা দেরিতে জানব আমরা তত বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হব। মনে রাখতে হবে, অটিজম যেহেতু জন্মগত বৈশিষ্ট্য তাই এর কোনো চিকিৎসা নেই। যত দ্রুত অটিজম ধরা পড়বে ততই মঙ্গল। কারণ অটিজম বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন বাচ্চার খাওয়াদাওযা ও প্যারেন্টিং খুবই আলাদা। তবে ভাল দিক হলো, বাংলাদেশে অটিজম বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন শিশুদের জন্য গড়ে উঠছে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন স্কুল ও থেরাপি সেন্টার । বাংলাদেশের বিশেষায়িত এসব শিক্ষক এবং থেরাপিস্টরা আন্তরিকতার সঙ্গে সেবা দিয়ে আসছে। তবে বেশিরভাগ সেন্টারগুলো গড়ে উঠেছে ঢাকা আর কিছু বড় শহরে। আরেকটা বড় সমস্যা হলো- এর আর্থিক দিকটি। বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুর পরিবার সাধারণত একজনের আয়ে চলে, বেশিরভাগ মাকেই তার ক্যারিয়ার বা চাকরি ছেড়ে দিতে হয়। ফলে অনেক পরিবারের শিশুই প্রয়োজনীয় থেরাপি বা বিশেষায়িত স্কুলগুলোতে যেতে পারে না। তাই বিশেষ শিশুদের জন্য সুলভ বিশেষায়িত ডে-কেয়ার সুবিধা প্রয়োজন। এছাড়া সরকারকে একটা বয়সের পর অটিজম বৈশিষ্ট্যর মানুষদের পেশা এবং পুনর্বাসন নিয়ে আন্তরিক হতে হবে। কারণ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই স্পেকট্রামে থাকা শিশুরা পরিপূর্ণ স্বাধীনভাবে জীবন পার করে দেওয়ার দক্ষতা অর্জন করতে পারে না। তাই পৃথিবীতে সম্ভবত অটিজম বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন প্রায় সব শিশুদের বাবা মায়েরাই তাদের সন্তানদের থেকে একদিন বেশি বেঁচে থাকতে চান। অথচ সারাদুনিয়ার বাবা-মা সাধারণত নিজের হায়াতের বিনিময়ে সন্তানের দীর্ঘায়ু কামনা করেন । কারণ তারা জানে, মৃত্যুর পর তাদের সন্তানদের দেখে রাখার কেউ নেই। লেখকদ্বয় স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষক।



