সুনামগঞ্জে এক বছরে অন্তত ১৫ ছাত্র মাদ্রাসার মুহতামিমের ধর্ষণের শিকার, ধামাচাপার চেষ্টা স্থানীয় মাওলানাদের – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ৩০ September, ২০২৬

সুনামগঞ্জে এক বছরে অন্তত ১৫ ছাত্র মাদ্রাসার মুহতামিমের ধর্ষণের শিকার, ধামাচাপার চেষ্টা স্থানীয় মাওলানাদের

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ৩০ September, ২০২৬ |
সুনামগঞ্জে মাদ্রাসার মুহতামিমের (অধ্যক্ষ) বিরুদ্ধে অন্তত ১৫ জন শিশু ছাত্রকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় শুরু হলেও তার অনুসারী মাওলানারা বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। তারা কোরান-হাদিসের দোহাই দিয়ে এই ভয়াবহ অপরাধ ঢেকে রাখার ফতোয়াও দিচ্ছেন। মাওলানাদের একাংশ তাকে মুহতামিমের পদে ইস্তফা দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। আবার কেউ কেউ তাবলিগে যাওয়ার পরামর্শও দিয়েছেন। বিডি ডাইজেস্টের হাতে আসা ১১-১৪ বছর বয়সী দুটি শিশুর ভিডিও বক্তব্য, সালিশকারী আলেম ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার বর্মাউত্তর গ্রামে অবস্থিত বর্মা উত্তর, বাণীপুর ও রামনগর মাদ্রাসার মুহতামিম আব্দুর রহমান কফিল তার বাবা গোলাম নবীর মৃত্যুর পর মাদ্রাসার মুহতামিম নিযুক্ত হন। এরপর

থেকেই তিনি মাদ্রাসার লিল্লাহ বোর্ডিংয়ে থাকা শিশুদের বাছাই করেন। সুদর্শন শিশুদের আলাদা যত্ন নেন এবং ভোররাতে ঘুম থেকে তুলে খোশগল্প করেন। এতোদিন বিষয়টি জানাজানি না হওয়ায় এবং গরিব ও এতিম শিশুরা কাউকে না বলায় ঘটনা সামনে আসেনি। তবে সম্প্রতি দুটি শিশু মুহতামিম কর্তৃক ধর্ষণের ঘটনা প্রকাশ করলে মাদ্রাসার ভিতরে ও এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়। দুটি শিশু তাদের সঙ্গে নিজ মাদ্রাসার মুহতামিমের এই ভয়াবহ যৌন নির্যাতনের ঘটনার বক্তব্য এক সালিশকারী মোবাইল ফোনে রেকর্ড করেন। পরে সালিশকারীরা মাদ্রাসার লিল্লাহ বোর্ডিংয়ে অন্যান্য ছাত্রদের সঙ্গে কথা বললে অন্তত ১৫টি শিশু ধর্ষণের ঘটনা স্বীকার করে আব্দুর রহমান কফিলের যৌন লালসার ভয়াবহ বর্ণনা দেন। ছেলে শিশুদের ওপর নিয়মিত যৌন

নির্যাতনের অভিযোগে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ তার অনুসারী মাওলানারা সালিশে বসেন। তখন কয়েকজন ছাত্র ধর্ষণের ঘটনা স্বীকার করেন। সেখানে মুহতামিমের অনুসারী ও এলাকাবাসীর পক্ষে মাওলানা আনোয়ার হোসেন, মাওলানা কামরুল হক, মাওলানা এখলাছুর রহমান, মাওলানা অলিউর রহমান, মাওলানা আলফাজুর রহমান, হাফিজ মাওলানা এমদাদুল হক, সালিশ ব্যক্তিত্ব আমিনুর রশিদ, আবু তালেবসহ বেশ কিছু গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। আব্দুর রহমান কফিলের যৌন নির্যাতনের বিষয়টির প্রমাণ পাওয়ায় তার অনুসারী মাওলানারা তাকে মাদ্রাসা থেকে ইস্তফা দিয়ে তাবলিগ জামাতে যাওয়ার পরামর্শ দেন। আব্দুর রহমান কফিল অপরাধ স্বীকার করে তাবলিগে যাবার বদলে হজে যাওয়ার আব্দার করেন। পরে মাদ্রাসার ফান্ড ও এলাকার মানুষের দানের অর্থে তিনি হজ করে আবার মাদ্রাসায় এসে অবস্থান

নেন। অপকর্ম করে পুনরায় মাদ্রাসায় অবস্থান নেওয়ায় এলাকার মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। সালিশে আব্দুর রহমান কফিল কর্তৃক ধর্ষণের শিকার কয়েকজন শিশুর নাম ও ঠিকানা পাওয়া গেছে। এর মধ্যে সদর উপজেলার ভৈষবেড়, জামালগঞ্জের ফলকপুর, সেলাইয়া মাহমুদপুর, সদর উপজেলার নীলপুর, নেত্রকোণা, গজারিয়া, গৌরারং, বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকার শিশু রয়েছে। আব্দুর রহমান কফিল কর্তৃক একাধিকবার ধর্ষণের শিকার ১৪ বছরের এক শিশু বলে, হুজুর আমারে কইন তোমার বীর্য বানছেনি। আমি লজ্জা পাই। তারপর আমারে কোলে টেনে নিয়া হুজুরের লিঙ্গে হাত দেওয়ান। তারপর আমার পায়জামা খুলে আমার সঙ্গে খারাপ কাজ করেন। তারপর আমার চুলকানি হয় ও পায়খানার রাস্তায় সমস্যা হয়। হুজুর ওষুধ লাগানো কথা বলে আরো

খারাপ কাজ করেন। ধর্ষণের শিকার আরেক ১১ বছরের আরেক শিশু বলে, হুজুর আমার পায়জামা খুলে আমার সঙ্গে খারাপ কাজ করছইন। আমার কষ্ট অইছে। আমার মতো আরো ১৫-১৬ জনকেও তাইন খারাপ কাজ করছইন। আব্দুর রহমান কফিলের মোবাইল ফোনে এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে ফোন দিলে তিনি ফোন ধরেননি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সালিশকারী এক বিএনপি নেতা বলেন, আমরা মুহতামিম সাহেবকে পরহেজগার হিসেবে শ্রদ্ধা ও সম্মান করতাম। কিন্তু তিনি যেভাবে এতিম ছোট ছেলে শিশুকে ধর্ষণ করেছেন তার বর্ণণা ও ছেলেদের স্বীকারোক্তি শুনে অবাক হয়েছি। আলেম নামের নরপশু মনে হচ্ছে তাকে। অথচ বেশভূষায় নিজেকে সবসময় আলেম হিসেবে উপস্থাপন করে। তিনি বলেন, সালিশে আমরা তাকে মাদ্রাসা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত

দিয়েছিলাম। তার অনুসারীরা পাপের জন্য তাবলিগে যেতে বলেছিলেন। পরে তিনি মাদ্রাসার টাকা ও অনুসারীদের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করে হজ করে আবার মাদ্রাসায় এসে উঠেছেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
ওয়াশিংটনে শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন: আওয়ামী লীগকে নিয়েই অবাধ নির্বাচন ও পুনর্মিলনের আহ্বান দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান তাড়ায় লঙ্কানদের রেকর্ড জয় মানুষের পেটে ভাত নেই, ৭০% ছাড় দিয়েও বিক্রি হচ্ছে না জামা-কাপড়: ব্যবসা নেমেছে এক-তৃতীয়াংশে পরিকল্পিত অর্থনৈতিক স্থবিরতা (স্ট্যাগফ্লেশন) এবং মহা অস্বীকৃতি কেরানীগঞ্জে নিজ ফ্ল্যাটে আওয়ামী লীগ নেত্রী ডালিয়াকে জবাই করে হত্যা দারিদ্র নির্মূলে বিশ্বজুড়ে রোল মডেল বাংলাদেশ এখন খাদের দ্বারপ্রান্তে এখনই ১৮৩৭ টাকার সিলিন্ডার কিনছে ভোক্তারা ২৫০০-তে, নতুন প্রস্তাবে দাম ছাড়াতে পারে ৪ হাজার সাভারে মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণ: শিক্ষক স্বামীকে সহায়তাকারী স্ত্রী গ্রেপ্তার ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা হুজুরের, মাদ্রাসা ভাঙচুর করে আগুন দিলেন এলাকাবাসী নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে মনপুরায় রাজনৈতিক প্রভাবে মা ইলিশ শিকারের মহোৎসব টেকনাফে পাহাড়ে ৩ দিন নির্যাতন: ৪ লাখ টাকা মুক্তিপণে বাড়ি ফিরলেন যুবক পটিয়ায় ছিনতাই হওয়া ২৮৪ বস্তা চিনি চকরিয়া থেকে উদ্ধার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে: নাহিদ ইসলাম বিশ্বের শীর্ষ ঋণগ্রস্ত দেশ যুক্তরাষ্ট্র, বাংলাদেশ ৪৫তম ফরিদপুরে বাস-অ্যাম্বুলেন্সের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৩ রিকশাচালক হাফিজুল হত্যা মামলায় রিমান্ড শেষে কারাগারে দীপু মনি ফের দ্রুততম মানব-মানবী ইমরান-শিরিন, টাইমিং নিয়ে প্রথম দিনেই বিতর্ক নাটোরে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ১২ জন্মদিন উদযাপনে যাওয়ার পথে নেতানিয়াহুর গাড়িবহরে হামলা দেশে হামের উপসর্গে আরও ৭ জনের মৃত্যু