আশিক চৌধুরীর ফোপর দালালি আর বাস্তবতার নির্মম ফারাক – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

আরও খবর

আশিক চৌধুরীর ফোপর দালালি আর বাস্তবতার নির্মম ফারাক

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ |
দেড় বছর আগে যখন ড. ইউনূসের অবৈধ সরকার বিদেশ থেকে আশিক চৌধুরীকে ডেকে এনে বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান বানালো, তখন তাকে ঘিরে তৈরি হয়েছিল এক অদ্ভুত রকমের ভক্তিবাদ। সোশাল মিডিয়ায় তার ইংরেজি বলার ঢং, স্মার্ট চেহারা আর আত্মবিশ্বাসী উপস্থাপনা নিয়ে শুরু হয়ে গেছিল ‘আশিক ম্যাজিক’-এর গল্প। বলা হচ্ছিল, এই মানুষটাই নাকি বিদেশি বিনিয়োগের বন্যায় ভাসিয়ে দেবে দেশ। কিন্তু দেড় বছর পার হয়ে যাওয়ার পর এখন প্রশ্ন উঠছে, সেই ম্যাজিকের বেলুনটা কি আদৌ কখনো হাওয়ায় ভেসেছিল, নাকি শুরু থেকেই সেটা ছিল একটা ফাঁপা প্রচারণা? তথ্যের দিকে তাকালে চোখ জ্বলে যায়। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে নতুন বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে মাত্র ৫৫ কোটি ডলার, যা গত পাঁচ

বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। করোনাকালেও এর চেয়ে বেশি বিনিয়োগ এসেছিল। নিট এফডিআই বেড়ে ১৬৯ কোটি ডলার হলেও সেটার বড় অংশ এসেছে আগে থেকে থাকা কোম্পানিগুলোর পুনর্বিনিয়োগ আর ঋণ থেকে, নতুন বিনিয়োগকারী আসেনি বললেই চলে। বিডায় নিবন্ধিত বিনিয়োগ প্রস্তাব কমেছে ৫৮ শতাংশ। করোনার সময়ে যেখানে এক লাখ পাঁচ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাব নিবন্ধিত হয়েছিল, সেখানে গত অর্থবছরে হয়েছে মাত্র ৬৬ হাজার কোটি টাকার। আর চলতি বছরের ১০ মাসে নিবন্ধিত প্রকল্পের সংখ্যা নেমে এসেছে ৮১৪টিতে, যেখানে আগের বছর ছিল এক হাজার ১১৩টি। মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি কমেছে ১৯ শতাংশ। বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ ছয় মাস ধরে ৭ শতাংশের নিচে, যেখানে আগে ছিল ১০ শতাংশের বেশি। এপ্রিলে বড়

ধুমধাম করে বিনিয়োগ সম্মেলন হলো। ৫০টি দেশের চার শতাধিক প্রতিনিধি এলেন, ঘোষণা এলো প্রায় তিন হাজার ১০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রস্তাবের। সোশাল মিডিয়া ভেসে গেল প্রশংসায়। কিন্তু সেই ঘোষিত বিনিয়োগ এখন কোথায়? দেশের যেকোনো বড় উদ্যোক্তা একাই তিন-চার হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে পারেন, কিন্তু তাদের তো আহ্বানই জানানো হলো না ঠিকমতো। যাদের নিয়ে এত গর্জন, তারা কেউই এখনো টাকা নিয়ে হাজির হননি। গর্জনটা তীব্র ছিল, বর্ষণ হয়নি মোটেই। আশিক চৌধুরী নিজে বলছেন এটা ‘মিরাকল’। তার যুক্তি, গণঅভ্যুত্থানের পরে এফডিআই সাধারণত নেতিবাচক হয়, কিন্তু বাংলাদেশে নাকি বেড়েছে। কিন্তু এটা কোন ধরনের গণঅভ্যুত্থান, সেটা তো স্পষ্ট করা দরকার। বিদেশি অর্থায়ন, ইসলামিক জঙ্গি

গোষ্ঠীর সহায়তা আর সামরিক বাহিনীর সমর্থন নিয়ে জুলাই মাসে দাঙ্গা বাঁধিয়ে একটা নির্বাচিত সরকারকে ক্যু করে ফেলে দেওয়া হয়েছে। এটা কোনো স্বতঃস্ফূর্ত গণআন্দোলন ছিল না, ছিল একটা সুপরিকল্পিত ক্ষমতা দখল। আর সেই ক্ষমতা দখলের পর যারা এসেছেন, তারা নির্বাচিত নন, তাদের কোনো বৈধতা নেই। ড. ইউনূসের সরকার একটা অবৈধ সরকার, আর আশিক চৌধুরী সেই অবৈধ কাঠামোর একটা চাকচিক্যময় মুখ মাত্র। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আসল সমস্যাগুলো তো সমাধান হয়নি একটুও। ব্যাংক খাত ধসে আছে, বেশ কিছু ব্যাংক দেউলিয়া হওয়ার দ্বারপ্রান্তে। ঋণের সুদের হার ১৫ শতাংশের বেশি, যেখানে ভিয়েতনাম বা ভারতে এটা অনেক কম। বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট এখনো প্রকট, মানসম্মত সেবা পাওয়া যাচ্ছে

না। চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য ওঠানামার সময় বেশি, ডিজিটাইজেশন সীমিত। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নাজুক, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা তীব্র। হামলা-মামলা চলছে দেশের উদ্যোক্তাদের বিরুদ্ধে, আস্থা একেবারে তলানিতে। এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় বিনিয়োগকারীরাই তাদের পুঁজি ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন, তারা অপেক্ষা করছেন একটা নির্বাচিত সরকারের, যেটা তাদের বিনিয়োগের নিরাপত্তা দিতে পারবে। সেখানে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা কেন আসবেন? বিদেশি রাষ্ট্রদূতরা পরিষ্কার বলে দিয়েছেন, নির্বাচিত সরকার ও স্থিতিশীলতা ছাড়া বড় বিনিয়োগ আসা কঠিন। বিশ্বব্যাংকের তথ্য বলছে ভিন্ন গল্প। ২০২৪ সালে ভারত পেয়েছে ২৭ বিলিয়ন ডলার, ইন্দোনেশিয়া ২১ বিলিয়ন, ভিয়েতনাম ২০ বিলিয়ন। আর বাংলাদেশ পেয়েছে মাত্র দেড় বিলিয়ন। এমনকি পাকিস্তানও বাংলাদেশকে ছাড়িয়ে গেছে। দুই বছর আগে যে পাকিস্তান বাংলাদেশের পেছনে ছিল,

তারাই এখন এগিয়ে। এই তুলনা করলে আশিক চৌধুরীর ‘মিরাকল’-এর দাবি কতটা ফাঁপা, সেটা পরিষ্কার হয়ে যায়। বিডার পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, অতীতে অনেক ভুয়া বা অকার্যকর নিবন্ধন হতো, সেগুলো বন্ধ করায় সংখ্যা কমেছে। কিন্তু এটা তো একটা দায় এড়ানোর চেষ্টা মাত্র। প্রকৃত বিনিয়োগ না আসলে নিবন্ধনের মান উন্নত করার দাবিতে কোনো মূল্য নেই। মানুষ চায় কাজ, চায় কর্মসংস্থান, চায় কারখানা চালু হোক। শিল্প-কারখানা বন্ধ হচ্ছে, কর্মসংস্থান কমছে, এই বাস্তবতা মেনে নিতে হবে। আশিক চৌধুরীর তৎপরতা মূলত ঘিরে আছে বড় বড় অবকাঠামো চুক্তি আর বন্দর লজিস্টিকসের চুক্তি নিয়ে। চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার বিতর্ক তাকে তাড়া করছে। দেশের সম্পদ যেভাবে হাতবদল হচ্ছে,

তাতে মনে হচ্ছে দেশটা বিক্রির পসরা সাজিয়ে বসে আছে। নীতিগত সংস্কার বা ব্যবসায়িক পরিবেশের প্রকৃত উন্নতির চেয়ে বেশি জোর দেওয়া হয়েছে ‘হাই-ভ্যালু ডিল’ আর চমকপ্রদ ঘোষণায়। প্রচারণায় গর্জন তীব্র, বাস্তবে বর্ষণ শূন্য। মাসরুর রিয়াজ ঠিকই বলেছেন, আমলাদের বাইরে থেকে একজনকে আনা হয়েছিল সাহসী সংস্কারের আশায়। কিন্তু দেড় বছরে কোনো বড় কাঠামোগত সংস্কার হয়নি। উদ্যোগ ছিল, কর্মস্পৃহাও ছিল, কিন্তু সেগুলোকে পরবর্তী ধাপে নিয়ে যাওয়া হয়নি। আর এখন আশিক চৌধুরী নিজেই একটা প্রশ্নবিদ্ধ ব্যক্তিত্ব। তার আনা বিনিয়োগ কোথায় গেল? সেই ঘোষিত তিন হাজার কোটি টাকা কোথায়? দেশে কোনো নতুন কারখানা, কোনো নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হলো না, কিন্তু তার নিজের ‘বেলুন’ বেশ ভালোই ভরছে বলে মনে হচ্ছে। অর্জনের চেয়ে গর্জন বেশি হলে একসময় মানুষের বিশ্বাস নষ্ট হয়। দেশের মানুষ এখন বুঝতে শুরু করেছে যে তাদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। জুলাই মাসে যে রক্তপাত হয়েছিল, যে অরাজকতা সৃষ্টি করা হয়েছিল, তার পেছনে ছিল একটা সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। আর সেই ষড়যন্ত্রের ফলে যারা ক্ষমতায় এসেছে, তারা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বদলে পিছিয়ে দিচ্ছে। বিনিয়োগ আসছে না, অর্থনীতি ধসছে, মানুষের কষ্ট বাড়ছে। আর আশিক চৌধুরীর মতো মানুষেরা শুধু প্রচারণার কারিগর হয়ে বসে আছেন। এখন প্রশ্ন ওঠা উচিত, এতদিনে আশিক চৌধুরী দেশ থেকে কত টাকা লুটপাট করেছেন? কোথায় গেল সেই বিনিয়োগ? কোন প্রকল্পে কত টাকা এসেছে, সেটার স্বচ্ছ হিসাব কোথায়? তাকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা দরকার। দেশের মানুষের কাছে তার জবাবদিহিতা করা দরকার। আর ড. ইউনূসের এই অবৈধ সরকারের অধীনে যারা কাজ করছেন, তাদের প্রত্যেকের হিসাব নেওয়া উচিত। এই সরকার যত দিন টিকে থাকবে, দেশ তত দিন অন্ধকারে থাকবে। বিনিয়োগ আসবে না, উন্নয়ন হবে না। শুধু থাকবে প্রচারণার ফানুস আর মিথ্যার পসরা। দেশকে সিঙ্গাপুর বানানোর স্বপ্ন দেখানো হচ্ছিল, কিন্তু দেশ এখন দেউলিয়ার পথে হাঁটছে। এটাই বাস্তবতা। আর এই বাস্তবতার জন্য দায়ী ড. ইউনূসের অবৈধ সরকার এবং আশিক চৌধুরীর মতো তার দালালেরা, যারা দেশকে বিক্রির আয়োজন করছেন আর নিজেদের পকেট ভরছেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
নববর্ষ কবে থেকে শুরু ও বাংলা মাসের নামকরণ কীভাবে হলো দেশে হাম ও উপসর্গ নিয়ে আরও ৯ শিশুর মৃত্যু জেট ফুয়েল নিয়ে চট্টগ্রামে ভিড়ল জাহাজ, আসছে আরও দুই ডিজেলের চালান নববর্ষে মুমিনের আনন্দ, প্রত্যয় ও পরিকল্পনা বৈশাখের শোভাযাত্রা ৫ বিভাগে বৃষ্টি নিয়ে আবহাওয়া অফিসের নতুন বার্তা ১৫ মিনিট বন্ধ থাকার পর ফের চালু মেট্রো রেল যুক্তরাষ্ট্রকে হরমুজ অবরোধ তুলে নিতে চাপ দিচ্ছে সৌদি দক্ষিণ লেবাননে বহু ইসরায়েলি সেনা হতাহত পত্রিকাটি ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ ও ‘ভুয়া খবর’ পরিবেশনকারী: ট্রাম্প ‘ খেলা’ কমিয়ে দিলো দুই দেশের বৈরি সম্পর্ক কুষ্টিয়ায় ‘পীর’ শামীম হত্যার ঘটনায় মামলা পাঁচ ঘণ্টা লাইন, চার লিটার তেল, আর একটি তথাকথিত “নির্বাচিত” সরকার! সাবেক আইনমন্ত্রী ও প্রবীণ আইনজীবী শফিক আহমেদের মৃত্যুতে গভীর শোক ও শ্রদ্ধা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের প্রতিবাদে ভেনিসে সমাবেশ অনুষ্ঠিত অপশাসন, ভয় আর মামলার বোঝা—এভাবেই কি ঝরে যাবে একের পর এক প্রাণ? ইউনুস–তারেকের রাজনীতিতে কি মানুষের জীবন এতটাই তুচ্ছ হয়ে গেছে? Attack on Humanitarian Physician Professor Dr. Kamrul Islam by BNP Leader — Has the Country Become a Safe Haven for Thugs? একটি স্বেচ্ছাচারী একপাক্ষিক সংসদ কর্তৃক গণবিরোধী আইন পাশ ও দেশের নৈরাজ্যময় পরিস্থিতিতে স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বানঃ প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের প্রথম বেতার ভাষণ। ১১ এপ্রিল, ১৯৭১ ‘ড. ইউনূস ৬টি জেনারেশন ধ্বংস করে দিয়েছেন, আওয়ামী লীগের সমর্থক বাড়ছে’