ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক মারা গেছেন
ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরের ভাঙচুর ও নাশকতার দায় স্বীকার ছাত্রদলের
সারাদেশে আওয়ামী লীগের পার্টি অফিস গুঁড়িয়ে দিয়েছিলাম, ছাত্রদল সভাপতি রাকিবের স্বীকারোক্তি
জুলাই সিডিআই বলায় শাওনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ, নাম আছে মাহিরও
তারেক রহমান: বিচারের নামে কারো প্রতি যেন ‘অবিচার’ করা না হয়
জুলাই চেতনা নিয়ে ব্যবসা, যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ভোটার হওয়ার সময় বাড়ল
নতুন জটিলতায় পে স্কেল, গেজেট কবে?
নতুন অর্থবছর শুরু হলেও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহুল প্রত্যাশিত নতুন পে-স্কেলের গেজেট এখনো প্রকাশ হয়নি। ফলে বেতন বৃদ্ধি, ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন, ভাতা সংযোজন ও অবসর-সুবিধা নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন জটিলতা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সবকিছু ঠিক থাকলে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকে শেষ সপ্তাহের মধ্যে গেজেট প্রকাশ হতে পারে, যদিও নতুন বেতন কাঠামোর কার্যকারিতা ১ জুলাই থেকেই গণনা করা হতে পারে।
অথচ চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছেন। গেজেট না থাকায় বেতন কত বাড়বে, কোন ধাপে বাড়বে, ভাতা কবে যুক্ত হবে-এসব প্রশ্নের কোনো স্পষ্ট উত্তর মিলছে না।
বিশেষ করে অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে উদ্বেগ
সবচেয়ে বেশি। তারা এখন আর সরকারি দপ্তরের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নন। ফলে সরকারি কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্যও সহজে পান না। গণমাধ্যমের খবরে নির্ভর করেই তারা পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করছেন। অনেকেই প্রতিদিন সাংবাদিকদের ফোন করে সর্বশেষ অগ্রগতি জানতে চাইছেন। আবার সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়লে মূল্যস্ফীতিতে এর প্রভাব কী হবে সেই বিষয়েও সাধারণ ভোক্তাদের উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে সরকারি চাকরির বাইরে থাকা কোটি মানুষের উদ্বেগ নিত্যপণ্যের দাম বাড়া নিয়ে। তাদের আশঙ্কা, সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আরেক দফা সব জিনিসের দাম বাড়বে। ভোক্তাদের এই উদ্বেগ নিরসনে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের কৌশল নির্ধারণের কথা বলছেন অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞরা। এর আগে ২০১৫ সালের অষ্টম জাতীয় বেতন স্কেল
বাস্তবায়নের সময় অধিকাংশ কাজ ম্যানুয়ালি সম্পন্ন করা হয়েছিল। কিন্তু এখন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পুরো বেতন-ভাতা, ইনক্রিমেন্ট, পেনশন, গ্র্যাচুইটি, জিপিএফসহ প্রায় সব আর্থিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) এবং আইবাস++ সফটওয়্যারের মাধ্যমে। ফলে ধাপে ধাপে বেসিক বেতন কার্যকর করতে গেলে সফটওয়্যার কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে হবে। বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক আব্দুল মালেক বলেন, আগের মতো এখন আর হাতে বেতন নির্ধারণের সুযোগ নেই। যদি প্রথম ধাপে ৫০ বা ৬০ শতাংশ বেসিক কার্যকর করা হয়, পরে আবার বাকি অংশ দেওয়া হয়, তাহলে একই কর্মচারীর জন্য একাধিকবার পে-ফিক্সেশন করতে হবে। এতে সফটওয়্যার পরিবর্তন, প্রশাসনিক জটিলতা এবং ভুল হওয়ার ঝুঁকি বাড়বে। তিনি
বলেন, পদোন্নতি, বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট, টাইম স্কেল, নির্বাচন গ্রেড এবং অবসরজনিত সুবিধা নির্ধারণেও জটিলতা তৈরি হতে পারে। পিআরএল শেষে চাকরি ছাড়তে যাওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্বেগ আরও বেশি। কারণ একজন কর্মচারীর পেনশন, গ্র্যাচুইটি, ছুটির নগদায়নসহ প্রায় সব সুবিধা শেষ প্রাপ্ত বেতনের ভিত্তিতেই নির্ধারিত হয়। আব্দুল মালেক আরও বলেন, ডিজিটাল বেতন ব্যবস্থায় অবসরপ্রাপ্তদের পাওনা দুই বা তিন ধাপে দেওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই। ফলে কেউ আংশিক বেতন বৃদ্ধি পেয়ে অবসরে গেলে পরবর্তী ধাপের সুবিধা পাবেন কিনা, সেটি বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়াবে। তিনি বিকল্প হিসাবে প্রস্তাব দেন, প্রথম ধাপেই শতভাগ মূল বেতন কার্যকর করে পে-ফিক্সেশন সম্পন্ন করা হোক। পরে বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ও অন্যান্য ভাতা ধাপে
ধাপে কার্যকর করা যেতে পারে। এতে সফটওয়্যার পরিবর্তনের প্রয়োজন কমবে এবং অবসরপ্রাপ্তরাও বৈষম্যের শিকার হবেন না। অর্থ মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র জানায়, উচ্চপর্যায়ের সচিব কমিটি ইতোমধ্যে নতুন বেতন কাঠামোর একটি রূপরেখা তৈরি করেছে। বর্তমানে এর আর্থিক প্রভাব, সফটওয়্যার সামঞ্জস্য এবং প্রশাসনিক দিক পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সবকিছু ঠিক থাকলে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি বা শেষ সপ্তাহে গেজেট প্রকাশ হতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর সম্প্রতি বলেন, দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনা করেই নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করা হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ ১১ বছর পর সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধি সময়োপযোগী হলেও এর সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রভাব অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সামাল
দিতে হবে। এ প্রসঙ্গে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, সরকারি কর্মচারীদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়াতে বেতন বৃদ্ধি প্রয়োজন। তবে একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতির ওপর সম্ভাব্য চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে।
সবচেয়ে বেশি। তারা এখন আর সরকারি দপ্তরের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নন। ফলে সরকারি কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্যও সহজে পান না। গণমাধ্যমের খবরে নির্ভর করেই তারা পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করছেন। অনেকেই প্রতিদিন সাংবাদিকদের ফোন করে সর্বশেষ অগ্রগতি জানতে চাইছেন। আবার সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়লে মূল্যস্ফীতিতে এর প্রভাব কী হবে সেই বিষয়েও সাধারণ ভোক্তাদের উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে সরকারি চাকরির বাইরে থাকা কোটি মানুষের উদ্বেগ নিত্যপণ্যের দাম বাড়া নিয়ে। তাদের আশঙ্কা, সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আরেক দফা সব জিনিসের দাম বাড়বে। ভোক্তাদের এই উদ্বেগ নিরসনে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের কৌশল নির্ধারণের কথা বলছেন অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞরা। এর আগে ২০১৫ সালের অষ্টম জাতীয় বেতন স্কেল
বাস্তবায়নের সময় অধিকাংশ কাজ ম্যানুয়ালি সম্পন্ন করা হয়েছিল। কিন্তু এখন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পুরো বেতন-ভাতা, ইনক্রিমেন্ট, পেনশন, গ্র্যাচুইটি, জিপিএফসহ প্রায় সব আর্থিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) এবং আইবাস++ সফটওয়্যারের মাধ্যমে। ফলে ধাপে ধাপে বেসিক বেতন কার্যকর করতে গেলে সফটওয়্যার কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে হবে। বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক আব্দুল মালেক বলেন, আগের মতো এখন আর হাতে বেতন নির্ধারণের সুযোগ নেই। যদি প্রথম ধাপে ৫০ বা ৬০ শতাংশ বেসিক কার্যকর করা হয়, পরে আবার বাকি অংশ দেওয়া হয়, তাহলে একই কর্মচারীর জন্য একাধিকবার পে-ফিক্সেশন করতে হবে। এতে সফটওয়্যার পরিবর্তন, প্রশাসনিক জটিলতা এবং ভুল হওয়ার ঝুঁকি বাড়বে। তিনি
বলেন, পদোন্নতি, বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট, টাইম স্কেল, নির্বাচন গ্রেড এবং অবসরজনিত সুবিধা নির্ধারণেও জটিলতা তৈরি হতে পারে। পিআরএল শেষে চাকরি ছাড়তে যাওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্বেগ আরও বেশি। কারণ একজন কর্মচারীর পেনশন, গ্র্যাচুইটি, ছুটির নগদায়নসহ প্রায় সব সুবিধা শেষ প্রাপ্ত বেতনের ভিত্তিতেই নির্ধারিত হয়। আব্দুল মালেক আরও বলেন, ডিজিটাল বেতন ব্যবস্থায় অবসরপ্রাপ্তদের পাওনা দুই বা তিন ধাপে দেওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই। ফলে কেউ আংশিক বেতন বৃদ্ধি পেয়ে অবসরে গেলে পরবর্তী ধাপের সুবিধা পাবেন কিনা, সেটি বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়াবে। তিনি বিকল্প হিসাবে প্রস্তাব দেন, প্রথম ধাপেই শতভাগ মূল বেতন কার্যকর করে পে-ফিক্সেশন সম্পন্ন করা হোক। পরে বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ও অন্যান্য ভাতা ধাপে
ধাপে কার্যকর করা যেতে পারে। এতে সফটওয়্যার পরিবর্তনের প্রয়োজন কমবে এবং অবসরপ্রাপ্তরাও বৈষম্যের শিকার হবেন না। অর্থ মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র জানায়, উচ্চপর্যায়ের সচিব কমিটি ইতোমধ্যে নতুন বেতন কাঠামোর একটি রূপরেখা তৈরি করেছে। বর্তমানে এর আর্থিক প্রভাব, সফটওয়্যার সামঞ্জস্য এবং প্রশাসনিক দিক পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সবকিছু ঠিক থাকলে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি বা শেষ সপ্তাহে গেজেট প্রকাশ হতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর সম্প্রতি বলেন, দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনা করেই নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করা হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ ১১ বছর পর সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধি সময়োপযোগী হলেও এর সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রভাব অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সামাল
দিতে হবে। এ প্রসঙ্গে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, সরকারি কর্মচারীদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়াতে বেতন বৃদ্ধি প্রয়োজন। তবে একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতির ওপর সম্ভাব্য চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে।



