ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে ভারতীয় রুপির দর
‘জ্বালানি তেল নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই’
এশিয়ার বাজার খোলার পর তেলের দাম ছাড়াল ১১৫ ডলার
স্বর্ণের দামে আবারও বড় পতন, ভরিতে কমলো ৬৫৯০ টাকা
শেখ হাসিনা সরকারের ছাপা বঙ্গবন্ধুর ছবিযুক্ত নোটেই শেষ ভরসা বিএনপি সরকারের
বিশ্ববাজারে কমলো স্বর্ণের দাম
১০০ ডলার ছাড়াল জ্বালানি তেলের দাম
ঋণের লাগামহীন বিস্তার: দেড় বছরে অভ্যন্তরীণ দেনা বেড়েছে পৌনে ৩ লাখ কোটি টাকা
ক্ষমতার পরিবর্তনের পর ব্যয় সংযম ও ঋণনির্ভরতা কমানোর যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি। বরং অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দেশে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে সরকারের ঋণ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে, যা অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান বলছে, স্বল্প সময়ের ব্যবধানে সরকারের ঋণ গ্রহণ অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে যেখানে সরকারের নিট ঋণ ছিল মাত্র ৪৫৫ কোটি ৮০ লাখ টাকা, সেখানে পরবর্তী অর্থবছরের একই সময়ে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩১ হাজার ৪২৮ কোটি ৫০ লাখ টাকায়। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ঋণ প্রায় ৬৯ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
এই প্রবণতা চলতি অর্থবছরেও থামেনি। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে
সরকারের নিট ঋণ আরও বেড়ে ৬২ হাজার ২৪৬ কোটি ৩০ লাখ টাকায় পৌঁছেছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। ফলে ধারাবাহিকভাবে ঋণের ওপর নির্ভরতা বাড়ার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠছে। ব্যাংকনির্ভর ঋণের ঝুঁকি বাড়ছে ঋণ বৃদ্ধির বড় অংশই এসেছে ব্যাংক খাত থেকে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথমার্ধে সরকার ব্যাংক থেকে ৬ হাজার ৭৪৪ কোটি ৩০ লাখ টাকা ঋণ নিলেও, চলতি অর্থবছরের একই সময়ে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৩ হাজার ৩৫৮ কোটি ৮০ লাখ টাকায়। অর্থাৎ এক বছরে ব্যাংকনির্ভর ঋণ কয়েক গুণ বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ ধরনের প্রবণতা বেসরকারি খাতের জন্য ঋণপ্রবাহ সংকুচিত করতে পারে, যা বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ব্যাংকের বাইরে ঋণ
কমলেও চাপ কমেনি অন্যদিকে, ব্যাংক-বহির্ভূত উৎস থেকে সরকারের ঋণ কিছুটা কমেছে। গত অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে এ খাত থেকে ২৪ হাজার ৬৮৮ কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হলেও, চলতি অর্থবছরের একই সময়ে তা কমে ৮ হাজার ৮৬০ কোটি ৫০ লাখ টাকায় নেমে এসেছে। তবে সামগ্রিক চিত্রে দেখা যাচ্ছে, ব্যাংক খাত থেকে অতিরিক্ত ঋণ নেওয়ার কারণে মোট ঋণের চাপ কমেনি, বরং আরও বেড়েছে। রাজস্ব ঘাটতি ও ব্যয় নিয়ন্ত্রণের ব্যর্থতা অর্থনীতিবিদদের মতে, সরকারের রাজস্ব আহরণে দুর্বলতা এবং ব্যয় নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপের অভাবই ঋণ বৃদ্ধির মূল কারণ। রাজস্ব আয়ে প্রত্যাশিত প্রবৃদ্ধি না থাকলেও ব্যয়ের ধারা অপরিবর্তিত থাকায় ঘাটতি পূরণে ঋণের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। এই পরিস্থিতি আর্থিক শৃঙ্খলার প্রশ্নও সামনে
নিয়ে এসেছে। পরিকল্পিত ব্যয় সংযম বা কাঠামোগত সংস্কার ছাড়া কেবল ঋণনির্ভরতা বাড়ালে তা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ঋণের পাহাড় আরও উঁচু সর্বশেষ হিসাবে, ডিসেম্বর শেষে দেশের অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে সরকারের মোট ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ১০ লাখ ৮৩ হাজার ৯৭৭ কোটি টাকা। দেড় বছরের ব্যবধানে এই ঋণ বেড়েছে প্রায় পৌনে ৩ লাখ কোটি টাকা। অর্থনীতিবিদদের মতে, ঋণ নেওয়া নিজেই সমস্যা নয়; তবে সেই ঋণ কোথায় এবং কীভাবে ব্যয় হচ্ছে, সেটিই মূল প্রশ্ন। উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ না বাড়িয়ে যদি ঋণ মূলত ভোগ ব্যয় মেটাতে ব্যবহৃত হয়, তাহলে তা ভবিষ্যতে অর্থনীতির ওপর আরও বড় চাপ তৈরি করতে পারে। বর্তমান প্রবণতা ইঙ্গিত দিচ্ছে—স্বল্পমেয়াদি চাপ সামাল
দিতে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করছে। ফলে ঋণ ব্যবস্থাপনা, রাজস্ব কাঠামো এবং ব্যয় নীতিতে দ্রুত ও কার্যকর সংস্কার এখন জরুরি হয়ে উঠেছে।
সরকারের নিট ঋণ আরও বেড়ে ৬২ হাজার ২৪৬ কোটি ৩০ লাখ টাকায় পৌঁছেছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। ফলে ধারাবাহিকভাবে ঋণের ওপর নির্ভরতা বাড়ার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠছে। ব্যাংকনির্ভর ঋণের ঝুঁকি বাড়ছে ঋণ বৃদ্ধির বড় অংশই এসেছে ব্যাংক খাত থেকে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথমার্ধে সরকার ব্যাংক থেকে ৬ হাজার ৭৪৪ কোটি ৩০ লাখ টাকা ঋণ নিলেও, চলতি অর্থবছরের একই সময়ে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৩ হাজার ৩৫৮ কোটি ৮০ লাখ টাকায়। অর্থাৎ এক বছরে ব্যাংকনির্ভর ঋণ কয়েক গুণ বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ ধরনের প্রবণতা বেসরকারি খাতের জন্য ঋণপ্রবাহ সংকুচিত করতে পারে, যা বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ব্যাংকের বাইরে ঋণ
কমলেও চাপ কমেনি অন্যদিকে, ব্যাংক-বহির্ভূত উৎস থেকে সরকারের ঋণ কিছুটা কমেছে। গত অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে এ খাত থেকে ২৪ হাজার ৬৮৮ কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হলেও, চলতি অর্থবছরের একই সময়ে তা কমে ৮ হাজার ৮৬০ কোটি ৫০ লাখ টাকায় নেমে এসেছে। তবে সামগ্রিক চিত্রে দেখা যাচ্ছে, ব্যাংক খাত থেকে অতিরিক্ত ঋণ নেওয়ার কারণে মোট ঋণের চাপ কমেনি, বরং আরও বেড়েছে। রাজস্ব ঘাটতি ও ব্যয় নিয়ন্ত্রণের ব্যর্থতা অর্থনীতিবিদদের মতে, সরকারের রাজস্ব আহরণে দুর্বলতা এবং ব্যয় নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপের অভাবই ঋণ বৃদ্ধির মূল কারণ। রাজস্ব আয়ে প্রত্যাশিত প্রবৃদ্ধি না থাকলেও ব্যয়ের ধারা অপরিবর্তিত থাকায় ঘাটতি পূরণে ঋণের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। এই পরিস্থিতি আর্থিক শৃঙ্খলার প্রশ্নও সামনে
নিয়ে এসেছে। পরিকল্পিত ব্যয় সংযম বা কাঠামোগত সংস্কার ছাড়া কেবল ঋণনির্ভরতা বাড়ালে তা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ঋণের পাহাড় আরও উঁচু সর্বশেষ হিসাবে, ডিসেম্বর শেষে দেশের অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে সরকারের মোট ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ১০ লাখ ৮৩ হাজার ৯৭৭ কোটি টাকা। দেড় বছরের ব্যবধানে এই ঋণ বেড়েছে প্রায় পৌনে ৩ লাখ কোটি টাকা। অর্থনীতিবিদদের মতে, ঋণ নেওয়া নিজেই সমস্যা নয়; তবে সেই ঋণ কোথায় এবং কীভাবে ব্যয় হচ্ছে, সেটিই মূল প্রশ্ন। উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ না বাড়িয়ে যদি ঋণ মূলত ভোগ ব্যয় মেটাতে ব্যবহৃত হয়, তাহলে তা ভবিষ্যতে অর্থনীতির ওপর আরও বড় চাপ তৈরি করতে পারে। বর্তমান প্রবণতা ইঙ্গিত দিচ্ছে—স্বল্পমেয়াদি চাপ সামাল
দিতে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করছে। ফলে ঋণ ব্যবস্থাপনা, রাজস্ব কাঠামো এবং ব্যয় নীতিতে দ্রুত ও কার্যকর সংস্কার এখন জরুরি হয়ে উঠেছে।



