ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
ভোক্তা অধিকার দিবসে ক্যাবের প্রতিবাদ: পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি জনজীবন কঠিন করে তুলেছে
আরও কমলো স্বর্ণের দাম
রাজনৈতিক অস্থিরতা: বিনিয়োগে ধস, অনিশ্চয়তায় থমকে গেছে বিদেশি পুঁজি
ঈদের আগে চড়া মাছ-মাংসের বাজার, কমেছে সবজির দাম
স্বর্ণের ভরি ২ লাখ ৭০ হাজার ছাড়াল
চলতি অর্থবছর রেমিট্যান্স বেড়েছে ২২.৯ শতাংশ
রাশিয়ার তেল কিনতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ওয়েভার চাইল বাংলাদেশ
রমজানে ফলের বাজার থেকে লুট ৭০০–৮০০ কোটি টাকা
দেশে ফল আমদানি দ্বিগুণেরও বেশি বাড়লেও রমজানে বাজারে এর সুফল পাননি ক্রেতারা। বরং খুচরা বাজারে ফলের দাম কেজিতে গড়ে ৫০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এতে রমজানজুড়ে ফল কিনতে গিয়ে ভোক্তাদের অতিরিক্ত প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ কোটি টাকা গুনতে হয়েছে বলে একটি প্রাথমিক হিসাব থেকে ধারণা পাওয়া গেছে।
বাজার সংশ্লিষ্টদের তথ্য ও আমদানির পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে এ চিত্র পাওয়া গেছে। ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত চাহিদা, ডলারের দাম ও শুল্ককে দায়ী করলেও ভোক্তা অধিকারকর্মীরা বলছেন, তদারকির অভাব ও বাজার কারসাজির কারণেই বাড়তি আমদানির পরও দাম কমেনি।
চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরের উদ্ভিদ সঙ্গনিরোধ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে দেশে ফল আমদানি হয়েছে ৫ লাখ ৫৮
হাজার ২০ টন। আগের অর্থবছরের একই সময়ে আমদানি ছিল ২ লাখ ২১ হাজার ৩২৭ টন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ফল আমদানি বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি। কিন্তু আমদানি বাড়লেও বাজারে ফলের দাম কমার কোনো প্রভাব দেখা যায়নি। বরং চট্টগ্রামের বিভিন্ন খুচরা বাজারে রমজানের আগে ও পরে ফলের দামে বড় ধরনের ব্যবধান দেখা গেছে। সরেজমিনে দেখা যায়, আগে প্রতি কেজি ডালিম বিক্রি হতো প্রায় ৪৫০ টাকায়, যা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৫০ টাকায়। চায়না কমলা আগে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে তা প্রায় ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাল্টা আগে ৩০০ টাকায় পাওয়া গেলেও এখন বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৩৫০ টাকায়। একইভাবে আগে প্রতি কেজি আপেল বিক্রি
হতো প্রায় ৩০০ টাকায়, এখন তা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। নাশপাতির দাম ৪০০ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকায়। কালো আঙুরের দাম ৪০০ টাকা থেকে বেড়ে এখন ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, এসব জনপ্রিয় ফলের দাম গড়ে প্রতি কেজিতে প্রায় ৯০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। অন্যদিকে বন্দর দিয়ে মাসে গড়ে প্রায় ৮০ হাজার টন ফল দেশে আসে, যা কেজিতে প্রায় ৮ কোটি কেজির সমান। রমজানে ফলের চাহিদা বেশি থাকায় এ সময় প্রায় একই পরিমাণ ফল বাজারে বিক্রি হয় বলে ব্যবসায়ীরা জানান। এই হিসাবে, প্রতি কেজিতে গড়ে প্রায় ৯০ টাকা বেশি দাম ধরলে এক
মাসে ক্রেতাদের অতিরিক্ত ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ৭২০ কোটি টাকার মতো। চট্টগ্রামের হামজারবাগ এলাকায় ফল কিনতে আসা ক্রেতা মোরশেদুল হক বলেন, রোজায় বাচ্চারা ফল খেতে চায়। কিন্তু এক কেজি ভালো আঙুর কিনতেই এখন ৪০০ থেকে ৫০০ টাকার মতো খরচ হয়। সব ধরনের ফল একসঙ্গে কেনা সম্ভব না হওয়ায় আগের তুলনায় কম পরিমাণে ফল কিনছেন তিনি। রিয়াজউদ্দিন বাজারের খুচরা বিক্রেতা নাসের আব্দুল্লাহ বলেন, পাইকারি বাজারেই ফলের দাম বেশি। এর সঙ্গে পরিবহন ব্যয়, দোকান ভাড়া ও শ্রমিকের মজুরি যোগ হয়। পাশাপাশি ফল দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যায় না এবং নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিও থাকে। তাই সীমিত লাভে বিক্রি করতে হয়। চট্টগ্রাম ফল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ তৌহিদুল
আলম বলেন, আমদানির তুলনায় চাহিদা বেশি থাকলে দাম বাড়ে, আর চাহিদা কম থাকলে দাম কমে। আন্তর্জাতিক বাজারদর, ডলারের বিনিময় হার এবং শুল্ক-কর কাঠামোরও প্রভাব রয়েছে। তবে ভোক্তা অধিকারকর্মীরা বলছেন, বাজারে কার্যকর তদারকি না থাকায় রমজানকে কেন্দ্র করে ফলের বাজারে অস্বাভাবিক দাম বাড়ানোর প্রবণতা তৈরি হয়েছে। কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, ফলের বাজারে নৈরাজ্য থামছে না। যতই আমদানি বাড়ুক বা শুল্ক কমানো হোক, সঠিক তদারকি না থাকলে এর সুফল ভোক্তার কাছে পৌঁছাবে না। তার মতে, আমদানির খরচ ও শুল্ক কাঠামো কত, আর বাজারে কোন ফলে কত দামে বিক্রি হচ্ছে—এসব বিষয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে সাধারণ মানুষের পক্ষে এত
দামে ফল কিনে খাওয়া ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়বে।
হাজার ২০ টন। আগের অর্থবছরের একই সময়ে আমদানি ছিল ২ লাখ ২১ হাজার ৩২৭ টন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ফল আমদানি বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি। কিন্তু আমদানি বাড়লেও বাজারে ফলের দাম কমার কোনো প্রভাব দেখা যায়নি। বরং চট্টগ্রামের বিভিন্ন খুচরা বাজারে রমজানের আগে ও পরে ফলের দামে বড় ধরনের ব্যবধান দেখা গেছে। সরেজমিনে দেখা যায়, আগে প্রতি কেজি ডালিম বিক্রি হতো প্রায় ৪৫০ টাকায়, যা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৫০ টাকায়। চায়না কমলা আগে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে তা প্রায় ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাল্টা আগে ৩০০ টাকায় পাওয়া গেলেও এখন বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৩৫০ টাকায়। একইভাবে আগে প্রতি কেজি আপেল বিক্রি
হতো প্রায় ৩০০ টাকায়, এখন তা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। নাশপাতির দাম ৪০০ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকায়। কালো আঙুরের দাম ৪০০ টাকা থেকে বেড়ে এখন ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, এসব জনপ্রিয় ফলের দাম গড়ে প্রতি কেজিতে প্রায় ৯০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। অন্যদিকে বন্দর দিয়ে মাসে গড়ে প্রায় ৮০ হাজার টন ফল দেশে আসে, যা কেজিতে প্রায় ৮ কোটি কেজির সমান। রমজানে ফলের চাহিদা বেশি থাকায় এ সময় প্রায় একই পরিমাণ ফল বাজারে বিক্রি হয় বলে ব্যবসায়ীরা জানান। এই হিসাবে, প্রতি কেজিতে গড়ে প্রায় ৯০ টাকা বেশি দাম ধরলে এক
মাসে ক্রেতাদের অতিরিক্ত ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ৭২০ কোটি টাকার মতো। চট্টগ্রামের হামজারবাগ এলাকায় ফল কিনতে আসা ক্রেতা মোরশেদুল হক বলেন, রোজায় বাচ্চারা ফল খেতে চায়। কিন্তু এক কেজি ভালো আঙুর কিনতেই এখন ৪০০ থেকে ৫০০ টাকার মতো খরচ হয়। সব ধরনের ফল একসঙ্গে কেনা সম্ভব না হওয়ায় আগের তুলনায় কম পরিমাণে ফল কিনছেন তিনি। রিয়াজউদ্দিন বাজারের খুচরা বিক্রেতা নাসের আব্দুল্লাহ বলেন, পাইকারি বাজারেই ফলের দাম বেশি। এর সঙ্গে পরিবহন ব্যয়, দোকান ভাড়া ও শ্রমিকের মজুরি যোগ হয়। পাশাপাশি ফল দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যায় না এবং নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিও থাকে। তাই সীমিত লাভে বিক্রি করতে হয়। চট্টগ্রাম ফল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ তৌহিদুল
আলম বলেন, আমদানির তুলনায় চাহিদা বেশি থাকলে দাম বাড়ে, আর চাহিদা কম থাকলে দাম কমে। আন্তর্জাতিক বাজারদর, ডলারের বিনিময় হার এবং শুল্ক-কর কাঠামোরও প্রভাব রয়েছে। তবে ভোক্তা অধিকারকর্মীরা বলছেন, বাজারে কার্যকর তদারকি না থাকায় রমজানকে কেন্দ্র করে ফলের বাজারে অস্বাভাবিক দাম বাড়ানোর প্রবণতা তৈরি হয়েছে। কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, ফলের বাজারে নৈরাজ্য থামছে না। যতই আমদানি বাড়ুক বা শুল্ক কমানো হোক, সঠিক তদারকি না থাকলে এর সুফল ভোক্তার কাছে পৌঁছাবে না। তার মতে, আমদানির খরচ ও শুল্ক কাঠামো কত, আর বাজারে কোন ফলে কত দামে বিক্রি হচ্ছে—এসব বিষয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে সাধারণ মানুষের পক্ষে এত
দামে ফল কিনে খাওয়া ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়বে।



