ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
শরীয়তপুরে মিরপুর কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতির বাড়িতে হামলা, বৃদ্ধ বাবাসহ আহত একাধিক
উন্নয়ন নেই, ঋণের রেকর্ড: ১৭ মাসেই সাড়ে ৪ লাখ কোটি টাকার দায়
‘বিনা অপরাধে ১৬ মাস কারাগারে বন্দি আমার স্বামী’: মুক্তির দাবিতে ব্যারিস্টার সুমনের স্ত্রীর আবেগঘন বার্তা
‘বাটোয়ারার নির্বাচন মেনে নিয়ে বিরোধিতার নাটক বন্ধ করেন’: মাহফুজ আলম
বাংলাদেশের ১৩ তম সংসদীয় নির্বাচন সম্পর্কে ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক ডায়লগের (ISD) বিবৃতি
ফ্যাসিস্ট ইউনূসের নির্বাচন নাটকঃ ভোটকেন্দ্রে ব্যালট ভর্তি বাক্স অরক্ষিত; উধাও প্রিসাইডিং অফিসার ও পোলিং এজেন্ট
জাল ভোট, বুথ দখলসহ নির্বাচনে যেসব অনিয়ম পেয়েছে টিআইবি
সংস্কার নিয়ে আমি হতাশ: মাসদার হোসেন
দেশের বিচার বিভাগ এখনো স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে না এবং আগের মতোই ‘ফরমায়েশি’ রায় ও আদেশের সংস্কৃতি চালু রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আলোচিত মাসদার হোসেন মামলার বাদী ও সাবেক বিচারক মাসদার হোসেন। গত ১৮ মাসে বিচার বিভাগ সংস্কারের কার্যক্রমে তিনি ব্যক্তিগতভাবে হতাশ হয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন।
সম্প্রতি ‘মানচিত্র’-এর নিয়মিত আয়োজন ‘কথপোকথন’-এ সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলম পান্নার সঙ্গে আলাপকালে বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশনের এই সদস্য এসব কথা বলেন।
‘ওহি নাজিল’ ও জামিন না দেওয়ার অলিখিত নির্দেশ
মাসদার হোসেন অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তারা হাইকোর্টে গিয়ে নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের জামিন না দেওয়ার জন্য চিৎকার-চেঁচামেচি (shouting) করেছেন। তিনি বলেন, ‘‘নিম্ন আদালতের বিচারকরা আমাকে ব্যক্তিগতভাবে বলেছেন, ‘স্যার, আজ
জামিন দিলে কালই আমার বদলির অর্ডার হয়ে যাবে।’ বিচারকদের প্রতি যেন এমন একটা ‘ওহি নাজিল’ করা হয়েছে।’’ তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এখনো বিচারকদের সাহসিকতার সঙ্গে ন্যায়বিচার করার মানসিক পরিবেশ তৈরি করা হয়নি। বিচার বিভাগ সেই আগের ফরমায়েশি প্রথাতেই চলছে। বিচারক নিয়োগে সেই ‘পিক অ্যান্ড চুজ’ বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে হাইকোর্টে ২৩ জন বিচারক নিয়োগের প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মাসদার হোসেন। তিনি বলেন, বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধা, দক্ষতা ও যোগ্যতাকে প্রাধান্য দেওয়ার কথা থাকলেও তা মানা হয়নি। ড. ইউনূস সরকারের আমলেও দলীয় সরকারের মতোই ‘পিক অ্যান্ড চুজ’ (বেছে বেছে নিয়োগ) নীতির অনুসরণ করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, এই ২৩ জনের নিয়োগে কোনো স্বচ্ছ
নিয়ম-নীতি ছিল না এবং এ নিয়ে আইন অঙ্গনেও মারাত্মক প্রশ্ন রয়েছে। পুলিশি তদন্ত ও ‘মামলা বাণিজ্য’ পুলিশের তদন্ত ব্যবস্থা ও ‘শোন অ্যারেস্ট’ (shown arrest) বাণিজ্যের কঠোর সমালোচনা করেন সাবেক এই বিচারক। তিনি বলেন, ‘‘ব্রিটিশ আমলের ফেলে দেওয়া আইন দিয়ে এখনো বিচার ও তদন্ত চলছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে না গিয়েই পকেটে বসে সাক্ষী সাজায় এবং রিপোর্ট দেয়।’’ তিনি আরও বলেন, পাশের দেশ ভারতের কলকাতায় ৩০ দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করার এবং তা ভিজিবল (দৃশ্যমান) করার নিয়ম থাকলেও আমাদের দেশে তা নেই। এখনো লাখ লাখ টাকার ‘মামলা বাণিজ্য’ হচ্ছে এবং বিনা বিচারে হাজার হাজার নিরপরাধ মানুষ কারাগারে দিন কাটাচ্ছে। জুলাই আন্দোলন ও গণগ্রেপ্তার প্রসঙ্গ ৫ আগস্টের পট পরিবর্তনের
পর জুলাই আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে হওয়া মামলাগুলোতেও ঢালাওভাবে নিরপরাধ মানুষকে আসামি করার সমালোচনা করেন মাসদার হোসেন। তিনি বলেন, ‘‘জুলাই আন্দোলনে হাজার হাজার মানুষ হতাহত হয়েছে, তার বিচার হওয়া উচিত। কিন্তু একটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাজার হাজার মানুষকে আসামি করা এবং ‘শোন অ্যারেস্ট’ দেখিয়ে বছরের পর বছর আটকে রাখা ন্যায়বিচার নয়।’’ আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, উপদেষ্টার পরিচিত বা আলোচিত কোনো শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে দ্রুত জামিনের ব্যবস্থা হলেও, সাধারণ নিরপরাধ মানুষের ক্ষেত্রে গড়পড়তা জামিন না দেওয়ার নির্দেশনা দুঃখজনক। সংস্কার নিয়ে হতাশা বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশনের সদস্য হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে মাসদার হোসেন বলেন, ‘‘যে আশা ও ব্রত নিয়ে সংস্কার কাজে গিয়েছিলাম,
আমি ব্যক্তিগতভাবে হতাশ। জনগণের কল্যাণে এই কার্যক্রমের কোনো কিছুই দৃশ্যমান নয়। আমরা নিরপেক্ষ বিচার ও মৌলিক অধিকার সুরক্ষার যে স্বপ্ন দেখেছিলাম, তার চুল পরিমাণও বাস্তবায়ন দেখাতে পারিনি।’’ তিনি আক্ষেপ করে বলেন, পুলিশ সংস্কার কমিশন, বিচার সংস্কার কমিশন বা স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশন—সবাই রিপোর্ট দাখিল করলেও সরকার তা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার চাইলে স্বল্পতম সময়ে অনেক যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে পারত, কিন্তু তারা তা করেনি বা পারেনি।
জামিন দিলে কালই আমার বদলির অর্ডার হয়ে যাবে।’ বিচারকদের প্রতি যেন এমন একটা ‘ওহি নাজিল’ করা হয়েছে।’’ তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এখনো বিচারকদের সাহসিকতার সঙ্গে ন্যায়বিচার করার মানসিক পরিবেশ তৈরি করা হয়নি। বিচার বিভাগ সেই আগের ফরমায়েশি প্রথাতেই চলছে। বিচারক নিয়োগে সেই ‘পিক অ্যান্ড চুজ’ বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে হাইকোর্টে ২৩ জন বিচারক নিয়োগের প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মাসদার হোসেন। তিনি বলেন, বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধা, দক্ষতা ও যোগ্যতাকে প্রাধান্য দেওয়ার কথা থাকলেও তা মানা হয়নি। ড. ইউনূস সরকারের আমলেও দলীয় সরকারের মতোই ‘পিক অ্যান্ড চুজ’ (বেছে বেছে নিয়োগ) নীতির অনুসরণ করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, এই ২৩ জনের নিয়োগে কোনো স্বচ্ছ
নিয়ম-নীতি ছিল না এবং এ নিয়ে আইন অঙ্গনেও মারাত্মক প্রশ্ন রয়েছে। পুলিশি তদন্ত ও ‘মামলা বাণিজ্য’ পুলিশের তদন্ত ব্যবস্থা ও ‘শোন অ্যারেস্ট’ (shown arrest) বাণিজ্যের কঠোর সমালোচনা করেন সাবেক এই বিচারক। তিনি বলেন, ‘‘ব্রিটিশ আমলের ফেলে দেওয়া আইন দিয়ে এখনো বিচার ও তদন্ত চলছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে না গিয়েই পকেটে বসে সাক্ষী সাজায় এবং রিপোর্ট দেয়।’’ তিনি আরও বলেন, পাশের দেশ ভারতের কলকাতায় ৩০ দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করার এবং তা ভিজিবল (দৃশ্যমান) করার নিয়ম থাকলেও আমাদের দেশে তা নেই। এখনো লাখ লাখ টাকার ‘মামলা বাণিজ্য’ হচ্ছে এবং বিনা বিচারে হাজার হাজার নিরপরাধ মানুষ কারাগারে দিন কাটাচ্ছে। জুলাই আন্দোলন ও গণগ্রেপ্তার প্রসঙ্গ ৫ আগস্টের পট পরিবর্তনের
পর জুলাই আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে হওয়া মামলাগুলোতেও ঢালাওভাবে নিরপরাধ মানুষকে আসামি করার সমালোচনা করেন মাসদার হোসেন। তিনি বলেন, ‘‘জুলাই আন্দোলনে হাজার হাজার মানুষ হতাহত হয়েছে, তার বিচার হওয়া উচিত। কিন্তু একটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাজার হাজার মানুষকে আসামি করা এবং ‘শোন অ্যারেস্ট’ দেখিয়ে বছরের পর বছর আটকে রাখা ন্যায়বিচার নয়।’’ আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, উপদেষ্টার পরিচিত বা আলোচিত কোনো শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে দ্রুত জামিনের ব্যবস্থা হলেও, সাধারণ নিরপরাধ মানুষের ক্ষেত্রে গড়পড়তা জামিন না দেওয়ার নির্দেশনা দুঃখজনক। সংস্কার নিয়ে হতাশা বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশনের সদস্য হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে মাসদার হোসেন বলেন, ‘‘যে আশা ও ব্রত নিয়ে সংস্কার কাজে গিয়েছিলাম,
আমি ব্যক্তিগতভাবে হতাশ। জনগণের কল্যাণে এই কার্যক্রমের কোনো কিছুই দৃশ্যমান নয়। আমরা নিরপেক্ষ বিচার ও মৌলিক অধিকার সুরক্ষার যে স্বপ্ন দেখেছিলাম, তার চুল পরিমাণও বাস্তবায়ন দেখাতে পারিনি।’’ তিনি আক্ষেপ করে বলেন, পুলিশ সংস্কার কমিশন, বিচার সংস্কার কমিশন বা স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশন—সবাই রিপোর্ট দাখিল করলেও সরকার তা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার চাইলে স্বল্পতম সময়ে অনেক যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে পারত, কিন্তু তারা তা করেনি বা পারেনি।



