ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধস: মৃত্যু বেড়ে ৮
সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল যাচ্ছে কাঁচপুরে
অর্থপাচার মামলায় এনু-রুপনের ১০ বছর কারাদণ্ড, ৬৪ কোটি টাকা জরিমানা
‘নাই বাওয়া, হামার কিচ্ছু নাই, ঘর-বাড়ি সব হারাচি’
‘খালেদা জিয়া ১ টাকা রেখে পুরো বেতন এতিমখানায় দান করে দিতেন’, জানালেন প্রেস সচিব
আগস্টেই রূপপুরের পারমাণবিক বিদ্যুৎ যুক্ত হবে জাতীয় গ্রিডে, জানালেন মন্ত্রী
শিক্ষামন্ত্রী: দায়িত্বে পেয়েও পরিকল্পনার অনেক কিছুই বাস্তবায়ন করতে পারেননি আসিফ নজরুল
ক্ষমতার আড়ালে পৈশাচিকতা: এপস্টাইন ফাইলস ও সভ্যতার খসে পড়া মুখোশ
বিত্ত আর চিত্তের সম্পর্কটা বড়ই অদ্ভুত। সাধারণ মানুষের ধারণা, হাতে টাকা থাকলে জীবন সহজ হয়। একশ কোটি টাকা থাকলে হয়তো বিলাসবহুল গাড়ি কেনা যায়, বিলাসিতার প্রাসাদে থাকা যায়। হাজার কোটি টাকার মালিক হলে কেনা যায় ব্যক্তিগত বিমান কিংবা প্রমোদতরী। কিন্তু যখন সম্পদের পাহাড় জমতে জমতে তা অকল্পনীয় পর্যায়ে বা দশ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছায়, তখন মানুষের শখ আর সাধারণ থাকে না; তখন ভর করে পৈশাচিকতা। তখন আর গাড়ি-বাড়িতে মন ভরে না, তখন তারা খোঁজ করে নরমাংসের স্বাদ, মেতে ওঠে অবুঝ শিশুর রক্ত নিয়ে হোলি খেলায়।
কোনো ভৌতিক সিনেমা বা রূপকথার গল্প নয়, বলছি একবিংশ শতাব্দীর তথাকথিত সভ্য সমাজের ‘এলিট’ বা অভিজাত
শ্রেণীর কথা। সম্প্রতি জেফ্রি এপস্টাইন বা ‘এপস্টাইন ফাইলস’ নামে যে নথিগুলো প্রকাশ্যে এসেছে, তা বিশ্ববিবেকের কাছে এক বিশাল প্রশ্নচিহ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। হাজার হাজার ভিডিও এবং ৩০ লক্ষ পৃষ্ঠার গোপন নথিতে যে বীভৎসতার বর্ণনা উঠে এসেছে, তা শুনে শিউরে উঠবে পাষাণ হৃদয়ও। পশ্চিমা বিশ্বের বাঘা বাঘা বিলিয়নিয়ার, রাজনীতিবিদ, বিজ্ঞানী এবং তারকাদের নাম জড়িয়ে আছে এই কেলেঙ্কারিতে। বিল গেটস, ডোনাল্ড ট্রাম্প, বিল ক্লিনটনের মতো বিশ্বনেতাদের নাম উঠে এসেছে এমন এক তালিকায়, যেখানে তাদের পরিচয় আর ‘নেতা’ হিসেবে নয়, বরং নরপশু হিসেবে। ফ্লোরিডার এক গোপন দ্বীপে ইসরায়েলি গোয়েন্দা জেফ্রি এপস্টাইন এবং তার সঙ্গিনী গিলেন ম্যাক্সওয়েল মিলে গড়ে তুলেছিলেন এক জঘন্য নরকরাজ্য। তাদের ভাষায় যার
নাম ছিল ‘ক্যালেন্ডার গার্ল’। এই দ্বীপের মূল কাজ ছিল বিভিন্ন দেশ থেকে পাচার করে আনা কোমলমতি শিশুদের ধনাঢ্য অতিথিদের হাতে তুলে দেওয়া। অভিযোগ উঠেছে, ৩ থেকে ৯ বছর বয়সী শিশুদের ওপর চালানো হতো অবর্ণনীয় নির্যাতন। সেখানে কেবল যৌন শোষণই হতো না, বরং পৈশাচিকতার সব সীমা অতিক্রম করে চলতো নারকীয় উৎসব। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, বিকৃত কামনাসিদ্ধির জন্য শিশুদের ব্যবহার করা হতো, এমনকি গর্ভবতী করে জোরপূর্বক ভ্রূণ হত্যা এবং সেই ভ্রূণ দিয়ে স্যুপ বানিয়ে খাওয়ার মতো জঘন্য অভিযোগও উঠে এসেছে। সভ্যতার সুটেড-বুটেড মানুষগুলো জীবন্ত মানুষের মাংস ভক্ষণ আর অন্ত্র থেকে বর্জ্য বের করে খাওয়ার মতো কাজেও লিপ্ত ছিল বলে দাবি করা হচ্ছে। সবচেয়ে ভয়ের বিষয়
হলো, এই কাজগুলো কোনো রাখঢাক করে নয়, বরং রীতিমতো আনুষ্ঠানিকতা করে, পার্টি দিয়ে উদযাপন করা হতো। শিশুদের কান্না আর আর্তনাদ চাপা পড়ে যেত শ্যাম্পেনের গ্লাস আর উল্লাসের শব্দে। ট্রাম্প, গেটস বা ক্লিনটনের মতো লোকেরা, যারা ক্যামেরার সামনে মানবতার বুলি আউড়ান, তারাই এই অন্ধকার জগতের খদ্দের। শিশুদের শরীরের রেটিং দেওয়া, তাদের ওপর পাশবিক নির্যাতন চালানো—এসবই ছিল তাদের বিনোদন। বছরের পর বছর ধরে এই অপকর্ম চলে এলেও ক্ষমতার দাপটে তা ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে। ২০০৯ সালে গ্যাব্রিয়েলো রিকো নামের এক তরুণী যখন সাহস করে এই নরখাদকদের মুখোশ খোলার চেষ্টা করেছিলেন, তাকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সাংবাদিক ব্রাউন সত্য অনুসন্ধানে নেমেছিলেন, কিন্তু তাকে বরণ
করতে হয়েছে কারাবাস এবং রহস্যজনক মৃত্যু। মূল হোতা এপস্টাইনকে ব্যবহার করা হতো মূলত ব্ল্যাকমেইল আর গোয়েন্দা স্বার্থ হাসিলের হাতিয়ার হিসেবে। এই ঘটনা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়, আমরা যে তারকা বা নেতাদের আইডল মনে করি, তাদের চাকচিক্যময় জীবনের আড়ালে লুকিয়ে আছে কতটা কদর্য রূপ। অর্থের পাহাড় মানুষকে যে কতটা নিচে নামাতে পারে, তার জ্বলন্ত প্রমাণ এই এপস্টাইন ফাইলস। আজ বিশ্বজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে, কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়—এই রাঘববোয়ালদের কি আদৌ বিচার হবে? নাকি ক্ষমতার দাপটে আবারও ধামাচাপা পড়ে যাবে লক্ষ শিশুর আর্তনাদ? সভ্যতার মুখোশ খসে পড়েছে। এখন সময় এসেছে চিনতে শেখার—কারা মানুষ, আর কারা মানুষের আকৃতিতে নরপশু।
শ্রেণীর কথা। সম্প্রতি জেফ্রি এপস্টাইন বা ‘এপস্টাইন ফাইলস’ নামে যে নথিগুলো প্রকাশ্যে এসেছে, তা বিশ্ববিবেকের কাছে এক বিশাল প্রশ্নচিহ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। হাজার হাজার ভিডিও এবং ৩০ লক্ষ পৃষ্ঠার গোপন নথিতে যে বীভৎসতার বর্ণনা উঠে এসেছে, তা শুনে শিউরে উঠবে পাষাণ হৃদয়ও। পশ্চিমা বিশ্বের বাঘা বাঘা বিলিয়নিয়ার, রাজনীতিবিদ, বিজ্ঞানী এবং তারকাদের নাম জড়িয়ে আছে এই কেলেঙ্কারিতে। বিল গেটস, ডোনাল্ড ট্রাম্প, বিল ক্লিনটনের মতো বিশ্বনেতাদের নাম উঠে এসেছে এমন এক তালিকায়, যেখানে তাদের পরিচয় আর ‘নেতা’ হিসেবে নয়, বরং নরপশু হিসেবে। ফ্লোরিডার এক গোপন দ্বীপে ইসরায়েলি গোয়েন্দা জেফ্রি এপস্টাইন এবং তার সঙ্গিনী গিলেন ম্যাক্সওয়েল মিলে গড়ে তুলেছিলেন এক জঘন্য নরকরাজ্য। তাদের ভাষায় যার
নাম ছিল ‘ক্যালেন্ডার গার্ল’। এই দ্বীপের মূল কাজ ছিল বিভিন্ন দেশ থেকে পাচার করে আনা কোমলমতি শিশুদের ধনাঢ্য অতিথিদের হাতে তুলে দেওয়া। অভিযোগ উঠেছে, ৩ থেকে ৯ বছর বয়সী শিশুদের ওপর চালানো হতো অবর্ণনীয় নির্যাতন। সেখানে কেবল যৌন শোষণই হতো না, বরং পৈশাচিকতার সব সীমা অতিক্রম করে চলতো নারকীয় উৎসব। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, বিকৃত কামনাসিদ্ধির জন্য শিশুদের ব্যবহার করা হতো, এমনকি গর্ভবতী করে জোরপূর্বক ভ্রূণ হত্যা এবং সেই ভ্রূণ দিয়ে স্যুপ বানিয়ে খাওয়ার মতো জঘন্য অভিযোগও উঠে এসেছে। সভ্যতার সুটেড-বুটেড মানুষগুলো জীবন্ত মানুষের মাংস ভক্ষণ আর অন্ত্র থেকে বর্জ্য বের করে খাওয়ার মতো কাজেও লিপ্ত ছিল বলে দাবি করা হচ্ছে। সবচেয়ে ভয়ের বিষয়
হলো, এই কাজগুলো কোনো রাখঢাক করে নয়, বরং রীতিমতো আনুষ্ঠানিকতা করে, পার্টি দিয়ে উদযাপন করা হতো। শিশুদের কান্না আর আর্তনাদ চাপা পড়ে যেত শ্যাম্পেনের গ্লাস আর উল্লাসের শব্দে। ট্রাম্প, গেটস বা ক্লিনটনের মতো লোকেরা, যারা ক্যামেরার সামনে মানবতার বুলি আউড়ান, তারাই এই অন্ধকার জগতের খদ্দের। শিশুদের শরীরের রেটিং দেওয়া, তাদের ওপর পাশবিক নির্যাতন চালানো—এসবই ছিল তাদের বিনোদন। বছরের পর বছর ধরে এই অপকর্ম চলে এলেও ক্ষমতার দাপটে তা ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে। ২০০৯ সালে গ্যাব্রিয়েলো রিকো নামের এক তরুণী যখন সাহস করে এই নরখাদকদের মুখোশ খোলার চেষ্টা করেছিলেন, তাকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সাংবাদিক ব্রাউন সত্য অনুসন্ধানে নেমেছিলেন, কিন্তু তাকে বরণ
করতে হয়েছে কারাবাস এবং রহস্যজনক মৃত্যু। মূল হোতা এপস্টাইনকে ব্যবহার করা হতো মূলত ব্ল্যাকমেইল আর গোয়েন্দা স্বার্থ হাসিলের হাতিয়ার হিসেবে। এই ঘটনা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়, আমরা যে তারকা বা নেতাদের আইডল মনে করি, তাদের চাকচিক্যময় জীবনের আড়ালে লুকিয়ে আছে কতটা কদর্য রূপ। অর্থের পাহাড় মানুষকে যে কতটা নিচে নামাতে পারে, তার জ্বলন্ত প্রমাণ এই এপস্টাইন ফাইলস। আজ বিশ্বজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে, কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়—এই রাঘববোয়ালদের কি আদৌ বিচার হবে? নাকি ক্ষমতার দাপটে আবারও ধামাচাপা পড়ে যাবে লক্ষ শিশুর আর্তনাদ? সভ্যতার মুখোশ খসে পড়েছে। এখন সময় এসেছে চিনতে শেখার—কারা মানুষ, আর কারা মানুষের আকৃতিতে নরপশু।



