গণভোটে ‘হাঁ’-এর পক্ষে অবস্থান: সরকার কি নিরপেক্ষতা হারাল? – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ৩০ জানুয়ারি, ২০২৬
     ৬:০২ অপরাহ্ণ

আরও খবর

“আগে বিএনপি করতাম, এহন করিনা; বিএনপি দল খারাপ সোজা কথা” – বিএনপি ছেড়ে আসা এক প্রবীণ

“হ্যা/না বুঝি না ভোট দিতে যাবো না” – একজন বাংলাদেশপন্থীর আহ্বান

‘আমরা হয়তো স্বাধীনতা যুদ্ধ দেখি নাই, কিন্তু আমাদের মুরুব্বীরা বলছে যে বঙ্গবন্ধু না হইলে এদেশ কখনোই স্বাধীন হইতো না?’ – জনতার কথা

নরসিংদীতে নিখোঁজের ৩ দিন পর সাবেক ছাত্রলীগ নেতার বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার

শুধু শহর নয়, গ্রামে গেলেও এখন ভালো লাগে”: উন্নয়নের প্রশংসায় পঞ্চমুখ নাগরিক

জুলাইয়ের দাঙ্গা থেকে জামায়াততন্ত্র: একটি ক্যুয়ের ময়নাতদন্ত

যেভাবে ইউনুসের সংস্কারের ঠ্যালায় বাংলাদেশ সিঙ্গাপুর হতে গিয়ে সিসিমপুর হয়ে গেলো!

গণভোটে ‘হাঁ’-এর পক্ষে অবস্থান: সরকার কি নিরপেক্ষতা হারাল?

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ৩০ জানুয়ারি, ২০২৬ | ৬:০২ 14 ভিউ
গণভোট—প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের পাশাপাশি জনগণের সরাসরি মতামত জানার একটি শক্তিশালী পদ্ধতি। কিন্তু এই পদ্ধতির সাফল্য নির্ভর করে একটি মৌলিক শর্তের ওপর: ভোটার যেন ভয়, প্রলোভন, প্রশাসনিক চাপ কিংবা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অসম প্রভাব ছাড়াই নিজের বিবেক ও বিচারবুদ্ধি দিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। সে কারণেই গণভোটের মতো প্রক্রিয়ায় “সরকার” ও “রাষ্ট্র”—এই দুইয়ের সীমারেখা হঠাৎ খুব স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সরকার রাজনৈতিকভাবে কোনো প্রস্তাব সমর্থন করতেই পারে; কিন্তু রাষ্ট্রীয় যন্ত্র যখন সেই সমর্থনকে জনমত নির্মাণের হাতিয়ার বানায়, তখন প্রশ্ন ওঠে—নিরপেক্ষতার ন্যূনতম মানদণ্ড কি ক্ষুণ্ন হচ্ছে না? বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই প্রশ্ন আরও সংবেদনশীল। গণভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসে, ততই প্রচারের ধরন ও ভাষা নিয়ে বিতর্ক বাড়ে। অভিযোগ

উঠেছে—শুরুতে “নিরপেক্ষ তথ্য প্রচার” বললেও পরবর্তী সময়ে সরকার দৃশ্যত ‘হাঁ’ ভোটের পক্ষে সক্রিয় প্রচারণায় নেমেছে; ভিডিও বার্তা, বিলবোর্ড, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, নানা প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা, এমনকি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে উৎসাহ দেওয়ার চিত্রও সামনে এসেছে। গণভোটে অংশগ্রহণ ও মতপ্রকাশ অবশ্যই রাজনৈতিক স্বাধীনতার অংশ; কিন্তু রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা যুক্ত হলে সেটি আর নিছক মতপ্রকাশ থাকে না—তা হয়ে ওঠে প্রতিযোগিতাহীন প্রভাব বিস্তার, যেখানে এক পক্ষের হাতে প্রশাসন, অর্থ, অবকাঠামো ও যোগাযোগব্যবস্থার বাড়তি সুবিধা থাকে। এই প্রসঙ্গে প্রথমে বোঝা জরুরি—গণভোটে “সরকার” কী ভূমিকা নেবে, আর “রাষ্ট্র” কী ভূমিকা নেবে। আদর্শভাবে সরকার প্রস্তাবক বা নীতিনির্ধারক হিসেবে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে পারে; কিন্তু ভোটারকে সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে সাহায্য করার জন্য যে তথ্য

দেবে তা হওয়া উচিত বস্তুনিষ্ঠ, পরিমিত এবং ভারসাম্যপূর্ণ। এখানেই “তথ্য” ও “প্রচার”—দুইয়ের সীমারেখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। তথ্য মানে হলো: প্রস্তাবটি কী, এর আইনি ও বাস্তব প্রভাব কী, সম্ভাব্য সুবিধা-ঝুঁকি কী, এবং পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তিগুলো কীভাবে দাঁড়ায়—এসব বিষয় ভোটারের সামনে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা। প্রচার মানে হলো: নির্দিষ্ট একটি ফলাফলের পক্ষে আবেগ, ভয়, প্রতিশ্রুতি বা একপাক্ষিক বয়ান তৈরি করে ভোটারের মানসিক প্রবণতাকে নির্দিষ্ট দিকে ঠেলে দেওয়া। গণভোটে যদি রাষ্ট্রযন্ত্র প্রচারের ভূমিকায় চলে আসে, তবে তা “সম সুযোগ” নীতিকে আঘাত করে। গণতন্ত্রে সম সুযোগ ভেঙে গেলে ভোটাধিকার কাগজে থাকলেও কার্যত দুর্বল হয়ে পড়ে। কারণ ভোটার যখন একতরফা তথ্য ও বার্তার প্রবাহে থাকে, তখন তার সিদ্ধান্ত নির্মোহ

যুক্তির চেয়ে প্রভাবিত মনস্তত্ত্বে গড়ে ওঠার ঝুঁকি বাড়ে। আর গণভোটের মৌল উদ্দেশ্য—জনমত যাচাই—সেখানেই বিকৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। আইনি কাঠামোর কথা বললে, গণভোট অধ্যাদেশ ২০২৫-এর ২১ নম্বর ধারার একটি তাৎপর্যপূর্ণ ইঙ্গিত উল্লেখযোগ্য—জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যেসব আচরণ নির্বাচনী অপরাধ বা আচরণবিধি লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য, সেগুলো গণভোটেও “যতদূর প্রযোজ্য” একইভাবে বিবেচিত হতে পারে। এই “যতদূর প্রযোজ্য” কথাটাই আসলে সীমা টানে: নির্বাচন আর গণভোট এক নয়, কিন্তু উভয়ের মূল নৈতিক-আইনি ভিত্তি একই—ভোটারের স্বাধীন ইচ্ছা ও সমতাভিত্তিক প্রতিযোগিতা। নির্বাচনে রাষ্ট্রীয় সম্পদ ব্যবহার করে একপক্ষকে সুবিধা দেওয়া যদি অনুচিত হয়, গণভোটেও নীতিগতভাবে তা গ্রহণযোগ্য হওয়ার কথা নয়। রাষ্ট্রীয় সম্পদ ব্যবহার করে একপাক্ষিক বয়ান তৈরি করলে ভোটার-জনগোষ্ঠীর ওপর

একটি কাঠামোগত চাপ তৈরি হয়—যেখানে ‘না’ বলাটা ধীরে ধীরে “রাষ্ট্রবিরোধিতা” হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার ঝুঁকি নেয়। গণতন্ত্রে এটি বিপজ্জনক; কারণ “ভিন্নমত”কে অপরাধবোধে পরিণত করা হলে স্বাধীন মত গঠনের পরিবেশ ক্ষয় হয়। সংবিধানিক কাঠামোর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—নির্বাচন কমিশনের ওপর নির্বাচন ও গণভোট পরিচালনার সুপারিন্টেনডেন্স, ডাইরেকশন ও কন্ট্রোল ন্যস্ত থাকার ধারণা। এর অর্থ দাঁড়ায়, প্রক্রিয়াটি নির্বাহী বিভাগের ইচ্ছানির্ভর হওয়ার কথা নয়। নির্বাহী কর্তৃপক্ষের কমিশনকে সহায়তা করার বাধ্যবাধকতা কমিশনের কর্তৃত্বকে কার্যকর করার জন্যই—কমিশনকে প্রতিস্থাপন করার জন্য নয়। এসব বিধান একসঙ্গে যে বার্তা দেয় তা হলো: প্রশাসন যেন “খেলার রেফারি” থাকে; “খেলোয়াড়” হয়ে মাঠে নামলে খেলার বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট হবে। গণভোটে সরকার যদি প্রশাসনকে ‘হাঁ’ ভোটের পক্ষে

মাঠে নামায়—তবে রেফারি আর খেলোয়াড়ের ভেদরেখা মুছে যায়। ফলাফল আইনগতভাবে দাঁড়িয়ে গেলেও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়ে—আর গ্রহণযোগ্যতার সংকট গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য দীর্ঘমেয়াদে বড় ক্ষতি। “নিরপেক্ষতা” কেবল রাজনৈতিক শিষ্টাচারের বিষয় নয়; এটি সমতা ও ন্যায়বিচারের সাংবিধানিক ধারণার সাথেও যুক্ত। নাগরিকের আইনের দৃষ্টিতে সমতা—এ কথা শুধু আদালতের দরজায় প্রযোজ্য নয়, ভোটের বুথেও প্রযোজ্য। ‘হাঁ’ ও ‘না’—দুই পক্ষেরই সুযোগ, প্রচারমাধ্যমে প্রবেশাধিকার, এবং নিরাপদভাবে মত প্রকাশের পরিবেশ থাকা উচিত। কিন্তু রাষ্ট্রযন্ত্র যদি এক পক্ষের জন্য অবকাঠামো, অর্থ, প্রচারযন্ত্র, যোগাযোগ নেটওয়ার্ক ও কর্মকর্তার সমর্থন হাজির করে দেয়, তাহলে অন্য পক্ষের জন্য মাঠ অসম হয়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে ভোটারকে বলা হয় “আপনি স্বাধীন”, কিন্তু বাস্তবে তার সামনে

যে তথ্য-বয়ান পৌঁছায় তা একপাক্ষিক। আর এই একপাক্ষিকতাই ভোটারকে অজান্তে প্রভাবিত করে—যা গণভোটের ন্যায্যতার মৌল ধারণাকে দুর্বল করে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের আলোচনাও এখানে প্রাসঙ্গিক। নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার বিষয়ক আন্তর্জাতিক চুক্তির ব্যাখ্যায় যে বিষয়টি বারবার উঠে আসে, তা হলো—ভোটারদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরিবেশকে undue influence, coercion কিংবা manipulative interference থেকে মুক্ত রাখতে হবে। গণভোটে সরকার সম্পূর্ণ নীরব থাকবে—এমন কোনো সর্বজনীন বাধ্যবাধকতা নেই। তবে প্রশাসনের ডিউটি অফ নিউট্রালিটি—এই ধারণা স্পষ্ট করে বলে দেয়, রাষ্ট্রীয় যন্ত্রপাতি, জনঅর্থ ও সরকারি গণমাধ্যম যেন একপাক্ষিক ফল তৈরির হাতিয়ার না হয়। সরকার যদি কেবল নিজের অবস্থান জানায় এবং পাশাপাশি বস্তুনিষ্ঠ তথ্য ও বিপক্ষের যুক্তি পৌঁছানোর সুযোগ নিশ্চিত করে, তাহলে তা সীমিতভাবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে। কিন্তু সরকার যদি জনঅর্থায়নে ব্যাপক বিজ্ঞাপন, একতরফা বার্তা, একপাক্ষিক ভাষ্য এবং প্রতিষ্ঠানিক চাপ তৈরি করে, তাহলে তা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত “fairness” ধারণার সাথেও সংঘর্ষে আসে। এই বিতর্কে একটি সূক্ষ্ম কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য আছে—সরকারের মতপ্রকাশ বনাম রাষ্ট্রীয় সম্পদ দিয়ে ফল প্রভাবিত করা। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সরকারও ভোগ করে—এ কথা সত্য। কিন্তু সরকার যখন “ক্ষমতা” নিয়ে কথা বলে, তখন সেটি ব্যক্তির মতপ্রকাশের মতো সমতল ভূমিতে থাকে না। একটি সরকারি বিবৃতি, একটি সরকারি বিজ্ঞাপন, একটি সরকারি মিডিয়া কাভারেজ—সবকিছুর সঙ্গে থাকে রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বের ছায়া। ফলে কথার ওজনও বাড়ে, প্রভাবও বাড়ে। আর এই প্রভাব যদি একপাক্ষিকভাবে ‘হাঁ’ ভোটের দিকে ধাবিত করে, তবে ‘না’ বলার অধিকারটি কাগজে-কলমে থেকে গেলেও সামাজিক-মনস্তাত্ত্বিকভাবে সংকুচিত হতে থাকে। বিশেষ করে প্রচারে যদি “হাঁ মানে দেশ বাঁচানো, না মানে অন্ধকার”—এ ধরনের ভীতিপ্রসূত ফ্রেমিং থাকে, তাহলে ভোটার সিদ্ধান্ত নেয় যুক্তি দিয়ে নয়, আশঙ্কা দিয়ে। গণভোটের মূল উদ্দেশ্য—জনমত যাচাই—সেই লক্ষ্যই তখন ঝাপসা হয়ে যায়। এখানে সরকারের কৌশলকে “চয়েস আর্কিটেকচার” বা কৌশলী তথ্য-স্থাপত্যের সম্ভাব্য অপপ্রয়োগ হিসেবে দেখার সুযোগ আছে—যেখানে অনেক গুলো সংস্কার প্রস্তাবকে একটি অবিভাজ্য ‘প্যাকেজ ডিল’ হিসেবে উপস্থাপন করে জনগণের স্বাধীনভাবে বাছাই করার (cherry-picking) গণতান্ত্রিক অধিকার কার্যত সীমিত করা হচ্ছে। একদিকে “তথ্য ওয়েবসাইটে আছে” বলে আইনি দায় এড়ানোর প্রবণতা (legal fiction) দেখা যেতে পারে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের বোধগম্য ভাষায় প্রস্তাবিত সংস্কারের সম্ভাব্য ঝুঁকি বা রাজনৈতিক দলগুলোর ভিন্নমত (note of dissent) পর্যাপ্তভাবে না তুলে ধরে একপেশে ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারণা শক্তিশালী করা হচ্ছে—যা সম্মতিকে ত্রুটিপূর্ণ (vitiated consent) করে তুলতে পারে। বিশেষ করে, ‘না’ ভোটের ফলাফল অস্পষ্ট রেখে ভোটারদের মনস্তাত্ত্বিক চাপে ফেলা এবং নির্দিষ্ট সংস্কার না হলে বিলগুলো “স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাস” গণ্য করার সম্ভাব্য ধারণা ভবিষ্যৎ সংসদের সার্বভৌমত্বকে খর্ব করার প্রশ্ন তুলতে পারে। এতে ক্ষমতার পৃথকীকরণ নীতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে এবং নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে নীতিনির্ধারণী সংস্কারের পথে হাঁটার সুযোগ তৈরি হয়—যা ক্ষমতার অপব্যবহার (executive aggrandizement) হিসেবে সমালোচিত হতে পারে। গণতান্ত্রিক স্বচ্ছতার পরিবর্তে এটি যদি কেবল আনুষ্ঠানিক বৈধতা আদায়ের কৌশল হয়ে দাঁড়ায়, তবে গণভোটের নৈতিক ভিত্তিই দুর্বল হয়ে যাবে। এই জটিলতা কাটাতে একটি সহজ তিনস্তরীয় মানদণ্ড মাথায় রাখা যায়— ১) রাষ্ট্রীয় সম্পদ পরীক্ষা: জনঅর্থ, সরকারি অবকাঠামো, কর্মকর্তা-কর্মচারী, সরকারি মিডিয়া—এসব কি একপক্ষে ব্যবহৃত হচ্ছে? ২) সম সুযোগ পরীক্ষা: ‘হাঁ’ ও ‘না’—দুই পক্ষ কি প্রচার, বক্তব্য, গণমাধ্যম ও জনপরিসরে সমান সুযোগ পাচ্ছে? ৩) ভোটারের স্বাধীন মত গঠন পরীক্ষা: ভোটার কি ভয়, চাপ, বিভ্রান্তিকর অতিশয়োক্তি বা মনস্তাত্ত্বিক বাধ্যবাধকতা ছাড়া সিদ্ধান্ত নিতে পারছে? এই তিন পরীক্ষার যেকোনো একটিতে ব্যর্থতা গণভোটের বিশ্বাসযোগ্যতাকে নড়বড়ে করে দেয়। আর তিনটিতেই ঝুঁকি দেখা দিলে “নিরপেক্ষতা হারিয়েছে” অভিযোগটি আর নিছক রাজনৈতিক স্লোগান থাকে না—তা হয়ে ওঠে নীতিগত ও আইনি প্রশ্ন। সমাধানের পথও কঠিন নয়, যদি সদিচ্ছা থাকে। নির্বাচন কমিশনের উচিত গণভোটের জন্য স্পষ্ট আচরণবিধি জারি করা—বিশেষত সরকারি কর্মকর্তা, সরকারি গণমাধ্যম, রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও জনঅর্থ ব্যবহারের বিষয়ে। সরকারেরও উচিত “প্রচার” নয়, “তথ্য”কে কেন্দ্র করা—একটি নিরপেক্ষ তথ্যপুস্তিকা প্রকাশ করা, যেখানে প্রস্তাবের পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তি সমানভাবে থাকবে এবং ব্যালটের প্রশ্নের সঙ্গে প্রচারবার্তার সামঞ্জস্য বজায় থাকবে। সরকারি টিভি-বেতার ও রাষ্ট্রীয় প্রচারমাধ্যমে উভয় অবস্থানের জন্য সমান সময় ও ভারসাম্য নিশ্চিত করা জরুরি। বিজ্ঞাপন ও প্রচারব্যয়ের স্বচ্ছতা প্রকাশ করা এবং জনঅর্থ দিয়ে একপাক্ষিক প্রচার বন্ধ রাখা গণভোটের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াবে। আর যদি ভয়, চাপ, হুমকি, প্রলোভন বা মিথ্যাচার দিয়ে ভোটারকে প্রভাবিত করার অভিযোগ ওঠে, দ্রুত অভিযোগ নিষ্পত্তি ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা দরকার—কারণ ভোটারকে মুক্ত রাখতে না পারলে গণভোট কেবল আনুষ্ঠানিকতায় পরিণত হয়। পরিশেষে বলা যায়, গণভোটে সরকার একটি প্রস্তাব সমর্থন করতে পারে—এটি নীতিগতভাবে অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু সরকার যদি রাষ্ট্রীয় সম্পদ, প্রশাসনিক ক্ষমতা ও সরকারি প্রচারযন্ত্র ব্যবহার করে একপাক্ষিকভাবে ‘হাঁ’ ভোটের পক্ষে জনমত তৈরির উদ্যোগ নেয়, তাহলে নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ন হওয়ার ঝুঁকি তীব্র হয় এবং ভোটারের স্বাধীন ইচ্ছা প্রকাশ বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে। গণভোটের সার্থকতা নির্ভর করে ফলাফলের সংখ্যায় নয়—প্রক্রিয়ার ন্যায্যতায়। আর ন্যায্য প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে সরকারকে প্রচারকের ভূমিকায় নয়—অন্তত রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা নিয়ে নয়—বরং নিরপেক্ষ তথ্যদাতার ভূমিকায় থাকতে হবে। তবেই ভোটার স্বাধীনভাবে রায় দিতে পারবেন, এবং সেই রায় রাষ্ট্র ও সমাজের কাছে সত্যিকার অর্থে গ্রহণযোগ্য হবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
“আগে বিএনপি করতাম, এহন করিনা; বিএনপি দল খারাপ সোজা কথা” – বিএনপি ছেড়ে আসা এক প্রবীণ “হ্যা/না বুঝি না ভোট দিতে যাবো না” – একজন বাংলাদেশপন্থীর আহ্বান “জামায়াত কখনই সনাতনীদের পক্ষে ছিলো না, থাকবেও না; কারণ জামায়াত সনাতনীদের ঘৃণা করে” – সনাতনী কন্ঠ ‘আমরা হয়তো স্বাধীনতা যুদ্ধ দেখি নাই, কিন্তু আমাদের মুরুব্বীরা বলছে যে বঙ্গবন্ধু না হইলে এদেশ কখনোই স্বাধীন হইতো না?’ – জনতার কথা নরসিংদীতে নিখোঁজের ৩ দিন পর সাবেক ছাত্রলীগ নেতার বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার গণভোটে ‘হাঁ’-এর পক্ষে অবস্থান: সরকার কি নিরপেক্ষতা হারাল? শুধু শহর নয়, গ্রামে গেলেও এখন ভালো লাগে”: উন্নয়নের প্রশংসায় পঞ্চমুখ নাগরিক জুলাইয়ের দাঙ্গা থেকে জামায়াততন্ত্র: একটি ক্যুয়ের ময়নাতদন্ত যেভাবে ইউনুসের সংস্কারের ঠ্যালায় বাংলাদেশ সিঙ্গাপুর হতে গিয়ে সিসিমপুর হয়ে গেলো! ইউনূসের মেটিকুলাস ডিজাইনে এবার ঝরল জামায়াত নেতার প্রাণ ইতিহাসের অন্ধকার, ইউনুস সরকারের ধ্বংসযজ্ঞ দোজখের ভয় দেখিয়ে ভোট আদায়ের খেলা: জামায়াত-বিএনপির নির্বাচনী ধর্মব্যবসা এখন প্রকাশ্যে শেরপুরের ঘটনায় নির্বাচনী ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে: জামায়াতের আমির গতবছর সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা ৫২২টি, দাবি বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নারীমুক্তির মুখোশ পরা ইউনুসের আসল চেহারা ১৮-এর নির্বাচনে অনিয়ম আমরা চাইনি, প্রশাসনের অতিউৎসাহীরা করেছে: সজীব ওয়াজেদ জয় চট্টগ্রাম বন্দর ও সেন্ট মার্টিনের দখল নেবার পটভূমি তৈরি শুরু চট্টগ্রাম নৌঘাঁটিতে মার্কিন নিরাপত্তা উপদেষ্টার ‘রহস্যজনক’ পরিদর্শন: জাতীয় নিরাপত্তার স্পর্শকাতর তথ্য প্রকাশ নিয়ে প্রশ্ন গ্যাস সংকটে লাখো মানুষের জীবন-জীবিকা হুমকিতে : ইউনুসের অদক্ষতার মাসুল গুনছে সাধারণ মানুষ “ড. মুহাম্মদ ইউনূস জীবনে কোনদিন ট্যাক্স দিয়েছে? জিজ্ঞেস করেন! ট্যাক্স ফাঁকি দেওয়া— এটা সে খুব ভালো জানে” –জননেত্রী শেখ হাসিনা