ট্রাম্পের গাড়ির উপর শুল্ক: আমেরিকায় কর্মসংস্থান ও মজুরি বৃদ্ধি – ইউ এস বাংলা নিউজ




ট্রাম্পের গাড়ির উপর শুল্ক: আমেরিকায় কর্মসংস্থান ও মজুরি বৃদ্ধি

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ৪ এপ্রিল, ২০২৫ | ৮:০৯ 9 ভিউ
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে আমেরিকার সাফল্যে অটোমোবাইল শিল্পের বড় অবদান ছিল, যা লক্ষ লক্ষ ট্যাঙ্ক, ট্রাক ও জিপ তৈরি করেছিল। দীর্ঘ দিনের অসঙ্গতিপূর্ণ বাণিজ্যের কারণে এই শিল্প দুর্বল হয়ে পড়ে। এখন আমেরিকা সম্পূর্ণ গাড়ি তৈরি করে না, বরং বিদেশে তৈরি হওয়া গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ এনে এখানে জোড়া লাগায়। অটোমোবাইল শিল্পকে শক্তিশালী করতে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন বিদেশে তৈরি গাড়ি ও যন্ত্রাংশের ওপর। এই নতুন শুল্ক নীতির ফলে গাড়ি নির্মাতারা ইঞ্জিন, ট্রান্সমিশন ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ আমেরিকায় তৈরি করতে আগ্রহী হবে। প্রতি বছর আমেরিকানরা প্রায় ১৬ মিলিয়ন যাত্রীবাহী গাড়ি, এসইউভি ও ট্রাক কেনে। এর মধ্যে প্রায় ৮ মিলিয়ন গাড়ি আমদানি

করা হয়, মূলত জার্মানি, জাপান, মেক্সিকো ও দক্ষিণ কোরিয়া থেকে। বাকি ৮ মিলিয়ন গাড়ি আমেরিকায় সংযোজন করা হলেও, তাদের মাত্র ৫০ শতাংশ দেশেই তৈরি হয়। এর অর্থ হল আমেরিকানরা যে গাড়ি কেনে, তার মোট মূল্যর মাত্র ২৫ শতাংশ আসলে দেশীয় উৎপাদনকে সমর্থন করে। বাকি অর্থ বিদেশি যন্ত্রাংশ ও শ্রমের জন্য ব্যয় হয়। আমেরিকার এক সময়ের শক্তিশালী অটোমোবাইল শিল্প কেন দুর্বল হয়ে পড়লো? এর কারণ- অন্য দেশগুলো অন্যায্য বাণিজ্য নীতি ও লুণ্ঠনমূলক শিল্পনীতি ব্যবহার করে। তারা সরকারিভাবে ভর্তুকি দিয়ে সস্তায় গাড়ি ও যন্ত্রাংশ আমেরিকার বাজারে পাঠায়, অথচ নিজেদের বাজারে আমেরিকান গাড়ি ঢুকতে দিচ্ছে না। উদাহরণস্বরূপ- জার্মানি আমদানিকৃত গাড়ির ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক

বসিয়েছে, যা আমেরিকার ২ দশমিক ৫ শতাংশের শুল্কের চার গুণ। তারা রপ্তানির জন্য বড় ভর্তুকি দেয়, কর ছাড় দেয় এবং নানা ধরনের কারিগরি বাধা সৃষ্টি করে। উদ্ভট নিরাপত্তা মানদণ্ড তৈরি করে এমনভাবে শর্ত বসায়, যাতে আমেরিকান গাড়িগুলো বাতিল হয়ে যায়। এর ফলে, জার্মানি আমেরিকায় যে পরিমাণ গাড়ি রপ্তানি করে, আমেরিকা তার ছয় ভাগের এক ভাগও জার্মানিতে পাঠাতে পারে না। আবার জাপানে গাড়ির শুল্ক কম হলেও সমস্যা তা নয়। তাদের বাজার বিদেশি গাড়ির জন্য কঠিন নিয়মের মাধ্যমে প্রায় বন্ধ রাখা হয়েছে। যেমন- আমেরিকান গাড়িগুলোকে হুড ইমপ্যাক্ট টেস্ট পাস করতে হয়- একটি বিশেষ নিরাপত্তা পরীক্ষা যেখানে হুডের এমনভাবে বিকৃত হতে হবে, যাতে এটি

মানুষের মাথার আঘাত শোষণ করতে পারে। এই পরীক্ষায় ব্যর্থ হলে গাড়ি জাপানে বিক্রি করা যায় না। ফলে, জাপানে বিক্রি হওয়া ৯৫ শতাংশ গাড়িই দেশীয়ভাবে তৈরি। জার্মানি ও জাপান শুধু গাড়ি তৈরি করেই ক্ষান্ত নয়, তারা গাড়ির গুরুত্বপূর্ণ অংশ যেমন ইঞ্জিন, ট্রান্সমিশন ও ড্রাইভট্রেন তৈরি করে। এই অংশগুলো সবচেয়ে লাভজনক ও সেগুলোতে সবচেয়ে ভালো বেতন পাওয়া যায় এমন কারখানার কাজও পাওয়া যায়। পাওয়ার ট্রেন তৈরি করতে বিশেষ দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা দরকার, তাই এর জন্য কাজের মজুরি সাধারণত গাড়ি সংযোজন কারখানার তুলনায় ১০-২০ শতাংশ বেশি এবং সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো আমেরিকা তার বিক্রি করা গাড়ির জন্য ২০ শতাংশেরও কম ইঞ্জিন তৈরি করে, কিন্তু

জার্মানি ও জাপান মিলেই আমেরিকার রাস্তায় চলা গাড়ির বেশিরভাগ ইঞ্জিন ও ট্রান্সমিশন তৈরি করে। যেমন- সাউথ ক্যারোলিনার বিএমডব্লিউ প্ল্যান্টে গ্লোবাল রপ্তানির জন্য এসইউভি গাড়ি তৈরি হলেও তাদের ইঞ্জিন এবং ট্রান্সমিশন জার্মানি ও অস্ট্রিয়া থেকে আসে। মার্সিডিজ-বেঞ্জও আলাবামায় একইভাবে কাজ করে। এগুলো আসলে আমেরিকান-মেড গাড়ি নয়, বরং জার্মান-ডিজাইন করা গাড়ি যা কম মজুরির আমেরিকান শ্রমিকদের দ্বারা সংযোজিত হয়। ইন্ডিয়ানায়, সুবারু আউটব্যাক ও অ্যাসেন্ট গাড়ি সংযোজন করলেও তাদের ইঞ্জিনগুলি জাপান থেকে আমদানি করা হয়। টয়োটা ও হোন্ডা বেশি মার্কিন উপকরণ ব্যবহার করলেও তারা এখনও জাপানি পাওয়ারট্রেনের উপর অনেক নির্ভরশীল। ডেট্রয়টের বড় গাড়ি প্রস্তুতকারকরা তাদের গাড়ির মূল অংশ বিদেশে তৈরি করছে। ফর্ডের যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি

গাড়ির অর্ধেকেরও বেশি মেক্সিকান ইঞ্জিন ব্যবহার করে। স্টেলান্টিস বেশ কিছু ইঞ্জিন ইতালি ও মেক্সিকো থেকে সংগ্রহ করে এবং জার্মান ভিত্তিক জেডএফ ফ্রিডরিখশাফেন এজি থেকে ট্রান্সমিশন ব্যবহার করে। জেনারেল মোটরস, যদিও কিছুটা ভারসাম্যপূর্ণ, তবুও মেক্সিকো, অস্ট্রিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়া থেকে আমদানি নির্ভর। যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা চুক্তি এই পরিস্থিতি বদলানোর কথা ছিল। কিন্তু, বাইডেন প্রশাসনের শিথিল কার্যকরী নীতির কারণে মেক্সিকো নতুন মিশিগানে পরিণত হয়েছে। এখন মেক্সিকোর বিভিন্ন শহরে মোটর সিটি ডায়াসপোরা গড়ে উঠেছে - পুয়েবলায় ফোক্সওয়াগেন ও অডি, রামোস অরিজপে-এ জেনারেল মোটরস ও স্টেলান্টিস, হারমোসিলো-এ ফরড, আগুয়াসকালিয়েন্টেসে নিসান ও মের্সিডিজ-বেঞ্জ। গাড়ি ও গাড়ির যন্ত্রাংশে শুল্ক বাড়িয়ে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আমেরিকার অর্থনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য এই হুমকিকে

মোকাবেলা করছেন। তিনি জানেন, পাওয়ারট্রেন ডিজাইন ও উৎপাদন শুধুমাত্র প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ নয় - এটি একটি কৌশলগত সক্ষমতা। যদি আমেরিকা এটি হারিয়ে ফেলে, তবে শুধু ভাল কাজ হারাবে না, বরং সেই শিল্প শক্তিও হারাবে যা জাতীয় প্রতিরক্ষার জন্য প্রয়োজন। অনেকেই মনে করছেন, এটি সুরক্ষাবাদী নীতি নয়। এটি পুনঃস্থাপন, বোল্ট থেকে বডি পর্যন্ত পূর্ণ-প্যাটার্ন উৎপাদনের পুনঃস্থাপন। এটি উচ্চ মজুরি ও উচ্চ দক্ষতার কাজের পুনঃস্থাপন এবং আমেরিকার 'আর্সেনাল অফ ডেমোক্রেসির পুনঃস্থাপন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
আমদানি শুল্ক কমাতে হবে লোপাট ৬১৬ কোটি টাকা দ্রুত নির্বাচন আয়োজনই সরকারের অগ্রাধিকার সুলতানি স্থাপত্যের রত্ন ছোট সোনা মসজিদ যুক্তরাষ্ট্রের ১ হাজার শহরে ‘হ্যান্ডস অফ’ বিক্ষোভ শনিবার ছুটি কাটিয়ে স্বস্তিতে ঢাকায় ফিরছে মানুষ আ.লীগ আমলে স্বতন্ত্র হিসেবে দুবার নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান গ্রেফতার কালশী ফ্লাইওভারে দুর্ঘটনায় নিহত ২, ছিটকে ২৫ ফুট নিচে পড়েন বাইক আরোহী মিয়ানমারে ভূমিকম্পে আহত ২২৭ জনকে চিকিৎসা সেবা দিলেন বাংলাদেশের চিকিৎসকরা সবজির বাজার চড়া, বাড়তি মাছের দামও বিশ্বের সবচেয়ে লম্বা জিভের অধিকারী যে নারী অতিথি আপ্যায়নে থাকুক ‘জর্দা পোলাও’ জানা গেল ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ কিস্তিতে মাসোয়ারা নেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণের এএসআই! দেশে তীব্র তাপপ্রবাহ নিয়ে বড় দুঃসংবাদ মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে বাবা গ্রেপ্তার বিয়ে করলেন অভিনেতা শামীম হাসান সরকার পরীমণির বিরুদ্ধে জিডি সব মানুষই লোভী : জয়া আর্জেন্টিনাকে উড়িয়ে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ