এক মাঘে শীত যায় না, এক জ্বরে রোগ যায় না – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ১৯ জানুয়ারি, ২০২৫
     ১০:০৭ পূর্বাহ্ণ

এক মাঘে শীত যায় না, এক জ্বরে রোগ যায় না

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১৯ জানুয়ারি, ২০২৫ | ১০:০৭ 194 ভিউ
শীত জমাট বাঁধলেই খেজুর গাছের কর্তিত শরীর থেকে রসধারা বয়ে পড়ে টুপটুপ, সেই রসের পায়েস খেতে কী মজাটাই না লাগে। নিয়মমাফিক নীরবে আরও নানাকিছুর জোগান দিয়ে যায় যে, শুধু সেই হতচ্ছাড়া শীতটাকেই ভালো লাগে না! বিরক্তি থেকে প্যারোডি গীত আসে-ও আমার রসিয়া শীত রে/ তুমি কেন গরমকালের কাঁথা হইলা না...। পৌষ-মাঘ মাস এলেই মনজুরুল করিম ক্যালেন্ডারের পাতা ধরে সকালবেলায় নদী তীরে এসে বসে থাকে। পানির দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে এক সময় গোসল হয়ে যায়। শুকনো লুঙ্গি-গামছা কাঁধে নিয়ে ফিরে আসে বাড়িতে। তার অবস্থা দেখে গোসলাসক্ত লোকে ঠাট্টা করে-‘এক মাঘে শীত যায় না। সামনের বছর কী করবি?’ আগামী বছরও শীত আবার আসবে, মাঘ

মাসও। বেহায়া মেহমানের মতো পিছু ছাড়বে না! আসুক বেলাজ, মনের গোসলই প্রকৃত গোসল। নদীপাড়ে বসে থেকে তিরতির কাঁপুনি ভালোই লাগে। মনজুরুল ঋণখেলাপি নয়, মাঘের অসমাপ্ত কাজটা বৈশাখে পুষিয়ে দেয়। তখন সকালে একবার গোসল করে, বিকালে আরেকবার। ইয়ার-দোস্তদের অনেকে বিয়ে করেছে শীতকালে। অভিভাবকসহ তারাও এটাকে ঝযবতকাল মানে। গ্রাম্য বুদ্ধিজীবীরা কানশলা দিল বাবা-মাকে- ‘বাদাইম্যা মনজুরুলরে বিয়া করায়া দ্যাও। বউয়ের গরম গরম ঝাড়ি খাইয়ে মানুষ না হইয়ে যাবে কোথায়! আরও বড় অলসও বউয়ের আঁচড় ছাইড়ে খেত-খামারের কামে নাইমে পড়ছে!’ বিয়ে করলে নিজের হাতে আর মশারি টানাতে হবে না, চৌকি গোছাতেও কষ্ট লাগে। বউ এলে সে-ই করবে এসব, লোকমা ধরে খাইয়েও দেবে; হাত ধোয়ার ঝামেলা থাকবে

না। এমন সুখ-ভাবনা থেকেই মনজুরুল বিয়েতে সম্মতি দেয়। বাবা-মাকে আগেভাগেই জানায়-‘বউয়ের ভাত-কাপড়ও তোমরা দিবা। আমি বড় হইলে চাকরি করমু!’ বাবা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেন, ‘কবে সাবালক হইবি বাপধন! মেঘে মেঘে বেলা কি কম অইল!’ পুত্রের পক্ষে কোল টেনে মা বলেন, ‘বাজে কথা কহ যে! বেলা আরও অইলে আলো ফুটব। তখন ভালো পথ চিইনা নিতে পারব সহজে।’ ঠান্ডাভীতির কারণে মনজুরুল বিয়ে করল গরমকালে। সে যেমন বাপ-মায়ের একমাত্র পুত্র, তানিয়া সুলতানাও একমাত্র কন্যা। কিন্তু এটা সোনায় সোহাগা না হয়ে ‘খাদ’ হয়ে উঠল ক্রমান্বয়ে। গরম বায়ুজনিত দোষেই কিনা-তানিয়ার মন-মাথা সব সময়ই গরম থাকে। কাউকে মান্যিগণ্যি করে না, সময়মতো খাবার-পানি দেয় না। হাঁসগুলোও প্যাকপ্যাক শেষে এক সময় কাদাজলে

ঝাঁপ দেয়। মানুষ ও প্রাণীর প্রতি অপ্রত্যাশিত বৈষম্য দেখে বউকে শুনিয়ে, আদতে নিজেকে প্রবোধ দেওয়ার জন্য বলে মনজুরুল-‘এক সকালে দিন যায় না রে, তানি। আরও দিন সামনে আছে!’ শ্বশুর-শাশুড়িবিদ্বেষী তানিয়া পালটা যুক্তি দেখায়-‘আর আমার যে এক কাপড়েই বছর চইলে যাচ্ছে! জামাই-নাই মহিলারা মাসে মাসে নতুন শাড়ি পিন্দে, তারপরও শাশুড়িরেও নিন্দে। তুমি আইজকেই আমারে জুদা কইরে দাও, তোমার বাবা-মার প্যানপ্যানানি ভালা লাগে না। গঞ্জে যাও, কসমেটিক কিইনে আনো।’ হৈহল্লার মধ্যে শান্তি চুক্তি করতে মা এগিয়ে আসেন, ‘আমাগো সব কাল এককালে আইসে ঠেকছে, বউ। তুই অশান্তি করিসনে আর।’ তানিয়া গ্রাম্য প্রবাদটাকেই নিজের মতো করে গড়ে-পিটে নেয়-‘এককাল শাশুড়ির, এককাল বউয়ের। আপনেগো দুজনেরই কাল কইলাম শেষ! এখন পোলার

নামে সয়-সম্পত্তি লেইখা দিয়া আরামসে ঘুমান! আমারে শান্তি দ্যান।’ এমন খায়েশে আতঙ্কিত বোধ করে ক্ষুধার্ত মনজুর। সকাল থেকে চুলায় হাঁড়ি ওঠেনি, এদিকে তানিয়ার মাথা গনগনে চুল্লি! বাপজানই সংসারটাকে টেনেহিঁচড়ে দাঁড় করিয়ে রেখেছেন এতকাল। শীত ও সমস্যাকাতুরে মনজুর কীভাবে পারবে টানাহ্যাঁচড়ায় জড়াতে! সব দোষ ওই ১২ মাসের। শীতে মনজুরুল থাকতে চায় কম্বলের নিচে আর নদীপাড়ে, গরমকালে বট-পাকুড় গাছের ঝিরিঝিরি ছায়ায়-এটা কি অতি উচ্চাকাঙ্ক্ষা! বিয়ে করে বিপদ ডেকে এনেছে। সংসারের স্থিতিশীলতা ধরে রাখার স্বার্থে মাঘী-অমাবস্যার প্রথম প্রহরে নদী তীর থেকেই মনজুরুল সোজা শ্বশুরবাড়িতে চলে আসে। মাটির হাঁড়ি থেকে খেজুর রস ঢালার আদলে বিনয় ঢেলে শ্বশুরকে বলে- ‘দেখেন আব্বা, এক মাঘে কিন্তু কুয়াশা কাটে না...!’ রান্নাঘরে

উৎকর্ণ শাশুড়ি। উঠানে শ্বশুর মুচকি হেসে বলেন, ‘তোমার ইঙ্গিত আমি বুঝবার পারছি, বাবা। শীতের পিঠা পাঠাইতে হইব তো? মনে আছে। উধার-ধার কইরে হইলেও আমি নিয়ম রক্ষা করমু।’ ‘তানিয়ার মাথা গরম, আব্বা! ময়মুরব্বি মানে না।’ ‘জ্বরজারি হইলে সব্বারই মাতামুতা গরম থাহে। তোমার জ্বর অয় না?’ ‘জ্বর অয়, মাতা গরম অয় না। আর এক জ্বরে কিন্তু রোগ যায় না। আরও ম্যালা রোগ শইল্যে থাইকাই যায়!’ বলেই মনজুরুল হাঁটা ধরে বাড়ির পথে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
ফ্যাসিস্ট ইউনূসের ডিজাইনে জাল ভোটের নির্বাচনঃ দৈবচয়নে টিআইবির ৭০ টি আসন পর্যবেক্ষণ, ধৃত জাল ভোটের পরিসংখ্যান ২১.৪% বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ এবং ছাত্রলীগ পার্বতীপুর উপজেলা শাখা, দিনাজপুর এর উদ্যোগে পার্বতীপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন। ইউনূসের আয়োজিত প্রহসনের নির্বাচন, যেখানে অবাধে চলেছে জাল ভোটের মহোৎসব In divided Bangladesh, election delivers power, not stability পবিত্র রমজান মাসে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সকল স্তরের নেতাকর্মীদের প্রতি অসহায়, দুস্থ, প্রান্তিক, নিম্ন আয়ের মানুষদের জন্য ইফতার, সেহরি, খাদ্য উপকরণ সহায়তাসহ অন্যান্য মানবিক কর্মসূচি গ্রহণের আহ্বান দরিদ্র বাড়িয়ে বিদায় দারিদ্র্যের জাদুকরের ‘মবের জনক’ উপাধি নিয়ে বিদায় ড. ইউনূসের: পেছনে রেখে গেলেন লাশের মিছিল ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি জাইমা রহমানের বিরুদ্ধে ‘ডিজিটাল চরিত্র হনন’: ক্ষমতাসীনদের পাশে দাঁড়িয়ে রাজনৈতিক শিষ্টাচারের ডাক ছাত্রলীগ নেতার বাবার মৃত্যুর পর অবশেষে মুক্তি মিলল ছেলের: জানাজায় অংশ নিতে বাড়ি ফিরলেন সামি কুড়িগ্রাম-১ এ ভোটার নেই, তবু ভোট ১০০% পূর্ণ শপথ নিয়ে নতুন মেটিকুলাস ডিজাইন, সাংবিধানিক সঙ্কটের আশঙ্কা সমঝোতা না হওয়ায় ভোট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের তথ্য ফাঁস করলেন নাহিদ যুধিষ্ঠির কে? : উপদেষ্টা রেজওয়ানা বনাম আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহ ভোট নিয়ে ইউনূসের জালিয়াতি ফাঁস করে দিল টিআইবি ২.২৬ লক্ষ কোটি ঋণ নিয়ে শূন্য উন্নয়ন : বাংলাদেশকে পঙ্গু করে দিয়ে যাওয়া ইউনূসের কীর্তি Bangladesh 2026 — Election and a Crisis of Trust রংপুরে ড. ওয়াজেদ মিয়ার ৮৪তম জন্মবার্ষিকীতে যুবলীগের শ্রদ্ধা ‘বাটোয়ারার নির্বাচন মেনে নিয়ে বিরোধিতার নাটক বন্ধ করেন’: মাহফুজ আলম অপরাধীদের বিচার ও বাকিদের সুযোগ—আওয়ামী লীগ নিয়ে ‘রিকনসিলিয়েশন’-এর প্রস্তাব বিএনপি নেতার গুলিস্তানে ৫ আইনজীবীর ওপর ‘মব সন্ত্রাসীদের’ হামলা, লুটে নিয়ে পুলিশে সোপর্দ