স্প্যানিশ এজেন্সিয়া ইএফইকে সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা: আমি কাউকে হত্যার নির্দেশ দিইনি – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
     ৭:২৮ পূর্বাহ্ণ

স্প্যানিশ এজেন্সিয়া ইএফইকে সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা: আমি কাউকে হত্যার নির্দেশ দিইনি

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ | ৭:২৮ 13 ভিউ
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০২৪ সালের আন্দোলনে প্রায় ১ হাজার ৪০০ জন নিহত হওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। জাতীয় নির্বাচনের ঠিক আগে দেওয়া এই সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তিনি সম্পূর্ণ নির্দোষ। এজেন্সিয়া ইএফইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে, অজ্ঞাত একটি স্থান থেকে শেখ হাসিনা বলেন, নোবেলজয়ী ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার একটি “অবৈধ সরকার” এবং তারা “সন্ত্রাসীদের সঙ্গে যুক্ত”। ১৫ বছর ধরে বাংলাদেশ শাসন করা শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে নির্বাসনে আছেন। তাঁর বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় ও প্রত্যর্পণের আদেশ রয়েছে। তিনি বলেন, ধর্মনিরপেক্ষতা ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন ধ্বংস করতেই একটি ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে তাঁকে ক্ষমতা থেকে সরানো হয়েছে। ইএফই: দীর্ঘদিন দেশ পরিচালনার পরও আজ আপনার নেতৃত্ব নিয়ে অনেক

বিভ্রান্তি রয়েছে। আপনার মতে সবচেয়ে বড় ভুল বোঝাবুঝি কী? শেখ হাসিনা: বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার যেসব মিথ্যা কথা বলছে, সেগুলো দেখলেই বোঝা যায় আমাদের শাসনকাল নিয়ে কত ভুল ধারণা তৈরি করা হয়েছে। আজকের বাংলাদেশই প্রমাণ করছে, আমরা দেশকে কী থেকে রক্ষা করেছিলাম। আমাদের সময়ে বাংলাদেশ অনেক এগিয়েছে। অর্থনীতি দ্রুত বেড়েছে। কোটি কোটি মানুষ দারিদ্র্য থেকে বের হয়েছে। খাদ্য উৎপাদন চার গুণ বেড়েছে। নারীরা ক্ষমতায়িত হয়েছে। সব ধর্মের মানুষ শান্তিতে বসবাস করেছে। আমরা সন্ত্রাস দমন করেছি এবং ১৯৭১ সালের রক্তের বিনিময়ে পাওয়া ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধান রক্ষা করেছি। এগুলো শুধু আমার কৃতিত্ব নয়। জনগণ ভোট দিয়ে আমাদের বারবার দায়িত্ব দিয়েছে। এই অর্জন জনগণের। আজ সেই সব অগ্রগতি ধ্বংসের

মুখে। অর্থনীতি থেমে গেছে। সংখ্যালঘুরা নির্যাতনের শিকার। সাংবাদিকরা সত্য বললে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। রাজনৈতিক মতের কারণে মানুষকে জেলে নেওয়া হচ্ছে। নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী সংগঠনের লোকজন মন্ত্রিসভায় বসেছে। এতেই প্রমাণ হয়, আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ রাজনৈতিক। এগুলোর কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। ইএফই: বাংলাদেশে গণতন্ত্র সংকুচিত হয়েছে—এমন অভিযোগ রয়েছে। আপনি কী বলবেন? শেখ হাসিনা: কোনো সরকারই নিখুঁত নয়। আমিও তা কখনো দাবি করিনি। গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখতে সব সময় সতর্ক থাকতে হয়। আমি স্বীকার করি, আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতি সব সময় ভালো ছিল না। অনেক সময় বড় দলগুলো নির্বাচন বর্জন করেছে। এতে ভোটাররা প্রকৃত পছন্দ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তবে ত্রুটিপূর্ণ গণতন্ত্র আর সম্পূর্ণভাবে রাজনৈতিক অধিকার ধ্বংস—এই দুটির মধ্যে বড় পার্থক্য

আছে। আমাদের সময়ে আমরা বাকস্বাধীনতা রক্ষা করেছি এবং সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছি। আমরা কখনো বিরোধী দল নিষিদ্ধ করিনি। রাজনৈতিক বিশ্বাসের কারণে লাখ লাখ মানুষকে আটক করিনি। সংবিধান ছিঁড়ে ফেলিনি। আওয়ামী লীগের ওপর সব দোষ চাপানো অন্যায়। আজ যে সংকটের কথা বলা হচ্ছে, সেই সংকট অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আরও বেড়েছে। ইএফই: আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আপনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। আপনার প্রতিক্রিয়া কী? শেখ হাসিনা: আমি এই রায় পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করি। এটি কোনো ন্যায়বিচার নয়। এটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বিচার। এই ট্রাইব্যুনাল পরিচালনা করেছে একটি অনির্বাচিত সরকার। অনভিজ্ঞ বিচারক ও পক্ষপাতদুষ্ট কৌঁসুলিরা সেখানে কাজ করেছেন। সাক্ষ্যপ্রমাণ ছিল অসম্পূর্ণ ও চাপ দিয়ে আদায় করা। আমাকে নিজের পছন্দের আইনজীবী রাখার সুযোগ দেওয়া

হয়নি। যেসব প্রমাণ আমাকে নির্দোষ প্রমাণ করতে পারত, সেগুলো উপেক্ষা করা হয়েছে। বিশ্বের আইন ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই বিচার প্রক্রিয়ার নিন্দা করেছে। স্পষ্ট করে বলছি—আমি কাউকে হত্যা করিনি, কাউকে হত্যার নির্দেশও দিইনি। পরিস্থিতি তখন খুব উত্তপ্ত ছিল। কিন্তু সরকার নিজ জনগণকে হত্যা করতে চেয়েছে—এ কথা সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমি নিজেই তদন্ত কমিশন গঠন করেছিলাম এবং জাতিসংঘকে পর্যবেক্ষণের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম। ক্ষমতায় এসে ইউনূস কয়েক দিনের মধ্যেই সেই তদন্ত বাতিল করেন। কারণ, সত্য বের হলে তাঁর ভূমিকা প্রকাশ পেত। আজও সরকার নিহতদের পূর্ণ তালিকা প্রকাশ করেনি। শুধু জাতিসংঘের দেওয়া ১ হাজার ৪০০ জনের একটি যাচাইহীন সংখ্যা ব্যবহার করা হচ্ছে। অথচ বহু পুলিশ, আইনজীবী, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক

কর্মী নিহত বা নিখোঁজ হয়েছেন। তাদের কোনো হিসাব নেই। আমি বারবার বলেছি, বিষয়টি হেগের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে নেওয়া হোক। তারা তা মানছে না, কারণ সেখানে গেলে আমি নির্দোষ প্রমাণিত হব এবং ইউনূসের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয় উঠে আসবে। ইএফই: আপনি বলেছেন, আপনাকে সরানোর পেছনে বিদেশি ষড়যন্ত্র ছিল। প্রমাণ কী? শেখ হাসিনা: শুরুতে ছাত্রদের আন্দোলন ছিল যৌক্তিক। সরকারি চাকরির কোটা নিয়ে তাদের ক্ষোভ ছিল। আমরা তাদের কথা শুনেছি এবং দাবি মেনেছি। কিন্তু পরে যা হয়েছে, তা আর শান্তিপূর্ণ আন্দোলন ছিল না। পরিকল্পিত সহিংসতা শুরু হয়। সারাদেশে থানায় আগুন দেওয়া হয়। যোগাযোগ ব্যবস্থা ধ্বংস করা হয়। পুলিশ সদস্যদের পিটিয়ে হত্যা করা হয়। বিদেশি শক্তি জড়িত ছিল কি

না, তা তদন্ত ছাড়া বলা যায় না। কিন্তু পরে যা হয়েছে, তা স্পষ্ট। দণ্ডিত সন্ত্রাসীদের জেল থেকে ছাড়া হয়েছে। চরমপন্থীরা মন্ত্রিসভায় বসেছে। সহিংসতায় জড়িতদের সাধারণ ক্ষমা দেওয়া হয়েছে। ইউনূস নিজেই বলেছেন, এটি ছিল “সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা”। তাই তিনি তদন্ত বন্ধ করেছেন। ইএফই: আপনি বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারকে যেকোনো মূল্যে উৎখাত করতে হবে। আপনি কি সহিংসতার আহ্বান জানিয়েছেন? শেখ হাসিনা: না। আমি কখনো সহিংসতার ডাক দিইনি। বাংলাদেশ আজ আইনহীনতার পথে। এখনই ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি স্থায়ী হয়ে যাবে। আমি সব সময় শান্তিপূর্ণ আন্দোলন, আইনি লড়াই ও আন্তর্জাতিক চাপের কথা বলেছি। আমাদের লক্ষ্য— ১. অবৈধ সরকার অপসারণ, ২. আইনের শাসন ফিরিয়ে আনা, ৩. সংখ্যালঘু ও নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ৪. রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহার, ৫. জাতিসংঘের নেতৃত্বে স্বাধীন তদন্ত ইএফই: আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ। দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি আপনার দায়িত্ব কী? শেখ হাসিনা: এখন ১ লাখ ৫২ হাজারের বেশি নেতাকর্মী কারাগারে। ১২০ জনের বেশি সাবেক সংসদ সদস্য আটক। অনেকেই নির্যাতনে মারা গেছেন। তাদের অপরাধ একটাই—রাজনৈতিক বিশ্বাস। আমি তাদের সাহসের জন্য কৃতজ্ঞ। আমি বলি, শান্ত থাকুন, ধৈর্য ধরুন। ভয় ও দমন দিয়ে কোনো সরকার চিরকাল টিকে না। বাংলাদেশ জনগণের। চরমপন্থীদের নয়। ইএফই: আপনি কবে বাংলাদেশে ফিরবেন? শেখ হাসিনা: সংবিধান ও আইনের শাসন ফিরলে আমি ফিরব। আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে। রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি দিতে হবে। সব দলের অংশগ্রহণে সুষ্ঠু নির্বাচন করতে হবে। এগুলো গণতন্ত্রের মৌলিক শর্ত। এখন আমার ফেরা অসম্ভব। মত প্রকাশের স্বাধীনতা নেই। সত্য বললে জেল, হুমকি বা মৃত্যুর ঝুঁকি আছে। একটি প্রহসনের আদালত আমাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। যেদিন জনগণের ভোটে বৈধ সরকার আসবে, আইনের শাসন ফিরবে—সেদিনই আমি দেশে ফিরতে পারব।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
গণভোট নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের দেয়া বিভিন্ন দেশের উদাহরণ কতোটা সত্য? কেন্দ্রে কেন্দ্রে আনসার-পুলিশ মুখোমুখি: ‘শিবির ট্রেনিংপ্রাপ্ত’ ক্যাডারদের আনসার বাহিনীতে ঢুকে পড়ার অভিযোগ স্প্যানিশ এজেন্সিয়া ইএফইকে সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা: আমি কাউকে হত্যার নির্দেশ দিইনি ঢাকায় ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ১৪০০, ভোটদান নিয়ে শঙ্কায় ভোটাররা মূল্যস্ফীতি ও বিনিয়োগ খরাসহ বিবিধ সংকটে স্থবির ব্যবসা-বাণিজ্য, চরম উদ্বেগে উদ্যোক্তারা ডাবল সুপার ওভারের অবিশ্বাস্য রোমাঞ্চে আফগানিস্তানকে হারাল দক্ষিণ আফ্রিকা মতামত || উভলিঙ্গ নির্বাচন ভোট জালিয়াতির সব আয়োজন সম্পন্ন, এবার ভোটকেন্দ্র নিষিদ্ধ মোবাইলফোন ‘নিরীহ উপদেষ্টারা’ কেন আতঙ্কে? আশিক চৌধুরীর ফোপর দালালি আর বাস্তবতার নির্মম ফারাক শেষবেলা ইউনূসের হরিলুট, একের পর এক দেশবিক্রির চুক্তি ⁨নিজের দেশে ভোট কাভার করতে পারে না, আর বাংলাদেশে এসে অবৈধ নির্বাচন বৈধ করার নাটক ১২ ফেব্রুয়ারী ভোটকে কেন্দ্র করে টঙ্গীতে বিএনপির কাছে গণতন্ত্র মানেই সন্ত্রাস ভোটের নামে মব, নির্বাচনের নামে নৈরাজ্য ⁨প্রচারণা চালানোর সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনে বিএনপির হামলার শিকার ইনসানিয়াত বিপ্লবের প্রার্থী; নির্বাচনের নামে মৎস্যন্যায়ের সাক্ষী হলো গোটা দেশ! ভোট দিতে না যাওয়াও আপনার আমার গণতান্ত্রিক অধিকার জামায়াতে ইসলামী বগুড়ার নন্দীগ্রামে বিএনপি নেতার চোখ উপড়ে ফেলছে জামায়াত-শিবিরের সন্ত্রাসীরা অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান খানের মৃত্যুতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ নির্বাচন নির্বাচন খেলায় পিছিয়ে নেই পীরসাহেব চরমোনাইয়ের দলও মিডিয়া থেকে নিউজ গায়েব কেন? ঘটনার সত্যতা কি? মিডিয়া কি নিয়ন্ত্রন করা হচ্ছে?