সম্পদের নেশায় বুঁদ সুবিদ আলী ভূঁইয়া – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ২৮ September, ২০২৪

সম্পদের নেশায় বুঁদ সুবিদ আলী ভূঁইয়া

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ২৮ September, ২০২৪ |
কুমিল্লা-১ আসনের সাবেক সংসদ-সদস্য মেজর জেনারেল (অব.) সুবিদ আলী ভূঁইয়া যেন ‘ল্যান্ডলর্ড’। নিজ ও পরিবারের নামে ঢাকা, গাজীপুর ও কুমিল্লায় রয়েছে প্রায় আড়াইশ বিঘা জায়গা-জমি। রাজধানীর কাঁঠালবাগানে আছে ১০তলা টাওয়ার। মহাখালী ডিওএইচএসে আছ ৫তলা বাড়ি। কুমিল্লায় গড়ে তুলেছেন একাধিক বহুতল ভবন ও বিশাল চিড়িয়াখানা। তার বিরুদ্ধে আছে বিপুল অর্থ পাচারের অভিযোগ। সব মিলিয়ে ভূঁইয়া পরিবারের সম্পদের পরিমাণ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। টানা চারবার সংসদ-সদস্য থাকাকালে অনিয়ম-দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে এ সম্পত্তির পাহাড় গড়ে তোলার অভিযোগ অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তিন সদস্যের অনুসন্ধান টিমে আছেন সংস্থার উপপরিচালক রেজাউল করিম, ফেরদৌস রহমান ও সহকারী পরিচালক শহিদুর রহমান। সংশ্লিষ্ট

সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে সুবিদ আলী ভূঁইয়ার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া গেছে। বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগ করেও সুবিদ আলী পরিবারের সদস্যদের অবস্থান নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পাওয়া যায়নি তাদের বক্তব্য। জানা যায়, অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা সুবিদ আলী ভূঁইয়া ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত টানা চারবার কুমিল্লা-১ আসনের সংসদ-সদস্য ছিলেন। প্রায় পুরো সময়টাই তিনি সম্পদ করার নেশায় বুঁদ হয়েছিলেন। এ সময় তিনি নিজে, স্ত্রী মাহমুদা আক্তার ও বড় ছেলে দাউদকান্দি উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত মেজর মোহাম্মদ আলী ও তার স্ত্রী-সন্তানের নামে সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন। ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিভিন্ন উন্নয়নকাজের ঠিকাদারির কমিশন, বালুমহাল ও

টোল প্লাজা থেকে চাঁদাবাজিসহ নানা অবৈধ উৎস থেকে হাতিয়ে নেওয়া অর্থ এসব সম্পদ কেনায় বিনিয়োগ করা হয়েছে বলে অভিযোগ আছে। এছাড়া আলোচিত বিসমিল্লাহ গ্রুপের ঋণ জালিয়াতিতেও জড়িত সুবিদ আলী পরিবার। দুদকের তথ্যমতে, গাজীপুর মাজুখান বাজারের দক্ষিণে রেললাইনের পাশে সুবিদ আলী ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে ১৫ বিঘা জমি রয়েছে। গাজীপুর সিটি করপোরেশনের আওতায় চামড্ডা মৌজায় এশিয়ান হাইওয়ের পাশে ১৫ বিঘা জমিতে গড়ে তোলা হয়েছে বাগানবাড়ি। গাজীপুর সিটি করপোরেশনের কাশিমপুরে আছে অন্তত ৩০ বিঘা জমি। গাজীপুরের এসব জায়গার দাম শতকোটি টাকার বেশি। ঢাকা জেলার সাভার উপজেলার গণকবাড়ি/গোবিন্দপুর মৌজায় আছে ১৫ বিঘা জমি। যার দাম অন্তত ৩০ কোটি টাকা। মিরপুর ডিওএইচএস ৩০০ ফুট

এক্সপ্রেসসংলগ্ন এলাকায় আছে আরও ৫ বিঘা জমি। ঢাকার জলসিঁড়ি প্রকল্পে ছেলে মোহাম্মদ আলীর নামে আছে ৫ কাঠার প্লট। বরুয়া মৌজার ৫ বিঘা জমি তিনি বিক্রি করে দিয়েছেন আশিয়ান সিটির কাছে। ঢাকার কলাবাগানে ৭ কাঠা জায়গার ওপর গড়ে তুলেছেন ‘ডিকে টাওয়ার’। নিজস্ব তহবিল থেকে দুই কোটি টাকা ব্যয়ে ভবনের বেজমেন্ট ও প্রথম তলা করার পর ব্যাংক ঋণ নেন। এ ভবনের দামই প্রায় শতকোটি টাকা। মহাখালী ডিওএইচএস এলাকায় ৫ কাঠা জায়গায় তৈরি করা হয়েছে ৫ তলা বাড়ি। যার দাম প্রায় ৩০ কোটি টাকা। দুদক আরও জানতে পেরেছে, ঢাকার বাইরে কুমিল্লায় নিজস্ব নির্বাচনি এলাকায় বিপুল সম্পদ রয়েছে সুবিদ-পরিবারের। দাউদকান্দির জুরানপুর, বরারচর ও ঝাউতলি

মৌজায় রয়েছে প্রায় ১৫০ বিঘা জমি। যার দাম শতকোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। দাউদকান্দি পৌর সদরে ওজারডাঙ্গা মৌজায় ৪০ শতাংশ জায়গায় বিশাল বহুতল ভবন নির্মাণের কাজ চলমান। দাউদকান্দি জুরানপুরে মাহমুদা হাউজের (ছাত্রী হোস্টেল) মালিক সুবিদ আলীর স্ত্রী মাহমুদা আক্তার। এ ছাত্রী হোস্টেলে জুরাননগর ডিগ্রি কলেজের মালিকানা না থাকলেও জেলা পরিষদের বিভিন্ন খাতের বিশেষ বরাদ্দ নির্মাণকাজে খরচ করা হয়েছে। জুরাননগরে দুই ছেলের নামে ‘শতকত আলী হাউজ’ ও ‘জুলফিকার আলী হাউজ’ নামে আরও দুটি বহুতল ভবন রয়েছে। এ ভবন দুটিও ছাত্রী হোস্টেল হিসাবে ভাড়া দেওয়া। ছেলেদের নামে ভবন করা হলেও মালিকানা সুবিদ আলী ও স্ত্রী মাহমুদা আক্তারের নামে। এই ছাত্রী হোস্টেল নির্মাণেও সরকারি

বিভিন্ন খাত থেকে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। জুরাননগর ডিগ্রি কলেজের সামনে বিশাল মাঠ সুবিদ আলী পরিবারের ব্যক্তিমালিকানার জায়গা। ২০০৯ সালের আগে এ জায়গা ৭ ফুট গভীর ছিল। এ মাঠও ভরাট করা হয়েছে সরকারি অর্থে। জুরাননগর বাজারের উত্তর পাশে অন্তত ২০ বিঘার খেলার মাঠটির মালিক সুবিদ আলী পরিবার। এটি একসময় ১০/১২ ফুট গভীর জলাশয় ছিল। ত্রাণ ও দুর্যোগ শাখার বিশেষ বরাদ্দ ও টিআর-কাবিখা প্রকল্পের অর্থে এ জলাশয় ভরাট করা হয়েছে। এ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে জায়গার একপাশে খেলার মাঠ করে উপজেলা প্রশাসনের অর্থায়নে বসার জায়গা তৈরি করা হয়। জুরানপুর ডিগ্রি কলেজের পশ্চিম পাশের কিন্ডারগার্টেন ও বিশাল মাঠটিও সুবিদ আলী পরিবারের

মালিকানায় হলেও উন্নয়নকাজ করা হয়েছে সরকারি প্রকল্পের অর্থায়নে। জুরাননগর চিড়িয়াখানাটিও তার নিজস্ব মালিকানায়। কিন্তু এ চিড়িয়াখানার উন্নয়নে সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের কোটি কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে। সরকারি অর্থে ব্যক্তিমালিকানায় জায়গা-জমি উন্নয়নের এসব গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করছে দুদক। এছাড়া ঢাকার সোনালী, জনতা, ইসলামীসহ বিভিন্ন ব্যাংকে অন্তত ১০ কোটি টাকা স্থায়ী আমানত ও সঞ্চয়পত্র রয়েছে সুবিদ পরিবারের সদস্যদের নামে। উল্লিখিত তথ্য যাচাই-বাছাই ও দালিলিক প্রমাণ সংগ্রহের বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও ভূমি অফিসে চিঠি পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে দুদক। জানা যায়, সুবিদ আলীর মেজো ছেলে শওকত আলী যুক্তরাজ্যে বসবাস করেন। সেখানে তার কোনো ব্যবসা বা চাকরি নেই। অভিযোগ আছে, বাবার পাচার করা বিপুল অর্থে সেখানে বাড়ি-গাড়ি কিনে বিলাসী জীবনযাপন করেন ছেলে। ছোট ছেলে জুলফিকার আলী থাকেন মার্কিন মুল্লুকে। সেখানেও বিপুল অর্থ পাচার করা হয়েছে। কেনা হয়েছে বাড়ি-গাড়ি। আরও জানা যায়, ব্যাংকের ঋণ জালিয়াতিতে বিতর্কিত বিসমিল্লাহ গ্রুপের উপদেষ্টা ও পরিচালক ছিলেন সুবিদ আলীর বড় ছেলে মোহাম্মদ আলী। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয় ছিল সুবিদ আলীর মালিকানাধীন ডিকে টাওয়ারে। তার প্রভাবেই প্রতিষ্ঠানটি ব্যাংক থেকে বিপুল অঙ্কের ঋণ নিয়ে ফেরত দেয়নি। এই ঋণের কমিশন মোহাম্মদ আলীও পেয়েছেন বলে অভিযোগ আছে। ২০১৩ সালে বিসমিল্লাহ গ্রুপের ঋণ জালিয়াতিতে মোহাম্মদ আলীর সংশ্লিষ্টতা নিয়ে অনুসন্ধান শেষে মামলা করেছিল দুদক। কিন্তু ক্ষমতার প্রভাবে তখন মামলার চার্জশিট থেকে মোহাম্মদ আলীর নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল। অর্থের উৎস : বাবা সাবেক সংসদ-সদস্য ও ছেলে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান। তাদের প্রভাববলয়ে দাউদকান্দি এলাকার চাঁদাবাজি, টেন্ডার ও মাদক বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে গড়ে তোলা হয়েছিল নিজস্ব বাহিনী। দাউদকান্দি এলাকার এসব অবৈধ খাতের একক নিয়ন্ত্রক হিসাবে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় সুবিদ আলী পরিবার। অভিযোগ আছে, দাউদকান্দি পৌর সদরের চালবাজারে ২০০টি ভিটি বরাদ্দে ডিও লেটার দিয়ে হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে ৪০ লাখ টাকা। গৌরীপুর বাজারে ২০০টি ভিটি তিতাস উপজেলার জিয়ার কান্দি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আশ্রাফকে বরাদ্দ দিতে জেলা প্রশাসনকে ডিও লেটার দিয়ে আদায় করা হয়েছে ছয় কোটি টাকা। দাউদকান্দির ইলিয়টগঞ্জ উত্তর ইউনিয়নের শৈবাল, সুগন্ধা, এশিয়া, পানকৌড়ি, রুপালি, আরডিবিসহ ৫০টি প্লাবন ভূমিতে মৎস্য প্রকল্পের অনুমোদনের নামে নেওয়া হয়েছে পাঁচ কোটি টাকা। উপজেলার পরিবহণ খাত থেকে কোটি কোটি টাকার চাঁদা আদায় করেছেন মোহাম্মদ আলীর বাহিনী। দাউদকান্দি টোল প্লাজার বালুমহাল ঘাট থেকে ১৫ বছরে চাঁদা আদায় করা হয়েছে অন্তত ১৫ কোটি টাকা। ১৫ বছরে ওরিয়ন গ্রুপের তত্ত্বাবধানে মেঘনা-গোমতী সেতুর টোলপ্লাজার দাউদকান্দি অংশ থেকে চাঁদা আদায় করা হয়েছে অন্তত ১৫ কোটি টাকা। এছাড়া দাউদকান্দির সব উন্নয়ন কাজের কমিশন বাণিজ্যের নামে শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। অবৈধ পথে উপার্জিত এ অর্থ জায়গা-জমি কেনায় বিনিয়োগ ও বিদেশে পাচার করা হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
বৈশ্বিক উৎপাদনকেন্দ্র হতে চায় বাংলাদেশ: তিতুমীর শ্রমিক আন্দোলন দমনে কঠোর অবস্থানে সরকারঃ পুলিশ ও দলীয়কর্মী ছাড়াও ২৫ প্লাটুন যৌথ বাহিনী মোতায়েন এবার কুয়েতে বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড এইচআরডব্লিউ: শেখ হাসিনাকে সমর্থন করায় শিক্ষকদের টার্গেট করা হচ্ছে, বাকস্বাধীনতা নেই দেশে জাতীয়ভাবে উপেক্ষিত জেলহত্যা দিবস, সিলেটে নিষেধাজ্ঞা, মব-গ্রেফতার হুমকির মাথায় নিয়েই আওয়ামী লীগের জাতীয় নেতাদের স্মরণ জুলাইর ওয়াসিম হত্যা-মামলার আসামিকে এনসিপির শীর্ষ নেতৃত্ব দেওয়া কি পুরস্কার? প্রশ্ন- কারা মেরেছে তবে ওয়াসিমকে? সাফ সভাপতি আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ, তাই সাফ আয়োজনে প্রচারণা নেই বাফুফের বাপে মারছে সৈনিক, মায়ে মারছে কৃষক, পোলায় মারছে শ্রমিক’—এমন স্লোগানে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের শিল্পাঞ্চল। ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলন ঘিরে গত কয়েক দিন ধরে রাজধানীর মিরপুর, গাজীপুর, সাভার, আশুলিয়া ও নারায়ণগঞ্জে বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ, ভাঙচুর ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। গতকাল মঙ্গলবারও এসব এলাকায় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। আজ বুধবার সকালেও গাজীপুর, সাভার ও নারায়ণগঞ্জে নতুন করে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করেছেন শ্রমিকরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শিল্পাঞ্চলগুলোয় অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। শ্রমিক আন্দোলন ঘিরে সহিংসতায় প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে ঢাকার উত্তরার শিন শিন জাপান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান গাজীপুরে হামলায় গুরুতর আহত পোশাকশ্রমিক তৌফিক হোসেন। সোমবার গাজীপুরের জয়দেবপুরের বাহাদুরপুর এলাকায় নোমান টেরি টাওয়েল মিলসের সামনে সংঘর্ষের দৃশ্য মুঠোফোনে ধারণ করার সময় হামলার শিকার হন তিনি। পরে স্বজনরা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। তিনি গাজীপুরের লায়লা স্টাইল লিমিটেডের শ্রমিক ছিলেন। এ ঘটনায় তাঁর মৃত্যুর পর গাজীপুরের বাংলাবাজার এলাকার কয়েকটি কারখানায় গতকাল ছুটি ঘোষণা করা হয়। শ্রমিকদের দাবি, বর্তমান বাজারদরে প্রচলিত ন্যূনতম মজুরিতে সংসার চালানো সম্ভব হচ্ছে না। বাড়িভাড়া, খাবার, চিকিৎসা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ব্যয় মেটাতে গিয়ে প্রতিনিয়ত সংকটে পড়তে হচ্ছে তাঁদের। এ অবস্থায় মাসিক ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে হয়রানি, শ্রমিকদের ওপর হামলা এবং আন্দোলনে অংশ নেওয়ায় চাকরিচ্যুতির অভিযোগেরও প্রতিকার চাইছেন শ্রমিকরা। আজ বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানার সাইনবোর্ড, বাংলাবাজার ও মির্জাপুর এলাকায় দুই থেকে চার হাজার শ্রমিক ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অবস্থান নেন। এতে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। শ্রমিকদের সরিয়ে দিতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গেলে তাঁদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন আন্দোলনকারীরা। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে শ্রমিকদের সরিয়ে দেয়। পরে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। জয়দেবপুর, সালনা, রাজেন্দ্রপুর ও শফিপুর এলাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও বাংলাবাজার ও কাশিমপুর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সতর্ক অবস্থানে ছিল। গাজীপুরের বোর্ডবাজারের বড়বাড়ী এলাকাতেও সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকরা। তাঁদের সরিয়ে দিতে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এতে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এদিকে তৌফিক হোসেনের মৃত্যুর পর বাংলাবাজার এলাকার কয়েকটি কারখানায় বুধবারও ছুটি ঘোষণা করা হয়। তবে কতটি কারখানা বন্ধ ছিল, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। সাভারের হেমায়েতপুরেও আজ সকালে শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে। শ্রমিকদের অবরোধের কারণে আশপাশের সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। এর আগে গতকাল মঙ্গলবার হেমায়েতপুর এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকরা। দুপুর থেকে বিকাল ৫টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত চলা অবরোধে মহাসড়কের দুই পাশে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। পরে শ্রমিকরা কর্মসূচি প্রত্যাহার করলে ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায়ও আজ বুধবার নতুন করে বিক্ষোভ করেছেন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। সকাল ১০টার দিকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়কের পাশে কুতুবাইল কাঠেরপুল এলাকায় জড়ো হন কয়েকটি কারখানার শ্রমিক। তাঁরা মূল সড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে পুলিশ তাঁদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এ সময় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। শ্রমিকদের অভিযোগ, তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করছিলেন। এ সময় স্থানীয় কিছু ব্যক্তি তাঁদের ওপর হামলা চালান। অন্যদিকে পুলিশের দাবি, সড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এ ঘটনায় কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। পুলিশের ছোড়া টিয়ার গ্যাসে স্থানীয় একটি হোসিয়ারি কারখানার শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। রাজধানীর মিরপুরেও গতকাল মঙ্গলবার শ্রমিকদের বিক্ষোভ ঘিরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মিরপুর-১১ মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এ সময় ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও সড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন আন্দোলনকারীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে। সংঘর্ষে চার পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে কালশী সড়কে এক পুলিশ সদস্যকে মারধরের ঘটনাও ঘটে। এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সংঘর্ষের কারণে মেট্রোরেল চলাচলেও সাময়িক বিঘ্ন ঘটে। নিরাপত্তার কারণে মিরপুর-১০ স্টেশনে প্রায় দুই ঘণ্টা ট্রেন থামানো বন্ধ রাখা হয়। আজ বুধবার মিরপুরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় ১০ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। পুলিশের দাবি, বুধবার শ্রমিকদের সড়কে নামার সুযোগ হয়নি এবং অনেক কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম চলছে। এদিকে শ্রমিক অসন্তোষের কারণে শিল্পাঞ্চলে উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। দৈনিক বাংলার প্রকাশিত বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার ৩০৬টি পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়। এতে ৬ লাখ ৯৪ হাজার ৭৯৩ শ্রমিকের কাজ ব্যাহত হয়। এর আগে ১ নভেম্বর ৫২৯টি কারখানা বন্ধ হয়েছিল এবং কর্মস্থল ছেড়েছিলেন ৯ লাখ ৮৭ হাজার ১৯০ জন শ্রমিক। অর্থাৎ আন্দোলনের প্রভাবে একাধিক শিল্পাঞ্চলে উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আজ বুধবার সাভার-আশুলিয়া, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে মোট ২৪ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, সাভারের হেমায়েতপুর, আশুলিয়া ও বাইপাইল এলাকায় পাঁচ প্লাটুন, গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় ১৩ প্লাটুন এবং নারায়ণগঞ্জের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ছয় প্লাটুন বিজিবি দায়িত্ব পালন করছে। এর পাশাপাশি পুলিশ ও অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও শিল্পাঞ্চলে টহল দিচ্ছেন। এদিকে শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণে সরকার নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। ছয় সদস্যের এ বোর্ডের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে আজ বুধবার। বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সৈয়দ আজাদ সোবহানি। মালিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন এ বি এম সামসুদ্দিন ও আসিব আইয়ুব। শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন বাবুল আক্তার ও আনোয়ার হোসেন। শ্রমিকদের প্রত্যাশা, নতুন মজুরি বোর্ড দ্রুত কার্যকর সিদ্ধান্ত নেবে। তবে বোর্ড গঠনের পরও আন্দোলন থামেনি; বরং রাজধানী ও আশপাশের শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক অসন্তোষ অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান উৎস তৈরি পোশাক খাত। এ খাতে প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক কাজ করেন। ফলে শ্রমিক অসন্তোষ দীর্ঘায়িত হলে উৎপাদন, সরবরাহ ও রপ্তানি কার্যক্রমে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। একদিকে জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মজুরির দাবিতে শ্রমিকদের ক্ষোভ, অন্যদিকে কারখানার উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থা সচল রাখার চাপ—সব মিলিয়ে তৈরি পোশাক খাতের পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। বিএনপির সন্ত্রাসীদের নিপীড়নের ভিডিও করায় তৌফিককে হত্যা করা হয়, জানান সহকর্মীরা ডিবি হেফাজতে ইকবাল সোবহান চৌধুরীঃ ২৭ মাস সমঝোতা করেও শেষ রক্ষা হলোনা শেখ হাসিনার সাবেক তথ্য উপদেষ্টার বড়দিনে তিন কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী সাফের ‘প্লে অন পিরিয়ড’ প্রকল্পের পার্টনার সেনোরা চলতি বছর শেষে ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা বন্ধ করবেন ট্রাম্প মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার রায় ১৯ নভেম্বর মোগল জাহাজে ডাকাতিতে জড়িত টমাস জোন্সের নামে নিউইয়র্কের সৈকত ঘুষের এক লাখ টাকাসহ গ্রেপ্তার ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার আসাদুল কারাগারে ঘুষ চাওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত প্রসিকিউটরের দেশত্যাগ, নিষেধাজ্ঞার তথ্য জানালেন চিফ প্রসিকিউটর সংবিধান সংশোধনে তাড়াহুড়া নয়, ঐকমত্য ও অন্তর্ভুক্তির তাগিদ তরঙ্গের দাম সাশ্রয়ী হলে টেলিযোগাযোগে বিনিয়োগ বাড়বে, বললেন ভিওনের সিইও কান তেরজিওগ্লো বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের অসন্তোষ পর্যবেক্ষণ করছে ভারত: জয়সোয়াল