শিক্ষক রাজনীতি নাকি শিক্ষার্থীদের থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার রাজনীতি – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ১৭ মার্চ, ২০২৬

শিক্ষক রাজনীতি নাকি শিক্ষার্থীদের থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার রাজনীতি

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১৭ মার্চ, ২০২৬ |
ঘটনা-১ সময়কাল: ১৬ মার্চ,২০২৬ (রাষ্ট্রক্ষমতায় বিএনপি সরকার। সরকারপ্রধান তারেক রহমান। সরকার গঠন করার ১ মাস অতিবাহিত হয়েছে) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দলের সাবেক আহ্বায়ক ছিলেন। ঘটনা-২ সময়কাল: ২১ জুন, ২০২৩ (রাষ্ট্রক্ষমতায় আওয়ামীলীগ সরকার,সরকারপ্রধান শেখ হাসিনা। এবং ঢাবির শীর্ষ পদগুলোতে আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের নিরঙ্কুশ আধিপত্য) ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেট নিয়ে সিনেট অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়েছিল সেদিন। অধিবেশনে উপাচার্যের অভিভাষণ বক্তৃতা প্রদানের পর এর ওপর বক্তব্য দেন অধ্যাপক লুৎফর রহমান। বক্তব্যের একপর্যায়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণতান্ত্রিক পরিবেশের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘হলগুলোতে গেস্টরুম কালচার বলে শিক্ষার্থীদের নির্যাতন করা হয়। বিরোধী মতের ছাত্রদের দাঁড়াতেই

দেওয়া হয় না।’ এ বক্তব্যের পরপরই পয়েন্ট অব অর্ডারে আপত্তি জানান ঢাবির মহাপ্রতাপশালী আওয়ামীপন্থী ৩ শিক্ষক। তৎকালীন জহু হলের প্রভোস্ট আব্দুর রহিম বলেন,”আমি একটি হলের প্রাধ্যক্ষ্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি।আমার হলে কোন ধরনের ছাত্ররা এসে অভিযোগ করেনি যে তারা হলে উঠতে পারছে না।” ‘গেস্টরুম কালচার’ শব্দটি সিনেটের কার্যবিধি থেকে এক্সপাঞ্জ বা বাদ দেওয়ার দাবি জানান শিক্ষা ও গবেষণা ও ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. অহিদুজ্জামান। পরক্ষণেই পয়েন্ট অব অর্ডারে তার এমন দাবির নিন্দা জানান বিএনপিপন্থি আরেক সিনেট সদস্য অধ্যাপক ওবায়দুল ইসলাম৷ তবে অধ্যাপক অহিদুজ্জামানের দাবির প্রতি সমর্থন জানান শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক নিজামুল হক ভুইয়া। বিশ্ববিদ্যালয় গেস্টরুম কালচারের সাথে পরিচয় নেই বলে তাৎক্ষণিক মন্তব্য করেন

উপাচার্য ও সিনেট সভাপতি অধ্যাপক ড মো. আখতারুজ্জামান। এরপর সিনেটের কার্যবিধি থেকে শব্দটি এক্সপাঞ্জ করেন তিনি। স্বভাবতই ওই সময়ে আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের দাপটের সাথে পেরে ওঠার কথা ছিলোনা অধ্যাপক লুৎফর ও ওবায়দুল ইসলামের। তাই এর প্রতিবাদে তাদের সাধ্যের মধ্যে থাকা সর্বোচ্চটাই করলেন তারা। সিনেট থেকে ওয়াক আউট করলেন। এ সময় সিনেট সভাপতি তাদের বসার অনুরোধ করলেও তারা বসেননি। ঘটনা-৩ সময়কাল: ২০২৪ এর ৫ আগস্ট পরবর্তী ভিন্ন ভিন্ন সময়। ( রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অন্তবর্তী সরকার। সরকারপ্রধান ইউনুস। বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ পদগুলোতে বিএনপি-জামায়াতের ভাগ বাটোয়ারা) ৩.ক) মুহসিন হলের ছাত্র আরাফাত(ছদ্মনাম)। ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের একজন ছাত্র। ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। তার নামে কোনো মামলা বা

বহিষ্কার না থাকলেও মবের হুমকিতে স্নাতক জীবনের শেষ ভাইবায় অংশগ্রহণ করতে পারছিলেন না। নিজের শিক্ষার অধিকার পেতে দারস্থ হন নিজ বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক মোহাম্মদ আখতারুজ্জামানের। যিনি বিভাগের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ কমিটির সভাপতিও ছিলেন। আরাফাত অনুরোধ করেন যেন, সমসাময়িক ঝুকি বিবেচনায় তিনি একক ভাবে অথবা অনলাইনে ভাইবা দেওয়ার বিষয়ে বিভাগে একটু কথা বলেন। কারন এর আগেও নিজ ব্যস্ততায় আখতারুজ্জামান মহাশয়ের অহরহ অনলাইনে ক্লাস-পরীক্ষা নেওয়ার উদাহরণ রয়েছে। কিন্তু মহাপ্রতাপশালী সাবেক এই ভিসির হম্বিতম্বি সার্বিকভাবে কমে গেলেও, ছাত্রলীগের ছেলেদের সামনে কিন্তু কমেনি। হুঙ্কার দিয়ে বললেন, “কী? তুমি আমাকে অবৈধ পন্থা দেখাচ্ছো। তুমি তো আমাকে বিপদে ফেলতে চাও। তোমার পরীক্ষা-ভাইবা নিতে বিভাগের চেয়ারম্যান নিষেধ করেছেন। তোমার ভাইবা

নেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। (এছাড়াও আরও অনেক কিছু বলেন যা সঙ্গত কারনে লেখা যাচ্ছে না।) ৩.খ) কয়েকদিন আগেই প্রেস ক্লাবে একটি দায়সারা সংবাদ সম্মেলন করেন ঢাবি নীল দলের কতিপয় শিক্ষক। যেখানে তারা শিক্ষক-শিক্ষার্থীর শিক্ষা ও পাঠদানের অধিকার হরনের বিষয়টি সহ আরও কিছু বিষয় তুলে ধরেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ওয়াহিদুজ্জামান চাঁন। সংবাদ সম্মেলনের আগেই ক্লাস-পরীক্ষার অধিকার বঞ্চিত বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী দেখা করতে চান তার সাথে। জনাব ওয়াহিদুজ্জামান তাদেরকে প্রেস ক্লাবে আসতে বলেন। কিন্তু সংবাদ সম্মেলন শেষ হওয়ার সাথে সাথেই ব্যাক্তিগত গাড়িতে করে স্থান ত্যাগ করেন জনাব ওয়াহিদুজ্জামান। তাকে কল দেয়া হলে তিনি তখন দেখা করতে অস্বীকৃতি জানান। এমনকি শিক্ষার্থীরা তার বাসভবনে দেখা করতে যেতে

চাইলেও স্পষ্টভাবে না করে দেন একসময়ের প্রভাবশালী এই শিক্ষক। ৩.গ) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের আরেক শিক্ষক জনাব আব্দুর রহিম। ২৪ পূর্ববর্তী সময়ে ছিলেন শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের প্রভোস্ট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির যুগ্ম-সম্পাদক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাবের সম্পাদক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির একজন সদস্য। খুব সম্ভবত বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার হওয়ার দৌড়ে ছিলেন শেষ পর্যন্ত। ওনার ব্যাপারে আসলে আমি কিছু জানিনা। আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় থাকাকালীন ক্যাম্পাসের সকল কার্যক্রম ও মিডিয়ায় সরব উপস্থিতি ছিলো তার। ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে দুই একটি বিবৃতিতে ওনার নাম বাদে অন্য কোথাও ওনার উপস্থিতি চোখে পরেনি। এমনকি এ সময়ে উনি অন্য হল বা বিভাগের তো বাদ নিজ বিভাগের এবং হলের ছাত্রলীগের

শিক্ষার্থীদের সাথেও যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। অনেক শিক্ষার্থীই ক্লাস-পরীক্ষার ব্যাপারে তার সাথে যোগাযোগ করতে চেয়ে ব্যার্থ হয়েছে। পরিশেষ, আওয়ামীপন্থী এই শিক্ষকদের কাউকেই আমি মাঠে নেমে জয় বাংলা,জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগান দিতে বলছিনা। শিক্ষার্থীদের শিক্ষার অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য জীবনও দিয়ে দিতে বলছিনা। তবে তারা চাইলে আরেকটু আন্তরিক হতে পারতো বঞ্চিত এই ছেলেমেয়েগুলার প্রতি। তারা একটু ভরসা দিলে অনেকেই টিকে থাকার আত্মবিশ্বাসটা পেতো। এতো গেলো দুঃসময়ের কথা। আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে ছাত্রলীগের ছেলেমেয়েদের প্রতি এদের ব্যবহার আরো রূঢ় ছিলো। এমনকি বিএনপিপন্থী বা নির্দলীয় শিক্ষকরাও এদের চেয়ে ছাত্রলীগের ছেলেমেয়েদের সাথে তুলনামূলক ভালো ব্যবহার করতো। আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের কাছে অপদস্ত হয়েছে ছাত্রলীগের এমন অসংখ্য শিক্ষার্থীর উদাহরণ পাওয়া যাবে। ক্ষমতায় থাকাকালীন আওয়ামীলীগের শীর্ষ পদগুলোতে ভুল ও অযোগ্য মানুষদের পদায়ন করার বিষয়টি শেষ অবদি খুব বেশিই চোখে বেধেছে সবার। যার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাব পরেছে আওয়ামীলীগের পতনে, এবং যার ফল দুঃসময়েও ভোগ করতে হচ্ছে। ভবিষ্যতে এসব ভুল থেকে শিক্ষা না নিলে আবারও একই পরিণতি ভোগ করতে হবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
বিএনপি নেতাদের দৃষ্টিতে ‘অপ্রয়োজনীয়’ রূপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্রই এখন সংকটে সরকারের শেষ ভরসা বিএনপি সরকারের এক মাসেই আন্তর্জাতিক সংস্থার চাপ: মানবাধিকার ইস্যুতে তারেক রহমানকে কড়া বার্তা ৯ আন্তর্জাতিক সংস্থার মৃত্যুঞ্জয়ী বঙ্গবন্ধু: ইতিহাসের আয়নায় আমাদের পরিচয়, আত্মমর্যাদা ও অস্তিত্বের প্রতীক জাতির পিতার জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ সভাপতি-বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার বাণী ডিজেলের পর এবার এলো ১৬ হাজার মেট্রিক টন ভারতীয় চাল, নামল মোংলায় রমজানে ফলের বাজার থেকে লুট ৭০০–৮০০ কোটি টাকা রাশিয়ার তেল পাইপলাইন ইস্যুতে ইউরোপীয় মিত্রদের ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ জেলেনস্কির ‘যেকোনো কিছু ঘটা সম্ভব’, রিয়ালের বিপক্ষে ফিরতি লেগের আগে গার্দিওলা শিক্ষক রাজনীতি নাকি শিক্ষার্থীদের থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার রাজনীতি একটি বন্দিত্ব: বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্মের অনিবার্যতা তেল সরবরাহে হরমুজ ঝুঁকি: ৩ লাখ টন ক্রুডের চালান নিয়ে তেহরানের দ্বারস্থ ঢাকা স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন চাল চুরির সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকের ওপর ছাত্রদল নেতার হামলা! আওয়ামী লীগ ফিরবেই, তবে পুরনো নাকি নতুন নেতৃত্বে— এটিই এখন মিলিয়ন ডলার প্রশ্ন”: মাসুদ কামাল সাতক্ষীরায় মন্দিরে চুরি: স্বর্ণালংকার ও দানবাক্সের টাকা লুট, আতঙ্কে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় সংস্কারের মুখোশে দমন : অবৈধ ইউনূস সরকারের তেলেসমাতি এবার জেলা পরিষদে নেতা-কর্মী বসিয়ে লুটপাটের প্ল্যান তারেকের রাষ্ট্রকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আর জাতীয় সংসদকে রাজু ভাস্কর্য মনে করছে নির্বোধ হাসনাত আবারো সংকটে জাতি, আবারো তিনিই প্রেরণা মব, মিথ্যা মামলা আর কারাগারে মৃত্যু; এটাই কি বিএনপির “নতুন রাজনীতি”?