রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি- কী করবেন – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬
     ৭:০২ পূর্বাহ্ণ

রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি- কী করবেন

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ | ৭:০২ 38 ভিউ
চিকিৎসা বা পরামর্শ দেওয়ার আগে চিকিৎসকরা বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে দেন। তার মধ্যে একটি সাধারণ পরীক্ষা-নিরীক্ষা হচ্ছে লিপিড প্রোফাইল। লিপিড প্রোফাইল কী লিপিড শব্দের অর্থ চর্বি। লিপিড প্রোফাইল হলো এমন পরীক্ষা, যার সাহায্যে রক্তে চার ধরনের চর্বির মাত্রা নির্ণয় করা যায়। শরীরে রক্তের ভেতর লাইপোপ্রোটিন বা লিপিড অস্বাভাবিক মাত্রায় থাকার পরিস্থিতিকে বলা হয় ডিসলাইপিডেমিয়া। এ ক্ষেত্রে লাইপোপ্রোটিন বা লিপিডের মাত্রা অনেক কম অথবা অনেক বেশি থাকতে পারে। তবে সচরাচর এর বেশি পরিচিত রূপ হলো হাইপারলাইপিডেমিয়া অর্থাৎ লিপিডের উচ্চমাত্রা। ডিসলাইপিডেমিয়া কী ডিসলাইপিডেমিয়া হলে লিপিড রক্তনালির ভেতর জমা হয়ে এথেরোসক্লেরোসিস করতে পারে অর্থাৎ রক্তনালিকে সরু বানিয়ে ফেলে। এর ফলে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, টিআইএ,

পেরিফেরাল ভাস্কুলার ডিজিজ, হাইপারটেনশন বা উচ্চরক্তচাপ, ফ্যাটি লিভারসহ আরও বিভিন্ন অসুখে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। আমাদের শরীরে বিভিন্ন ধরনের লিপিড বা কোলেস্টেরল থাকলেও মূলত লো ডেনসিটি লিপিড (এলডিএল), হাই ডেনসিটি লিপিড (এইচডিএল) এবং টিজি বা ট্রাইগ্লিসারাইড সর্বাধিক পরিচিত। এলডিএল এথেরোসক্লেরোসিসের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। গবেষণায় দেখা গেছে, এলডিএলের পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় ১০ শতাংশ বাড়লে সেই ব্যক্তির করোনারি হার্ট ডিজিজ হওয়ার আশঙ্কা প্রায় ২০ শতাংশ বেড়ে যায়। একইভাবে ট্রাইগ্লিসারাইডের পরিমাণ বেড়ে গেলেও একই ধরনের সমস্যার পাশাপাশি অনেক ক্ষেত্রে প্যানক্রিয়াটাইটিস নামক পেটের এক ধরনের ভয়ংকর অসুখ করতে পারে। তবে এইচডিএল কোলেস্টেরল আমাদের শরীরের জন্য ভালো, যেটি এথেরোসক্লেরোসিসের বিরুদ্ধে কাজ করে আমাদের বরং উপকারই করে। কারণ হাইপারলাইপিডেমিয়ার জন্য

যেসব কারণ অনেক বেশি দায়ী সেগুলো হলো: l বংশগত বা পারিবারিক l কার্বোহাইড্রেট, স্যাচুরেটেড ফ্যাট অনেক বেশি পরিমাণে খাওয়া l ওবেসিটি বা শারীরিক স্থূলতা (বিএমআই ৩০-এর বেশি) l ধূমপান, অনেক পরিমাণে অ্যালকোহল গ্রহণ l হরমোনজনিত অসুখ, যেমন ডায়াবেটিস, হাইপোথাইরয়েডিজম l ভারের অসুখ, যেমন হেপাটাইটিস l কিডনির অসুখ, যেমন ক্রনিক রেনাল ডিজিজ (সিকেডি), নেফরোটিক সিনড্রোম l অনিয়ন্ত্রিতভাবে স্টেরয়েড বা জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল গ্রহণ ইত্যাদি। ওপরের বিষয়গুলোর কোনো একটি আপনার শরীরে উপস্থিত থাকলে আপনার ডিসলাইপিডেমিয়া আছে কিনা তা পরীক্ষা করে দেখা উচিত। বেশির ভাগ মানুষই জানে না যে তারা ডিসলাইপিডেমিয়ায় ভুগছে, কারণ এর তেমন কোনো লক্ষণ বা উপসর্গ খুব একটা চোখে পড়ে না। সেক্ষেত্রে

ফাস্টিং লিপিড প্রোফাইল পরীক্ষা করানো হলে রোগটা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে। তবে এই পরীক্ষার ফলাফল যেন ভুল না আসে সেজন্য কিছু বিষয় মনে রাখতে হবে। যেমন পরীক্ষা করার জন্য রক্ত দেওয়ার আগে কমপক্ষে ১৪ ঘণ্টা না খেয়ে থাকতে হবে (তবে পানি খাওয়া যাবে), পরীক্ষার আগের রাতে কোনো ফ্যাটজাতীয় খাবার গ্রহণ থেকে বিরত থাকতে হবে, পরীক্ষার আগের দুই সপ্তাহে ব্যক্তি সচরাচর যে খাবারগুলো খেয়ে থাকেন সেগুলোই খাবেন। কাঙ্ক্ষিত লিপিড মাত্রা টোটাল কোলেস্টেরলের (টিসি)পরিমাণ: প্রতি ডেসিলিটার রক্তে ২০০ মিলিগ্রামের নিচে। এইচডিএল কোলেস্টেরল: প্রতি ডেসিলিটার রক্তে ৫০ মিলিগ্রামের বেশি। এলডিএল কোলেস্টেরল: প্রতি ডেসিলিটার রক্তে ১০০ মিলিগ্রামের নিচে; ডায়াবেটিস এবং হৃদরোগ/স্ট্রোকের রোগীদের জন্য প্রতি ডেসিলিটার রক্তে ৭০

মিলিগ্রামের নিচে। ট্রাইগ্লিসারাইড (টিজি): প্রতি ডেসিলিটার রক্তে ১৫০ মিলিগ্রামের নিচে। ডিসলাইপিডেমিয়া হলে কী করবেন? প্রথমত, খুঁজে বের করতে হবে কী কারণে ডিসলাইপিডেমিয়া হয়েছে। দ্বিতীয়ত, জীবনযাপনের দৈনন্দিন কিছু অভ্যাস পরিবর্তন করে ফেলতে হবে। যেমন শরীরের ওজন কমাতে হবে। সপ্তাহে অন্তত তিন-চারদিন ৩০ মিনিট করে জোরে হাঁটা বা ব্যায়াম করতে হবে। ধূমপান পরিহার করতে হবে এবং বাড়তি মাত্রার অ্যালকোহল থেকে দূরে থাকতে হবে। জাংক ফুড, তেলে ভাজা খাবার, খাবারের সঙ্গে অতিরিক্ত চিনি এড়িয়ে চলতে হবে। ভোজ্যতেল ব্যবহারের ক্ষেত্রে দেখা গেছে অধিক ব্যবহৃত সয়াবিন তেলে পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি এসিডের পরিমাণ প্রায় ৬০ শতাংশ; যেটি ডিসলাইপিডেমিয়ার অন্যতম কারণ। অন্যদিকে নারকেল তেল ও অলিভ অয়েলে পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি এসিডের পরিমাণ

যথাক্রমে মাত্র ২ শতাংশ এবং ৯ শতাংশ। তাই সম্ভব হলে সয়াবিন তেলের পরিবর্তে এগুলো ব্যবহার করা দরকার। রেড মিট, মাখন, ঘি, চর্বিজাতীয় খাবার গ্রহণ কমিয়ে ফেলতে হবে। মাছ, বাদাম, সবজি, ফলমূল আরও বেশি পরিমাণে খেতে হবে। চিকিৎসা বর্তমানে স্ট্যাটিন, ফাইব্রেট, নিকোটিনিক এসিড, এজিটিমাইবসহ বেশকিছু ড্রাগ প্রচলিত রয়েছে ডিসলাইপেডেমিয়ার চিকিৎসায়। এই ওষুধগুলো যেমন এথেরোসক্লেরোসিস প্রতিরোধে সাহায্য করে ঠিক তেমনি গবেষণায় দেখা গেছে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোকের মতো অসুখগুলোতে হাসপাতালে ভর্তির পরিমাণও বেশ কমিয়ে ফেলতে পারে। এসব ওষুধ যেমন সঠিক ডোজে ব্যবহার করা জরুরি ঠিক, তেমনি অন্যান্য ওষুধের মতো এরও বেশকিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে। এজন্য একজন মেডিসিন বা হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত ওষুধ সেবন

করা বা মনিটর করা অতি জরুরি। ডিসলাইপিডেমিয়া থাকলেই ভয় পাবেন না, বরং এটিকে ওয়ার্নিং হিসেবে গ্রহণ করে দৈনন্দিন চলাফেরা, খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন করুন ও সঠিক উপায়ে চিকিৎসকের দেওয়া ওষুধ গ্রহণ করুন। [কনসালট্যান্ট, ক্লিনিক্যাল ও ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্ট, আলোক হাসপাতাল, মিরপুর]

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
কুড়িগ্রাম-১ এ ভোটার নেই, তবু ভোট ১০০% পূর্ণ শপথ নিয়ে নতুন মেটিকুলাস ডিজাইন, সাংবিধানিক সঙ্কটের আশঙ্কা সমঝোতা না হওয়ায় ভোট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের তথ্য ফাঁস করলেন নাহিদ যুধিষ্ঠির কে? : উপদেষ্টা রেজওয়ানা বনাম আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহ ভোট নিয়ে ইউনূসের জালিয়াতি ফাঁস করে দিল টিআইবি ২.২৬ লক্ষ কোটি ঋণ নিয়ে শূন্য উন্নয়ন : বাংলাদেশকে পঙ্গু করে দিয়ে যাওয়া ইউনূসের কীর্তি Bangladesh 2026 — Election and a Crisis of Trust রংপুরে ড. ওয়াজেদ মিয়ার ৮৪তম জন্মবার্ষিকীতে যুবলীগের শ্রদ্ধা ‘বাটোয়ারার নির্বাচন মেনে নিয়ে বিরোধিতার নাটক বন্ধ করেন’: মাহফুজ আলম অপরাধীদের বিচার ও বাকিদের সুযোগ—আওয়ামী লীগ নিয়ে ‘রিকনসিলিয়েশন’-এর প্রস্তাব বিএনপি নেতার গুলিস্তানে ৫ আইনজীবীর ওপর ‘মব সন্ত্রাসীদের’ হামলা, লুটে নিয়ে পুলিশে সোপর্দ গ্রেপ্তারের দীর্ঘ প্রায় নয় মাস পর রাজনৈতিক মামলায় জামিন পেয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য জেবুন্নেছা আফরোজ ছেলের মুক্তির আগেই বাবার বিদায়: জানাজায় অংশ নিতে প্যারোলে মুক্তির আকুতি Bangladesh Election 2026 — Mandate or Mystery? The Story of Invisible Ballots Behind an “Unprecedented” Election শরীয়তপুরে মিরপুর কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতির বাড়িতে হামলা, বৃদ্ধ বাবাসহ আহত একাধিক সংস্কার নিয়ে আমি হতাশ: মাসদার হোসেন উন্নয়ন নেই, ঋণের রেকর্ড: ১৭ মাসেই সাড়ে ৪ লাখ কোটি টাকার দায় ‘বিনা অপরাধে ১৬ মাস কারাগারে বন্দি আমার স্বামী’: মুক্তির দাবিতে ব্যারিস্টার সুমনের স্ত্রীর আবেগঘন বার্তা ‘বাটোয়ারার নির্বাচন মেনে নিয়ে বিরোধিতার নাটক বন্ধ করেন’: মাহফুজ আলম