যুক্তরাষ্ট্রের ফেলে যাওয়া অস্ত্রই তালেবানের নিরাপত্তার মূল ভিত্তি – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ৮ ডিসেম্বর, ২০২৫

যুক্তরাষ্ট্রের ফেলে যাওয়া অস্ত্রই তালেবানের নিরাপত্তার মূল ভিত্তি

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ৮ ডিসেম্বর, ২০২৫ |
২০২১ সালে আফগানিস্তান ছাড়ার সময় কোটি কোটি ডলারের অস্ত্র, সামরিক সরঞ্জাম ও নিরাপত্তা অবকাঠামো রেখে গিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। এখন সেগুলোই তালেবানের নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রধান শক্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের একটি নজরদারি সংস্থা চূড়ান্ত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম দ্য ডনের খবর অনুসারে, জাতিসংঘের পর্যবেক্ষক দল ও ওয়াশিংটন পোস্টের অনুসন্ধানেও দেখা গেছে, ওই অস্ত্রের কিছু অংশ ইতোমধ্যে পাকিস্তানের নিষিদ্ধ সংগঠন টিটিপির (তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান) হাতে চলে গেছে। ফলে পাকিস্তানে হামলা চালানোর ক্ষেত্রে সেই গোষ্ঠী আরও শক্তিশালী হয়েছে। স্পেশাল ইন্সপেক্টর জেনারেল ফর আফগানিন্তান রিকন্সট্রাকশন (এসআইজিএআর) নামের মার্কিন সংস্থার প্রকাশিত ১৩৭ পৃষ্ঠার এই প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০২ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত আফগানিস্তান পুনর্গঠনে যুক্তরাষ্ট্র প্রায়

১৪ হাজার ৪৭০ কোটি ডলার ব্যয় করেছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনো লক্ষ্যই পূরণ হয়নি। জাতিসংঘের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন বলছে, আফগান তালেবান এখনও টিটিপিকে লজিস্টিক ও অপারেশনাল সহায়তা দিচ্ছে। ওয়াশিংটন পোস্ট নিশ্চিত করেছে, পাকিস্তানে টিটিপির হাতে পাওয়া কমপক্ষে ৬৩টি অস্ত্রের সিরিয়াল নম্বর যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া অস্ত্রের সঙ্গে মিলে গেছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ নিশ্চিত করেছে, তারা আফগানিস্তানে প্রায় ৭১০ কোটি ডলার সমমূল্যের সরঞ্জাম রেখে গেছে। যার মধ্যে ছিল– হাজার হাজার যানবাহন, লাখ লাখ আগ্নেয়াস্ত্র, নাইট ভিশন যন্ত্র এবং ১৬০টির বেশি উড়োজাহাজ। এসব অস্ত্র এখন পাকিস্তানের ওপর হামলার ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হচ্ছে। এসআইজিএআরের প্রতিবেদন অনুসারে, ২০০২ থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র আফগান নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য

অবকাঠামো, যানবাহন, অস্ত্র ও পরিবহনে তিন হাজার ১২০ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে। দেশটি আফগান বাহিনীর জন্য ৯৬ হাজার স্থলযান, চার লাখ ২৭ হাজার অস্ত্র, ১৭ হাজার ৪০০ নাইট ভিশন ডিভাইস এবং কমপক্ষে ১৬২টি বিমান কিনেছে। ২০২১ সালে আফগান সরকার পতনের ঠিক আগে আফগান বিমানবাহিনীর কাছে ১৩১টি মার্কিন উড়োজাহাজ ছিল। এখন এর প্রায় সবই তালেবানের নিয়ন্ত্রণে। এ ছাড়া ঘাঁটি, সদরদপ্তর ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র বানাতে আরও এক হাজার ১৫০ কোটি ডলার খরচ হয়েছিল। এগুলোর বেশির ভাগই এখন তালেবানের হাতে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র শুরু থেকেই ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তারা দুর্নীতিবাজ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী নেতাদের ওপর ভরসা করেছিল। এ পদক্ষেপ বিদ্রোহী নিয়োগ বাড়িয়েছে এবং

রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করেছে। অপচয়, প্রতারণা ও অপব্যবহারের কারণে মোট দুই হাজার ৬০০ থেকে দুই হাজার ৯২০ কোটি ডলার নষ্ট হয়েছে। মানবিক ক্ষতি ছিল আরও ভয়াবহ দুই দশকে আফগানিস্তানে ১০ হাজারের বেশি আফগান এবং দুই হাজার ৪৫০ জনের বেশি মার্কিন সেনা নিহত হয়। যদিও শেষ পর্যন্ত ক্ষমতায় ফিরে আসে তালেবান। ২০২১ সালের আগস্ট থেকে যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত আফগানিস্তানে ৩৮৩ কোটি ডলার মানবিক সহায়তা দিয়েছে। এ তথ্য দেখায়, নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও দেশটি মানবিক সংকটে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। এসআইজিএআরের প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে, আফগানিস্তানের অভিজ্ঞতা দেখায়, দুর্বল রাষ্ট্র পুনর্গঠনে এত বড় প্রকল্প চালানো কতটা ঝুঁকিপূর্ণ ও ব্যর্থ হতে পারে। এই ব্যর্থতা এখন

পুরো অঞ্চলে নিরাপত্তাকে ঝুঁকিতে ফেলেছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
বঙ্গবন্ধু ও বাঙালি জাতির অদম্য প্রতিরোধের মুখে ঢাকায় এসেছিলেন ইয়াহিয়া চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পাহাড়তলী: গণহত্যার কালো অধ্যায় সংস্কারের মুখোশে দমন: ইউনূস সরকারের তেলেসমাতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীই যখন নিরাপদ না, তখন সাধারণ মানুষের কথা কে ভাববে? জ্বালানি সংকটে ভরসা রূপপুর: শেখ হাসিনার মেগা প্রজেক্টেই স্বস্তিতে দেশ শেখ হাসিনার যুগান্তকারী পদক্ষেপ: শ্রীকাইল গ্যাসক্ষেত্রের সুফল পাচ্ছে বাংলাদেশ ইনসাফের দোকানে ভেজাল মাল: নিমের মাজনে নিম নেই, জামায়াতের ইসলামে ইসলাম নেই পাঠ্যবই দুর্নীতি : ইউনুসের সংস্কার, সিন্ডিকেটের উৎসব জ্যাকসন হাইটসের গ্রাফিক্স ওয়ার্ল্ডে মাসব্যাপী ইফতার আয়োজন উত্তাল মার্চের স্মৃতিতে শিব্বীর আহমেদের পাঁচটি দেশাত্মবোধক গান আওয়ামী লীগ সরকারের পতন: ভুল কূটনীতি ও অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতার ব্যবচ্ছেদ শামা ওবায়েদের নামে চলছে তদ্বির বাণিজ্য বিনামূল্যের পাঠ্যবই মুদ্রণে কারসাজি: এক বছরেই রাষ্ট্রের ৬৫৯ কোটি টাকা লুটে নিলো সিন্ডিকেট ঈদের আগেই বাড়ির পথে যাত্রা, কমলাপুরে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাও মনে করছেন মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি দেশের কৃষি ও প্রাণি সম্পদের জন্য ক্ষতিকর বেশি দামে এলএনজি কেনা ও মার্কিন চুক্তি: সরকারের ভুল নাকি ইচ্ছাকৃত সিদ্ধান্ত! কোনো সামর্থবান মুসলিম রাষ্ট্র নয়, ইরানের পাশে দাঁড়ালো চীন মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানি নৌবাহিনীর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা জামায়াতের নির্বাচনী আইকন নিউইয়র্ক মেয়র মামদানির অফিসে এলজিবিটি দপ্তর: বিতর্ক চরমে ইরানের মেয়েদের স্কুলে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দায় স্বীকার যুক্তরাষ্ট্রের